প্রচ্ছদকবিতাজুলাইয়ের কবিতা

লিখেছেন : জিয়া হক

জুলাইয়ের কবিতা

জিয়া হক

……………
তবুও বোধ জাগেনি
…………

উন্নয়নের বুলি মুখে দেশ করেছো জাহান্নাম
হাজার হাজার খুন করেও বোঝোনি তো খুনের দাম
তোমার বুলেট-গুলি থেকে পায়নি রেহাই শিশুও
মা-বোনদের চোখের পানিই হয়নি মনে টিসুও!

বুকের মানিক হারিয়ে গেল তবুও বোধ জাগেনি
দুঃখে ভারী আকাশ-বাতাস একটু খারাপ লাগেনি
আবু সাঈদ শহীদ হলেন তোমরা শহীদ বলো না
জাতির সাথে আর কতকাল করবে মজা-ছলনা।

মুগ্ধ ডাকে ‘পানি পানি’ তোমরা খোঁজো চেতনা
সহমতের দ্বিমত হলেই রক্ষা পাওয়া যেত না
স্বাধীনতার জিকির করে পরাধীনেই রেখেছো
হালাকু খাঁর চেহারাতে কত কী রঙ মেখেছো।

রক্ত লালের জুলাই গেল, আগস্ট গেল তবুও
একটিবারও কওনি Sorry ফুটফুটেরা কভূও
কোন সাহসে ডিফেন্ড করো, কার মদদে ‘বিপ্লবী’
ছাত্রসমাজ জেগেই আছে, থামো থামো হিপ-লোভী।

২০. ১১. ২০২৪ খ্রি.
শহরপল্লী, ঢাকা।

………
চিনে রাখো
……….

চিনে রাখো মুখোশধারী সুশীলদের
হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিও কুশীলদের
রোপন করে সহিংসতার চারা আজ—
সেকুলারের ভান ধরেছে কারা আজ।

কারা এখন ব্যস্ত আকাশ নদীতে
আটকে আছে কারা কিংবা যদিতে
কাদের মুখে কুলুপ আঁটা বন্ধ চোখ
কারা দেখে স্বাধীনতায় দ্বন্দ্ব শোক।

চিনে রাখো সুযোগবাদী খয়রাতি
পাল্টে যেতে দেখো লাগে কয় রাতি
লোভের বশে বিকিয়ে দেয় নিজেকে
সামান্য খুদ কণা জলে ভিজে কে?

তেলাপোকা মরলে কত হাহাকার
ব্যাঙ ডুবেছে, জিগায় পুকুর আহা কার
চিনে রাখো পরগাছা ও চামচিকা—
চেতনাবাজ ফেরিওয়ালা বাম চিকা!

দাবার গুটি উল্টে দেবো ভয় কিসে
আমরা বুঝি ইন্তিফাদা জয় কিসে
আমরা ফাদি আবু সালাহ তিতুর জাত
লেজ গুটিয়ে পালা এবার ভীতুর জাত।

১৫. ১০. ২৩
বাংলাবাজার, ঢাকা।

…………….
মিছিলে আমরা
…………….

মিছিলে আমরা সবার সামনে থাকি
বাঁচার স্বপ্ন হাতের মুঠোয় রাখি
আমরা রাবার বুলেটে ঝাঁঝরা হই
আমরা জগতে বঞ্চিত কোথা নই?

মিছিলে আমরা প্রথমে আওয়াজ তুলি
জীবনের দায়ে ঘর-সংসার ভুলি
আমরা বুঝি না বউ-বাচ্চার মায়া
আমরা পাই না সামান্য ওম-ছায়া।

মিছিলে আমরা গুলি খাই যেন পাখি—
সারাটা জীবন ন্যায্য হিস্যা বাকি
আমাদের লাশ মাড়িয়ে তোমরা চলো
দুদিন যেতেই ভুলে যাও কী কী হলো!

মিছিলে আমরা সকল কালেই মরি
আমাদের ঘামে তোমাদের মাতবরি
আমরা শ্রমিক বঞ্চিত চিরকাল
তবুও আমরা ইতিহাসে জঞ্জাল!

৩০. ০৯. ২৪ খ্রি.
ঠিকানা, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা।।

……………
ফ্যাসিবাদ বিরোধী কবিতা
……………

জুলাই-আগস্ট হিপ-লোভী
আজকে হঠাৎ বিপ্লবী!
০২.
ষোলো বছর চোখ পড়েনি গু ম-খু নে
এখন ফ্যাসিস্ট কাইন্দা মরে বুম খু নে!
০৩.
অন্ধরা ফিরে পেল অক্ষি
তোমাল এত দেসপেম
ওলে বাবা লক্ষ্মী (?)

