এ কে আজাদ
১. মুগ্ধ আসে
ছুটছে বুলেট ফুটছে বোমা চলছে তবু মুগ্ধ মীর,
পানি পানি, লগবে পানি হাঁক দিয়ে যায় সাহসী বীর।
দেশটা যখন মরু করে স্বৈরাচারী দৈত্য হাসে,
তখন দেখি পানি হাতে শান্তি দিতে মুগ্ধ আসে।
সবুজ মাটি যখন দেখি বুকের রক্ত-জলে ভাসে,
বাংলাদেশের জমিন জুড়ে তখন দেখি মুগ্ধ আসে।
মুগ্ধ আসে বিপুল স্রোতে শত নদীর কিনার হতে,
জীবন হাতে মুগ্ধ আসে আকাশ ছোঁয়া মিনার হতে।
মুগ্ধ আসে কৃষকের ঐ ফসল ভরা বহর হতে,
মুগ্ধ আসে ইট পাথরের শক্ত কঠিন শহর হতে।
আবাবিল সব পাখি হয়ে মুগ্ধ আসে ঝাঁকে ঝাঁকে,
মুগ্ধ আসে নুড়ি মুখে রাজপথের ঐ বাঁকে বাঁকে।
মুগ্ধ আমার ঘৃতাহুতি আন্দোলনের মাঝ পথে,
মুগ্ধ আসে শক্তি হয়ে ক্লান্ত দিনের রাজপথে,
স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে মুগ্ধ আসে মাথার ঘামে,
স্বৈরাচারীর বুলেট বোমায় হাজার বুকের রক্ত দামে।
মুগ্ধ আমার আলোর ঝিলিক ঘনঘোর ঐ অন্ধকারে,
মুগ্ধ আমার শাবল-আঘাত স্বৈরাচারীর বন্ধ দ্বারে।
মুগ্ধ আমার চেতনা যে নতুন করে বাংলাদেশে,
মুগ্ধ আসে বারে বারে শহীদ তীতুর নতুন বেশে।
মুগ্ধ আমার নতুন গানে নতুন বাঁধা বিপ্লবী সুর,
মুগ্ধ আসে যুগে যুগে তিমির রাত্রি করতে যে দূর।
#
রচনার তারিখ: ২৫.০৭.২০২৫
২. বীর আবু সাঈদ ও জন্মভূমি
তোমার রক্তেই লেখা ছিল স্বাধীনতার রক্ত শপথ,
সেই শপথে জাগলো স্বদেশ, মুক্তাকাশে লালচে কপোত।
বুকটা তোমার রক্ত-সোপান, স্বাধীনতার পথের দিকে,
সেই পথে যে হাঁটবে সবাই স্বৈরাচারের পতন লিখে।
তোমার নামে নাম লেখালো বাংলাদেশের লক্ষ ছেলে,
ঘরে ঘরে কোটি সাঈদ আছে আশার আলো জ্বেলে।
এক সাঈদের রক্ত-আগুন লক্ষ ছেলের বুকে জ্বলে,
নিযুত সাঈদ সুর মিলিয়ে স্বাধীনতার মন্ত্র বলে।
রক্ত দানের ঈদগাহে আজ চলছে মিছিল, চলবে আরও,
বুকের সাথে বুক মিলিয়ে মন্ত্র পড়ে হাজার বারও।
মন্ত্র কিসের? স্বৈরাচারের পত্রপাঠ আজ বিদায় হবে,
মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে যে যার কথা সবাই কবে।
কিসের কোটা? কারসাজি সব দলের ষণ্ডা নিয়োগে,
ফুটবে কুসুম বাংলা-বাগে হুতুম পেঁচার বিয়োগে।
হুতুম পেঁচা কে তাড়াবে? কারা আছে মুক্তিকামী?
