তাজ ইসলাম
‘বাংলা বসন্ত’ আমার কবিতা কিতাব, এই কিতাব বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে একজন কবির কবিতায় দ্রোহের উচ্চারণ। বিপ্লবের স্লোগান, বিপ্লবীদের সাথে একাত্ম হয়ে কবির কণ্ঠে শব্দে বাক্যে ছন্দে তালে বিপ্লবের ঘোষণা পত্র। এই কিতাব কেন লিখেছিলাম, কোন প্রেক্ষিতে লেখা হয়েছিল তা বলতে গেলে ২৪ এর জুলাইকে বিশ্লেষণ করতে হবে সবিস্তারে, ফিরে যেতে হবে আরও পিছনে। জুলাইয়ের কবিতাগুলো কেন কোন প্রেক্ষিতে লেখা তার সংক্ষিপ্ত জবাব হল জুলাইয়ের ঘটনা, জুলাইয়ের পরিবেশ, পরিস্থিতিতেই লেখা এইসব কবিতা।
কিতাব করার উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি। লেখা হয়েছে জুলাইয়ের একেক দিনের ঘটনায় একেক রকম অভিজ্ঞতা মুখোমুখি হয়ে। আমি তো কবি, রাজপথের সৈনিক নই। রাজপথের কথা বলি কবিতায়। মাঠের কথা কবিতায় বলেছি। মাঠে ছিলাম কিন্তু মাঠে উপস্থিতি খুব কমই ছিল। সোশ্যাল মিডিয়াতে ছিলাম দারুণভাবে সক্রিয়। জুলাইয়ের দিনগুলোতে কবিতার চেয়ে একটা পোস্ট বেশি কার্যকর ছিল, প্রয়োজন ছিল। একটি পোস্টে উৎসাহ, তথ্য, প্রতিবাদ তাৎক্ষণিক করা হতো। জুলাইয়ে যারা সচেতন ছিল তারা জানে এই এক্টিভিজম কতটা জরুরি ছিল। কোনো কোনো সময় একটা পোস্টও দিতে হতো আকারে ঈঙ্গিতে, কৌশলে। ফেসবুক পোস্টের জন্য হাসিনার দলীয় গুণ্ডা, পেটুয়া বাহিনী, লীগপন্থীয় পুলিশের হামলার ভয় থাকত সবসময়। এসবের ফাঁকে ফাঁকে লেখা হতো কবিতা। ‘বাংলা বসন্ত’ কবিতাটি একটি দীর্ঘ কবিতা। কয় তারিখে লেখা তা স্পষ্ট মনে নাই, তবে তা প্রচার ও প্রকাশ হয়েছিল সম্ভবত ২৯ জুলাই সাজ্জাদ বিপ্লব সম্পাদিত ‘ বাংলা রিভিউ’ ( banglareview.net ) ওয়েবজিনে। পরবর্তীতে প্রিন্ট সংখ্যাতেও ছাপা হয়। এই কবিতাটি জুলাইয়ের ইতিহাসকে ধারণ করে লেখা, কবিতায় জুলাইকে জানার অন্যতম একটি কবিতা বলে মনে করি। এই কবিতার নামেই বইয়ের নাম রাখা হয়। ২৯ জুলাইর আগে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম। পোস্ট করে আবার অনলি মি-ও করতে হয়েছিল। আবার পাবলিক করেছি। ওয়েবজিনে প্রচার হলে আতঙ্কিত ছিলাম। ২৯ জুলাইর আগেই হুমকিতে পড়ি। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে হুমকি তার আগেই পেয়ে যাই।
এই বইয়ে জুলাই ২০২৪ এ লিখিত কবিতা ছাড়াও আরও আগের কিছু কবিতা স্থান পায়।
