আবু জাফর সিকদার
ক.
প্রথমেই পতিত শেখ হাসিনার জুলাই চব্বিশ উত্তর রাজনৈতিক শাখার তৎপরতা একটু পর্যালোচনা করা যাক।
শেখ হাসিনা নিজে তো জুলাই জোয়ারে পলাতক ও দেশান্তরী হয়ে তার বিশেষ বন্ধু মোদীর ডেরায় আশ্রিত ও গলগ্রহ হয়ে বেঁচে আছেন (না কি মরে গেছেন তাও বুঝতে পারছি না!)। কারণ তাকে পলায়ন বা দেশ ত্যাগের পর নানাভাবে এআই জেনারেটেড কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেলেও প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি। তিনি যে মারাত্মক মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ সেটি মুখে না বললেও অনুমান করা কঠিন নয়।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঢাকার রাজপথ থেকে ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার মতোই নিশ্চিত অমানিশার কালো আঁধারে ঢাকা। যারা স্বপ্ন বিলাসি হয়ে কয়দিন পর পর ফেরার দিনক্ষণ ঘোষণা দেন, শো কার্ড প্রচার করেন তারা হয়তো জনমঅন্ধ নয়তো আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগছেন। তবে এই শ্রেণির মধ্যেও আবার বহুবিধ উপশ্রেণিগত বিন্যাস রয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম প্রধান উপশ্রেণি হলো এলিট বা অভিজাত শ্রেণি। এদের মধ্যে আবার ভাগ। একটি হলো শেখ হাসিনার সাথে অথবা আগে পিছে প্রচুর টাকা পয়সা ছিঁটিয়ে বিদেশে চলে গেছেন আর একটি অপভ্রংশ দেশ থেকে পালাতে গিয়ে ব্যাটে বলে মিলাতে না পেরে কট খেয়ে লাল দালানে রয়েছেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই শ্রেণিভুক্ত একটি বিশাল অংশ যারা গিরগিটির মত দ্রুত রঙ বদল করে এখনও সরকারি দপ্তর ( আমলা, প্রাক্তন আমলা ও সামরিক ও বেসামরিক নানা স্তরের প্রভাবশালি কর্মকর্তা) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বহাল তবিয়তে অবস্থান করছেন। তারা বিভিন্ন দলে লুকানো রাজনৈতিক গিরগিটির ছত্রছায়ায় লালিতপালিত হচ্ছেন অঢেল মালকড়ি খরচের বিনিময়ে। তাদের টাকার হিসাবই শুরু হয় শত কোটির পর থেকে। এর সাথে আরও একটি প্রজাতি হলো ব্যবসায়িক মহল, যারা হাসিনার সাথে কবরেও যেতে প্রস্তুতের কথা শুনিয়েছিলো তাকে কিন্তু সময় মতো পল্টি মেরেছে। এই এলিটের আরও একটি ভগ্নাংশ তথা প্রজাতি ঘাপটি মেরে আছে মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। ওরা কখনও বুদ্ধিজীবী, কখনও সমাজ কর্মী, কখনও আবার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, টকশো আলোচক বা উপস্থাপক।কেউ বা সাংবাদিক আবার কেউ বা সুশীল, শিক্ষাবিদ, অভিনেতা, অভিনেত্রী!
এই এলিট শ্রেণির বাইরে
রয়েছে নব্য গজিয়ে ওঠা উচ্চ মধ্যবিত্ত আওয়ামী প্রজাতি, নিম্ন মধ্যবিত্ত আওয়ামী উত্তরাধিকার, সর্বশেষ প্রজাতিটির নাম হলো গরীব মেহনতী ও তৃণমূল আওয়ামী লীগ! আমরা বর্তমান সময়ে এই বিভিন্ন প্রজাতির আওয়ামী ভ্যারিয়েন্টের আলাদা আলাদা অবস্থা ও তাদের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা ও ভবিতব্য বোধ ও চেতনার গন্তব্য বোঝার, জানার চেষ্টা করে দেখতে পারি।
খ.
এবার শেখ হাসিনা লটবহরের সাথে আগে পিছে পালিয়ে যাওয়া অলিগার্ক ও টাইকুনদের নিয়ে একটু বিচার বিশ্লেষণ করি। এই প্রজাতির মধ্যে অন্যতম হলো তার মন্ত্রীপরিষদ সদস্যরা, বাছাইকৃত তার রেজিমের বেশির ভাগ বশংবদ সাংসদ এবং তাদের পিএস, এপিএসগণ, আমলা, আর্মি ও পুলিশের পলাতক সরকারি সুবিধাভোগীচক্র এবং এই প্রজাতির মধ্যে আরও রয়েছে দলীয় ও নানা অঙ্গ সংগঠনের পদপদবীধারী, গোপালগঞ্জী,
কিশোরগঞ্জী কিংবা আত্মীয় কোটার সুবিধাভোগী ও দালালচক্রটি। মূলত এরাই হলো আওয়ামী ও হাসিনার হেজিমনির চরম সুবিধাভোগী। এরাই সমাজে, রাষ্ট্রে নব্য অলিগার্ক শ্রেণির অভিজাত প্রজাতিভুক্ত হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিলো। এরাই ছিলো শেখ হাসিনা সকল বৈধ- অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ অংশিদার।কর্তৃত্ববাদী, স্বেচ্ছাচারী, মাফিয়া, সিন্ডিকেট যে নামেই ডাকেন না কেন এরাই ছিলো বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতা চর্চার মূল ভারকেন্দ্র।ব্যক্তি পর্যায়ে নাম ধরে ধরে আলোচনাটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে হয়তো বুঝা যেত এদের আধিপত্য কতটা ভয়াবহভাবে সমাজকে কলুষিত ও নিয়ন্ত্রণ করতো। কিন্তু এই সীমিত পরিসরে তা সম্ভব নয়। আমি কিছু নাম উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করবো তাদের অর্থবিত্ত, ক্ষমতা চর্চা এবং কর্তৃত্ববাদ কতটা বিধ্বংসী ছিলো এবং হাসিনা রেজিমের পতনের পিছনে তা কতটা দায়ী দলীয় অন্ধরা ছাড়া সকল বিবেক সম্পন্ন মানুষ সহজে বুঝতে পারবেন।
তবে অন্ধ হলেই প্রলয় বন্ধ হয় না। তথাকথিত তৃণমূলের সাধারণ সমর্থন ও কর্মীগণ এটি যতক্ষণ উপলব্ধি ও অনুধাবন করতে অক্ষম থাকবে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নামক সংগঠনটি আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে মনে হয় না।
শেখ হাসিনার আওয়ামী বাকশালী কায়দায় যে ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী পারিবারিক, আঞ্চলিক ও একক দলীয় শাসন প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এই সময়ে তিনি অসংখ্য ফ্রাংকেস্টাইন দানব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজির থেকে শুরু করে ব্যাংক ডাকাত এস আলম হয়ে বিপ্লব বড়ুয়া পর্যন্ত বিকশিত ও ছড়িয়ে পড়েছিলো।এই বিপ্লব বড়ুয়াদের অপকর্ম নিয়ে দেখি এখন তথাকথিত তৃণমূলে মাতম চলছে। কিন্তু যখন ক্ষমতার মগডালে ছিলো তখন তার পা ধুয়ে পানি খেতেও তাদের আপত্তি ছিলো না। এখন সে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে প্রিয় কুকুরকে বিমানে চড়িয়ে আমেরিকা নেয়ার মতো বিলাসি ও উচ্চমার্গীয় সভ্যতা চর্চায় বিভোর! এরকম বিপ্লব বড়ুয়াদের কতই না আদর যত্নে লালনপালন করেছেন প্রিয় আপা! গণভবনে কুত্তা বিলাই পালনের মতো তার ডানে বায়ে, সামনে পিছনে, ওপরে নিচে তারা কিলবিল করছিলেন একান্তই তার আশীর্বাদ ধন্য হয়ে। সেখানে যেমন ডেরা পেতে ছিলো ক্যাসিনো গ্যাংস্টার ইসমাইল হোসেন সম্রাট, শামিম ওসমান, হাজি সেলিম, কিংবা নোয়াখালী গডফাদার একরাম চৌধুরী কিংবা চট্টগ্রামের রাউজানের এবিএম ফজলে করিমরা।এভাবে এক দুজনের নাম নিয়ে আসলে এই আমলনামা সম্পূর্ণ করা প্রায় অসম্ভব। জেলায় জেলায়, উপজেলায়, ইউনিয়নে এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছিলো এসব উৎপাত। এসব নেতা ও পাতি নেতাদের দৌরাত্মের মাধ্যমে একটি জুলুম, শোষণ, দখলদারিত্ব, কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির পাশাপাশি ভয় ও আতঙ্কের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন শেখ হাসিনা এবং ওবায়দুল কাদের বাহিনী । আত্মীয় কোটায় দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন নিক্সন চৌধুরী, ওমর ফারুক চৌধুরী কিংবা শেখ সেলিম,শেখ হেলাল, শেখ পরশ আর শেখ তাপসের মতো ফুলবাবুরা। এদের সাথে ‘পারসেন্টেজ প্রিন্সেস’ খ্যাত শেখ রেহানার ছিলো প্যারালাল আলাদা সাম্রাজ্য। সেখানে তৈরি হয়েছে নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনীতে জিয়াউল আহসানের মতো জল্লাদ,খুনী। তৈরি হয়েছে নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের ঘাতক তারেকের মতো র্যাব কর্মকর্তা কিংবা পুলিশের এসআই প্রদীপ কিংবা ভাতের হোটেলের ডিবি হারুন আঙ্কেল কিংবা মনিরুলের মতো ঠাণ্ডা মাথার খুনী। সেখানে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তাকে ধ্বংস করার কারিগর তারিক সিদ্দিকির মতো গাদ্দারেরা। উন্নয়নের নামে হরিলুটের এমন এক ব্যবস্থা করেছেন, সেখানে জি কে শামিম তৈরি হয়েছে শত শত, হাজারে হাজার।
সেখানে তৈরি হয়েছে বিদেশে টাকা পাচারকারী বিস্ময়-বালক জাবেদরা, যেদেশের লক্ষ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই সেদেশের ভূমিমন্ত্রী হয়ে লন্ডনের মতো বিদেশবিভুঁইয়ে গিয়ে শতশত বিল্ডিং, দালানকোঠা তৈরির আলাদিনের চেরাগ পেয়ে গেছেন এসব রাজনৈতিক পাণ্ডবরা। আহা, সুখ কেবল এসব অলিগার্কদের কপালেই লেখা ছিলো!
গ.
উচ্চ মধ্যবিত্ত আওয়ামীলীগাররা অলিগার্ক পর্যায়ে পৌঁছাতে না পারলেও তারাও একই দৌঁড়ঝাপের দ্বিতীয় স্তরে ছিলো এবং এরাই ছিলো মাঠপর্যায়ে অলিগার্ক শ্রেণির প্রতিনিধি এবং লাঠিয়াল জোগানদাতা, তাদের দাপটে মূলত সাধারণ জনগণকে তটস্থ থাকতে হতো, ভয় ও ত্রাসের রাজত্ব এদের হাত ধরেই বাস্তবায়ন হতো। মূলত ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং যুবলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও কর্মীরা এবং বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের এডক কমিটির সদস্যরা, নানা ব্যবসায়িক ও শ্রমিক সংগঠনের লোকজন এ শ্রেণিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।
এই প্রজাতির ক্যাডারগণ জুলাই অভ্যুত্থানে প্রথমে চোখে সরিষাফুল দেখে এবং যে যেভাবে পারে আত্মগোপনে চলে যায়।
এরা শহর থেকে গ্রামে জুলাই পুরো মাসব্যাপী এমনকি আগস্ট ৫ তারিখ হাসিনা পালানোর খবর প্রকাশের আগ পর্যন্তও প্রকাশ্যে নানা কিসিমের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত তারা এই সহিংসতাকে ছড়িয়ে দিয়েছিলো। ইউনিয়ন ও গ্রামেও একই চিত্র আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। মিছিল ও বিক্ষোভ করার অপরাধে দা, ছুরি, লাঠি আর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতারা, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে আক্রমন শুরু করে, পুরুষদেরকে না পেয়ে মা বোনদেরকেও তারা আঘাত করতে কুন্ঠিত হয়নি। বিকেল হতে হতে তারা গা ঢাকা দিয়েছে।
ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তারা বিভিন্ন বিজয়ী দলের নেতাদের সাথে আপোষ রফা করে মামলা- মোকদ্দমা, জেল গ্রেফতার, হুলিয়া ইত্যাদি থেকে বাঁচতে দলবদল, ভোট দানের প্রতিশ্রুতি, ইজারা, টেন্ডার সিন্ডিকেট, বাজার মার্কেট, রোড ঘাট ইত্যাদির দখল ছেড়ে দিয়ে মোটামুটি নিরাপদে বসবাস করছে। যে কজন আপোষ করেনি, মালকড়ি ছাড়তে চায়নি, তাদের অনেকে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বা দেশে ফেরারি ও লুকিয়ে আছেন আবার অনেকেই এই সুযোগটা পায়নি, তারা লাল দালানে রয়েছেন।
ফলে মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো বলতে যা বুঝায় তাই তা এখনও ভঙ্গুর এবং অসংগঠিত পড়ে আছে।
যেটুকু প্রচার প্রচারণা তা কেবল অনলাইন কেন্দ্রিক এবং তাদের বৈদেশিক সমর্থকগোষ্ঠীর একনিষ্ঠ বায়বীয় প্রচারণা। তবে কিছু নগদ টাকাপয়সা খরচ করে যে সব ঝটিকা মিছিল আয়োজন করা হচ্ছে তাও খুব স্বল্প সময় ও অল্প কিছু লোকজনকে নিয়ে আয়োজন হলেও এসব দৌঁড়মার্কা মিছিল দেখলে বুঝা যায় আওয়ামী নামক দলটির বর্তমান দৈন্যদশা কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে বেঁচে আছে!
পাশাপাশি তাদের বাম ও রাম চেতনার সাংস্কৃতিক বরকন্দাজ বাহিনীও এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে চেষ্টা করছে। আপাতত দেশের ভেতর এই অপভ্রংশ প্রজাতিটি বেশ সক্রিয়। মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তারা ধীরে ধীরে বেশ তৎপরতা বাড়াচ্ছে। শাওন, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি এদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও টকশো আলোচক হিসাবে আনিস আলমগীর, মনজুরুল পান্না, মাহাবুব আজিজ সোমা, নিকোল, শারমিন, শম্পা রেজা, আবদুর নুর তুষাররা বা ইসকন কোটার চৈতালী, সন্তোষ শর্মারা সহ বিএনপিতে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু এজেন্টও বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। এ বিষয়ে আমরা পরে আরও বিস্তারিত আলোকপাত করবো।
ঘ.
এখন আওয়ামী লীগের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের অবস্থান এবং তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক প্রজাতিটির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আওয়ামী হেজিমনির অন্যতম শিকার হলো এই লক্ষকোটি সাধারণ মানুষ। এরা অন্ধ দলীয় ভক্তকুল, খেয়ে না খেয়ে এরা দলের পক্ষে, হাসিনার পক্ষে। আওয়ামী লীগের নেতা নেত্রীদের কোন পাপ তাদের স্পর্শ করে না, এরা জীবন দিয়ে হলেও দলের কাল্টকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায় কিংবা মরতে। শেখ মুজিব কিংবা শেখ হাসিনার সাথে তাদের দলীয় বিশ্বাস, চেতনাকে এরা এক ও অভিন্ন জ্ঞান করে। ওরা আওয়ামী লীগ হলেও আছে, বাকশাল হলেও আছে। ওরা লুটেরা, লুম্পেন, ধর্ষক, ব্যাংক ডাকাত, পাচারকারী কিংবা চোরাকারবারি আর মাদক কারবারি যা হোক না কেন আওয়ামী লীগ ও তাদের দলীয় পরিচয় থাকলেই তার পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে তাদের কোন রকম অনুশোচনা কিংবা কষ্টবোধ নেই। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও নিশ্চিহ্ন করে নিজ দলীয় অলিগার্ক তৈরি ও আধিপত্য বিস্তারে তারা প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গকে শহিদি মর্যাদা পাওয়ার মতই মর্যাদাবান ভাবে।আর ৭১, মুজিব বন্দনা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, রঠা চর্চা এগুলো তাদের কাছে অনেকটা এবাদত তুল্য! তাদের দলীয় পরিচয় ও চেতনার বাইরে যত বড় মাপের কেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাই হোক না কেন, তার কোন দু পয়সা মূল্য তাদের কাছে নেই, সব রাজাকার বা রাজাকারের আণ্ডাবাচ্চা!আওয়ামী চেতনা ও হেজিমনি ফেরি করার এটাই হলো সবচেয়ে উর্বর জায়গা। এখানে টেকনাফে বদি আর নারায়ণগঞ্জের শামিম ওসমান, নোখালীর আকরাম, রাউজানের ফজলে করিম, ফরিদপুরে নিক্সন চৌং, ঢাকার সম্রাট, মায়া, নানকরা; বরিশালের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ,খুলনার শেখ হেলাল, শেখ তম্ময় , চট্টগ্রামের আজম নাছির, নওফেল,
জাবেদরা, ফেনীর জয়নাল,কুমিল্লার বাহাউদ্দিন বাহার, লোটাস কামালরা – এরাই তাদের এক একজন ‘হিরো দ্যা গ্রেট’! এদের হিরো হয়ে আছে সেঞ্চুরিয়ান মানিকরা! টেন্ডারবাজ ছাত্রনেতা রব্বানীরা।
এই যখন প্রায় ৭৫ বছর পুরানো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও তৃণমূলের খোলনলচে তখন জাতি হিসাবে বাঙালির পুনর্জন্ম ছাড়া উপায় কী?
আওয়ামী কাল্টভুক্ত এই সাচ্চা বাঙালিদের কথা ভেবে বোধ হয় রবি ঠাকুর বলে গিয়েছিলেন – সাত কোটি বাঙালিরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি”!
ঙ.
যা হোক, আওয়ামী লীগের টপ টু বটম যখন এই লেজেগোবরে অবস্থা তাদের পতন ঐতিহাসিকভাবে অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রায় ১৭টা বছর তারা উন্নয়নের নামে যা করেছে, ৭১, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে জাতিকে বিভাজনের রাজনীতিই শুধু নয়, প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার হীন প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তা দেশের সাধারণ জনগনের কাছে ছিলো এক দুঃস্বপ্নের মতো। এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জুডিশিয়াল কিলিং থেকে শুরু করে গুম, খুন, আয়নাঘর, ধর্ষণ, লুটপাট, বাক স্বাধীনতা রুদ্ধসহ ভয়ের রাজত্ব কায়েমের মাধ্যমে অঘোষিত বাকশালী কালো সাম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন শেখ হাসিনা। তারই প্রতি চরম ঘৃণা, ক্ষোভ বিক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে জুলাই চব্বিশে এসে। দুনিয়া কাঁপানো মাত্র ৩৬ দিনেই ধসে পড়ে তাদের তাসের ঘর। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসাবে লিখিত হয়ে থাকবে।
চ.
২৪ এর গণ আন্দোলন , অভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লব যা-ই বলি না কেন তা ঠেকানোর যাবতীয় আয়োজন ব্যর্থ হওয়ার পর শেখ হাসিনা সদলবলে, যে যেভাবে পারে দেশত্যাগকে জীবন বাঁচানোর একমাত্র রাস্তা হিসাবে বেছে নেন। আল মাহমুদের কবিতার ভাষায় –
যঃ পলায়তি সঃ জীবতি!
যে পলায়নি সে বাঘের পেটে!
মিথ্যাবাদী রাখালের মতো চিৎকার করে করে যারা জনপদে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিলো একদা, নিয়তির কী নির্মম পরিণতি, তারাই দলে দলে পঙ্গপালের মতো পালাতে লাগলেন। সেই সময়ের বিচারপতি মানিকের সীমান্তে কলাপাতায় শুয়ে-বসে দিন কাটানো কিংবা হাসিনা রেজিমের অন্যতম কুশিলব ও উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের করুণ অসহায় দশা এদেশের মানুষ দেখতে পেয়েছিলো। আহা! কী অসহায় আত্মসমর্পণ! সকালে রাজা ফকির সন্ধ্যা বেলা!!
হাজার হাজার কোটি টাকা নয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক সেক্টর আর পুঁজি বাজারকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে লুটেরার দল। শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ মদদে এবং তার পরিবারের লোকজন ও দলীয় নীতিনির্ধারণী চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত এসব অরাজকতা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক দায়। এবং অনিবার্য হয়ে ওঠেছিলো জুলাইয়ের বর্ষা বিপ্লব। ভয়কে জয় করে লক্ষ কোটি আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, যুবক, যুবা, শিশু কিশোর, প্রতিবন্ধী কিংবা তৃতীয় লিঙ্গ, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র শিক্ষক কেউ বাদ পড়েনি। সবাই রাজপথে নেমে এলো। এক অভূতপূর্ব ঐক্য ও সংহতির সমীকরণে বাঁধভাঙা জনস্রোতে ভেঙে পড়লো শেখ হাসিনার সাম্রাজ্য। শেখ হাসিনার দাম্ভিক ও অহমিকার উচ্চারণ , ‘হাসিনা পালায় না’ বলার একদিনের মাথায় পালাতে হলো! মসজিদের ইমাম থেকে মন্ত্রীপরিষদ, উপদেষ্টা, সাংসদ, নেতা, পাতি নেতা, কর্মী সবাই রুদ্ধশ্বাসেই পালালো! বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নজির বিরল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা পুরো লটবহর লোটাকম্বল নিয়ে মোদীর কোলে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। বিপদে এমন বন্ধু মেলা ভার!
ছ.
শুরু হলো এবার নতুন খেলা। শেখ হাসিনা ও তার দল চরম ভুল ও ভ্রান্তিকে স্বীকার না করে তারা একটি সফল বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানকে অসত্য, অর্ধ সত্যের আবরণে রঙচঙ মেখে দাঁড় করাতে চাইছে এক কাল্পনিক ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’এবং ভারতীয় গোদি মিডিয়া এডিটিভি, ময়ূখের রিপাবলিক বাংলা (আর বাংলা), র এর ফরমায়েশি আনন্দবাজার সহ অসংখ্য অনলাইন, অফলাইন পোর্টালের সার্বিক পরিকল্পনায়, উপস্থাপনায় এবং রিদোয়ান সিদ্দিকি ববি, এম.(ম্যাকিয়াভেলি) আরাফাতদের সিআরআই এর মতো শতকোটির প্রোপাগান্ডা প্রকল্প, অসংখ্য অনলাইন কেন্দ্রিক বট মিশন ও দেশীয় গুপ্ত সুপ্ত মিডিয়াচক্র মিলে লাগাতার জুলাই বিরোধী এবং ড. ইউনূস ও তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র তত্ত্বসহ কাল্পনিক সব সংবাদ উৎপাদন ও বিতরণ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত ২ বছর ধরেই চলছে এই বিরামহীন মিথ্যাচারের কল্পকাহিনি। তাদের ভাষ্য মতে, শেখ হাসিনা হলো যুগের মহামানবী! উন্নয়নের রূপকার, সমুদ্রজয়ী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মানবতার জননী ইত্যাদি ইত্যাদি। তার কোন পাপ নেই, তিনি বেগুনা, তাহাজ্জুদ গুজার, মাসুম। তাকে আমেরিকার জো বাইডেন কাকা কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় সুদখোর, পাপিষ্ঠ(!) ড. ইউনূস ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মিলে, কিছু অবুঝ জেন-জি ছাত্রছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে, মেটিকুলাস ডিজাইনের অধীনে ক্ষমতাচ্যুত করেছে! পাকিস্তান, তুরস্ক, জামায়াত-শিবির- বিএনপি ও কিছু মাদ্রাসার জঙ্গিগোষ্ঠী হলো এই ষড়যন্ত্রের মাঠকর্মী! ৭১ এর চেতনা বিরোধী এই চক্র চেতনার সরকারকে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতার চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছে! পুলিশ মেরেছে! ৭.৬২ বুলেট ও স্নাইপার রাইফেল দিয়ে নিজেরা নিজেদেরকে মেরে অহেতুক নিষ্পাপ হাসিনাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে!! হাসিনা ও তার মন্ত্রী পরিষদ, উপদেষ্টা, তার নিয়োগ দেয়া বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব, পুলিশের আইজি, আমি ডামির সাংসদ সবই বহাল আছে, পদত্যাগ তো শেখ হাসিনা করার প্রশ্নই আসে না! তিনি ইন্ডিয়া সফরে যাওয়ার আগে, দুপুরের রান্না করা নদীর পাঙাস মাছের মাথা দিয়ে লাঞ্চ করার সময় ও সুযোগ না পেলেও, ভ্যানেটি ব্যগে করে পদত্যাগ পত্রটি সযতনে ঠিকই নিয়ে গেছেন! আওয়ামী লীগ ও তার সকল স্তরের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের মন মানসে পৃথিবী এবং সময় এখনও ০১ জুলাই ২৪ থেকে ০৫ আগস্ট ২৪ পর্যন্ত স্থির হয়ে আছে! এ যেন মহামহিম শেখ হাসিনার ঢাকা থেকে দিল্লি পর্যন্ত এক অলৌকিক ও আধ্যাত্মিক সফরনামা! হাসিনা আবার ফিরবেন ফিরতি ফ্লাইটেই! গণভবনের দরজার ছিটকিনি এখনও নড়ছে!! তিনি আবার মসনদে আলায় সমাসীন হবেন। এই তো সীমান্তের কাছাকাছি কোন এক অলৌকিকে ডেরায় তিনি মোদিজির পরম আতিথেয়তায় বিশ্রাম নিচ্ছেন মাত্র। বলতে পারেন সাময়িক যাত্রাবিরতি চলছে! মোদি এবং শুভেন্দু দাদাজান সদয় সম্মতি দিয়ে রেখেছেন, তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বন্ধুত্বের যথার্থ প্রতিদান দিবেন। তিনি আসবেন, তিনি রবার্ট ব্রুসের মতো সাতবার নয়,প্রয়োজনে সহস্র বার চেষ্টা করে হলেও আসবেন, মুহুর্ত দেরী না করে চট করে ঢুকে পড়বেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর (ইংরেজিতে সংক্ষেপে ‘হাসিনা’ পড়ুন) প্রস্তুত! অথবা…প্রয়োজনে সীমান্তের সব কাঁটাতার খুলে হলেও তাকে পুশইন করা কঠিন কোন ব্যাপার নয়! প্রয়োজনে ইন্ডিয়ান রিফিউজিদের সাথে ঠেলে পাঠিয়ে দিবে বিএসএফ!এসব শুনতে শুনতে কেমন এক্সাইটেড হয়ে যাচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশ। কিন্তু বেরসিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবের দিল্লিতে দাফন কাফনের ঘোষণা কিংবা অতন্দ্র বিজিবি ও সতর্ক দেশপ্রেমিক জনগণের পাহারা বসানোর সংবাদ শুনে পাবলিক আর কিছুতেই আপার ফেরা নিয়ে ভরসা পাচ্ছেন না!
জ.
