প্রচ্ছদকবিতারামিসা ও অন্যান্য কবিতা

লিখেছেন : খসরু পারভেজ, আবু জাফর সিকদার, জিয়া হক

রামিসা ও অন্যান্য কবিতা

রামিসা
খসরু পারভেজ
…………………..

প্রচণ্ড পেরেক পুতে দিলে বুকে
কতটা যন্ত্রণা নিয়ে এই বুক পাথর হয়েছে
পেরেক তা জানে না

কেন একটি ফুলকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে
নিশ্চিন্তে বেঁচে থাকে তুমুল ধর্ষক
এমন কোনো ছুরি কি নেই তাকে বিদ্ধ করার
এমন কোনো মৃত‍্যু কি নেই যা তার জন‍্য অবধারিত

পৈশাচিক আনন্দে নেচে ওঠে যে সভ‍্যতা
আমি সেই সভ‍্যতাকে ঘৃণা করি
তোমার শরীর ছুঁয়ে বেড়ে ওঠে যে অক্ষমতা
আমি সেই অক্ষমতাকে ঘৃণা করি

হে রাষ্ট্র তোমার বীভৎস মুখ কত আর দেখাবে
তোমার অক্ষমতার পাল্লা ছুঁয়ে
কত কান্না দেখ আজ প্রতিবাদ হয়ে ঝলসে উঠেছে

তোমার দিকে পাথর ছুড়তে ছুড়তে
আমরা আসছি

২১ মে ২০২৬

.……………….
চারদিকে আদিম অন্ধকার
আবু জাফর সিকদার
.………………..

বর্বরতার আদিম অন্ধকার ঘিরে ইয়াজুজ-মাজুজ যেন
খেলা করে শঙ্খচূড়ের মতো
বসন্তের লাল পলাশের ডালে,
জেসমিন কিংবা বন গোলাপের সুগন্ধি পরাগে মুখ ডুবিয়ে হাসে বীভৎস কালো ভ্রমর।

জাহেলিয়াত কতোটা প্রগাঢ় হলে মনু-হিংস্রতা,
পিশাচ ও পশুকেও হার মানিয়ে দেয়!
তার হিসাব নিকাশ কোন বালামে লিপিবদ্ধ করেছো,
হে রাজন্য কোতোয়াল ?

দেবালয় পুড়ছে, পুড়ছে নিষ্পাপ ইজ্জত, আব্রু।
সম্ভ্রম ও রক্তের দামেও পায়নি ওরা বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তা।
সরীসৃপের শীতঘুমে অচেতন,
অথর্ব কানুনের রক্ষাকারী,
হে আধুনিক নগর-বাউল
কখন ভাঙবে ঘুম,
কখন বাজবে বিবেকের বিউগল?

তোমরা ভুলেই গেছো দিনাজপুরের ইয়াসমিন আক্তারের নাম!
ভুলে গেছো-
সীমা চৌধুরীর কথা,
বেমালুম হারিয়ে গেছে
শারমিন আক্তার তৃষ্ণা,
সোহাগি জাহান তনু,
নুসরাত জাহান রাফি,
ফাতেমা আক্তার মিম
কিংবা ভুলে গেছো
সায়মা আফরিন কবরীর কথা।
শিশু রিফাতের কথা কি মনে পড়ে, কোতোয়াল?

উত্তরআধুনিক মধ্যযুগ আর কতদূর?
দশ দিগন্তে আজ আহাজারি আর রোনাজারি;
আইয়ামে জাহেলিয়াতের কণ্ঠস্বর কি শুনতে পাও না, হে মান্যবর?

ও হে রাজন্য কোতোয়াল!
আপন গৃহ কিংবা
থানা থেকে গ্যারিসনের কানাগলি,
কোথায় একটু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, শুনি?

আইন, আদালত,
সংবিধান,
দাঁড়ি-কমা, সেমিকোলন
পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে
তামাদি হয়ে যায় এক একটি দৃশ্যপট।

আহা, মামণি রামিসা! তার ছিন্ন মস্তক আর বিচ্ছিন্ন হস্তযুগলের দায় কে বহন করবে, কোতোয়াল?
মায়ের পাথরচাপা শোক,
বাবার গগনবিদারী হাহাকার
শুধু সান্ত্বনার বাণীতেই কি মূল্য শোধ?

মুখোমুখি ফ্ল্যাট, ওঁৎ পেতে ছিলো নরপিশাচ,
চোখের পলকেই একটি আলোক দীপ্ত পৃথিবী
নিভে গেলো!
অমানিশার অতল গহ্বরে
এমন পৈশাচিক জিঘাংসা,
এমন হন্তারক প্রবৃত্তি
যেন এক বর্বর সভ্যতার কলঙ্কিত তিলক।

যে কানুন নিরাপত্তা দিতে অক্ষম,
যে কানুন খুনি, ধর্ষকের পক্ষে সাফাই সাক্ষী তালাশে মশগুল,
সেই কানুন তো নিষ্পাপ শিশু রামিসার জন্য নয়।

আইনের ফাঁক-ফোকর গলে
ঘাতক, ধর্ষক বেকসুর খালাস
তাই তো অজস্র ধর্ষিতা পায় না এই রাষ্ট্রে যথার্থ বিচার!

ঘুমঘর। লালমাটিয়া
২২মে ২০২৬

…………..………..
চটকাও লটকাও
জিয়া হক
…………….………

মানুষের মতো তবু পুরোপুরি জানোয়ার
চটকাও লটকাও ‘জিভ ধরে টানো আর’
ইনসাফ কায়েমের বেলা নাই মমতা
ধর্ষণ খুনে কই পায় সক্ষমতা!

সুষ্ঠু বিচার হোক— জনমের শিক্ষা
বাঁচবার অধিকার পাবেও না ভিক্ষা
বিচারহীনতা থেকে পেতে হবে মুক্তি
রাষ্ট্র ঘুমিয়ে রবে, নাই কোনো যুক্তি।

রাষ্ট্রের দায়-দোষ যদি ফের না থাকে
ফুটফুটে রামিসার হাবিয়ায় পা থাকে
ফুল ফুটে ঝরে যায় আর ফুল ফোটে না
আঁধারের বুক চিরে সূর্যও ওঠে না।

হতভাগা রামিসার… বলবারও ভাষা নাই
রামিসার বাবা মরে, বাঁচবার আশা নাই
শুয়োরের বাচ্চারা কী করে মানুষ হয়
চটকাও লটকাও যদি জ্ঞান হুঁশ হয়।

অপরাধী কোনোভাবে যেন পার পায় না
অপরাধী বলা ভুল, জানোয়ার হায়না
জানোয়ার হায়নাকে ফাঁসি দাও ফাঁসি চাই
বাঁচবার অধিকারও চিরনাশ নাশ-ই চাই।

২১. ০৫. ২০২৬

আরও পড়তে পারেন

1 COMMENT

  1. ধর্ষক ও খুনীদের চেয়েও জগন্য অপরাধী তারাই যারা ক্ষমতার চেয়ারে বসে ন্যায় বিচারের পরিবর্তে বিচারকে অর্থের বিনিময়ে বা দলীয় বিবেচনায় কিংবা নতজানু ও হীনমন্যতার জন্য বিসর্জন দিচ্ছে কিংবা বিচারের নামে অবিচার, দীর্ঘ সূত্রিতার জুলুম ভুক্তভোগীর পরিবারের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। গণপ্রতিরোধ তৈরি করতে না পারলে এই অচলায়তন ভাঙা সম্ভব হবে না। সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও গন সচেতনতা তৈরির হাতিয়ার হোক কবিতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা