প্রচ্ছদকবিতাফিলিস্তিন : মহিবুর রহিমের গুচ্ছ কবিতা

ফিলিস্তিন : মহিবুর রহিমের গুচ্ছ কবিতা

ফিলিস্তিন

১.

ইতিহাসের কত পথ!

সবই গেছে ফিলিস্তিনের দিকে

মানুষের সংগ্রাম স্বাধীনতা

সূর্যোকরোজ্জ্বল দিনের আকাঙ্ক্ষা

অলিভ আকাশ হয়ে ছেয়ে আছে ফিলিস্তিনের বুকে!

যখন সময় কোন জটিল গ্রন্থিতে বাধা পড়ে

ইতিহাসের দ্বারোদঘাটন হয় ফিলিস্তিনের পবিত্র উত্থানে

বাবেলের নবী ইব্রাহিম খুঁজে নেন সেই পথ

নীলের প্রাচীর ভেঙে নেমে আসে জনস্রোত

প্রত্যাদিষ্ট পুরুষের পদব্রজে 

শোনা যায় মানুষের আগমন ধ্বনি!

হে ভূমধ্য সাগরের অস্থির হাওয়া

মনে কী পড়ে না নবী সোলায়মানের গান ?

এসিরিয়া থেকে ইজিপ্ট কেনান

জেরুজালেমের পবিত্র উত্থান

এখানেই জ্বলে নবী ইয়াকুবের আত্মার আলো

আর নবী মুসা যাকারিয়া ঈসা ও ইয়াহিয়া

মানবীয় চেতনায় শুদ্ধতম প্রেমকে জাগালো 

সেই প্রেম নিয়ে এলো প্রত্যাদিষ্ট জ্যোতির্ময় বাণী

সেই প্রেম পৃথিবীর মানবিক চেতনার দ্যুতি

দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের রক্ত পার হয়ে 

মানবিক শান্তির প্রস্তুতি।

২.

পাপের ফানুসে অভিশপ্তরা খেলা করে গিরিতটে

মৃত সাগরের মোনাফেক হাওয়া  ময়দানে বিষ ঢালে

নৃত্য করে জারজ ক্ষমতা আসে আনবিক যুগ

শান্তির ভূমি ফিলিস্তিনের দু:সহ দুর্ভোগ!

ইতিহাস আজ বুলডোজারে প্রতিদিন হয় পিষ্ট

তেলআবিব খেলে শয়তানি খেলা জঘন্য নিকৃষ্ট

ফিলিস্তিনের বুক চিরে শুনি মানুষের হাহাকার

যন্ত্রদানবে ভর করে আসে বিতাড়িত নীল পাপ

গাজা রামাল্লা পশ্চিম তীরে রক্তের ফুল ফোটে

বন্দি পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণ পথ খোঁজে ফিলিস্তিনে।

মাইট ইজ রাইট 

নির্ভুল নিশানায় মানুষ হত্যার কৌশল তোমাকে দিয়েছে বিরাটত্ব

আমি জানি, এখন যে কেউ মানতে বাধ্য তোমার অধিপত্য!

আকাশে বাতাসে একচেটিয়া উচ্চরোল  তোলে তোমারই ক্ষমতা প্রচারিত

কোন রকম ভিন্ন সুর, ভিন্ন প্রতিধ্বনি বারুদের বিস্ফোরণে সহসাই মূর্চ্ছিত

এখন কে না বলবে- তোমার যান্ত্রিক ক্ষমতাই শ্রেষ্ঠ!

কিতাবে পড়েছি মাইট ইজ রাইট নীতি মানবিকতার অভিধানে তুচ্ছ

সেই যুগ এখন অনবরত পদপিষ্ট

কৌশলগত ক্ষমতার ভাগীদার লুটেরা শক্তিসংঘ

নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আকাশ সমুদ্র ভূপৃষ্ঠ আর ভূগর্ভ

প্রকাশ্য আর গোপন স্থাপনায় রচিত হচ্ছে

মানুষকে পরাজিত করার জঘন্য কৌশল

আমি জানি, এখন যে কেউ মানতে বাধ্য একচেটিয়া এই আধিপত্য

যেখানে দিগবিজয়ী মনীষা তৈরি করে বিস্ময়কর এবং

আরো বিস্ময়কর বিধ্বংসী যত মারণাস্ত্র

মুহূর্তেই লক্ষ্যভেদ বিস্ফোরণ এবং মনুষ্যত্ব ছিন্নভিন্ন

এভাবেই উর্ধারোহণ এবং আরও উর্ধারোহণ

সাধ্য কার সূচাগ্র স্পর্শ করে তোমার বিপুল বিশাল এই দম্ভ

আমি জানি, এখন যে কেউ মানতে বাধ্য !