‘ উই রিভোল্ট’ তার একটি। অর্থাৎ চব্বিশের আগেই আমি বা আমরা বিদ্রোহ করেছিলাম কবিতায়। আমার কোন রাজনৈতিক দল নাই, নাই মানে নাই। এরপর আর কোন কথা নাই। রাজনৈতিক দল নাই তাহলে বিদ্রোহ করলাম কেন? রাজনৈতিক দল নাই কিন্তু রাজনীতি আছে। দেশ আছে, আমার অধিকার আছে। কেন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল মন, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ষোল বছরের গুম, খুন, ভোট ডাকাতির কথা বলতে হবে। কেন্দ্রে গিয়েছি ভোট দিতে, নির্দেশ দিয়েছে নৌকায় ভোট দিবেন। কেন্দ্রে ঢুকেছি বলছে ‘ সামনে নৌকায় সিল মারেন, চলে যান ভোট দেওয়া হয়ে গেছে ‘। মন বিষণ্ণ হয়েছে এসব আচরণে। প্রতিবাদ করতে পারিনি, ক্ষোভ জমা হয়েছে। হাসিনার পুলিশ মিছিল মিটিং করতে দেয়নি কোন দলকেই– তা দেখছি। কোন দলের দলীয় অফিসে তালা, কোথাও বালুর ট্রাক আর আওয়ামী লীগ নেতাদের খিস্তি খেউড় অসহ্য লেগেছে। প্রকাশ্য রাজপথে হিন্দু দর্জিকে নাম তার বিশ্বজিৎ বিএনপি জামায়াতের কর্মী সন্দেহে কুপিয়ে হত্যা করেছে তাকে, ভারতের দাদাগিরির বিরোধিতার জন্য এদেশের নাগরিকের বুকে গুলি করেছে হাসিনার পুলিশ, আবরারের হত্যা, ধানের শিষে ভোট দেওয়ার অপরাধে সুবর্ণচরে গণধর্ষণ এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত দেখতে দেখতে বাড়তে থাকে ক্ষোভের পরিমাণ।
সচেতনতাই বিক্ষুব্ধ করেছে মনকে। ভোট নাই, গণতন্ত্র নাই, নাগরিক অধিকার নাই, বাকস্বাধীনতা নাই, নিজ দেশে অবরুদ্ধ, লীগ ছাড়া অন্যসব সাধারণ জনগণ। এই অনুভব, এই সচেতনতাই বিদ্রোহ করতে সহায়ক হয়েছে। রাজনৈতিক কথা, চিন্তা প্রকাশ করেছি কবিতায়। আওয়ামীলীগের হাসিনার, কাদেরের ঘোষণা ছিল ২০৪১ সাল। মনে হয়েছিল আওয়ামীলীগ হিমালয় পর্বত হয়ে বসেছে সংসদের চেয়ারে। তার আর কোন পরিবর্তন নাই। কিন্তু পরিবর্তন আশা করি। আমি বা আমরা না পারি অন্যরা পারবে, পরের প্রজন্ম পারবে, পারতে হবে। এমন স্বপ্ন সম্ভাবনা আশা নিয়ে লিখেছিলাম ‘ প্রিয় পুত্র আমার’ কবিতা।
আমার কবিতা কেমন হল, চিন্তা, দর্শন আপনার সাথে মিলে কি না এসব বলা উদ্দেশ্য না। কেন লিখছি, প্রেক্ষিত কি এ বিষয়ে কথা বলছি। আমার কবিতা শিল্প সম্মত হল কি হল না, কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে, কালের পাতায় টিকে থাকবে কি থাকবে না তা বলবে ভবিষ্যৎ, রায় দিবে পাঠক। নিজের কবিতা নিয়ে এসব বলা বিব্রতকর।
প্রেক্ষাপট বয়ান দোষের কিছু বলে মনে করি না। আমার কবিতা, কবিতা ও ইতিহাসের সমন্বয়ক , এতটুকু বলতে পারি জোর গলায়।
‘বাংলা বসন্ত’ যেন তরতাজা জুলাই। পাঠ করলে বুঝতে পারবেন, স্বীকার করবেন আপনিও। জুলাইয়ে কী ঘটেছিল তা সবারই জানা। তখন বলতে গেলে ভয় ছিল জেলের, হুমকি ছিল প্রাণ নাশের। তবু লিখেছি, লিখেছি কবিতার শিরোনামে, ‘ সব লিখে রাখা হবে’। ‘হত্যামুদ্রা’ হাসিনার খুনি বাহিনী কর্তৃক হত্যাচিত্রের কবিতা। কবিতায় বহিস্কার করেছিলাম ভারতীয় হাইকমিশনারকে। নির্দেশ দিয়েছি ‘ ভারত ক্ষমা চাও’ কবিতায়।
