spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
প্রচ্ছদকবিতাজেরুজালেম ও অন্যান্য কবিতা

লিখেছেন : মজিদ মাহমুদ, কাজী নাসির মামুন, পথিক মোস্তফা

জেরুজালেম ও অন্যান্য কবিতা


……………
জেরুজালেম
মজিদ মাহমুদ
……………

অন্ধকারে ছিল যখন আমেরিকা য়ুরোপ
ভারত ভূমির কথা জানত না বেশি লোক
জানত না কেউ- আমরা কখন সভ্য হলেম
তখনো ছিল- জেরুজালেম! জেরুজালেম!

মুসাকে যেহেতু দিলেন প্রভু অঙ্গীকার
থাকবে এখানে সন্ততি আর সঙ্গী তাঁর
তারাই হয়েছে ইহুদি নাসারা আর মোস্লেম
এখানে বসত গড়েছে সবে জেরুজালেম!

যারা এখানে রক্ত ঝরায় রাত্রি দিন
সভ্যতাকে রেখেছে যারা নিজ অধীন
খুঁজেছে এখানে অমর মানুষ নিকষিত হেম
তবু এখানে রক্ত ঝরে জেরুজালেম!

কে দেবে বল অভঙ্গ সেই তীর ও তুন
কে তাড়াবে সিনাই থেকে হিংস্র শকুন
সর্ব ধর্মের প্রার্থনা হোক মানুষের প্রেম
মানুষ এনেছে সভ্যতা এই জেরুজালেম!

……………
একটাই পৃথিবী
কাজী নাসির মামুন
……………

একটাই পৃথিবী
সেটা ফিলিস্তিন
বাকি দুনিয়া মাটির গারদ।
বন্দী কঙ্কাল কোটি কোটি
লোপাট বিবেক নিয়ে দূর থেকে দেখছে
পৃথিবীতে মানুষ নিরস্ত্র হলেও
স্বাধীনতা দেবে না, জীবন দেবে।
শিশুরা এখানে রক্তিম গোলাপ
না, ওরা ঝরে পড়ছে না
আল্লা’র নিবিষ্ট তারকার মতো
ডুবে যাচ্ছে মাটিতে আবার
একদিন গজাবে বিজয়ী সূর্যের অধিকার।
তবু মায়ের মৃত্যুর পাশে
সহস্র প্রশ্নের পৃথিবী নিয়ে শিশুরা অবাক
একটাই স্বাধীন পৃথিবী তাদের
সেটা গাজা, রোমহর্ষক।
বাকি দুনিয়া পরাজিত, ভৌতিক বন্দীর কোলাহল।

……………
শুভ্র ফুল
পথিক মোস্তফা
……………

কতোগুলো ফুল ফুটে আছে সারিসারি
সাদা টিস্যুতে মোড়ানো জান্নাতি লোবান দেয়া
এতগুলো ফুল আমি আর কখনো দেখিনি–
বসরাই গোলাপ যেনো। আমাদের নদীর ধারে
শরতের যে থোকা থোকা কাশফুল– তেমনই শুভ্র ও
তুলতুলে কোমল পাপড়িযুক্ত; আহা কী আনন্দ
আজ জান্নাতের বাগিচায়। ফেরেশতারা মারহাবা
ধ্বনিতে কাঁপিয়ে তুলছে আসমানের সাত তোরন।

আমি কখনও দেখিনি বৃন্ত থেকে ঝরে গিয়ে আরো
অধিক সৌন্দর্যের বিকিরণ ঘটাতে পারে কোনো
হাসনাহেনা। আমি গাজার মাটিতে দেখলাম– বকপালকের মতো
কিংবা একঝাঁক অপার্থিব ধবধবে সাদা ডানার হাঁস।
ওহ কী যে ভালো লাগছিলো– সেই স্নিগ্ধ মোহনীয়তা;
প্রভুর পাশে জান্নাতি যতোগুলো ঘর আছে তার
কার্নিশের চড়ুই পাখি ওরা, আহা কী চঞ্চল!

আহলান, সাহলান–
এসো জান্নাতের খিড়কিতে কেবলই তোমাদের নাম।
অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ সব ফেরদাউস,
নবি ইব্রাহিমের চক্ষু শীতলকারী ফুলেরা ফুটে থাকো
নবি ইউসুফ তোমাদের রূপে মুগ্ধ, শেষ নবির পরশে তোমাদের
প্রতিটি পরাগ বিকশিত হয়ে ঝিলিমিলি কোমলতায় ভোরের
জান্নাত গেয়ে উঠবে সালাম সালাম, তোমাদের কিচির-মিচিরে
ঘুম ভেঙে যাবে ইসা-মাহদির; তাদের হাতেই বিনির্মিত হবে
সবুজ পৃথিবী; জেরুজালেম, মক্কাস্তান।

আফসোস! ফিলিস্তিনের মাটিতে জন্ম নিতে না পারা
বাঘ অথবা খেকশিয়ালদের জন্য, খাবি খাওয়া চিতল মাছের মতো,
কিংবা চকচকে রুপোলি ইলিশের ঝাঁকে গভীর পানিতে বসবাস রতো
মানবিক ফেরিওয়ালাদের জন্য ঘৃণার থুথু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
হৃদয় কম্পিত হওয়া আমার জন্যও হাবিয়া বা ওয়াইল নিভে যাবে না–
শুধু ফুলগুলোর বাগানে মালির আবেদন মঞ্জুর করে বাধিত করুন প্রভু।

২১ মার্চ ২০২৫

আরও পড়তে পারেন

2 COMMENTS

  1. খুব ভালো আয়োজন।
    প্রত্যেকটি কবিতা অসাধারণ।

    • ধন্যবাদ কবি নয়ন আহমেদ, আপনার ইহুদিবিষয়ক কাব্যগ্রন্থ ইহুদিসমগ্রও অনেক সমৃদ্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

নয়ন আহমেদ on মরুভূমি
সাদ আব্দুল ওয়ালী on ৩টি কবিতা
নয়ন আহমেদ on ৩টি কবিতা
নয়ন আহমেদ on ৩টি কবিতা
সাদ আব্দুল ওয়ালী on লজ্জাবতী ও অন্যান্য কবিতা