তবে প্রোপাগান্ডা চলমান! হারপিক, পিয়াল, শাওন, মহিউদ্দিন, শম্পা, চামিলি, পান্না, চৈতালী, আনিস, আজিজ, সুচিন্তা, কুচিন্তা, সোমা কিংবা সন্তোষ শর্মা, যদুমধু, গোলআলু, স্টার জলসা, শিকড়বাকর, আগাছা, পরগাছা একযোগে, মহাসমারোহে বায়োস্কোপের ঝুমঝুমি বাজিয়েই চলছেন!আপাকে এইমাত্র দেখা গেল! অচিরেই সাংবাদিক শাইখ সিরাজ আবারও গণভবনে আপার অনন্য খেতখামারে কচুক্ষেতের বাম্পার ফলন, মাছচাষের অভূতপূর্ব সাফল্য, বড়শি ফেলার মুন্সিয়ানা ও হাঁস মুরগী লালন পালনের উপর কিংবদন্তিতুল্য দৃষ্টান্তের লাইভ টেলিকাস্ট প্রচার করবেন।
আপার ঠোঁটে থাকবে চিকন হাসি, ছিপে ঝুলবে তড়পাতে থাকা অসহায় রাঘব কিংবা বোয়াল! আবারও বিটিভিতে বাতাবী লেবু ও বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বাকশাল ও তার জীবনীর উপর নিরবচ্ছিন্ন চাষাবাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এভাবে গাঁজার নৌকা কোন ডাঙা দিয়ে চলে তা বলা মুশকিল বটে।
২০৪১ কিংবা ২১০০ বা কেয়ামত থেকে কেয়ামত পর্যন্ত রাজত্বের মোহভঙ্গ আর স্বপ্নভঙ্গের জ্বালায় জ্বলন্ত রাবণের চিতা একদিন পুনর্জন্মের ঘোরে এখনও আচ্ছন্ন। পর্বতের মূষিক প্রসব দেখার আকাঙ্খায় পুরো বাংলাদেশ প্রহর গুনছে, খুনের দণ্ডে দণ্ডিত আসামীদের উপযুক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের প্রত্যাশায় জেগে আছে বাংলাদেশ । বুকের পাটা থাকলে সত্যিই একবার এসে পড়ুন,স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জনগণ! দেখা যাক, পদ্মা-মেঘনা-যমুনার জল কোন দিকে গড়িয়ে যায়।
তবে জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী নানামুখি ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা মোটেও থেমে নেই। প্রোপাগান্ডা কেবল আইসবার্গের চূড়া মাত্র। জাতীয় ঐক্য ও সংহতি ব্যাতিরেকে এই দেশি বিদেশী চক্রকে ব্যর্থ করা মোটেও সহজ হবে না। মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেলেও নতুন কোন হাসিনা, নতুন কোন লেন্দুপ দর্জি তৈরির প্রকল্প চলমান থাকবেই।দেশপ্রেমিক জনগণের ইস্পাত কঠিন ঐক্য ভীষণ জরুরী।
…
লালমাটিয়া।ঢাকা
৬ জুলাই ২০২৬








বাংলা রিভিউ’র সময়কে ধারণ করার যে প্রচেষ্টা তা কতটুকু জাতি ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারবে জানি না। আমরা দলীয় অন্ধ আনুগত্যকে যেভাবে লালন ও পরিচর্যায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি সেখানে কোন রকম নৈর্ব্যক্তিক আলোচনাকে গ্রহণ বা যৌক্তিক সমালোচনা করে বর্জন বা প্রত্যাখ্যানের চেয়ে অন্ধভাবে আনুগত্যকে সত্য ও ন্যায়ের মাপকাঠি বানিয়ে নেয়া হয়। আমি আমার একটি একান্ত নিজের মতামত তুলে ধরেছি, সত্যনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক বিরুদ্ধ মতামত কারও থাকলে আমরা স্বাগত জানাবো এবং প্রয়োজনে আমাদের প্রকাশিত মতকেও রিভিউ করতে কুণ্ঠিত হবো না। আসুন, সত্যের মুখোমুখি হই এবং সত্যকে গ্রহণ করতে শিখি।