কাদের, ওবায়দুল কাদের, কাউয়া কাদের নামে পরিচিতি পেয়েছিল। পালাব না বলে পালিয়ে গেছে। তাকে নিয়ে কবিতা ‘ নিখোঁজ কাকের কবিতা’। বুঝা যাচ্ছে এই কবিতা ৫ আগস্টের পরের কবিতা। অর্থাৎ এই বইয়ে আছে জুলাইয়ের আগের কবিতা,জুলাইয়ের কবিতা,৫ আগস্টের পরের কিছু কবিতা। আগস্ট জুলাই ২৪ আমাদের শুরু হয়েছিল ২৪ এর বহু আগে। আমি লিখছি,আমরা লিখছি। ট্যাগ পাইছি,কোণঠাসা হয়েছি।
আমার মতো দলছুট, না না দলছুট না।দলইতো করি না। তো আবার দলছুট হব কেন। দলহীন কবি যারা,তারা খুব বেকায়দায় আছি।আমরা আছি সবার ধাক্কাধাক্কিতে। একদল ঠেলে একটা দলের ভাউন্ডারিতে ফেলে দেয়,দলটি আবার অস্বীকার করে। সাহসই আমার পুঁজি,আমাদের সম্বল। কোন দলই কোন রকম সহায়তা করেনি। পাশে থাকেনি। এজন্য জুলাইয়ে মাঝে মাঝে নিজেকে নিঃসঙ্গ বোধ করছি। তবে একটা কথা জুলাইয়ে সাপোর্ট পেয়েছি, সাহস পেয়েছি দেশ প্রেমিক বহুজনের। চোখ সিক্ত হয়। এমন দিনে কেউ কারও দলীয় পরিচয় খোঁজেনি। অন্তত আমাকে যারা সাহস দিয়েছে তারা কেউ দলীয় পরিচয় খোজেঁনি। একটাই পরিচয় ছিল আমরা জুলাইয়ের পক্ষের,খুনি হাসিনার বিপক্ষের। মানবতার শত্রুদের বিপক্ষের। কতজন সতর্ক করেছে,ভয় পাইনি। এক্টিভিজম, কবিতা লিখে গেছি।
তখন কবিতা কম লেখা হয়েছে,বেশি ছিল এক্টিভিজম। জুলাইয়ের আগে আমি ভিপিএন বুঝিনি। জুলাইয়ে ভিপিএন ব্যবহার করছি। সকল প্রকার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। টিভি চ্যানেলের উপরও নির্ভর থাকতে হয়েছে। একটা সংবাদ, একটা তথ্য জানতে পারলেই তা পোস্ট করেছি ফেসবুকে।কোথাও আক্রমণের স্বীকার হলে আন্দোলনরত ছাত্ররা তা জানিয়ে দিয়েছি,সতর্ক করেছি। নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত শরীরই জুলাইয়ে সমর্থন জানাতে বাধ্য করেছে। ভার্সিটির আন্দোলনরত রক্তাক্ত ছাত্রছাত্রীদের মুখ দেখে স্থির থাকা সম্ভব হয়নি। এরপর সরকার যখন হত্যা করা শুরু করল তখন মনে হল আর না, এই দানব সরকারের পতন এখনই প্রয়োজন। জুলাইয়ে সরকারের অত্যাচারী পদক্ষেপই আমাকে আন্দোলনে সমর্থন দিতে বাধ্য করে। প্রযুক্তির অগ্রগামী এই যুগে ঘটনাস্থলে না থেকেও মনে হয় আমি প্রত্যক্ষদর্শী।
হাসিনার ঔদ্ধত্য, কাদেরের অহমিকা,আরাফাতের মিথ্যাচার-নির্লজ্জ আচরণ, ইনু মেননের ধর্ম বিদ্বেষ, পলকের তামাশা, হাসান মাহমুদের ইতরামী আর কামালের কসাইগিরি দেশপ্রেমিক জনগণকে বিক্ষুব্ধ করেছিল।
