দুঃখ পংক্তিমালা
(বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি)
জামসেদ ওয়াজেদ
শোকের চাদরে ঢাকা আমাদের অশ্রুসিক্ত চোখ
বিষাদ বেদনাময় নগরের প্রতিটি দালান
কন্যা কিংবা পুত্র শোকে হৃদয়ের কষ্টসুর তান
ছোট ছোট পাখিদের মৃত্যুশোকে আহত বাগান
মানুষ হবার জন্য যারা গেছে আজ বিদ্যালয়
তারাকী ফিরবে আর বলুন হে আরশে মালিক
মায়ের এ শুন্যবুকে হাহাকার শুনি চারিদিক
আমরাতো আশান্বিত অন্ধকারে তোমার আলোয়
কত স্বপ্ন ভেঙেচুরে আজ জানি হলো খানখান
সকালের প্রিয়মুখ দিনশেষে নিখোঁজ নিলয়
সংশয় জাগে মনে আরো জাগে না ফেরার ভয়
ব্যাথিত মনের শান্তি ইয়ারব তুমি করো দান
কীভাবে যে সহ্যকরি শিশুদের এই মৃত্যু শোক
জাতির ব্যাথিত মনে এ শোকের হোক উদ্বোগ
তাদের বানিয়ে রাখো মোহময় জান্নাতের ফুল
আমাদের করো ক্ষমা মাপকরো আমাদের ভুল
……….
আহা মাইলস্টোন!
এ কে আজাদ
…………
[মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান দূর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে]
কে এমন আকাশ ভেঙে ফেলে আমার মাথার ওপরে?
কে এমন সমস্ত পৃথিবীকে আগ্নেয়গিরির ভীষণ
আগুনে পুড়িয়ে অগ্নিশিখা বানিয়ে প্রেক্ষেপণ
করে আমার বুকের ভেতরে?
আহা মাইলস্টোন! দেখো দেখো কিভাবে
আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলে ওঠে
তোমার আঙিনাতলে?
কী নির্দয়ভাবে পুড়িয়ে দেয় তোমার বাগানের ফুলগুলো সব!
দেখো- কিভাবে তোমার অশ্রুসিক্ত নয়নের সামনে
জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের চারাগাছগুলো!
দেখো কী নির্মমভাবে ভস্মীভূত হচ্ছে আমার
কলিজার টুকরার স্কুল ড্রেস, জুতো,
আইডি কার্ড ও নামের ব্যাচ!
না, ওগুলো জামা, জুতো কিংবা কোন নামের ব্যাচ নয়,
ঝলসে যাওয়া নিষ্পাপ ফুলগুলো প্রকৃতপক্ষে
কোন ফুল নয়, ওরা বাংলাদেশের একেকটি হৃদয়!
আহা মাইলস্টোন! কেমন করে ফুলের পরিবর্তে
আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতকে এমন বুকে ধরি?
ওরা তো কেবল ফুলের শিশু ছিল না,
ওরা ছিল একেকটি অশ্বত্থের চারাগাছ,
একদিন ওরাই দাঁড়িয়ে যেত বাংলাদেশের
সমস্ত মানচিত্র জুড়ে,
শত ঝড় ঝঞ্ঝা ও ভুমিধ্বসে ওরাই তো রক্ষা করতো
বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল;
২৪এর গণ-অভ্যুত্থানের মত ওরাই তো শিসাঢালা প্রাচীর
হয়ে রুখে দিতো বাংলাদেশের ওপরে
ঝাঁপিয়ে পড়া আবার কোন আবরাহার হস্তী বাহিনী!
আহা মাইলস্টোন! কেমন করে সহ্য করি
এমন অপঘাতে হাজারও স্বপ্নের অপমৃত্যু?
এই দেখো বাংলার সবুজ জমীনে কেমন
জ্বলে ওঠেছে নির্মম ভিসুভিয়াস?
এই দেখো আমার সমস্ত নয়ন জুড়ে আজ
কেবলই উথলে ওঠে বঙ্গোপসাগর!
জানি- আমাদের বুকের রক্তেই বারবার
রঞ্জিত হয়ে গড়ে উঠেছে গাঢ় সবুজের মাঝে
গাঢ় লাল বৃত্ত।
তবুও মেনে নিতে পারি না – বৃত্ত থেকে বেরিয়ে
সমস্ত সবুজ বদ্বীপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া রক্তের দাগ!
আমার স্বপ্নের ডালপালাসহ পুড়ে যাওয়া
চারাগাছের ঘ্রাণ আমার যামিনী থেকে
ছিনিয়ে নেয় আয়েশী নিদ্রার চন্দ্র-কিরণ।
আহা মাইলস্টোন! কিভাবে নিশ্বাস নেবো
আমার কলিজা পোড়া ঘ্রাণে ভরা
আগামীকাল ভোরের বাতাসে!
আহা মাইলস্টোন! আহা মাইলস্টোন!
২১.০৭.২০২৫
…………
কারবালা অসুখ
তাজ ইসলাম
…………
মাইলস্টোনে নেমে এলো মৃত্যুর সীমার
হায় পুত্র! হায় কন্যা!
বুকের পাঁজর ভাঙা করুণ বিলাপ।
বাতাসে বাতাসে উঠে
বুক ভাঙা আর্তনাদ ঢেউ
আমার পুত্র!
আমার কন্যা!
আমার বোন!
আমার ভাগ্নি!
আমার কলজে ছেঁড়া ভ্রাতুষ্পুত্রকে এনে দাও কেউ!
বাতাসে করুণ কণ্ঠ
‘ ও বাবারে তুই কই!’
কারবালার মাতমে দিয়াবাড়ি বিষাদময়
আল্লা গো বলে ফিট খাওয়া মায়ের জবান।
তুরাগের দিয়াবাড়ি ফুরাতের হাহাকারে
বুক চাপড়ানো দুই চোখে নেমে আসে ফোরাতের শোকাবহ ঢল
বাংলাদেশ বেদনাহত
সব বুকে ঝড় বহে!
চোখে চোখে
নেমে আসে বেদনার অবাধ স্রোতে যমুনার জল।
মাইলস্টোন! দাউ দাউ আগুনে পোড়া পোড়া নিস্পাপ শিশুদের দেহ নাই, ছাই।
দিয়াবাড়ি, তুরাগের তীরে জমা মায়েদের বুকে বুকে ফোরাতের শোক
আমৃত্যু আরোগ্য হবে না আর তাদের এই কারবালা অসুখ।
সুন্দর আয়োজন।
সব সময়ই আপনি সময়কে ধারণ করেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই প্রিয় সম্পাদক মহোদয়
বিষাদগীতি।
ভালো লিখেছেন সবাই।