আমি এবং রজনীগন্ধার সৌরভ
…….
তুমুল বৃষ্টির রাতে রজনীগন্ধা হাতে
দরোজায় বাজালাম কলিং বেল
দুয়ার খুলে তুমি কী বন্ধ করে দেবে
অতিথির মুখের উপর দরোজা?
আমি এবং রজনীগন্ধার সৌরভ ভিজে একাকার
ফুলের সুবাস ও সৌন্দর্যে একটুও ভিজবে না
তোমার নাকফুল মন?
বারেবারে ফিরিয়ে দিলেও আমি প্রেমিক
তুমিই প্রথম কাঁটাহীন ঠোঁটে
ছুঁয়েছিলে গোলাপি চাঁদ
অত:পর রুপোলী গাত্রবর্ণের সুষমা চতুর্দিকে
এমনই আমি
অন্ধ বিড়ালের চোখের আলোয়
যেতে চেয়েছি চাঁদভ্রমণে।
২৬.০৪.২০২৪
অভিমানী মেঘ গেছে বাপের বাড়ি
……….
দখিনা ঝুল বারান্দায়
জলে কাতর ফুলের টবে
চঞ্চল চড়ুই গুঁজে চঞ্চু
পাতার ফাঁকে তাকিয়ে আছে
একটি তৃষ্ণার্ত আতা
অভিমানী মেঘ গেছে বাপের বাড়ি
গ্রীষ্মের ছুটিতে
মেঘদূত তুমি কী পারো না
ভাঙাতে মেঘের অভিমান
এই গ্রাম থেকে অন্যখানে
এক শহর ছেড়ে অপর শহরে
শ্রাবণের অপেক্ষায় না রেখে
মেঘের নেকাব খুলে অঝোরে
নামাতে ঝড়বৃষ্টি
এখনই
২৯.০৪.২০২৪
ডুবে যাচ্ছে মহাবিশ্ব
……….
ডুবে যাচ্ছে মহাসাগরে মহাবিশ্ব
জননীর কোল থেকে ছিটকে গিয়ে
সমুদ্রের তীরে কেঁদে অস্থির শিশু
তখনও চুম্বনরত প্রেয়সী
হাত ছাড়েনি প্রেমিকের
অনন্তে ডুবছে চিরন্তন সূর্য;
ও মানুষ তুমি অমর হও কীর্তিতে
নশ্বর দেহ ভাসিয়ে দাও
অকূল পাথারে
কাশফুল নেচে নেচে হয়রান হবে
ছুঁয়ে দেয়ার জন্য
বেঁচে থাকবে না কোনো কবি।
০১.০৫.২০২৪
কতটা ছায়া কতটা কায়া
…………
বনলতা সেন দেখতে কেমন ছিলো
বেতফলের মতো দুই চোখে জলের পিপাসা
নাকি পাখির চোখের আয়নায় দেখা যেতো অন্যরূপ
মোমবাতির আলোতে মেয়েটি দেখা অদেখায়
ক্ষণিকের জন্য দেখা দিয়ে মিলায় পুনরায়
সে নয়তো দূরদ্বীপবাসিনী বনলতা
জীবনবাবু দেখেছে কী নিজে কখনো
সামনাসামনি বনলতার অপরূপ
মনে হয় বনলতা বরাবরই থেকে গেছে অধরা
দু’দণ্ড শান্তির মিথ্যে আশ্বাসে
কবি চেয়েছে যারে
তার কতটা ছায়া
কতটা কায়া
হায়! বনলতা
এরই মাঝে পেরিয়ে গেলো কতযুগ
০৩.০৫.২০২৪
আমাদের আছে একজন রবীন্দ্রনাথ
……….
তখনো
এখনো
অক্টোপাসের ঘেরাটোপে চারপাশ
আমি খুঁজে নিই আলোর যাত্রিক
আমার সে পাথেয় রবীন্দ্রনাথ;
তুমি ভ্রুকুঞ্চনে জনম জনম
ঝড় তোল চায়ের কাপে
জমাও মূর্খের আসর
পঁচিশে বৈশাখে
বাঙালির আটপৌরে জীবনে
বন্ধ হবে না শুভ্রজিতের আসা-যাওয়া
আমাদের আছে একজন রবীন্দ্রনাথ
শকুনের ঈর্ষারা পরাজিত হবে প্রতিমুহুর্তে
০৮.০৫.২০২৪