জুলাইয়ে রক্ত,লাশ, পঙ্গুত্ব নাগরিককে দ্রোহী করে তুলেছিল। এখন হাসিনার দোসররা যত কথাই বলুক ঘটনাতো চোখের সামনেই। পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সামনে বলছে ‘গুলি করি একটা মরে, বাকিডি দাঁড়ায়া যায়’ এটাও ষড়যন্ত্র? ষোল বছর জনগণ দাঁতে দাঁত চেপে চলছে।জুলাইয়ে যখন নিজের দেশের নাগরিকের বুকে নিজের দেশের পুলিশ প্রকাশ্য রাজপথে গুলি চালিয়েছে তখন আর বসে থাকেনি। নিরীহ শিক্ষার্থীরা যখন আহত হয়েছে,নিহত হয়েছে,রক্তাক্ত হয়েছে তখন মনে হয়েছে এরা আমারই সন্তান। আমি জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছি সচেতন নাগরিক হিসেবে, একজন কবি হিসেবে ও সর্বশেষ একজন অভিভাবক হিসেবে।
এরপর আর জীবনের মায়া করিনি। জুলাই ২৪ এর আগেই সরকার ঢাকাকে ফিলিস্তিনের গাজার মতো অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। যেকোন রাজনৈতিক কর্মসূচি সামাল দিতে ঢাকার প্রবেশ পথে পুলিশ লীগের কড়াকড়ি, নাগরিক হয়রানিতে মনে হত ঢাকা যেন গাজা শহর। পুলিশ ইসরায়েল আর নাগরিকরা ফিলিস্তিনি। নাগরিকের মোবাইল চেক করা হত। ক্ষেত্র তৈরী করেছিল আগেই,বিগত ষোল বছর ধরে তিলে তিলে।
কবিতা আমার হাতিয়ার। বিক্ষুব্ধ মনের চিন্তা ও বক্তব্য প্রকাশ করেছি কবিতায়। লিখে গেছি সমস্ত ভয়কে উপেক্ষা করে। এইসব কবিতা নিয়ে বই করব এমন চিন্তা তখন মাথায় আসেনি। লিখে গেছি। ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে গেল সদলবলে। আমরা গণভবন জয় করলাম। বাংলাদেশ আনন্দে ভাসল, মুক্তির আনন্দে। আগস্টের পরপরই আরেকটা কাজ করলাম। জুলাইয়ে সক্রিয় কবিদের নিয়ে লেখা শুরু করলাম। প্রথম পর্ব লিখে ফেসবুকে পোস্ট করলে ব্যপক সাড়া পেলাম। লিখে ফেললাম তিন পর্ব। এরপর ছড়াকার পর্ব, হাসিনার দোসরদের পক্ষের আংশিক পর্ব।
বই করার তাড়া পেলাম। অনেকেই বই করার আগ্রহ প্রকাশ করল। প্রবাসী কবি-সম্পাদক সাজ্জাদ বিপ্লব দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দিলেন তিনিই প্রকাশ করবেন।
‘ গণঅভ্যুত্থান ৩৬ জুলাই কবিদের ভূমিকা ‘ পাণ্ডুলিপি প্রস্তত। একই সাথে প্রস্তাব দিলেন কবিতার বইয়ের। আমার জন্য মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। কখনও ভাবিনি বই করব। দুইটা পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে জমা দিলাম। কথা ছিল বইমেলা ২০২৫ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ হবে। নানা কারণে তখন আর হয়নি। আগ্রহে একটু ছেদ ঘটলেও অস্থির হইনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ এ বই প্রকাশ হল মেলার পরে। আমার কিছু সুহৃদ আছে। কখনো প্রকাশ্যে তাদের