আবু জাফর সিকদার
হাদি
১.
অমাবস্যার বিবরে গোলাপের সৌন্দর্য যেমন পরাজিত হয়
বিভ্রম বয়ানের ধূম্রজালে বিনাশ হয় গৌরবের মিনার,
মানচিত্র হারায় রৈখিক সীমানা প্রাচীর,
লহু-লাল বৃত্তটা কেবল বড় হতে থাকে…
বিলুপ্ত হতে থাকে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের অবারিত সবুজ।
মূষিক যখন কাটে আপন ঘরের বেড়া
করিডোর দিয়ে ঢুকে পড়ে আজদাহা
মিলে মিশে গিলে খায় স্থাবর অস্থাবর।
অথর্ব কোতোয়াল, এক অশ্বডিম্ব ;
আঁধারে হাবুডুবু খায়
নিয়তি নির্মম, গৃহস্থ হয়ে যায় নিশিকুটুম্ব!
চারদিকে কেবলই হাহাকার,
হার্দিক উষ্ণতায় ভিজে ওঠে দেহ মন
তানপুরাতে কে বা তুলছে সুর?
কবিতার চরণে কে বোনে শব্দের ঐকতান?
২.
দুদু মিয়া কী আবার ফিরবে?
হাজি শরিয়ত কই?
কোথা তবে শাহজালালের তলোয়ার!
মেজর জলিল সীমান্ত জুড়ে বসিয়েছে পাহারা,
লুঙ্গি পরে হাঁকছে দ্যাখো মওলানা ভাসানী
ঝুলছে কাঁটাতারে ফেলানী
জেগে আছে বিজয় সরণি
পাশেই অমর জিয়ার কবর।
তবু কেন বর্গী নামে
এই তল্লাটে,
কিসের মোহে আসছো তুমি, জানোয়ার?
৩.
ধুলি ওড়া দিগন্ত জুড়ে
মেহেদি আবিরের অপরাহ্ণ নির্বাক, অনির্বাণ।
বুকের ভেতর বন্দী বিবেকের তাড়নায় জর্জরিত দেহ পিঞ্জর
অহর্নিশি ঘিরে আছে বিভীষণী ছল, উদ্ধত শঙ্খচূড়ের বিষাক্ত ছোবল।
ক্লান্তিকর এক পদযাত্রা শেষে
পদাতিক সেনাদল ছত্রিছাউনিতে
ধুয়ে নিচ্ছে যাবতীয় অবসাদ।
আবার লড়াই হবে, দ্রোহের গানে প্রকম্পিত হবে গগন।
বুক টান টান করে দাঁড়িয়ে পড়বে আর কোনো একজন মৃত্যুঞ্জয়ী আবু সাঈদ।
বলো, তোমরা কয়জন আবরার ফাহাদকে ঠেকিয়ে দিবে?
বন মোরগের ঘুম ভাঙানো শিসে জেগে ওঠেছে এ কোন সুবেহ সাদিক?
পুবের আকাশে কে উঁকি দেয়, চিনেছো কী তাকে?
শতাব্দী ঘুরে যায়,
নবীন এক কবি দ্রোহের গান গায়
বোবা নজরুল যেন নব উদ্যমে দিচ্ছে ডাক, হৈদরী হাঁক!
চিরবিদ্রোহীর পাশে,শুয়ে আছে আর এক জিন্দালাশের কবর
হাদি আছে,থাকবে চিরদিন।
অতন্দ্র সীমান্ত শরিফ।
মনে রেখো লাল শাকের পাতার ভিড়ে
তোমাদের জন্য প্রয়োজনে
বারুদের চাষ হবে!
…
চট্টগ্রাম।
৫ জুন ২০২৬







