আশিক চৌধুরী
বোমারু বিমান
…………………
বোমারু পাখি উড়ে আসছে
ভিতরের ইউরেনিয়াম প্রসব করে
ফুটাবে রক্তজবা।
যার নেই শিরা-উপশিরা ও ফুল ফুটানোর ক্ষমতা,
সেই ফুটাবে ফুল।
তোমার পাঁপড়ি দিয়ে আগলে রাখা কলি
যার ভিতরে রক্ত সমুদ্র তাকেই ফুটাবে।
মুদ্রার যে দুর্লভ মল মূত্র
গায়ে মাখবে বলে তোমরা এখনো বেঁচে আছো
তোমাদের কাঙ্ক্ষিত মল-মূত্রের চেয়েও পরিপূর্ণ সে।
শার্টের বোতাম খুলে দাও, গ্রহণ করো তাকে।
চিবুকটা উজাড় করো
পোশাকের দেয়াল খুলে।
যেন বাষ্পিত হয়েই হৃদপিন্ডের কানে
ফিসফিসিয়ে বলতে পারে, তুমি ধন্য-
ঢেলে দিয়েছি অর্থ আঁখের রশ
আর অমূল্য রত্নের ইউরেনিয়াম।
আর তুমিও নিজেকে ধন্য মনে করে
কাঁতরাতে কাঁতরাতে গাইবে সফলতার গান।
আর বোমারু বিমানও বিকট শব্দে
তুলবে তাঁর সফলতার গান।
সূদুর সমুদ্র পারি দিয়ে নিজেকে রঞ্জিত করতে সে যে এসেছিল তোমার রক্তের খোঁজে।
তা-ই তার সফলতা।
তোমাদের ভালোবাসার চির মিলবন্ধন দেখেই
ইস্পাতের মতো শাণিত করেছি নিজের প্রেমিক হৃদয়।
বোমারু বিমানকে নয় গ্রহণ করেছো
তার জড়ায়ুর ঐশ্বর্য।
সেও তোমাকে নয় গ্রহণ করেছিল হোলির রক্ত।
তোমাদের মতোই স্বার্থলোভী প্রেমিক প্রেমিকা।
একে অপরকে ভালোবাসে স্বচ্ছলতা ও কামের লোভে।
তোমরা হাসছো কেন ডলারের ইঞ্জিনের মবিলেরা?
যারা এখনো বেঁচে আছো প্রভুর মুদ্রার কঙ্কাল হয়ে।
ভাবছো এখনো সুরক্ষিত তোমার রক্ত।
অথচ অন্ধকারের ঊষায় অদৃশ্য হায়েনারা তোমাকে লুণ্ঠন করেই জ্বেলেছে আলোহীন সূর্য
আর ধারালো করেছে অস্ত্রের দাঁত।
প্রাসাদে অলংকারে মোড়ানো সিংহাসনে
তোমরাই তো তাদের বসিয়েছিলে।
তোমদেরই তো ইশতেহার ছিলো
সেই আমাদের প্রভু
যে চুষবে আমার রক্ত
যার চোয়ালে থাকবে আমার শিশুর
হাড় চর্বণের শক্তি।
যার যৌনাঙ্গে থাকবে প্রিয়তমাকে ধর্ষণের বিষ।
আর যে যুদ্ধ বলে হত্যা করতে পারে স্বজাতিকে।
জানি, তোমরা কেউ আমেরিকান
কেউ ম্যাক্সিকান
কেউ জার্মানি, কেউ বা ইরানি।
কেউ এদেশের কেউ ওই দেশের।
স্বজাতি বলে কিছু নেই তোমাদের।
আমার স্বজাতি!কেননা “মানুষ” বলে সকলকে
সূর্যের মতো ধারণ করেছি।
সূর্য যার অসহনীয় তারও গৃহে সে পৌছে দেয় অন্ন!
জানি এখন তোমরা নৈতিকতার বুলি আঁওড়াবে।
আর শোনাবে ঈশ্বর ও তাঁর ধর্মগ্রন্থের কথা।
আর আমাকে আখ্যা দিবে অমানুষ।
কেননা আমি পরিচয় দিয়েছি মানুষ।
মানুষ বলে নিজেকে পশু পরিচয় দেয়ার চেয়ে বরং তোমরাই আমাকে নির্বাসন দাও।
আমি নিজের পরিচয় নিয়ে ভাবিত নই,
মাতৃগর্ভের অলীক জড়ায়ুতে আমি কি ছিলাম?
কে ছিলাম? তোমরাই বরং ভপৃষ্ঠে পা রাখাতে টেনে নিয়েছ তোমাদের পালে?
তোমাদের মতো আকৃতি বলেই আমি
তোমাদের কেউ নই। আমি তোমাদের কোন কিছু নিয়েই ভাবিত বা অভাবিতও নই!
ঈশ্বরও তোমাদের আবিষ্কৃত কোন পুতুল নয়
যে ক্ষমার আদেশেই হায়েনারা নিষ্কৃতি পাবে।
আমি এটাও নিশ্চিত যে, তোমরা নিজেদের স্বার্থেই এসব নৈতিকতার জন্ম দিয়েছ, দুর্গন্ধ এসেছে বলেই সুঘ্রাণ।
আরেকটি বোমারু পাখি উড়িয়ে হত্যা করো
রোমান্টিক কবিদের। যাদের কানে বরফের ফাটল ধরেছে আর হৃদয়কে গ্রাস করেছে আইসবার্গ।
যারা প্রেম ছাড়া আর কিছু শুনতে ও দেখতে পায়না।
এই অবশতা থেকে মুক্তি দিতে পারে কেবল তাদের মৃত শব ও বোমারু বিমানের বিকট শব্দ।
তাদের এতটাই বিষাক্ত করবে কবিদের শব কফিন থেকে উঠে বলবে তোমরাও ছুঁড়ে মারোআরো বড় কোন হাইড্রোজেন বোমা।
যেন পৃথিবী ভরে উঠে সব কবিদের গোরস্থানে।
পৃথিবীর সব গোরস্থান ঝলমল করবে
শিশুদের হাঁড়ের কঙ্কালে।
পৃথিবীর উৎসবে হাইড্রোজেন বোমার বিকট শব্দ ছাড়া আর কোন বাজবে না।
খাবারে তালিকায় শিশুর রক্ত ছাড়া আর কোন সফ্ট ড্রিংস
থাকবে না।
নারীদের শরীরে রক্তি
ছায়া ছাড়া আর কোন
সৌন্দর্য থাকবে না।
তোমরা যারা আমার সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তিত
আমার এলোমেলো চুল কি
তোমাদের বিধ্বস্ত শহরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে?
আমার কুৎসিত চেহারায় কি
তোমাদের ঘৃণার
পুঁজ ভেসে উঠছে?
আমার হাসিতে কি ড্রাকুলার শোঁচালো দাতের
অবয়ব দেখা যাচ্ছে?
আমার শরীর ও পোশাক দেখে কি মনে হচ্ছে
যুদ্ধে মৃত কোন শব কফিন থেকে উঠে চিৎকার করে তোমাদের অশান্ত করছে?
প্রতিবাদ করায় এই শবের গলায় পা দিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে আবারও কি উপহার দিবে মৃত্যু?
তোমাদের হৃদয়ের ধুপ ধুপ শব্দ কি প্রতিনিয়ত তোমাদের বোমারু বিমানের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে?
শত শত লাশের কফিন
থেকে কি তাদের
চিৎকার ভেসে আসছে?
তাদের যন্ত্রণার শব্দ শুনে
তোমরা নিজেরাও কি পৃথিবীকে ধ্বংস করে লাশ হয়ে গাইতে থাকবে সেই যন্ত্রণার গান?
মাংসের গুহা
……….……….
অমাবশ্যার হীম নিস্তব্ধ রাতে
মাংসের গুহায় ধ্যানমগ্ন হয়েছে মাংস।
শরীরের ঘাম ঝরিয়ে শরীরকে করবে সুখী।
তীব্র ক্লান্তির পাপ থেকে মুক্ত হতে
শুধু ধ্যানমগ্ন হয়ে যাই।
প্রশান্তিহীন কুয়োর পাতাল খুঁড়ে যাই
গভীরের হৃদয়ের অতল গভীরে,
তবুও নিখোঁজ-প্রশান্তির সুন্দরী হাঁড়গোঁড়।
তাকে না পেয়ে কি বিষন্নতায় শুনি
মাংসের ঝনঝন শব্দের সুর।
কি বিষন্ন মুগ্ধতায় দেখি রেইনবো মাংসের রঙ।
প্রশান্তির হাঁড়গোঁড় না পেয়ে খুঁজতে থাকি
আরো লাল,নীল, বাদামী মাংস।
আশপাশের আকাশজুঁড়ে মাংসের শঙ্খচিল,
গুহার দেবদূত, পাথর সবই মাংসের টুকরো।
পৃথিবীজুঁড়ে আজ শুধু মাংসপূজা,
রাজা, রানী, প্রজারাও পড়ে আছে মাংসের মুকুট।
এটিএম বুথ থেকে হেঁটে যাচ্ছে মাংসের নোট।
হাঁটবাজারে, পার্কে, ঘাটে আজ
গোলাপের দামে বিক্রি হচ্ছে মাংস।
তীব্র মাংসের ক্ষুধায় চোখে জ্বলে উঠেছে মাংসের মণি।
এই অন্ধ মাংসপথ থেকে নিজেকে বিচ্যুত করতেই
আজ আকাশের অরণ্যে আরোগ্য ফুল খুঁজি।
চাঁদের পেট তাঁর কিরণ দিয়ে অন্ধকারে
জ্বালিয়ে যাচ্ছে নিভুনিভু আলো।
পৃথিবীর জড়ায়ু এক পূজার কারখানা,
শ্বাস প্রশ্বাসে শুধু পূজার অক্সিজেন।
অনবরত কোন পুরোহিতের কঙ্কালের পূজা বহমান।
মৃত্যুদূতের মৃত্যু ব্যতীত আর
কোন পথ কি নেই তা থেকে মুক্তির?
সবাই যেখানে নিশ্চিত করে চলছে একে অপরের পূজা,
সেখানে এমন স্বপ্ন রঙ্গের পৃথিবী স্বপ্নেও আসবে না,
দৃশ্য, অদৃশ্য, চেতন, অচেতন সবই বিষাক্ত পুঁজে।
তবুও মহান মাংসের গুহার সেই অলীকতাই কি পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষাকারী ঈশ্বর নয়? যে
রাষ্ট্রকে দিচ্ছে ইঞ্জিনের মবিল আর পৃথিবীকে অরণ্য।
শূন্যতার চেয়ারে যে বসে আছে, সে কি
তাঁর ক্ষমতা সপে দিয়েছে মাংসের গুহায়?
পৃথিবীতে মাংসের গুহার দরজা যদি
আর না ফোটায় কোন নতুন মাংসের গুহা,
মৃত্যু কি থামিয়ে দিবেনা পৃথিবীর চালিকাশক্তি?
তা কি সে শূন্যতা থেকে এসে ফিরিয়ে দিবে?
তবুও নিজের অদৃশ্য শ্বাপদকে মুক্তি দিতে
চাই এই ইঞ্জিনের পোড়জমিনের অনন্ত রেখা থেকে,
শূন্যতার চেয়ে এমন অমৃত সুখ যে নেই
এই নিষ্ফল বীজে।
অনশন
………..
মিলন সন্তৃপ্তিতে এমন মাতাল হয়েছি
চারিদিকে শুধু সূর্য আর সূর্য।
বিছানায় গোলাপের পাঁপড়ীর মতো রমণী,
সেও যে কোন সূর্যমুখী পাখির মত
জ্বলছে অন্ধকারের বাতি হয়ে
তাঁর পালকের ভিতর
মাতাল ঘুমে কাতর হয়ে ঢলে পড়ি।
আর তাঁদের হাঁড় দিয়ে
চারপাশে শাপলার প্রাচীর তুলে
সুধার সাগরে মাতাল হয়ে ডুবে আছি।
স্বর্ণ, মুদ্রার তাঁরামাছ,
বার্গার, স্যান্ডউইচের রুনুঝুনু সূর্যমুখী আর
নারীদের চৌম্বিক মঞ্চপদ্ধতীর নৃত্য।
কখনো দিনে তারাবাতি, রাতে সূর্যের মমি
কখনো বা কফিন কাফনই লাশ।
এই কি অদ্ভুত অশান্তি পৃথিবীতে!
সাঁড়ি সাঁড়ি লাল মুনিয়ার ডানা
কেঁড়ে নিয়ে পৃথিবীর আকাশ জুড়ে আজ
উকুন আর উকুন।
সমুদ্রের রাজ্যে পুঁটি মাছের খাদ্য আজ কুমির।
অশান্তির আঁধার কাটবেই!
মরুর ক্যাকটাসগুলো আজ ভিতরের
কলকারখানায় লুকিয়ে রেখেছে রক্তের মাইন।
সবাই সবার দিকে রক্ত ছুঁড়ে বলছে-
এই নাও খেয়ে দেখো কেমন স্বাদ
আর আমাকে দাও টাকা, টাকা, টাকা!
কুঁজো উটগুলোর চোখে জ্বলছে আজ
মুদ্রার অগ্নিপিপাসা।
অশান্তির আঁধার কাটবেই, নির্মল বাতাস আসবেই।
বালির চিকচিক আলোতে শান্তি প্রতিফলিত হবেই।
সংবেদনশীল কবিরা আজ এক অদ্ভুত অনশনে।
তাদের চুলগুলো সব শব্দের মতো দীর্ঘ,
দাঁড়ি, গোঁফ আজ পৃথিবীর অরণ্য,
পোশাকগুলো সব ম্যমির জোড়াতালি কাফন।
কি ভয়ংকর গম্ভীর তাঁদের চেহারা!
হাসলেই আজ আকাশ রক্তমেঘে ঘন হয়ে আসছে,
কোমরে পেছিয়ে রেখেছে পাথরের ক্ষুদার্ত অলংকার।
এমন অনশনের প্রায়শ্চিত্ত করাতে
তাদের পাকস্থলী আর কোন পোঁকামাকড় পাবেনা
মৃত্যু চাইলেও মৃত্যুদূত আসবে না।
দুর্গন্ধ ঠেকাতে কোন মাটি তাঁদের শরীর পাবেনা।
এমনই আদেশ প্রেসিডেন্টের
দাবি-সেইসব জ্বলন্ত জনতার।
রেড কয়েন
…………….
মহান প্রভুর চরণে নাক ঠেকিয়ে
বলছি- প্রভু অনুমতি দিন আর
কিছুদিন পৃথিবীতে থাকার।
আপনি অসীম দয়ালু, আমার কোমড়ের হাঁড়
আর একটু শ্বাস-প্রশ্বাস দিন।
আপনার ইশারায় বদলে যায়
মহৎ ও কদর্যের কঙ্কাল।
যা ছিল এতদিন পোড়জমিন
তা আজ উর্বর জমি।
সবই আপনার কৃপা!
রক্ত ঝরছে সবার ,
তবুও দেখতে পাচ্ছিনা কেউ।
যা দেখছি তা রেড কয়েনের প্রপাত!
