প্রচ্ছদকবিতাগুচ্ছ কবিতা

লিখেছেন : মাহিম সরকার

গুচ্ছ কবিতা

গুচ্ছ কবিতা 

মাহিম সরকার 

তুমি অথবা মৃত্যু 
………………..

তুমি তো চলে গেলে—
হৃদয়ে রেখে গেলে পোড়া ক্ষত।
অবিরাম মৃত্যুর গান বেঁচে চলছে সারা রাত্রী! 
মৃত্যু অথবা তুমি কেনো এলে না?

ধ্বংস হয়েছি অনেক—
আর কতটা ধ্বংস হওয়া যায় বলো?
কতটা কষ্ট দিয়ে আর
তুমি অথবা মৃত্যু একজন আসবে? 
একজন আসলেই তো বেঁচে যায়
মরে যেয়ে অথবা 
কয়েকশো জন্ম তোমার চোখে চোখ রেখে!

অথচ—
এই অপেক্ষার বয়স বেড়েই চলছে। 
বড় হতে শুরু করেছে চোখের নিচের কালো দাগ 
চোখ লাল রক্ত জমাট 
শ্বাসকষ্ট 
বেড়ে চলছে দীর্ঘশ্বাস হাহুতাশ হাহাকার! 
তবুও 
তুমি দেখতে আসছো না এই অভাগা কে। 
আমি চাই —
আমার এই অপেক্ষা ফুরিয়ে যাক
তুমি অথবা মৃত্যু একজন অন্তত আসো—
আসো আসো আসো একদিন।

আহত আত্মার আত্মহত্যা 
…………………………

ছুটি চাই—
আত্মহত্যার ভাবনা থেকে 
প্রতিদিন তারিখ পিছিয়ে দেয়
কিন্তু একদিন ঠিকই করে ফেলবো আত্মহত্যা। 

মধ্যে রাতে—
ফ্যানের দিকে তাকাই 
মোম জ্বালিয়ে হাতের কাছে নেই নতুন ব্লেড
কখনো ভাবি
দুপুরের ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ করে 
হৃদয় বরাবর চলে যাবে দ্রুতগামী মাইক্রোবাস। 

একদিন
জানবেন শুনবেন
আহত আত্মা কে হত্যা করে 
চলে গেছে এক প্রেমিক
এক বেকার যুবক।

একটি হৃদয়ের সন্ধানে 
………………………

চুরি বলো, ডাকাতি বলো— আমার করতে ইচ্ছে হয়।

যেমন ধরো, আমার জন্য একটু ভালোবাসা, একটু আদর, আরেকটু যত্ন।

আমার ডাকাতি করতে ইচ্ছে হয় একটা হৃদয়— যেখানে ভালোবাসা থাকবে শুধু আমার জন্য। থাকবে শাসন, থাকবে মায়া।

এমন একটা আস্ত মানুষ ডাকাতি করতে ইচ্ছে হয়, যে নিঃস্বার্থ মহব্বত করবে আমায়।

যে মনোযোগ দিয়ে শুনবে আমাকে, সবটুকু দিয়ে বুঝবে। ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সঠিক পথ দেখাবে।

ভরসার হাত বাড়াবে, সংগ্রাম করতে শেখাবে, বিপদ মোকাবিলার কৌশল রপ্ত করাবে।

তার সমস্তটুকু দিয়ে আমার হয়ে থাকবে— এমন একটা মানুষ ডাকাতি করতে ইচ্ছে হয়।

পরিসংখ্যান ব্যুরো
…………………

পরিসংখ্যান ব্যুারো জানাতে পারে—
কত মানুষ মারা গেছে অভাবে 
নানরকম যুদ্ধে।
কত মানুষ দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষে মরেছে 
রেলে কেটে,
বাসের চাকায় পিসে মরেছে
আত্মহত্যা করে মরেছে। 

তোমার পরিসংখ্যান ব্যাুরো কি জানে—
কত মানুষ মরেছে অবহেলায়, অপমানে
উপেক্ষা আর তুচ্ছতাচ্ছিল্যতায়?
কত মানুষ মরেছে বিচ্ছেদের যন্ত্রণায়
চুপ চুপ মুহূর্তে,নিঃসঙ্গতায়? 
কত মানুষ মরেছে—
ছলনায় আর বিশ্বাসঘাতকতায়?

জাতহীন শরীর 
……………..

বেশ্যাদের দু’টি পা নেই— 
দু’টি পা কেটে দিয়েছে সমাজ আর রাষ্ট্রব্যবস্থা।

তাই তারা দাঁড়ায় না
দাঁড় করিয়ে রাখা হয় অন্যের কামনার সামনে।

যত্ন করে তাদের শরীর স্পর্শ করা হয়
অথচ সেই স্পর্শে প্রেম থাকে না 
থাকে শুধু কামনার উষ্ণতা।

এখানে শরীর ছুঁতে গেলে কেউ 
জাত দেখে না, ধর্ম দেখে না— 
হিন্দু আসে, মুসলিম আসে, খ্রিস্টানও আসে 
দরজার ওপারে সবাই সমান।

অথচ দরজার বাইরে
তারাই আবার জাতের পাহারাদার, ধর্মের রক্ষক, সমাজের ভদ্রলোক।

তাই বেশ্যাদের জাত-ধর্ম নেই
এ কথা সত্য নয়।

তাদেরও জাত আছে,
ধর্ম, পরিচয় আছে
শুধু তাদের শরীরের কাছে এসে 
মানুষগুলো নিজেদের জাত-ধর্ম ভুলে যায়।

সমাজ তাদের শরীরকে পাপ বলে
কিন্তু সেই পাপের ক্রেতাদের 
সমাজ কখনো বেশ্যা বলে না।

আরও পড়তে পারেন

1 COMMENT

  1. কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ কবি ও সম্পাদক সাজ্জাদ বিপ্লব ভাইকে আমার এই কবিতা গুলো বাংলা রিভিউতে প্রকাশ করার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা