শান্তা মারিয়া
পরমের সন্ধানে
……………..
নিরাকার ভালোবাসা থেকে বারে বারে ফিরে আসা অবয়বে
ভ্রান্তির সীমান্ত ছুঁয়ে শেষ অবধি নিরাকারে সমর্পণ
এক সম্পূর্ণ আবর্তন।
সুমেরিয়া, উরুক, নিনেভা, ব্যাবিলন, আর্যাবর্ত
কাফেলার উট ক্রমাগত চলে যায়
মিশর, জর্ডানের কংকর ভূমির উপত্যকায় পরিভ্রমণ
ইউসুফের অনিবার্য একক অভিযাত্রা
ঝোঁপের আড়ালে অলৌকিক অগ্নিশিখা বলে ‘আমি যে, আমি তো সেই প্রভু’
মেসোপোটেমিয়ায় কত গান, সিরিয়ার বাণিজ্যপথ থেকে
আরোহণ হেরার উচ্চতায়
ভালোবাসা অথবা ভীতি, কিংবা শান্তি ও প্রেম হাত ধরাধরি করে চলে
কে তুমি? কেবলি আলো? নূর? জ্যোর্তিময় শিখা?
মহাশক্তি? নাকি প্রাণের ভিতর বয়ে চলা আমার অস্তিত্ব?
আমি আশৈশব খুঁজেছি তোমাকে।
তুমিই কি পরম প্রিয়? মৃত্যু? প্রভু?
তুমিই মহাবিশ্ব? প্রকৃতি, মহাকাল?
তোমার আমার মাঝে জন্মান্তরের সুদীর্ঘ বিচ্ছেদ
আকাশের চকিত বিদ্যুতে অকস্মাৎ মনে পড়ে
আবার বিস্মৃতি।
আমি হাত প্রসারিত করি জন্মের আগের সুগভীর অন্ধকারে
তবু তুমি স্পর্শের অতীত
অনেক অনেক জন্ম আগে
আফ্রিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ধাবমান স্যাপিয়েন্স
কিংবদন্তি, রূপকথা, অথবা পুরাণ
আমারই জন্মের ইতিহাস
নশ্বর জীবনে বারে বারে মিশেছি ধূলায়।
তবু অবিনশ্বর এই প্রাণ কিংবা সেই পুরাতন আত্মা
“অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণোন”
এক জীবন থেকে অন্য জীবনে বয়ে চলে নিরন্তর
আমার পরম প্রভু, তোমারই মিলনের প্রত্যাশায়।
‘হে আমার উম্মত’
………………..
এক মহানিনাদে প্রকম্পিত ধরিত্রী
দীর্ঘ ঘুম ভেঙে তাঁর প্রথমেই মনে হলো,
তারা কি জেগেছে?
তারা কি জেনেছে আজ সেই মহা দিন?
ধ্বংসের প্রবল তাণ্ডবে
সুদৃঢ় পর্বত নিক্ষিপ্ত ধূলিকণা হয়ে উড়ছে আকাশে
গলে যাচ্ছে গগন রক্তাক্ত চামড়ার মতো।
মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে পৃথিবী।
মহাপ্রলয়ের আতংকে মা ভুলে যাচ্ছে সন্তানকে
শিশু ধরছে বৃদ্ধের রূপ
মানুষ চিৎকার করছে নিজের জন্য।
তবু তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘কোথায় উম্মত?’
ভয়তাড়িত মানব ধাবমান হাশরের ময়দানে
আমাকে বাঁচাও- ইয়া নফসি হাহাকার।
একমাত্র তিনি তীব্র উৎকণ্ঠায় বলে যান,
‘ইয়া উম্মতি ইয়া উম্মতি- রক্ষা পাক আমার উম্মত।’
প্রচণ্ড উত্তাপে দগ্ধ দেহ
ছায়া নেই, শীতলতা নেই
শুধু তাঁর হাতে আবে কাউসার, অমিয় প্রবাহ।
বিচারের মহান দিবসে
তুমি আছ বরাভয় সাফায়াতকারী
প্রাণপ্রিয় আমার রসুল।
ঈশ্বর, রহিম রহমান
আপনার সেরা উপহার রসুলের ভালোবাসা
ভয়ংকর সেই দিনে একমাত্র আশা
প্রিয়মুখ, সুমধুর শব্দাবলী
ইয়া উম্মতি, ইয়া উম্মতি।
চূড়ান্ত অতিথির আপ্যায়নে
…………………………
এসেছ? না হয় বসো খানিক। আমি তৈরি হয়ে নিই।
অতিথি আপ্যায়নে কী দিই বলো?
মানবের প্রিয় পানীয় সাফল্যের মদ?
নাকি শরীর জুড়িয়ে দেয়া মায়া?
সময় নেই একদম?
কিন্তু আমার যে পুরো জীবনটা
গুছিয়ে ঠিকঠাক বাক্সে ভরে নিতে হবে।
সেই জরায়ুর অন্ধকারে গভীর সন্তরণ
জন্মমুহূর্ত থেকে শৈশব, স্নেহের শিকড় উপড়ানো গান,
বন্ধুরোপণের দিন, অঝোর তরুণবেলা।
কিচ্ছু খুঁজে পাচ্ছি না, জানো, কিচ্ছু না।
কাকে ঘৃণা, কাকে প্রেম, কার সঙ্গে সুতীব্র দ্বৈরথ,
কার জন্য তুচ্ছ করেছি সমগ্র ইন্দ্রপ্রস্থ
গোপন ফোল্ডারে কার জন্য রাখা ছিল দরিয়ায় নূর।
এতগুলো বছরেও জানা হয়নি, চেনা হয়নি নিজস্ব চেহারা।
ভেঙে গেছে, বদলে গেছে শিশু থেকে জীর্ণ এক মানবীর দেহে।
কী ছিল সঞ্চয়, কোনটি অর্জন, আদর্শ, চেতনা, গোত্র, কুল
জীবনের সব চাওয়া, প্রার্থনা, স্তোত্রপাঠ, সুরা ইয়াসীন
সব মিলেমিশে বিমূর্ত, বিলীন।
ব্যাংক কার্ড, জুয়েলারি, জমির দলিল,
পাণ্ডুলিপি, মানপত্র সবকিছু রেখে
কী বলছো একা যেতে হবে?
সপ্তপদী চলনের কেউ নেই আজ।
এত তাড়া? ঠিক আছে
চলো যাই নির্জন সড়কে
শুধু তোমার সঙ্গে অন্তহীন নতুন শহরে।
সোনালি হরিণের জন্য আমন্ত্রণলিপি
………………………
এখন তোমার জন্য
পৃথিবীর সব ছায়া বর্ষণরত
এখন সকল বৃক্ষ
উদাসীন তোমর বিরহে
সুহাসিনী পালঙ্ক জুড়ে
বহমান শোকের মাতম
অবসন্ন আজকাল
যাবতীয় মোহন কোকিল।
“শাঙন গগনে ঘোর ঘনঘটা, নিশীথ যামিনী রে
কুঞ্জপথে সখি কৈসে যাওব অবলা কামিনী রে”
ধুসর আলোর দ্বীপে
উড়ে গেল সোনালি হরিণ
রোদের উজানি মেঘ
সাহসে সাঁতার কাটে
নীল দরিয়ায়
ঝিকমিক করে জ্বলে
পৃথিবীর বাতাসি নোঙর।
“বাড়ির কাছে আরশি নগর
সেথায় এক ঘর পড়শী বসত করে
আমি একদিন না দেখিলাম তারে”
ছাদের রেলিং ছুঁয়ে
ডুবে যায় সুতাকাটা ঘুড়ি
নারিকেল পাতা দোলে
বিস্তীর্ণ বাতাসে
তোমার হাসির চেয়ে
মোহনীয় কাকাতুয়া জল
নরম দিনের ঘাটে
ভেসে আসে ইমন সন্ধ্যায়।
“মোর ঘুমঘোরে কে এলে মনোহর
নমো নম, নমো নম, নমো, নম
শ্রাবণ মেঘে নাচে নটবর
ঝমঝম, রমঝম, ঝমঝম”
দীঘল দিনের শেষে
তারাহীন সুরম প্রহরে
রঙধনু পাখা মেলে
উড়ে এসো সোনালি হরিণ
অপলক শাদা কাক
ভুল কোনো গল্প শোনাবে।
দেবী আর্টেমিসের প্রতি দানব ওটাসের স্তব
……………………..
ও আর্টেমিস, তুলে নাও তোমার নিবিড় বর্শা
বিস্তৃত পুরুষ-বক্ষ এই
হে দেবী নিক্ষেপ করো প্রেম।
দেহ থেকে উৎসারিত রক্তবিন্দু
গেয়ে ওঠে স্তব, অন্তিমসংগীতে।
আঘাতেই আলিংগন, মৃত্যুই চুম্বন তোমার।
চাঁদডোবা অন্ধকারে প্রস্ফুটিত রাতের কুসুম
অরণ্যের অভিসারে যুগল হরিণ
সিংহের কেশর দোলে, বরাহের পাল,
অরণ্যপরীর দল নিঃশব্দ সংগীতে
উড়ে যায় কুয়াশা ডানায়।
কুঞ্চিত খোলা চুল খেলা করে দেবীর গ্রীবায়
প্রেমহীন শিকারের অভিলাষে
কেঁপে ওঠে কুমারী হৃদয়।
শিকারের সঙ্গী এক
চলে গেছে নক্ষত্রের মানচিত্র হয়ে
সবটুকু ভালোবাসা নিয়ে কোনোদিন
ডাকবে না, জাগবে না দূর ওই অরণ্য প্রান্তরে
অরিয়ন, চিরদিন শিকারীর বেশে
স্থির, প্রেমহীন।
প্রেমের প্রেতিনী তাই উড়ে যায় নিগূঢ় আঁধারে
অকারণ রূপের বোঝায় ক্লান্ত দেবী
পায়ে পায়ে ঘোরে চিরসঙ্গী শিকারী কুকুর
প্রেম নেই, স্পর্শ নেই, কামনার শিহরণ নেই,
আছে শুধু অব্যর্থ হতাশা, অনন্ত শিকার।
ধরা দাও আর্টেমিস
দেবতার লীলা খেলা নয়,
এই বুকে জমে আছে দানবের একনিষ্ঠ প্রেম।
সমুদ্রমেখলা এক দ্বীপের সৌরভ,
সুদূর শৈশবস্মৃতি ছুঁয়ে যাক
আত্মার গভীরে।
সুচতুর দেবতার কামনার তাপে
দগ্ধ এক মৃন্ময় দানবী, জননী তোমার।
অর্ধেক দেবত্ব তাই, অন্তরে ধারণ করো মাটির পৃথিবী।
আর্টেমিস, আর্টেমিস, হন্তারক প্রেয়সী আমার,
দেবীর খোলস ছেড়ে নেমে এসো নারী,
নেমে এসো এই বুকে,
দানবের সুকঠিন প্রেমের ভুবনে।
গন্তব্য কার্তিকপুর বাংলো
………………..
বর্ষণহীন এক শ্রাবণ দিনে চঞ্চল সুহৃদ কবি বললেন
ভালোবাসা কাকে বলে আমি তো জানি না
অথচ এখনো বুকের ভিতর
এতোখানি ভোরবেলা জমে থাকতে পারে।
সড়কের দেহে ক্রমাগত হেঁটে হেঁটে
যতই কর্কশ হোক পদতল
কিংবা বাণিজ্যিক লেনদেনে
অসাড় আঙুল
কালোটাকা সাদা করার খেলায়
বর্ণকানা চোখ
আমাদের সম্পর্কের সীমান্তে সর্বদা
জেগে থাক কাঁটাতার
তবু মধ্যরাতে জায়া আর জননীর মুখোস সরিয়ে
বেঁচে ওঠে নারী।
হয়তো এখনো জীবিত কার্তিকপুর বাংলো
টালির ছাদের স্রোতে বয়ে যায় অশেষ শৈশব
আধখোলা গেট দিয়ে উঁকি দেয় একখণ্ড ঊনবিংশ সাল
চোখের ভিতরে অনন্ত আহ্বান নিয়ে
আজও কেউ বসে আছে প্রতীক্ষায়
যে কোনো বৃষ্টির দিনে
গুটিপোকা স্মৃতি
প্রজাপতির ডানায় ঢেলে দেয়
ভালোবাসার সবটুকু রং।
নিচ্ছিদ্র জীবনে
সুরক্ষিত যাপন কৌশল
ক্লান্ত লক্ষ্মণরেখা
সেইসব দিনে
সম্পর্কের ভিত্তি ধরে
অকস্মাৎ দিয়ে বসে টান।
তুমি আর বৃষ্টি সর্বদাই সমার্থক।
তোমার কাছেই বহুবার শুনেছি আ-কো-টা-ঙ্কার স্তব
বৃষ্টির আহ্বান গীত।
বৃষ্টি, ভালোবাসা, কবিতা এবং তুমি
কোনটাই জমা হয় না করতলে
কেবলই মুঠো ফসকে
হারিয়ে যায় জীবনের চৌহদ্দি থেকে।
ভালোবাসা কাকে বলে আমিও জানি না
অথচ কার্তিকপুর বাংলোর প্রান্তরে
অহর্নিশ শুয়ে থাকে ভালোবাসার নিমগ্ন সংজ্ঞা।
আবহমান বৈশাখী গীত
……………………..
পহেলা বৈশাখে এসো প্রিয়
এসো রমনায়, বটের ছায়ায়
এইসব জটিল জীবন ছেড়ে চলো যাই
আমাদের ভোরের আলাপে
বৈশাখের তীব্র রোদে, কৃষ্ণচূড়া, জারুলের দিনে।
চৈতালি বিকেল, নতুন চালের ক্ষীর, পুতুল নাচের অনন্ত ইশারা
চলো যাই চন্দ্রদ্বীপে, হরিকেলে, তাম্রলিপ্তি, দ্বীপান্বিতা গৃহে।
ধূপের ধোঁয়ায় বাঁধি চুল, লোধ্ররেনু মুখে।
ঘুড়ি ওড়ে বাংলার প্রাচীন আকাশে।
কামিনীর সুবাসিত ঝোঁপ, মধুপুর শালবন
দারুণ জোছনায় বাঁধি ঘর,
আমাদের সেইসব ভুলে যাওয়া পুরনো বাসর।
সংক্রান্তির মেলা, রসুলপুরের হাট, শোলার ময়ুর
ধীমানের হাতে গড়া শিলালিপি, বাঁকুড়ার ঘোড়া।
বৈশাখী পূর্ণিমা, শাক্যগৃহে বাজে শঙ্খধ্বনি
ধরাধামে আবির্ভুত সিদ্ধার্থ গৌতম।
তারপর কত রাত, কত অন্ধকার তমাল প্লাবন
চলো যাই রাজগির, পুণ্ড্র নগর
সাঁওতাল পরগণা, সারারাত বাজুক মাদল
মহুয়ার রঙে ভেসে যাক নক্ষত্রের পুরাতন মন।
এসো প্রিয়, সুলতানী যুগের ছায়ায়
পাঠ করি আলাওল, ইউসুফ জুলেখার প্রেম,
সুবে বাংলার সোনালি অতীতে
মেঘডম্বর শাড়ির আঁচলে
মসলিন পিরানের ভাঁজে
হালখাতা, পুণ্যাহ উৎসবে
চড়কে বৈশাখে আরেকবার হাত ধরো প্রিয়
সংক্রান্তির লগ্ন খুঁজি ঝড়ের তাণ্ডবে।
………..
পরিচিতি
………..
শান্তা মারিয়া
২৪ এপ্রিল, ১৯৭০ ঢাকায় জন্ম। শান্তা মারিয়া বর্তমানে চীনের ইউননান বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ।
বাবা: কমরেড মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ,
মা: ফয়জুননেসা খাতুন।
শান্তা মারিয়া (ডাক নাম ভ্যালিয়া) তার জীবনের একেবারে শুরুতে আড়াই বছর থেকে বিটিভিতে রবীন্দ্রনাথের সোনার তরীসহ বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তি করে খ্যাতি পান।
তিন বছর বয়স থেকে মুখে মুখে কবিতা লেখা শুরু। নয় বছর বয়সে প্রথম কিশোর কবিতার বই প্রকাশিত হয় ১৯৭৯ সালে। বইটির নাম মাধ্যাকর্ষণ। বইটি প্রকাশের পর জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কুর্ট ওয়াইল্ডহাইম, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ বিশ্বের অনেক দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তি বইটির প্রশংসা করে চিঠি দেন। এরপর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের শিশুদের পাতায় এবং সোভিয়েত নারী ও উদয়ন পত্রিকায় সাক্ষাৎকারসহ কবিতা প্রকাশ হয়। এ পর্যন্ত ৬টি কবিতার বইসহ ১৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে গল্প ও প্রবন্ধ। তার সাম্প্রতিক স্মৃতিগদ্য গ্রন্থ ‘আমি বেগমবাজারের মেয়ে’ বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে।
কবিতার বইয়ের নাম
১. মাধ্যাকর্ষণ(১৯৭৯)
২. সকল দোকান বন্ধ ছিল (১৯৯৬)
৩. এবং একতারা বৃক্ষ (২০০০)
৪. আমরা বলে কোনো গল্প নেই (২০০৪)
৫. ওম মণি পদ্মে হুম( ২০১৭)
৬. ব্যক্তিগত জোছনা কুড়ানোর রাত (২০২৩)
অন্যান্য বই: বিশ্বের সেরা রূপকথার গল্প প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড (১৯৯৬, সম্পাদিত),
আকবর দ্য গ্রেট (মোগল ইতিহাসের গল্প, ১৯৯৬),
জ্ঞানতাপস ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (কিশোরদের জন্য জীবনীগ্রন্থ, ২০০৫),
সাহিত্যে পরকীয়া ও অন্যান্য (প্রবন্ধ সংকলন, ২০১৭),
চকবাজার টু চায়না(ভ্রমণ গদ্য ২০১৭),
পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে( কমরেড মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহর স্মৃতি গদ্য, অনুলিখন, ২০১৭)।
আমি বেগমবাজারের মেয়ে (২০২২) (প্রথম খণ্ড)
আমি বেগমবাজারের মেয়ে -নব্বই দশক (২০২৪) (দ্বিতীয় খণ্ড)
চীনের মুসলিম চীনের মসজিদ (২০২৩)
কবোষ্ণ পূর্ণিমা (গল্প গ্রন্থ, ২০২৫)
চীনা সাহিত্যের আশ্চর্য ভুবন (চীনের কবিতার অনুবাদ)(২০২৪)
পাখিটা এলিয়েন ছিল (শিশুদের গল্প, ২০২৫)
লক্ষ্মণরেখার বাইরে (ভ্রমণ গদ্য, প্রকাশিতব্য)
শিক্ষা: মেধাবী ছাত্রী শান্তা মারিয়া ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি (প্রথম বিভাগ) এবং ১৯৮৮ সালে এইচ এসসি(প্রথম বিভাগ) পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স।
বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্পে ছিলেন। তরুণ লেখক প্রকল্প থেকে প্রকাশিত বইটির নাম ‘সকল দোকান বন্ধ ছিল’।
পেশা: ১৯৯৭ সালে দৈনিক মুক্তকণ্ঠে সাংবাদিকতা শুরু।
এরপর জনকণ্ঠ পত্রিকায় অপরাজিতা পাতার বিভাগীয় সম্পাদক ছিলেন ১০ বছর।
আমাদের অর্থনীতিতে মফস্বল সম্পাদক,
আমাদের সময়( অ্যাসিসটেন্ট এডিটর),
রেডিও আমার(নিউজ এডিটর) ও
চীন আন্তর্জাতিক বেতার( বিদেশী বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক) এবং
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এ সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন।
আমাদের সময় পত্রিকায় ফিচার এডিটর পদে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশে সর্বশেষ চায়না মিডিয়া গ্রুপের ঢাকা ব্যুরোর নিউজ এডিটর ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় নারী নেতৃত্ব বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য।
পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটসহ মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে পেপার উপস্থাপন করেছেন।
কবিতা, গল্প ও ভ্রমণকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকায়। মানবাধিকারবিষয়ক লেখালেখিতে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বিভিন্ন দেশী বিদেশী কবিতা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। টিভির জন্য লিখেছেন সিরিয়াল নাটক ‘নীল দাঁড়কাক’। তাঁর লেখা মঞ্চনাটক ‘চণ্ডীদাস’। মঞ্চের জন্য আরও নাটক লিখেছেন। আবহমান থিয়েটারের অন্যতম পরিচালক।
জ্ঞানতাপস ভাষাবিদ ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহর পৌত্রী ও ভাষাসৈনিক এবং বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহর কন্যা এবং খান বাহাদুর আফাজউদ্দিন আহমেদ এর দৌহিত্রী। তার জীবনসঙ্গী সৈয়দ শাহিন রিজভি একজন কবি ও আবহমান থিয়েটারের নির্দেশক। এই দম্পতির একমাত্র সন্তান জুলকার সৈয়দ সামির অর্ণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। মিথোলজি ও ইতিহাসপাঠ শান্তা মারিয়ার প্রিয় নেশা।
বিদেশ ভ্রমণ: যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, চীন।
বাংলাদেশে বর্তমান আবাস: অ্যাপার্টমেন্ট জি-৩, বাড়ি ৭, ময়মনসিংহ রোড, বাংলামোটর, ঢাকা।
চীনে: কুনমিং।
ফোন ০১৭১১৪৬০৭৪৮
ইমেইল shantamariavalial@gmail.com







