সাজ্জাদ বিপ্লব
১. খাঁচার দাসী
………………………………..
তোমার সেই ‘খাঁচার দাসী কবিতা’
এখন আমার ঘরে
নিশ্চিন্তে বসত করে
কবি
কি যে মুশকিল তারে নিয়ে!
যতই তারে দূরে ছেড়ে আসি
যেতে বলি
জাতিসংঘ থেকে একমুঠো
শান্তি নিয়ে
দূর দেশ, অশান্তির দেশ
বাংলাদেশে
তবু সে ঘুরে ঘুরে
উড়ে উড়ে আসে
আমার-ই ব্যাক ইয়ার্ডে
খায় দানাপানি করে লুটোপুটি
হায়
তোমার সেই ‘কবিতার কথা’
‘খাঁচার দাসী’ কবিতা
এখন আমার প্রেমে
আমারি বুক পকেটে বন্দী
তারে নিয়ে
এই বিদেশ বিভূঁইয়ে আমি কি করি?
(আল মাহমুদের ‘কবিতার কথা’ কবিতাটি পাঠ করে)
৫.২৬.১৫
ডুরাভিল, জর্জিয়া
২. খুনি
………
খুন করেছে আমার মন
আচ্ছা রকম খুনি!
ভুল করে সব ডাকছো কেন
তোমরা তারে গুণী?
খুন করেছে আমার মন
আর পারি না ঘুমাতে
স্বপ্নরা সব নিত্য এসে
আমায় থাকে চুমাতে।
(আমার মনের ডাকাত, আল মাহমুদ, আপনাকে)
১০.১৫.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া
৩. তুমি হারবে না
………………..
তুমি হারবে
না।
পৃথিবীর সবাই
একদিন হারিয়ে যাবে
যাক।
বাংলাদেশ থেকে বিদীর্ণ র’বে
কাকেদের চীৎকার শোনা যাবে
কিন্তু মুছতে দিবো না
কোন কোকিলের কণ্ঠ।
কোন নদীকেও আমরা
দেবো না শুকিয়ে যেতে।
শিয়াল ও বৃদ্ধ বাঘের খিক খিক
হাসিতেও হারবে না
সুন্দর বনের চঞ্চলা হরিণী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমুল চাঁদাবাজি এবং নৈরাজ্য চললেও
আমরা ঠিক ঠিক দাঁড়িয়ে যাবো
কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজে।
হঠাৎ গুম হওয়া ভাইয়ের লাশ
ফিরে না পেলেও
আবার জন্ম দিবো কোটি-কোটি
সু-সন্তান।
এ ভাবেই ভরে যাবে
তোমার দেশ, বাংলাদেশ
স্বপ্নে ও সুরেলা সঙ্গীতে।
কভু, তুমি হারবে না।
প্রভু, তোমায় হারতে দেবে না।
৯.৫.১৫
সকাল ৭.২৯
ডোরাভিল, জর্জিয়া।
৪.পদক
………….
আমি বাংলাদেশকে একটি পদক দিতে চাই
আমারি নামে
কত রঙ্গে ভরা রত্নগর্ভা ধাত্রী আমার
আল মাহমুদ, আপনার কি আপত্তি আছে?
মাছেদের ও গাছেদের কোন
প্রতিবাদ ও দ্বিমত আছে বলে আমি শুনিনি
অন্যান্য কবিদের মধ্যে
মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-জীবনানন্দ প্রমুখদের কেউ
বিরোধিতা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন বলেও কোনো খবর
সি এন এন বা আল জাজিরাতে নেই
এমনকি জাজিরাতুল আরবের কেউও
এ ব্যাপারে কোন উচ্চ বাচ্য করেননি
আপাতত এতোটুকু বলতে পারি
বহুধাবিভক্ত এ জাতির একমাত্র আশার প্রতীক
এই আমি
আমার নামে প্রবর্তিত পুরস্কারটি
আসছে ফেব্রুআরি বইমেলায়
আমি বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে চাই
আপনারা আসছেন তো?
লেনক্স স্টেশন, আটলান্টা
১.২৭.১৫
সকাল ৯.৪২
৫.আশিতে এসেই
………………………………..
আশি’তে এসেই
তুমি
বলো না, যাই।
পার হও সৃষ্টিশীল হাজার বছর
এই গ্রহে
প্রেমে ও দ্রোহে
পত্রে-পুত্রে-পল্লবে
শাখায়-প্রশাখায়
ছড়িয়ে যাও
দাও পাও
গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে
মত ও মতান্তরে
ছড়াক
তোমার কাব্য
আমরা
নতুন রূপে
ভাববো।
(বাংলা ভাষার প্রধান কবি আল মাহমুদ এর ৮০-তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি)
৭.১০.১৫
সকাল ১০.১০
আর্টস সেন্টার স্টেশন, আটলান্টা।
৬. ফিরাইয়া দাও তারে
……………………..
প্রভু, ফিয়াইয়া
দাও তারে
কবিতার বরপুত্র রে
আমারে
আমাদের মাঝে
আমাদের
আশা, ভালোবাসা ও ভরসার
প্রতীক তিনি
তারে
আমরা চিনি
চিনে এ বাংলার ফুল-নদি-পাখি আর
মহা মাতৃকূল
প্রভু
গাঙের ঢেউয়ের মতো
আওয়াজ ওঠে
দেখো
কবুল, কবুল।
(কবি আল মাহমুদ এর ৮০ তম জন্মদিনে, তার অসুস্থতার খবর শুনে)
৭.১১.১৫
সকাল ৯.২৩
ডোরাভিল স্টেশন, আটলান্টা।
৭. বউ কইছে
………………………..
বউ কইছে, আল মাহমুদ হইতে না পারলে
কবিতা লেখার দরকার নাই।
তাইলে আমি কি করি?
চলো, খাই-দাই, ঘুরি ফিরি–
ঘুমাই। আর সকলে যা-যা করে, তাই-তাই করি
বাচ্চা পয়দা করি, সংসার সাজাই, দালানকোঠা বানাই
সানাই বাজাই। তারপর–
যাওয়ার সময় হইলে, টুস কইরা মইরা যাই।
এছাড়া আর কোনো কাজকাম তো নাই…
আল মাহমুদ হইতে না পারলে, কবিতা লেখারও প্রয়োজন নাই।
৭.৩.২৪
স্মিরনা, আটলান্টা।








চমৎকার আয়োজন।
‘ফিরাইয়া দাও তারে’—চিরকালীন এ আকুতি আল মাহমুদকে তোলপাড় করবেই! তাঁর ‘কবুল কবুল’ এর মতো পঙতি আর নেই বললেই চলে!