আনিসুর রহমান
বাংলাদেশে রবীন্দ্র সংস্কৃতির প্রধান প্রতিষ্ঠানের নাম ছায়ানট। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা হলেন সনজীদা খাতুন। তিনি এই সেক্টরের একজন কালচারাল আইকন।
ছায়ানটিরা চায় এদেশে প্রো ইন্ডিয়ান জমিদারি কালচার ফিরিয়ে আনতে, নামে মুসলমান, কিন্তু কাজে জমিদারের স্বার্থ রক্ষা করে। জমিদারের চেতনা লালন করা। যেটা বাংলাদেশের গণমানুষের সাথে প্রতারণার শামিল। বাংলাদেশে বসে এরা জমিদার হিন্দুদের দালালি করাটাইকেই শুদ্ধ বাঙালিয়ানা মনে করে। তাদের মতে, রবীন্দ্র সংগীত না গাইলে কেউ বাঙালি হতে পারবে না।
প্রতি বছর রমনা বটমূলে যে অনুষ্ঠান হয় এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, এইদেশে জমিদারি স্বার্থ ফিরিয়ে আনা। আওয়ামী লীগের কাঁধে চড়ে তারা এতদিন এই কাজ করেছে। ছায়ানটিরা জমিদার স্বার্থের প্রতিভূ, কালচারাল প্রতিভূ হিসেবে কাজ করে। এরা সিপিবি আওয়ামী লীগের প্রো সাপোর্টার হিসেবে এখনো টিকে আছে। তাদের জন্ম ও নামে মুসলমানের ছাপ আছে, কিন্তু এটা নিয়ে তারা সবসময় কুঁকড়ে থাকে। তাদের মধ্যে এটা নিয়ে অপরাধবোধ কাজ করে। তাদের পূর্বপুরুষ যে মুসলমান ছিলো এটা নিয়ে তারা হীনম্মন্যতায় ভুগে। সব সময় তারা এটা নিয়ে একটা ব্যাখ্যা দাড় করাতে চায়। তারা বলতে চায়, তারা মুসলমান না, এই পারিবারিক পরিচয়কে তারা অস্বীকার করতে চায়। তাদের কালচারাল আইকন হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ। তারা চায়, তারা রবীন্দ্রনাথের মত অসাম্প্রদায়িক হবে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তো অসাম্প্রদায়িক ছিলেন না। কলকাতার লোকও বলে না, রবীন্দ্রনাথ অসাম্প্রদায়িক ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কলকাতার স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও এত আদিখ্যেতা নেই, যতটা ছায়ানটিদের আছে।
ছায়ানটিরা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে ইসলামের মুখোমুখি করে দাঁড় করাতে চায়। তারা প্রশ্ন করে, আগে বাঙালি না আগে মুসলমান। এই ধরনের প্রশ্ন করে তারা বাঙালি মুসলমানকে বিভ্রান্ত করে। সনজীদা খাতুনরা হচ্ছে, তাদের আইকন যারা মনে করে শুদ্ধ বাঙালি হওয়ার জন্য মুসলমানিত্ব ত্যাগ করতে হবে। কেউ মুসলমান পরিচয় দিলে, কেউ মুসলমানী দাঁড়ি, টুপি পরিধান করলে তিনি শুদ্ধ বাঙালি হতে পারবে না, এই হচ্ছে তাদের অভিমত। তারা অনুসরণ করে রবীন্দ্রনাথকে। রবীন্দ্রনাথই তাদের তাদের ধ্যান জ্ঞান। তাই তো আমরা দেখলাম, সনজীদা খাতুনের মৃত্যুর দিনে, তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের গান বাজানো হয়েছে। রাবীন্দ্রিক পরিবেশে তাকে বিদায় জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ দেখলো, রাবীন্দ্রিক ধর্ম। এই ধর্মের অনুসারীরা আবার এটাকে ধর্ম বলতে নারাজ। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করে, সনজীদার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান যেভাবে হয়েছে সেটা একটা ধর্মের মতই হয়েছে।
যদিও সনজীদা খাতুনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে রাবীন্দ্রিক ধর্মের অনুসারে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নিজে কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন নাই। তবে, তার পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর রাজা রামমোহন রায়ের সাথে মিলে একটা ব্রাহ্ম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রাহ্ম ধর্ম হচ্ছে এমন এক ধর্ম, যেটা বিভিন্ন ধর্মের অংশ থেকে কিছু কিছু অংশ নিয়ে একটা ধর্ম বানিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের পিতামহ যেহেতু এই ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন সে হিসেবে এটা তার পারিবারিক ধর্ম।
সে হিসেবে রবীন্দ্র ধর্মের অনুসারীরা মনে করে, মুসলমান হওয়াটাই একটা হীনম্মন্যতা। সেক্যুলার বাংলাদেশে তারা এই ধর্ম বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চায়।
ছায়ানটিরা মনে করে বাঙালি হতে হলে, রবীন্দ্রনাথের ধর্ম অনুসরণ করতে হবে, তারাই ঠিক করতে চায় কে বাঙালি হবে অথবা হবে না। তারা রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা এবং তার জীবনকে ধর্মের মত লালন করে।
দুই হাজার চব্বিশে আমরা আওয়ামী সিপিবি ঘরানার কালচার এবং প্রো কলকাতার কালচারকে পরাজিত করেছি। নতুন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনে যেন সে প্রভাব না থাকে, সেটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।