দূর-সুদূর জুড়ে সব রেড কয়েনের কুয়ো আর কুয়ো।
জন্ম চক্রান্ত বেঁধে এমন চক্রান্তের হাতে তুলে দিয়েছে,
তা থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারে কেবল মৃত্যুভাগ্য !
তাও মুক্তি নেই-এর বিস্তৃতি
কফিন, কাফন, হাঁড় ও শরীরের যন্ত্রাংশেও।
সূর্য, চাঁদ এসবই দিতে পারে আমাদের প্রভু!
নিজেদের মহান দাবিকারী তান্ত্রিকরা
তাকে বোতলে বন্দী করতে এসে নিজেরাই
বোতলে বন্দী হয়ে আছে।
এসো কদর্যের রাজা
নিজেকে পবিত্র করো মুদ্রাস্নানে
এমন কোন তীর্থস্থান নেই
যা তোমাকে করতে পারে বিশুদ্ধ ।
তৃষ্ণাজ্বলা উড়ানউটান হরিণদের চিৎকার শুনছি!
মহামারীর বমির তেজস্ক্রিয়তায়
যারা মুদ্রাকে চুমু খাচ্ছে।
আর নিজেদের ক্ষুদায় কাতর পাকস্থলীর
উপর সাজিয়ে রেখেছে মুদ্রার বাগান।
রতিক্লান্ত আত্মার কন্ঠ-নিঃসৃত গান শুনছি কান পেতে
সু-বিশাল মাংসের কারখানার কার
আজন্ম চলছে যে পাকস্থলীর উদ্দেশ্যে ।
দিকশুন্য ভ্রমণে ক্রমশ যাচ্ছো মৃত্যুর দিকে।
আর হাওয়ায় ভেসে দেখবে
খোলসের পোষাক নিজেই নিজেকে
সাজিয়ে দিয়েছে মাটির অতল গভীরে।
আর জৈব সাড় হয়ে করছে মাটিকে উর্বর।
ডুবে দেখ হৃদয়ে- প্রেম, মানবতার নাইটিংগেল পাখিরা নিজেদের পালকে সৌরভ ছড়াচ্ছে রক্তিম আকাশে।
বিস্ময়ে একে অপরকে দিচ্ছে নিজের ডানা।
অপ্রতিযোগীতায় প্রতিযোগী হয়ে
দলবদ্ধে গাচ্ছে সফলতার গান।
এসো নির্মল সুভাসী হাওয়া,
পৃথিবীকে করো রংধনু রঙ্গে রঙিন ।
যেন হাওয়া হেসে উঠে শিশুর হাসিতে।
আর পাখিরা পৃথিবীতে প্রেম দেখে
গাইতে থাকে কিচিরমিচির শব্দের গান।
পৃথিবীর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট
…………………………………..
এখানে বাতাসে বাতাসে লাশের চাষ।
হাওয়াই মিশে থাকা রক্তের মাইক্রোপ্লাস্টিকের আক্রমণে রক্তবমির মহামারী।
জমির উর্বরতা-ই বা কি যদি না ফলে লাশের ফসল।
মহাসমুদ্রে ভেসে ভেসে
নৌযোদ্ধারা চাষ করে বিরাট বিরাট হাঙ্গর,
তাদের সবচেয়ে সুস্বাদু খাদ্য শিশুদের ধর।
শিশুরা তাদের ধর থেকে রক্ত ঝর্ণা ঝরায়
যতক্ষণ না মহাসমুদ্রের সব মাছেরা মেটায়
তাদের রক্তপিপাসা।
সমুদ্রের অতলে শ্যাওলাধরা সব পাথর নিজেদের নখরে শাণ দিচ্ছে রক্তে।
একে অন্যকে খুন করতে থাকে কে কার চেয়ে কতটা ধ্বংসাত্মক ধারালো হতে পেরেছে তা নিশ্চিত করতে।
আকাশের গলিপথ বেয়ে তীব্র গতিতে ছুটে চলা মিসাইলের গর্জনে আতঙ্কিত হয়ে
নিজেদের অভিশপ্ত দেহে চালাতে থাকে ধারালো খুর।
নেশাখোর প্রেসিডেন্টরা তাদের অন্ডকোষের মতো মিসাইলে বেঁধে দিয়েছে অভিশপ্ত রাডার।
টকটকে লাল রক্তে মাতাল হয়ে প্রতিদিন যারা নাচে শুয়োরের নগ্ন শবের সাথে।
আহ্! নারীদের অভিশপ্ত সৌন্দর্য!
নিজেদের ইঁদুরের মতো মসৃণ শরীর গলিয়ে যারা আঁচলে লুকোতে চাচ্ছে পৃথিবীর ধ্বংসস্তূপ।
পৃথিবীকে এখনো ফুলেল ভাবতে চারপাশে ফুলের জঞ্জাল সাজিয়ে রেখেছি, নিশীথের অন্ধকারে যারা সূর্যকে দেয় করুণ অভিশাপ।
এমন কোন সূর্যমুখী শিশু আর জন্মাবে না
যে নিজের চুরুট থেকে আলো ধার দেয় সূর্যকে।
আহ্! অভিশপ্ত সূর্য ! এখনো পৃথিবীকে যে আলোকিত করে হায়েনাদের জাগিয়ে তুলতে,
নিজেদের রাজনীতি নামক ধর্মগ্রন্থ খুলেই
যারা জ্বালে কঙ্কাল চাষের ঊষা।
আগামীর মানবশিশুরা আর হাসবে না নিজেদের প্রতারণায়। ক্যামেলিয়া হাতে না নিয়ে
বন্দুক তাক করে রাখবে নিজের দিকে।
পূর্ণিমার চাঁদের করুণ ঠান্ডা হাওয়া আর ভুলাতে পারবে না শিশুদের খুনের রেখা।
হায়েনাদের দর্পে কিলবিল করতে থাকা বিষধর বোমার কারখানা আর থাকবে না।
আধুনিকতার নামে আর কেউ জ্বালবে না অগ্নিকুন্ড।
পৃথিবী থেকে ধূসর প্রজাপতির মতো অনন্তের দিকে গলে যেতে যেতে জোনাকিরা অভিশাপ দিচ্ছে নিজেদের, সভ্যতার সন্ধ্যায়
পথ দেখাতে যারা বেঁচে ছিল এতদিন।
শয়তানরা আজ চুড়ি পড়ে নাক ঠেকিয়ে রেখেছে রাজনীতিবীদদের চরণে, তাঁদেরও আছে
কোন প্রচন্ড অন্ধভক্তি ঈশ্বর।
অথচ রাজনীতিবীদরা নিজেদের রাজনীতি নামক ধর্মগ্রন্থ খুলেই জপে যে জনগণ নামক ঈশ্বরের নাম,
তাদের হাড়গোড় ভাঙারি দরে বিক্রি করেই
শুরু করে নিজেদের শয়তানী।
আহ্! কতদিন আকাশের সিলিং থেকে ঝরেনা
ঝিনুক বৃষ্টি, যার শাদা পালকের ভিতর নিজেকে আড়াল করতে পারি। জানিনা, কবে ক্রূর আকাশ
আর ঝরাবে না বৃষ্টির বুলেট।
ওহ্! পায়ুপথে চোখ বেঁধে রাখা প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা, নিজেদের হ্যান্ডকাপ পড়ে ঝুলে থাকবে শূন্যতায়।
আমি প্রচন্ড ঘৃণা করি নিজেকে,
এখনো বেঁচে থাকতে ভর করতে হচ্ছে মুদ্রার পায়ে।
আর তোমরা যারা শব্দের বমি শুনে ভাবছো
প্রচন্ড নেশায় মাতাল হয়ে আমি এসব বকছি।-
দেখো, আমার চোখ কি ভয়ংকর লাল!
যেন শিশুদের রক্তনিকাশী নালা।
জুয়ার টেবিলে হারানো মগজ
……………………………………
এই জুয়ার টেবিলে বাজি ধরেছি তোমায়,
সূর্যের করোটির ভেতর নিউরনের আলো ও
আঁধারের মহাপ্লাবনে হেরে গেছি।
ঝানু জুয়ারি পূর্বপুরুষরা
আজও সূর্যের মতো বেঁচে আছে।
তোমাকে সুতোর তন্তুর মতো না গড়ে
পর্নস্টারের মতো ছুটেছি,
আজ মুদ্রার মৃত্যুতে আমিও মৃতপ্রায়।
আজ আমি কারো নই, আঁধার ও মৃত্যুর।
যারা নিজেদের খোঁয়াড় থেকে বেড়িয়ে
তোমাকে ঘষে ঘষে আগুন জ্বেলেছিল,
তাঁরাই আজ আদি পিতা।
তুমিই কি আমার আত্মা?
আমার ভেতরের মহাবিশ্ব কি তুমিই?!
তুমিই কি পৃথিবী দাও, নাও?
তোমার আকাশপথে উড়ে যাওয়া
ছুঁড়ে দিয়েছে আজ মানুষের নর্দমায়।
মুদ্রার ইয়াবা-ই কি তোমাকে
ফিরিয়ে আনতে পারে করোটিতে?
সবার সাথে যে সেতুবন্ধন গড়েছো
আজ সেখানে গোধূলির রক্তিম সূর্যাস্ত জেগেছে।
শূন্যতার পেটে কবর খুড়ে
করোটিতে কঙ্কাল রেখে পালিয়েছো।
তুমি সেই সূর্য, নিজের খাঁচা জ্বালিয়ে রাখো ইতিহাসে,
আলোর পায়চারী শুনতে পাও।
যাকে দেখে হৃদয়ে বিষন্ন ছিদ্র
সে কি সত্যিই অসুখে? নাকি সুখে?
তোমার বোধগম্যের দেয়াল ভাঙ্গতেই তো
আফিমখোরের লুকোচুরি সাধনা!
ক্ষণিক রংধনু হয়ে উঠা।
অনন্ত সুখ সবচেয়ে বেদনার বলেই কি সে ব্যথিত?
এই অসুখী সুখী মানুষকে দেখে
নিউরনের চিন্তার সঙ্গমে হৃদয়ে যে বেদনার বীর্য
তা-কি আসতো তুমি উড়ে গেলে?
সবার খুলির ভেতর ন্যায়-অন্যায়ের দন্দ্ব
জীবন ফুলের মধু দেখে লালায় ভরে উঠে,
আজ নিজেই সে মৌচাক হয়ে উঠা কি সত্যিই দুঃখের?
একে অপরকে বেঁধে সীমাহীন চুড়োয় উঠার যে দৌড়, তা থেকে মুক্তি কি সত্যিই বেদনার?
চারপাশের জ্বালিয়ে রাখা জ্বলন্ত কয়েল
নিজের যে সংবেদনশীল রাডার পুঁড়িয়ে ফেলে
তা থেকে মুক্তি কি সত্যি-ই বেদনার হে অসুখী সুখী?
পূর্ববর্তী কোন নক্ষত্র-ই ঘুমোতে পারেনি
প্রশান্তির কাথায়, নিজেকে পুঁড়িয়েছে-
অন্ধকারকে সমাহিত করতে আলোর কবরে।
তুমি এখন সেই শিশু,
যে চিনে ঝিনুক মুক্তার খেলা,
আলোর হাসাহাসি আর বৈপরীত্য নাচে যার দেহে।
এক ভেলকিতে পুড়িয়ে ফেলেছো বিষন্নতার পেয়ালা
যেখানে জমে থাকে স্যাঁতস্যাঁতে সব বিষাদ।








মাশাল্লাহ কবিতটা পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ❤️