১৪. ০৯. ২৪
বকশিবাজার, ঢাকা

………………
‘আমার সোনার বাংলা’প্রেমে
……………….

আয়নাঘরের নির্যাতনে চোখ পড়ে না মোটে
গামছা নিয়ে ট্রল করে সুশীল-জাতে ওঠে
ষোলো বছর তেলে-ঝোলে ভালোই ছিলে বেঁচে
চামচাগুলি কাটাইছে দিন আহ কী নেচে নেচে।

ফ্যাসিবাদের দোসর ছিলে হালুয়া-রুটির লোভে
‘আমার সোনার বাংলা’প্রেমে এখন জ্বলে ক্ষোভে
হাজার হাজার মানুষ খু*নে দরদ কোথায় ছিল
জামাত-হেফাজত নিধনে হয়নি মোটে ফিলও।

‘বিচার মানি তালগাছ আমার’ বয়ান ভালোই পারে
মুরব্বি কই, দরবেশ কই, কোথায় জাফর স্যারে
‘আলো আসবেই’ বলে বলে অন্ধকারেই ছিলে
গরম পানির থেরাপিতে চমকে ওঠে পিলে।

মামুন, রিয়াজ, ভাবনা, হৃদি, সাজু, মিলন, বাবু
হাকিম, শমী, সুইটি, মাসুদ সবাইকে আই লাবু
এরাই জাতির আশার আলো, আসছে আলো ওই
ঘাপটি মারা ফ্যাসিস্ট নিয়ে ক্যান করো হইচই!

……………
আমার নেতা
……………

মাসের বেতন ২০ দিনে শেষ দিন চলে না আর
হাট-বাজারের আগুন দরে বেঁচে থাকাই ভার।

শিশুর দুধের কৌটা লাগে হায়রে ভীষণ দাম
মাছে-ভাতে বাঙালি বাদ, শুনেই ঝরে ঘাম।

ডালে-চালে কোনোমতে জীবন চলে যায়
আয়েশ কিসের, প্রয়োজনেই মন-দেহ তড়পায়।

দুর্বিষহ জীবন আমার একার, সে তো নয়
কোটি কোটি আমজনতার বুকের পাঁজর ক্ষয়।

আর এদিকে আমার নেতা চারশো বাড়ি করে
টাকা-কড়ির পাহাড়েও পরাণ নাহি ভরে।

লক্ষ টাকার জুতা-ঘড়ি কোটি টাকার গাড়ি
এত্ত আলিশানি জীবন ভাবতেও না পারি!

নেতা নামের জানোয়ারের এই তো পরিচয়
তোমার-আমার কপাল পোড়া, জাতির অবক্ষয়।

১৯. ০৯. ২৪ খ্রি.
ঠিকানা, ঢাকা।

০৫. ০৯. ২৪ খ্রি.
শিবচর, মাদারীপুর

…………..
জুলাই-আগস্ট খোঁজ ছিল না এখন ভিসি ডিজিও
…………..

ফ্যাসিবাদের নমুনা—
যতই বলি কমু না
তবুও রোজ বেরিয়ে আসে পশুদের অ-সভ্যতা
গুমরে কাঁদে মানবতা, বুক চাপড়ায় ভব্যতা।

ভ্যানের ওপর লাশের সারি আগুনে দেয় পুড়িয়ে
‘মানবতার মা-জননী’ কান্দে আঁচল মুড়িয়ে…
অভিনয়ে ভীষণ পাকা পেয়ে যাবে অস্কারও
জুলুমবাজের জন্য দেখো আজকে সে নয় বস কারো।

ষোলো বছর লুটে-পুটে নিজের আখের গুছিয়ে
ফ্যাসিস্টগুলি কই পালালো গোবুরে লেজ উঁচিয়ে
তবুও কিছু চেলা-পেলা এদিক-ওদিক আছে তো
উপচে পড়া উচ্ছিষ্ট খেয়েই ওরা বাঁচে তো!

ক্ষমার নজির রেখো তবে চিনে রাখো কীটগুলি
মানবতার মিছিলজুড়েই মারলো কারা ইট গুলি
লাশের গাড়ি আগুন দিয়ে দেখতো মজা দাঁড়িয়ে
পশুর চেয়েও অধম আহা, দিচ্ছে বিবেক নাড়িয়ে।

জ্যান্ত মানুষ কাবাব করে বিয়ারে মুখ ডুবিয়ে—
হারাম টাকায় আরাম করে কব্জি পুরাই চুবিয়ে
জুলাই আগস্ট খোঁজ ছিল না এখন ভিসি ডিজিও
ওঝা হওয়ার মুরোদ নেহি সাজছে সুশীল-ফিজিও!