প্রশংসা করিনি। আন্তরিকভাবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। সাজ্জাদ বিপ্লবকে কখনো কোন মাধ্যমে প্রশংসা করিনি। কিন্তু মন থেকে যা বলার বলি। এই দুইটা বই কেবল একজন সাজ্জাদ বিপ্লবের উদারতায় প্রকাশ হল। ‘বাংলা বসন্ত’ একটি। এটি কবিতার বই। সাজ্জাদ বিপ্লব আরও বহু বহু কারণে আমার কাছ থেকে ধন্যবাদ প্রাপ্য। কিছু কপি আমি হাতে পেয়েছি। অনেকের হাতে পৌছেছে। কিছু সম্মানী পেয়েছি, কিছু পাইনি। অল্প অল্প করে যা হাতে এসেছে খরচ করে শেষ। সাজ্জাদ বিপ্লবকে কানাকড়িও ফেরত দিতে পারিনি। পাঠক চাহিদা থাকলেও আর কপি চাইনি। এরপর কেউ আগ্রহ দেখালে প্রকাশকের অফিসের ঠিকানা দেখিয়ে দেব।
‘বাংলা বসন্ত’ কবিতার বই, জুলাই বিপ্লবের বই, জুলাইকে ধারণ করা বই। কেন লিখছি, কোন প্রেক্ষিতে লিখছি তা হয়তো বলতে চেয়ে বলতে পারিনি।
এই লেখাটাই আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আমি কবি, কবিতা আমার মত প্রকাশের মাধ্যম। এজন্যই আমার মনের কথা, জুলাইয়ের কথা, ফ্যাসিস্টের ফ্যাসিজমের কথা কবিতায় বলতে গিয়ে লেখা হয়েছে এসব বিচ্ছিন্ন কবিতা। বিচ্ছিন্নগুলো পরে একত্র হয়ে রূপ নিয়েছে কিতাবের। প্রকাশ হয়েছে ‘ বাংলা বসন্ত’। বহু জনের হাতে পৌছেছে। আমি অখ্যাতজন বা কেউ না টাইপের বলেই হয়তো কেউ তেমন কথা বলেনি। বলার সময় পায়নি, বা বলবে বলবে করে বলা হয়নি কারও। কেউ না বলুক। বই যেহেতু আছে একদিন বই কথা বলবে। তুমুলভাবে কথা বলবে ডিসেম্বরে হাসিনা ফিরলে। হাসিনা ফিরলে তড়িৎ গতিতে প্রকাশ হবে দুইটা বইয়ের শক্তি।
তখন হয়তো কাউকে পাশে পাব না। ঐ যে বলছিলাম না? আমার কোন দল নাই। দল না থাকলেও আমার কথা কারও কারও পক্ষে যায়, কোন কোন দলের পক্ষে যায়। হাসিনা ও লীগ লীগীয় দোসর ছাড়া অন্যদের পক্ষে যায়। পক্ষে গেলেও তারা ধর্তব্যে নেয় না। কারণ আমি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করিনি। অনুগত দাস হইনি। অবশ্য কবির কোন দল না থাকাই উচিত। দেশ, দেশ প্রেম, বিশ্বাস ও আদর্শের বিশাল আকাশের নিচে আছি। ওখানে থেকেই লিখে যেতে চাই। অন্যায়ের বিপক্ষে, খুন ও খুনির বিপক্ষে ছিলাম জুলাইয়ে, আজও আছি। ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে লিখেছি ‘ বাংলা বসন্ত’। স্বপ্নের বাংলাদেশ চাই, সুন্দর শান্তির বাংলাদেশ চাই। এই দায়িত্ব আমার পুত্র প্রজন্মের হাতে সোপর্দ করে বলতে চাই,
প্রিয় পুত্র আমার
বুকের জমিনে রোপন কর
দেশপ্রেমের পবিত্র স্লোগান
এবং বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থেক
দেশমাতৃকার অতন্দ্র প্রহরীর মতো।







