তাজ ইসলাম
কবি আল মুজাহিদী একটি উজ্জ্বল নাম। এই নামেই তিনি পরিচিত। শিল্প-সাহিত্যের অঙ্গনে আল মুজাহিদী অতিপরিচিত। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত সখ্যতা,গভীর কোন সম্পর্ক ছিল না। আল মুজাহিদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সক্ষম হইনি। তবে দীর্ঘকাল সাহিত্যের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যাতায়াতে তার সাথে বহুবার দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে। খুব কাছাকাছি পৌছারও সুযোগ হয়েছে। সেসবের কোন স্থীর চিত্র নাই। কল্যাণপুরে এক সাহিত্যানুষ্ঠানে জুমাবারে আমরা ক’জন সেখানকার মসজিদে নামাজ পড়েছিলাম। যাওয়া আসার পথে টুকটাক কথা হয়েছিল। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হতে-হতে তিনি ইমাম সাবের প্রশংসা করেছিলেন। নামাজে ছোট সুরা আর সংক্ষিপ্ত মোনাজাত তার দৃষ্টি কেড়েছিল। তা প্রায় ১৮/২০ বছর আগের কথা।
এরপর কতবার কত প্রোগ্রামে দেখা হয়েছে তা হিসাবের বাইরে।
দীর্ঘদেহী ভরাট কণ্ঠের আল মুজাহিদী ছিলেন অনলবর্ষী বক্তা। বলতে পারতেন বিরামহীন।
ইতিহাসের ঘটনা, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত হাজির থাকত তার বক্তৃতায়। একাধিক ভাষার মিশ্রণে বক্তব্য দিতেন মোহনীয় ভঙ্গিতে।
বক্তা আল মুজাহিদী কথা বলতে-বলতে হাজির হতেন নেতা হয়ে। রাজনীতি তার বক্তৃতার ফাঁকে-ফাঁকে প্রকাশ হয়ে যেত।
এই রাজনীতিই আল মুজাহিদীকে চক্রান্তের জালে আটকে রেখেছিল। কবি আল মুজাহিদীকে রাজনৈতিক আল মুজাহিদী দিয়ে দমিয়ে রাখার পূর্ণ চেষ্টা ছিল।
আওয়ামী সাহিত্যিক ব্রাহ্মণরা, সাংস্কৃতিক পুরোহিতরা কবি আল মুজাহিদীকে আল মুজাহিদী হতে এন্তার বাধা দিয়েছে দীর্ঘ সময়।
আল মুজাহিদী রাজীনীতি করতেন আওয়ামীলীগের। এককালে ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। সাহিত্যিক আল মুজাহিদী পরবর্তীতে দলীয় রাজনীতিতে আর সক্রিয় থাকেননি। চিন্তা ও বিশ্বাসেও পরিবর্তন এসেছিল। একসময় লীগের রাজনীতি করতেন, ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
সরাসরি রাজনীতি থেকে প্রস্থান আর বিশ্বাসের মোড় নেওয়ায় হয়ে গেলেন প্রিয় থেকে অপ্রিয় ব্যক্তি। এই ব্রাহ্মণ্যবাদ আর পৌরহিত্যের সূত্রে কবি আল মুজাহিদী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা হয়েও ছিলেন তাদের চক্ষুশূল। কবি আল মাহমুদ বা ফররুখ আহমদের মতো তার কবিত্বকে দেখত আঁড়চোখে।
ষোল বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতাকালীন সময়ে আল মুজাহিদী ছিলেন পর্দার আড়ালে। আওয়ামী পলায়নের পর তিনি ডাক পেয়েছিলেন বিটিভির অনুষ্ঠানে। এ কথা আল মুজাহিদী বলে গেছেন ‘ষোল বছর বা আরও দীর্ঘ সময় পর ডাক পেলেন বিটিভির। এভাবেই জীবিত আল মুজাহিদীকে মাইনাস করার চেষ্টা ছিল অব্যাহত। তবু রাজধানীর কোন-কোন সাহিত্য সভায় হাজির থাকতেন সভার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে।
মৃত্যুর পর আরেকটি রাজনীতি করা হয়েছে সুচারুভাবে। কবি আল মুজাহিদীকে কবি আল মুজাহিদী হিসেবে আড়াল করে সম্পাদক আল মুজাহিদী হিসেবে উপস্থাপন করছে তার উল্টোস্রোতের সুচতুররা। আল মুজাহিদী সুদীর্ঘকাল সম্পাদক ছিলেন, তখনও তিনি একজন কবিই ছিলেন। কবিকে সবার আগে কবি হিসেবেই সম্মান ও স্মরণ করা উচিত। এর বাইরে অনেক সময় চলে রাজনীতি। এটাকেই সম্ভবত কাব্য রাজনীতি বলে।
আল মুজাহিদী ষাটের দশকের কবি। মারা গেলেন ২০২৬ সালে। প্রায় ৭ দশক ছিল তার সাহিত্যিক যাত্রা। এই সময়ে তার কাব্যচর্চা, সাহিত্য যাপন অবশ্যই আলোচনার বিষয়। তিন দশকের অধিক সাহিত্য সম্পাদক ছিলন একটি শীর্ষ পত্রিকায়। সম্পাদক জীবনে যত পরিমাণ লেখক তার হাত দিয়ে জাতীয় জীবনে পরিচিত হয়েছে, খ্যাতিমান হয়েছে সে হিসেবে সম্পাদক, কবি আল মুজাহিদী বলা যায় অনালোচিতই। সম্পাদক জীবনে যাদের লেখা প্রকাশ করেছেন, যাদের গড়ে তুলেছেন, যাদের পরিচর্যা করেছেন, যাদের উৎসাহ দিয়েছেন তাদের মুখে আল মুজাহিদী আলোচিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হত তার মৃত্যু সংবাদে।
আসলে বাস্তবতা এমনই। ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে আলোচনা খুব কমই হয়। বছর দুয়েক হয় সামান্য পরিমাণে, তারপর নাই হয়ে যায়। এটা শুধু শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে নয়, রাজনীতির তুমুল আলোচিত মানুষটিও মৃত্যুর পর চলে যান আলোচনার বাইরে।
উদাহরণ টানলে নামের পর নাম আসতেই থাকবে। আব্দুল মান্নান ভুইয়া বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। আব্দুস সালাম তালুকদার, এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ তারা সবাই ছিলেন তুমুল আলোচিত। এখন বলতে গেলে কেউই তাদের নাম মুখেও নেয় না। যে কবি সভা -সেমিনারে, সাহিত্য পাতা-লিটলম্যাগে ব্যাপক সরব ছিলেন; ফেসবুকে, ইউটিউবে সরব ছিলেন। বন্ধু বেষ্টিত ছিলেন আড্ডায় মশগুল ছিলেন মারা যাওয়ার পর দুই দিনে ভুলে যায় পৃথিবী তাকে। পৃথিবীর ধর্মই এটা। সৃষ্টি তাকে স্মরণীয় করে রাখে। কিঞ্চিৎ হলেও স্মরণীয় করে রাখে তাকে।
আল মুজাহিদী কবি, সম্পাদক, অনুবাদক, গল্পকার, শিশু সাহিত্যিক। মোদ্দা কথা একজন আপাদমস্তক সৃষ্টিশীল মানুষ। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখাতেই ছিল তার সরব উপস্থিতি। আরও ইতিবাচক দিক হল আল মুজাহিদী মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সৃষ্টিশীলতায় ছিলেন সরব ও সচল। মৃত্যুর আগে আগেও লেখালেখি করতে পেরেছিলেন।
তিনি কেমন কবি ছিলেন, কবিতায় তার স্বাতন্ত্র্য দিক কি, কবিতায় তিনি কি চিন্তা করতেন, কি বলতে চেয়েছেন, কি বলেছেন এসবই আলোচনার বিষয়। আমরা এতটুকু বলতে পারি শিল্প-সাহিত্যে কবি আল মুজাহিদীর অবদান অবশ্যই আলোচনার বিষয়। তার মৃত্যুর পর কয়েকজন তাকে নিয়ে স্বল্প পরিসরে কিছু কথা বলেছেন। এতে তার কিছু পরিচয় পাঠক উপলব্ধি করতে পারবে। মৃত্যুর পরপরই দৈনিক পত্রিকার উপসম্পাদকীয়তে খোরশেদ মুকুল আল মুজাহিদীকে নিয়ে লেখেন একটি নাতিদীর্ঘ লেখা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘তাঁর “মৃত্তিকা অতিমৃত্তিকা” বইটির জন্য তিনি “মৃত্তিকার কবি” নামেই পরিচিত হয়েছিলেন। তাঁর কবিতাগুলো কখনও বিচ্ছিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হয়ে থাকেনি–বাংলার মাটি, ইতিহাস এবং মানুষের সঙ্গে নিরবধি সংলগ্নতা গড়ে তুলেছে।
আল মুজাহিদী বাংলা ছাড়াও উর্দু, হিন্দি এবং ইংরেজিতেও স্বচ্ছন্দে কথা বলতেন। এই বহুভাষিক দক্ষতা তাঁর লেখাগুলোতে আন্তর্জাতিক প্রসারিত দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে। “দিদেলাস ও ল্যাবিরিন্থ” বা “ঈডিপাসের হ্যামলেট” বইগুলোর নামকরণেও এটা প্রতিফলিত হয়। তিনি গ্রিক পুরাণ এবং পশ্চিমা ক্লাসিক সাহিত্যের সঙ্গে বাংলার লোকজীবনের নিজস্ব আঙ্গিককে এক বুনটে গেঁথে দেওয়ার সাহিত্যিক প্রয়াস করেছেন। এটি তাঁকে এক স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে, যা তাকে সমকালীন অনেক কবি থেকে আলাদা করে রাখে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আল মুজাহিদী। এই দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাঙ্গণ নির্মাণের কাজ। তিনি অনেক তরুণ কবি-লেখককে সাহিত্যের জগতে পরিচিতি পেতে সাহায্য করেছেন। তাঁর সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কেবল কারিগরি যাচাই-বাছাইয়ে সীমাবদ্ধ না, বরং হয়ে ওঠে এক নিবিড় সাহিত্যিক পরিচর্যা।
আল মুজাহিদী শুধু একজন কবি ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের সাহিত্য-প্রতিষ্ঠানের এক অভিভাবকতুল্য পুরুষ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও সাহিত্য যখন একসঙ্গে নিজেদের আধুনিক রূপ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন তাঁর মতো একজন কবি-সম্পাদকের উপস্থিতি দুই অঙ্গনকেই সমৃদ্ধ করেছে। শিশুসাহিত্যের প্রতি তার দরদও প্রকাশ পায় নানা রচনায়। বড়দের জন্য লেখা জটিল কবিতার পাশাপাশি তিনি শিশুদের জন্যও লিখেছেন সহজ, সরল ভাষায়। বিদেশি শিশুসাহিত্য অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাভাষী শিশুদের জন্য খুলে দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের নতুন নতুন দুয়ার।’
অনলাইন এখন অন্যতম প্লাটফর্ম। কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুর পর কবি আফসার নিজাম একটি প্রবন্ধ লিখেছেন।
একজন আল মুজাহিদীকে একটি লেখায় তুলে ধরা অসম্ভব। তবু যে পাঠক আল মুজাহিদীকে চেনেন না, জানেন না তার কাছে এমন একটি লেখা পথ নির্দেশনা হয়ে হাজির হয়। আফসার নিজাম অনেক কথাই বলেছেন। তার থেকে একটি অংশ এখানে উদ্ধৃত করছি।
‘দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের সাহিত্যিক সাধনা তাকে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত করেছে, যার মধ্যে ২০০৩ সালে প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘একুশে পদক’ অন্যতম। মুজাহিদী গত তিনটি প্রজন্মের মধ্যে একটি উত্তরাধিকারের সূত্র হিশেবে কাজ করছেন। তার উপমা, রূপক এবং প্রতীকের ব্যবহার বাংলা কবিতায় এক ভিন্নমাত্রা সৃষ্টি করছে, যা তাকে পাঠকদের কাছে হৃদয়ভেদী ও আকর্ষণীয় করিয়া তুলছে।
পরিশেষে কওয়া যায়, আল মুজাহিদীর জেহেনে সমাজ ও সময় কেবল প্রতিচ্ছবি হিসেবে হাজির হয়নি, বরং তা এসেছে এক গভীর দায়বদ্ধতা এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়া। তিনি ষাটের দশকের সেই সৃজনশীল আন্দোলনের রাহবার, যিনি কবিতাকে জমিনের কাছাকাছি নিয়ে আসছেন এবং সাংবাদিকতাকে সাহিত্যের এক অপরিহার্য তাআল্লুকে পরিণত করেছেন। তার সাহিত্যকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন সত্যিকারের সৃজন কারিগর কেবল তার নিজের সময়ের কাছে নয়, বরং অনাগত ভবিষ্যতের কাছেও দায়বদ্ধ।’
আল মুজাহিদী পেয়েছিলেন দীর্ঘ হায়াত। জন্মেছিলেন ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি, টাঙ্গাইলে। সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। আবদুল হালিম জামালী তার পিতা আর মাতা সাখিনা খান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়ন ছিল তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপ্তি।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা কুড়িটিরও অধিক। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থসহ তার গ্রন্থ সংখ্যা অর্ধশতাধিক। অপ্রকাশিত আছে অনেক। আমরা তার প্রকাশিত গ্রন্থসমুহের কিছু নাম পেশ করছি :
হেমলকের পেয়ালা;
ধ্রুপদ ও টেরাকোটা;
যুদ্ধ নাস্তি;
মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা;
প্রিজন ভ্যান;
দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ;
ঈভের হ্যামলেট;
প্রাচ্য পৃথিবী;
পৃথিবীর ধুলো,
সৌর জোনাকি;
ভিতা নুওভা,অ্যাকাডেমাসের বাগান;
আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা;
সন্ধ্যার বৃষ্টি;
কালের বন্দীতে;
পাখির পৃথিবী;
আলবাট্রাস,
ভঙুর গোলাপ;
কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি;
পালকি চলে দুলকি তালে।
উপন্যাস:
প্রথম প্রেম;
চাঁদ ও চিরক’ট;
সিলুএট ও স্যোন্যাটা;
লাল বাতির হরিণ;
রূপোলি রোদ্দুর;
আলোর পাখিটা;
ছুটির ছুটি;
খোকার আকাশ;
খোকার যুদ্ধ।
ছোটগল্প:
প্রপঞ্চের পাখি;
বাতাবরণ;
ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ।
গবেষণা গ্রন্থ:
কালান্তরের যাত্রী।
শিশু সাহিত্য:
হালুম হুলুম;
তালপাতার সেপাই;
শেকল কাটে খাঁচার পাখি;
সোনার মাটি রূপোর মাটি;
ইস্টিশানে হুইসেল।
প্রবন্ধ:
সমাজ ও সমাজতত্ত্ব।
অনুবাদ:
কাইফি আজমির কবিতা;
পৃথিবীর কবিতা;
আহমদ ফরাজের কবিতা;
ঊর্দূ কবিতা;
হিন্দি কবিতা;
হাইনরীশ হাইনে-র কবিতা।
১৯৪৩ সালে যে জীবন শুরু হয়েছিল তার যাত্রা সমাপনী হয় গত ১৯ জুন ২০২৬ সালে শুক্রবারে।
৮৩ বছরের দীর্ঘ সময়ে তার সাহিত্য সফরও উল্লেখযোগ্য। কবি চলে গেছেন। তার বিশাল সৃষ্টি ভাণ্ডার রেখে গেছেন আমাদের জন্য। বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারে জমা হয়ে আছে আরেক কীর্তিমান কবি আল মুজাহিদীর সৃষ্টিসমূহ। প্রকাশিত অপ্রকাশিত রচনাসমূহ নিয়ে আল মুজাহিদী রচনাসমগ্র প্রকাশ করা এখন জাতীয় দায়িত্ব। হয় কি-না বা কতদিনে হয় এটিই দেখার বিষয়। আমরা আশাবাদী অচিরেই তা হবে। এবং হওয়া জরুরি।