০১. ০৯. ২৪ খ্রি.
বকশিবাজার, ঢাকা।

…………..
ভ্যানের ওপর লাশের স্তুপ!!!
……………

নেট বন্ধ, ডিশ বন্ধ, বন্ধ কথা বলা
সোনার দেশের ভেতর কেবল বুবুর উঁচু গলা!
ভূগোল-টুগোল বুঝিয়ে-বলে চাইছে টিকে থাকি
ফ্যাসিস্টগুলিই বুদ্ধিজীবী, বোকা-সোকা বাদ-বাকি।

ছাত্রসমাজ বেয়াদ্দবি করছে— বুঝাও খুব
আয়নাঘরের ভয়ে হাজার ‘বিপ্লবী’ও চুপ
আলোচনার দরজা খোলা তবুও লা শে র সারি
ভ্যানের ওপর বস্তা ফেলো! ভাবতেই না পারি!

বস্তা তো নয় লা শে র স্তুপ! হায়রে হতভাগা
কত্ত মায়ের বুক খালি গো একাকি রাতজাগা
পাখির মতো গুলি করে মানুষ মেরে মেরে
চিরজীবন ক্ষমতাতে থাকবে খুঁটি গেড়ে।

নেট বন্ধ, ডিশ বন্ধ, বন্ধ না তো গুলি
যাত্রাবাড়ি উত্তরাতে উড়ছে মাথার খুলি
ভ্যানের ওপর লা শে র স্তুপ ভিডিও ভাইরাল
আমার দেশের জমিন পুরাই র ক্তে লালে লাল।

সকল কিছু বন্ধ করে, করছে ফ্যাসিস্ট কী রে
জানের ভয়ে পালিয়ে যাওয়ায় বুঝছি ধীরে ধীরে
লা শ ফেলে আর র ক্ত চুষে চাইছে টিকে থাকি
গোপন মিশন ফাঁস হয়েছে, বুঝতে কারো বাকি!

৩১. ০৮. ২৪ খ্রি.
বকশিবাজার, ঢাকা।

…………..
টিএসসিতে মানবতার জয়
……………

তোমরা জানো টিএসসিতে গাঁজার আসর চলে
তোমরা জানো সবকিছুতেই ‘চান্স পাও আগে’ বলে।

তোমরা জানো পিছিয়ে পড়া প্রাচ্যের অক্সফোর্ড
তোমরা জানো সামান্যতেই দেখাবে হাইকোর্ট!

তোমরা জানো লেখাপড়ায় আগের কিছুই নাই
তোমরা জানো আমরা শুধুই হোটেলে ফাও খাই।

তোমরা জানো অতীত নিয়ে গর্ব করি খুব
তোমরা জানো বাহান্ন আর একাত্তরেই ডুব!

তোমরা জানো ‘লাঞ্চের পর’ আসতে হবে, আসো
তোমরা জানো বিসিএসেই জীবন-মরণ, হাসো।

তোমরা জানো অনেক কিছুই, বাস্তবে বেশ দূর
তোমরা জানো মাস্তানিতেই ক্যাম্পাস ভরপুর।

তোমরা জানো নতুন দিনের স্বাধীনতার গান— ?
তোমরা জানো ঢাবির কত মহৎ অবদান?

তোমরা জানো ফ্যাসিবাদের মৃত্যু ডাকে কারা ?
একদফার এক দিনেই মাত্র কম্ম কেন সারা ?

আজকে দেখো টিএসসিতে মানবতার জয়—
ভালোবাসার ফুল ফোটালো টিএসসি নিশ্চয়!

সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ে
টিএসসিতেই দেশ-জনতা বিলায় দুহাত ভরে।

টিএসসিতেই বিজয় মিছিল— নতুন স্বাধীনতা
টিএসসিতেই ঘোষিত আজ সাম্যবাদের কথা।

টিএসসিতেই নতুন দিনের সূর্য ওঠে হেসে
সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক মোহনায় মেশে।

২৪. ০৮. ২৪ খ্রি.
কাকরাইল, ঢাকা।

……………
ফ্যাসিবাদের দালালগুলো
……………

গুলি করে মানুষ মেরে বলছো জামাত-শিবির মারি
সামান্য টুঁ শব্দ হলেই— গোষ্ঠী তোমার বিবির মারি।

ক’দিন পরেই জঙ্গি বলে হাজার হাজার গুম করেছো
ভিন্নমতের শায়েস্তাতে আয়নাঘরের রুম করেছো।

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা