প্রচ্ছদকবিতাজুলাইয়ের কবিতা

লিখেছেন : চঞ্চল বাশার

জুলাইয়ের কবিতা

চঞ্চল বাশার

চলে আসুন ষোলশহর
(শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মরণে)

আগুনঝরা শ্রাবণ মাস,
বারুদমাখা দিন—
“চলে আসুন ষোলশহর”,
রক্তে হই রঙিন!

মৃত্যুপাগল যত তরুণ
শপথ রাখি বুকে—
দেখায় কে ভয়? কোন সে বাধা
আমার সাহস রুখে?

“চলে আসুন ষোলশহর”,
হাইয়া আলাল ফালাহ!
ভাঙব এবার ফ্যাসিবাদের
রুদ্ধ ঘরের তালা।

আগুনঝরা শ্রাবণ মাস,
ফিরে ফিরে আসে—
“চলে আসুন ষোলশহর”,
নাম লিখি আকাশে।

…………
হেলিকপ্টার
…………

হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
ঢাকার বুকে নামে আন্ধার—
হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
সারা শহর করে ছারখার!

হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
আকাশে উড়ছে মৃত্যুদূত—
হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
গুলি ছোড়ে, কোন মাদারচুত!

হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
অলিতে-গলিতে ভাইয়ের লাশ!
হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
ফ্যাসিস্ট, তোর হোক বিনাশ!

হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
ছাত্র খুনি হেলিকপ্টার!
হেলিকপ্টার! হেলিকপ্টার!
স্বৈরাচারের পাহারাদার|

………….
ইনকিলাব
……..….

চুপ ছিল যারা, সহ্য করে দিন—
আজ তারা জাগে, রক্তে রঙিন!
তিতুমীর লড়ে, খুনি নেয় জান,
ব্যারিকেড গড়ে ঈশাখাঁর সন্তান|
শিরায় বইছে প্রীতিলতার ধারা,
কসম খোদার— আর নয় ভাই হারা!
চোখে আগুন, বুকে দারুণ ঝড়—
জালিমের ঘর ভেঙে পড়ে থরথর!
নয়া জমানার, নয়া এক জবাব,
সবার কণ্ঠে— ইনকিলাব! ইনকিলাব!

…………..
ইনকিলাবের খাতা
………….

দেশটা ছিল অগ্নিগর্ভ,
মুক্তির ছিল আশা;
অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের
উল্টে গেছে পাশা।

ছাত্র, শ্রমিক, জনতা,
আর কেউ বা ভ্রাম্যমাণ—
বন্ধ মুখের জবান খুলে
গাইল নতুন গান।

শহরবাসী যারা ছিলেন,
বাড়িয়ে দিলেন হাত;
খুনি হাসিনা দেখাইল তার
রক্তমাখা দাঁত!

আবু সাইদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম—
বিলিয়ে দিল প্রাণ;
রিতা, নাফিসা, রিয়া গোপের
অসীম আত্মদান।

পঙ্গু হইল কত মানুষ,
অন্ধ হইল কত!
হৃদমাঝারে জ্বালিয়ে রাখি
জুলাই মাসের ক্ষত।

কত মায়ের বুকেরই ধন
কাইড়া নিল পুলিশ;
যাত্রাবাড়ী, আশুলিয়ায়
কান পেতে ভাই, শুনিস!

সারি সারি শহীদি মিছিল—
নোয়াই আমার মাথা;
রক্ত দিয়া লিখছি যখন
ইনকিলাবের খাতা।

…………..
জুলাইয়ের মোনাজাত
…………..

হে পরওয়ারদিগার, হে ন্যায়ের মালিক,
তোমারই নাম নিয়ে আজ দাঁড়িয়েছি ইতিহাসের ক্ষতবিক্ষত, রক্তমাখা ময়দানে। তুমি আমাদের নিরাশ করো না!

পূর্বপুরুষদের পাপের গ্লানি, তাদের ঔদ্ধত্য ও অহমিকার ভারী কফিন আমাদের কাঁধে চাপিয়ে দিও না, প্রভু।

হে আসমান-জমিনের মালিক,
আমরা কি তবে এক পৌত্তলিক নারীর কাছে মাথা নত করব— যার অন্তঃস্থলে করুণা নাই, কেবল প্রতিহিংসা! যার হিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ভিন্নমত, ভিন্নপথ ও আমাদের বর্ণিল স্বপ্নগুলো!

হে রাহমানির রাহিম,
আমাদের শিশুদের তারা নির্মমভাবে হত্যা করছে— নারীদের করছে লাঞ্ছিত, অপমানিত! বাতাসে কান পাতলেই ভেসে আসে, “আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে?” চোখ মেললেই মনে হয়, আকাশ নয় যেন গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যাওয়া কোন এক নাম না-জানা শহীদের রক্তাক্ত বুক, আর তার নিচে বিধ্বস্ত, লণ্ডভণ্ড এক জনপদ যেন মহাপ্লাবনে বিলীন হওয়ার জন্য প্রহর গুনছে!

হে খোদা, তুমি কি এসবের কিছুই দেখছ না?
কেন বাংলাদেশের বুকে এত রক্ত, এত কান্না, এত আর্তনাদ?
আমরা কি প্রতিশ্রুতি দিই নাই— যে আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করব?

হে আল্লাহ,
আমরা তো কেবল মাথা নোয়াই শুধু তোমারই দরবারে—
না কোন অত্যাচারী শাসক, না কোন ময়ূরখচিত সিংহাসন, না কোন প্রাণঘাতী বন্দুকের কাছে।

আমাদের দাও সেই সাহস—
যেন রক্তাক্ত জুলাই পেরিয়ে জন্ম দিতে পারি
এক নতুন সুবেহ সাদিকের,
যেখানে মানুষ হবে না কোন মানুষের দাস।

রাব্বানা আ-তিনা ফিদদুনইয়া হাসনাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসনাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।

২০২৫

…………
শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিল
…………

তুমি এখন দূর আকাশের তারা,
অন্ধকারে, তবুও জ্বালাও আলো—
সবাই যখন ক্লান্ত চলার পথে,
তখনও বলো, “আমার সঙ্গে চলো!”

পথে নামলেই, দরাজ কণ্ঠ শুনি—
আকাশ কাঁপানো তোমার স্লোগান।
চেয়েছিলে তুমি মুক্ত স্বদেশ-ভূমি,
রক্তে লিখেছ স্বাধীনতার গান!

তুমি এখন নিভৃতে ঝরা ফুল,
গন্ধ বিলাও, তবুও দিনমান।
তোমার নামেই হোক দিনের শুরু—
শহীদ শাকিল, দাও ভোরের আজান!

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা