সেলিম রেজা নিউটন
বরষায়, বিপ্লবপ্রবাহে
………………………………….
সাক্ষী থাকলো এই কবিতার খাতা—
পুলিশের হেলিকপ্টার-গানশিপগুলো
ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ইতিহাস-বাজপাখি
ডানা মেলে উড়েছে এবার।
উড়ন্ত ছাত্র-জনতার
পিছে পিছে দৌড়ানো
কঠিন ব্যাপার।
জুলাইয়ের মৃত্যু-কালাপানি পার হয়ে
সমাজ-সমুদ্রে আজ শ্রাবণের
ফুলে ফুলে উঠছে নবঢেউ —
বরষায়, বিপ্লবপ্রবাহে।
শাহীনবাজের মতো বাতাস ডিঙিয়ে
ঘণ্টায় দুই শত চল্লিশ বেগে
উড্ডীন হয়েছে গণইতিহাস নিজে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
২০শে শ্রাবণ ১৪৩১, ৪ঠা আগস্ট ২০২৪
চুয়াংজু’র প্রজাপতি
………………………. ……….
তোমরা খুব বাস্তবপরায়ণ। তোমাদের ক্যালেন্ডার আছে; মতাদর্শ ও পরিকল্পনা আছে। অথচ আমি শুধু স্বপ্নেরই মধ্যে শুয়ে থাকি। ঘুমাই। জেগে উঠি। অতিথির মতো।
স্বপ্নের ভেতরে আমি সাদা পোশাকের অস্ত্রধারী পুলিশের মুখোমুখি হই, বিপ্লবপ্রবাহের চলমান ইশতেহার লিখি, এবং উদ্বিগ্ন মনে প্রস্তুতি নিতে থাকি ক্লাসে যাবো বলে।
আমাকে যখন কেউ প্ল্যানমাফিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে, হোঁচট খায় আমার স্বপ্ন-কল্পনা রোদমাখা জঙ্গলের কিনারে অবস্থানরত পুকুরের পাড়ে। ক্লাসরুমে অন্য কেউ ঘুমায় না স্বপ্নের ভেতরে।
তোমরা বরং বেড়াতে এসো। স্বপ্নের ভেতরে আমি তোমাদের হাত ধরে ঘুরতে যাবো বাস্তবের অবকাশ-বনে। কত কিছু দেখব সেখানে। জানি বহু কিছু দেখা বাকি আছে। দেখব প্রজাপতির মসলিনে আঁকানো ডানায় চুয়াংজুর নীল চোখে আমার স্বপ্ন জেগে আছে।
রাবি: ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৪
বিজয়া দশমী ২০২৪
………………………………….
কেউ দেখে বাতি, আর কেউ দেখে ঘোরতর রাত।
বাতিগুলো অবশ্য হাসিনার আব্বার টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল। রাস্তাগুলো উনার ব্যক্তিগত বেতনের টাকা থেকে বানানো। মোবাইল ফোনও সারা দেশের মানুষকে কিনে দিয়েছিলেন উনি স্বয়ং। রিকশা জিনিসটা অবশ্য দুঃখজনকভাবে আগে থেকেই ছিল।
আসুরিক বিভ্রান্তির মন্তাজ থেকে বের হওয়া সহজ নয়— বিশেষত ক্রান্তিকালে। সবকিছুতেই তার বহুরূপ ভাসে। অনেকে তবু রাতকে বাতি থেকে এবং আলো’কে ইতিহাস থেকে আলাদা করে দেখতে পায়। আর প্রতিমাকে প্রহসন থেকে পৃথক করতে করতে রাত হয়ে যায়— ঘনতর রাত নেমে আসে।
রাবি: ২৭শে আশ্বিন ১৪৩১, ১২ই অক্টোবর ২০২৪
জুলাইগীতিকা
……………………..
জুলাই দীর্ঘ— যারা ঘরে ফিরল না
তাদের স্মৃতির গায়েবানা-গুলবাগে
এঁকেছে ঈদের আকাশ নতুন
চাঁদনির অনুরাগ।
সুদীর্ঘ ছিল পথ,
শত রাত, শত দিন;
গোটা দেশ ভয়ে হিম হয়ে ছিল
শ্বাস-প্রশ্বাসহীন—
কত রাত, কত দিন।
হাওয়া গুম হয়ে মরেছে হাওয়ায়,
জান ও জবান পুড়েছে খরায়
জলবর্ষণহীন—
কত রাত, কত দিন।
নামে শ্রাবণ শ্রাবণ জল—
নদী চঞ্চল;
জাগে প্লাবন প্লাবন ঢেউ—
ভাসে অঞ্চল।
জাগে শুকসারি পাখি—
মুখে মুখে গান;
ভয়ে রানী-রাক্ষসী—
প্রাণ আনচান!
বলে, কে জাগে?
আমি লালকমল!
আর, তার আগে?
জাগে নীল কমল!
বলে, কে জাগে?
আমি ইলাবতী!
বলে, তার আগে?
আমি লীলাবতী!
ছিল উতল গীতল নদী—
স্রোত ঝমঝম;
যেন শিশুর পায়ের টোকা—
জাগে জমজম।
জাগে শুকসারি পাখি—
নির্ভয়-গান;
ভয়ে রানী-রাক্ষসী—
জান আনচান!
বলে, হাতে কী?
এটা সোনার কাঠি।
আর, ঐ হাতে?
ওটা রূপার কাঠি।
বলে, হাতে কী?
এটা জিয়নকাঠি।
আর, ঐ হাতে?
ওটা মরণকাঠি।
জাগে নদীতে মহাতুফান—
বরষার গান;
এলো প্রাসাদ-বিনাশী বান—
রানি খানখান।
জুলাই বললে লাল হয়ে যায় স্মৃতি—
গণবিদ্রোহ, প্রত্যেক দিন লাশ।
‘মুক্তি-অথবা-মৃত্যু’র প্রস্তুতি—
জুলাই দীর্ঘ, ৩৬ দিনে মাস।।
জুলাই দীর্ঘ— যারা ঘরে ফিরল না
তাদের স্মৃতির গায়েবানা-গুলবাগে
এঁকেছে ঈদের আকাশ নতুন
চাঁদনির অনুরাগ।
জুলাই দীর্ঘ, এখনও জুলাই জাগে—
এখনও অনেক শরীরে গুলির দাগ।
মার্চ–জুন ২০২৫
রোজা ঈদ থেকে কোরবানি ঈদ