যখন সভ্যতাগামী মানস ও মনীষা এখন একই নির্ধারিত সড়কে ধাবিত

সকল প্রচার যন্ত্র একান্ত মর্জিতে প্রচারিত

পুঁজিবাদী পয়জনে আত্মাহুতি দিচ্ছে মেধা সৌন্দর্য শৌর্য

কোন রকম ভিন্ন সুর ভিন্ন প্রতিধ্বনি বারুদ বিস্ফোরণে মুহূর্তেই মূর্চ্ছিত

এখন কে না বলবে- তোমার যান্ত্রিক ক্ষমতাই শ্রেষ্ঠ!

অভিনবত্ব

যদি তোমার চোখ ভাল থাকে

তুমি উপভোগ করতে পারো!

ফসফরাস বোমায় তৈরি বিধ্বংসী আলোকসজ্জা

গাজার শিশুদের রক্ত হার মজ্জা

শব্দে আগুনে ও বোমায়

ছিন্ন ভিন্ন 

তুমি ব্যবহার করতে পারো 

মার্কিন নীতির মতো একটি অপলক ক্যামেরা

যখন অসংখ্য ট্যাংক গানশিপ এয়ারক্রাফট

সম্মিলিত আক্রমনে তৈরি করে গোয়ের্নিকা

বধ্যভূমির শীর্ষে উড়ায় ইহুদি পতাকা

আহত মানুষেরা কাতরায় ধ্বংসস্তুপে রাস্তায়

তুমি উপলব্দি করতে পারো যান্ত্রিক ক্ষমতার অভিনবত্ব !

যদি তোমার চোখ ভাল থাকে 

তুমি উপভোগ করতে পারো

নৃশংসতার আবহমান ইহুদি সৌন্দর্য

পুঁজির কল্যাণে লব্দ নিরঙ্কুশ সামরিক ক্ষমতা

নির্বিচার গণহত্যায় উদ্যত পতাকা তুলে নাচে

যেহেতো নাচার ক্ষমতা তার আছে!

যেহেতো পশ্চিমের সব নেপথ্য শক্তি তার অনুকূল ছায়া বিস্তার করে আছে

শৃঙ্খলিত পৃথিবীর আর্তনাদ দীর্ঘশ্বাস অথবা 

নীতির নিনাদ ঢেকে যায় নির্মম সাইলেন্সারে

গোটা পৃথিবী নিঃস্তব্দ হয়ে থাকে একচেটিয়া 

প্রোপাগান্ডার ভারে

বিধ্বংসী এবং কৌশলগত আক্রমনে

মানুষের স্বপ্ন স্বাধীনতা মাটিতে দলিত করে

অভিনব অস্ত্রের ক্ষমতা!

ইহুদি বিষবৃক্ষ 

মানবতার প্রদীপ যখন নিভু নিভু প্রায় 

বিশ্ব রণের অবকাশে হঠাৎই টের পাই

ইয়াংকিদের কূটচালে বিষায় অন্তরীক্ষ

ফিলিস্তিনে বপন হলো ইহুদী বিষবৃক্ষ। 

পুঁজিবাদের আবর্জনা ফিলিস্তিনে ঢেলে

হত্যাক্লান্ত লুটেরা সব নতুন খেলা খেলে,

বিশ্ববিবেক স্তম্ভিত হয় হত্যার উৎসবে

মানবতার আর্তনাদে বাতাস কাঁদে নভে।

লক্ষ হাজার ফিলিস্তিনির ডুবিয়ে দিয়ে বেলা

অর্ধ শত বছর ধরে শান্তি শান্তি খেলা

প্রোপাগান্ডা কূটনীতি আর নানান শর্ত ধার্য 

শান্তি সভার শেষে দেখি যুদ্ধ অনিবার্য। 

যুদ্ধ আসে ক্ষুধা দীর্ণ নিপীড়িতের ঘরে 

নিত্য নতুন অস্ত্রগুলো বুক ফাটিয়ে ঝরে,

লক্ষ লোকের কবর দেখায় নিঃস্ব সাদা বুক

বিশ্ব দেখে পশ্চিমাদের একরোখা এই সুখ।

জাতিসংঘ ভাঁড় সেজেছে হায়রে জাতিসংঘ!

দেখতে দেখতে ক্লান্ত হলাম নীতিমালার রঙ্গ, 

যায়নবাদের বুটের নিচে প্রস্তাবনার স্তুপ 

ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে তাহার কী অসহায় রুপ।

শান্তি শান্তি খেলার মতোই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা 

আবার দেখি মিটিং ফিটিং পরিহাসের মেলা, 

শান্তিকামী বিশ্ববাসীর গুড়িয়ে দিয়ে বুক

বিশ্ব দেখে ইহুদিদের একরোখা এই সুখ!

চির ফিলিস্তিন 

চির ফিলিস্তিন 

চির মুক্তিকামী

চির মানবতা

চির সংগ্রামী। 

চির সত্যের আলো

চির রক্তের ধারা

চির অকুতোভয় 

চির আত্মহারা।

চির দুর্জয় তুমি 

চিরকাল তুমি জয়ী

চির পুণ্যভূমি

চিরদিন সংগ্রামী।

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা