সালেম সুলেরী
কবিবন্ধু নাসের হোসেনের জন্ম ১৯৫৮-এর ২ জানুয়ারি, বহরমপুরে। অকাল প্রয়াণ ২০২০-এর ৯ ডিসেম্বর, করোনাকালে। আশি দশকের লেখক, সম্পর্ক ২০০২ সাল থেকে। ‘হলদিয়া উৎসবে’ ঘনিষ্ঠতা, ‘অনিরুদ্ধ আশি উন্মোচনে’ একতাবদ্ধ।
কলকাতায় ‘পশ্চিমবঙ্গ রাইটার্সে’ চাকরি করতো কবি নাসের। লেখক, যুগ্মসচিব তপন বন্ধ্যোপাধ্যায়ের কাছে যেতাম। কিড স্ট্রিটের এমনএনএ হোস্টেলে থাকার অনুমোদন আনতে। নাসেরের সঙ্গে দেখা হলে ক্যান্টিনে চা-আড্ডা। বিশাল ক্যান্টিন কিন্তু বসার চেয়ার থাকতো না। থাকলে নাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ আড্ডায় মেতে ওঠে। ফলে নাসেরের সঙ্গেও ‘খাড়ার ওপরে’ কথা হতো।
কবি প্রভাত চৌধুরীর ‘কবিতাপাক্ষিক’-এ সেকেন্ডম্যান। বিয়ে থা করেনি অথচ একযোগে দুটো চাকরি। বলে, একটা পেশাগত, অন্যটি নেশাগত। যোগাযোগ হলেই কবিতা পাঠানোর অনুরোধ। আহা, শেষদেখা ২০১৯-এর প্রথমার্ধে। কলকাতার কলেজস্ট্রিটে একটি খাবার হোটেলে। মহাবোধি সোসাইটিতে অতিথি, হোটেলে খাদ্য আহরণ। তরকা, রুটি, ডিমসেদ্ধ, সালাদ। বিল দিতে গিয়ে হতবাক, ম্যানেজার ফিরিয়ে দিলো। কবিবন্ধু নাসের হোসেন সবটা দিয়ে দিয়েছে। এমনই সহৃদয় বন্ধু আমার, স্মৃতিতে প্রোজ্জ্বল।
কবি-অগ্রজ প্রভাত’দা তখন ভীষণ অসুস্থ, বাড়িবন্দি। কলকাতার কার্যালয় সামাল দিতো সহ সম্পাদক নাসের। কবিতায় পোস্ট মর্ডানিজম নিয়ে প্রভাত-নাসেরের কাজ অনেক। ঢাউস সংকলনে উত্তরাধুনিক কবিতার চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২০০২-এর সংকলনটি এখনও অপরিহার্য।
নাসেরের স্কুল আর কলেজজীবন বহরমপুরে। ‘দ্যা লাস্ট পেজ’ নামে লিটলম্যাগ করতো ছাত্রজীবনে। ছবিও আঁকতো’সেকেন্ড প্যাশন’ হিসেবে। কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দিয়েছিলেন তথ্যটি। বলেন, আমি, মকবুল ফিদা হুসেন ওর চিত্র প্রদর্শনী দেখেছি। ‘দেবী ও পোড়া শহর’– দাগ কেটেছিলো।
কবি নাসেরের দাগকাটা কবিতাও আছে, ‘ভারতবর্ষ।’ ১৯৮৭-এর সার্ক সম্মেলনে প্রথম পাঠ, প্রশংসার্হও। বিছানাবন্দি প্রভাতদা’কে রেখে সেই নাসের পগারপার। প্রয়াণতথ্যটি প্রথম প্রভাতদা’র পোস্ট থেকেই প্রচার পেলো। ২০২০-এর শেষ মাসটি ঢেকে গেলো শোক, সমবেদনায়। অত:পর কবি-সম্পাদক প্রভাত চৌধুরীও প্রয়াণপাড়ার বাসিন্দা।
নতুন বছর মানে জানুয়ারি ০২ নাসেরের জন্মতিথি। বেলুনে বেলুনে যেনো দৃশ্যমান কবিবন্ধুর পংক্তি–
ভেসে আছি, ওই যে দূরে পৃথিবী
চাঁদ আর গ্রহতারকা,
হাতের দিকে তাকালাম– শূন্য।
মহাশূন্যে স্বর্গসিক্ত হোক কবিবন্ধুর বিদেহী আত্মা।
জানুয়ারি ২০২৫