লক্ষ মুখে স্লোগান ওঠে – আবু সাঈদ তুমি আমি।
এক সাঈদের বুকের সাথে লক্ষ সাঈদ বুক পেতেছে,
স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ আজ খুব মেতেছে।
এই পারেতে স্বৈরাচারী, ওই পারেতে মুক্তি কেতু,
মাঝখানেতে রক্ত নদী, তার উপরে সাঈদ সেতু।
সেই সেতুতে বুক মেলালো বাংলাদেশের ছেলেমেয়ে,
নিপীড়িত জন্মভূমি তাদের দিকেই আছে চেয়ে।
রচনার তারিখ: ২২.০৭.২০২৪
৩. লাল জুলাইয়ের প্রার্থনা
কথায় কথায় ভাবছি বসে
কথার ফাঁকে লিখবো কি?
হায়নাগুলোর কাছে এখন
আমি মানুষ শিখবো কি?
পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে
শহর জুড়ে নানান বাতি,
বাতির আলোয় হয় না আলো
চোখে দেখি অকাল রাতি।
মৃত্যুপুরী পথে পথে
হায়নারা পথ আগলে থাকে,
রক্ষকেরা ভক্ষক হয়ে
ফাঁদ পেতেছে বাঁকে বাঁকে।
হাজার শিশু মারে সীমার
বাংলাদেশ আজ কারবালা যে,
মরে না তো এজিদ-আত্মা,
আসবে কবে তার পালা যে!
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে
এজিদেরা দেয় যে হানা,
তীরের ঘাতে শুধুই মরে
জয়নাল হুসেন আর সখিনা।
এই শিশুদের বানাও প্রভু
তোমার সেনা সেই আবাবিল,
তাদের হাতের কঙ্করই হোক
আবরাহা মারা লক্ষ ঢিল।
আর সহে না প্রাণে আমার-
শিশুর রক্তে বন্যা বয়,
বাংলার রাণী হিন্দা বুড়ি
সে তো মানব কন্যা নয়।
হাজার শিশুর রক্ত দেখেও
হয় না কি গো তোমার মায়া?
দাও না মাবুদ! দাও না তোমার
ঐ আরশের একটু ছায়া।
উড়াও হিন্দা বাঁচাও দেশটা,
কারবালা হোক শান্ত আজি,
শহীদ গেছে তোমার কোলে,
চেয়ে আছে লক্ষ গাজী!
রচনার তারিখ: ০৪.০৮.২০২৪
৪. লক্ষ সাঈদ আয় রে আয়
স্বৈরাচারের বুলেট বোমায়
রক্তে আগুন জ্বলে যদি,
সেই আগুনে দে পুড়িয়ে
স্বৈরাচারীর আসন গদি।
দে দে রে দে, দে রে আগুন
দে পুড়িয়ে দানব যত,
বাংলাদেশে আন্ রে ফাগুন
সুবাস ভরা ফুলের মত।
রক্ত তোদের নদীর মত
চলবে ছুটে অবিরত ,
রক্ত স্রোতে ভাসবে দেখিস
স্বৈরাচারী খুনী যত।
লক্ষ সাঈদ বুক পেতেছে
বাংলাদেশের সবুজ বুক,
তোদের রক্তে হোক না রঙিন(?)
স্বৈরাচারের হায়না মুখ!
ধর্ রে তোরা স্বৈরাচারে
ধর্ ধরে ধর্, ধর্ রে খুনী,
তোদের ভয়ে যাক না উড়ে
স্বার্থ-শকুন, দানব-মুনি(?)।
তোদের চোখেই মানিক জ্বলে,
স্বপ্ন দেখি তোদের চোখে,
তোদের পথেই চেয়ে আছে
বাংলাদেশের লক্ষ লোকে।
দানব খুনী করতে খতম
আয় রে তোরা লড়বি আয়,
সোনার ছেলে তোরাই পারিস
দেশটা সোনার গড়বি আয়।
রচনার তারিখ: ২৩.০৭.২০২৪








অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই প্রিয় কবি ও সম্পাদক ভাইয়া