প্রচ্ছদকবিতাজুলাইয়ের কবিতা

লিখেছেন : এইচ বি রিতা

জুলাইয়ের কবিতা

এইচ বি রিতা

১.

নিঃশব্দের বন্দী

স্বৈরশাসকের দৃষ্টিতে আঁকা ভয়ানক রেখা,
তোমাদের চোখে পড়ে না, নিঃশব্দে সহ্য করো
তারা আসে, শিকল বাঁধে, আমাদের ঘাড়ে রাখে
ক্ষমতার ভারী বোঝা, তোমরা তবু চুপ।
মুখে মুখোশ পরে আছো, মুখ খুলোনি,
ভয় তোমাদের কণ্ঠরোধ করেছে
যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলে, সেখানেই জমে গেলে,
স্বপ্নের ডানাগুলো ছিঁড়ে ফেলেছো নিজের হাতে।
শিকল বাঁধা পায়ে তোমাদের গন্তব্য হারিয়ে গেছে,
মুক্তির পথ এখন কল্পনা
তোমাদের শব্দরা আজ নির্বাক,
লড়াইয়ের আগুন নিভে গেছে চিরতরে।

আবু সাঈদ

আহ! আবু সাঈদ!
লিখে গেলে নাম ইতিহাসের পাতায়
দুই হাত প্রসারিত, বুক চিতিয়ে
পুলিশের রাবার বুলেট
লাঠি হাতে একা
ন্যায়ের দাবির আলোক শিখায়
নিরস্ত্র এক যোদ্ধা-অদম্য সাহসিকতার গাঁথা
দাঁড়িয়ে একা নিবিড় সময়ে।
কোটা সংস্কার-চলমান যুদ্ধ
আলো আঁধারের মাঝে, হুঙ্কার ছুঁড়ে
তুমিই সেই যোদ্ধা
উঠে দাঁড়ালে দ্বিতীয়বার
কার সাধ্য কেড়ে নেয় প্রজন্মের অধিকার
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে, আন্দোলনের মোড়ে,
আবু সাঈদ দাঁড়িয়ে একা, প্রতিবাদের ঝড়ে।
তাদের চোখে ভয়, তোমার চোখে ক্রোধ
আন্দোলনের কণ্ঠ-রাবার বুলেটে আছড়ে পড়ে
বিচারক নির্বোধ
তুমি সটান, উঠে দাঁড়াও
এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে ন্যায়
নুপুংশক আঁতকে উঠে
ঠাহ ঠাহ ঠাহ -শক্তির ব্যয়
রক্তে রঞ্জিত প্রতিবাদ-হায়
কেন হলো বলি?
প্রশ্ন থেকে যায় লাল সবুজের পতাকায়।
আবু সাঈদ কী কেঁদেছিল?
শুনতে পাইনি সে রোদন
লড়াইয়ের সুর ক্ষণে ক্ষণে বাজে কানে
আলো আঁধারের কাব্যে-এই তবে
জীবনের মানে
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে,
রাবার বুলেটের বৃষ্টি
আত্মত্যাগে, আবু সাঈদ অবিচল
বুকে নিল যন্ত্রণার ঝাপটা-
শিক্ষার্থীদের চোখ-জলে টলোমল
জানতে তুমি, অন্ধের দেশ ক্যাটারাক চোখে
জেদ-ধরে রাখে ক্ষমতার পাতলুনে
ভাঙ্গবে শিকল, ক্ষমতা বিছানো ফাঁদ
জ্বলে উঠার অপেক্ষায়-তোমার রেখে যাওয়া
নীরব অভিসম্পাদ।
আহ! আবু সাঈদ
লিখে গেলে নাম ইতিহাসের পাতায়।

হৃদয়: একটি সকাল হারায়

তোমার নামে আগুন ছিল, হৃদয়।
সে আগুনে তোমার নিজের পথ পুড়ে গিয়েছিল
স্বপ্নেরা হাঁটছিল পটুয়াখালির মাঠ পেরিয়ে
চট্টগ্রামের একটি চত্বরে গিয়ে
আলো ধরিয়েছিলো।

সে আলো ছিল হয়তো খুব বেশি তীব্র!
সময়ের চোখ সয়ে নিতে পারেনি।
হাসপাতালের করিডোরে
একটি ছেলেমানুষের কণ্ঠ
জীবনের জন্য ডাকছিল,
কিন্তু দেয়ালগুলো এত পুরনো,
কেউ শোনেনি।

তোমার শরীরে গুলি ছিল
আর রাষ্ট্রের চোখে শুধু
একটি ‘চিহ্ন’।
তুমি আন্দোলন করেছিলে বলে,
তোমার ব্যথা প্রমাণহীন হয়ে গিয়েছিল।

ডিজিটাল দেশ বন্ধ করে দিয়েছিল
তোমার টাকাপয়সার পথ,
আর চিকিৎসার দরজা,
আর মানুষ- মানুষ হয়ে রইল দর্শক।

তুমি পাঁচদিন লড়েছিলে চোখে আলো রেখে।
তারপর এক ভোরে
তোমার দেহ নিথর হল
আর বাতাসে
একটি অনুচ্চারিত প্রশ্ন রইল ঝুলে।

গণতন্ত্র! তা কি কেবল কাগজে লেখা কিছু শব্দ?
মানবতা! তা কি কেবল আলো ঝলমলে মিছিল?

পৃথিবীর অন্য শহরে রক্ত পড়লে
জেগে ওঠে সভ্যতা।
আমাদের এখানে রক্ত
খালি রাস্তার পেছনে ছায়া ফেলে যায়।

তোমার নাম ‘হৃদয়’ ছিল,
এখন তা ইতিহাসের পাদটীকা।
আমরা কেবল তাকাই দূর আকাশে,
আর ভুলে যাই; রক্ত একদিন মাটি হয়ে ওঠে।

তারা তোমাদের ছাড়বে না

তাক লাগিয়ে নিশানা করছে শূয়োরের দল
মাতৃভূমি দ্বিখণ্ডিত, মা-মাটি বিচলিত
বিভীষিকায় কুঁচকে যাচ্ছে দিন রাত
হিটলার-মুসোলিনি মরেনি,
জানান দেয় স্বৈরতন্ত্র
অপরাধের বিষময় হাত, সবকিছু করেছে অন্ধ
বুলেটের নিশানা, বুক বরাবর ঠিকানা
স্বাধীনতার স্বপ্ন ক্ষয়িষ্ণু ছায়ায় ধূসর
কে মরে-কে গুম হয়
রয়ে যায় ‌অজানা
ক্ষুব্ধ হৃদয়ে যন্ত্রণার ছাপ, কষ্টের নকশা আঁকা
মায়ের কোল খালি, রক্তে ভেজা বালি
বিধ্বস্ত জাতির চোখে প্রতিহিংসার প্রতিচ্ছবি
উষ্টা মেরে ফেলো তবে
পক্ষপাতের তরতালি
অন্যায়ের প্রথায় আজকের চলমান শাসন
প্রতিশোধের আগুন, বিস্ফোড়নে দ্বিগুণ
ছড়িয়ে পড়েছে বিষ ভেতর ছেড়ে পথেঘাটে
ধ্বংসের পথে নীতিগুণ
জ্বলছে, জ্বলছে আগুন
কোথায় আশার আলো, কোথায় মানবতার দিশা
অন্ধচোখ জাগছে না, রক্তপার দেখছে না
ঘুমিয়ে পড়েছে বোদ্ধা-বুদ্ধিজীবী,জাতির বিবেক
ভুলবে না, ভুলবে না
তারা তোমাদের ছাড়বে না

কে বাঁচাবে তাদের?

রক্তের রেখা এঁকে ফেলা একটি সকাল
ঢুকে পড়ে ইতিহাসে।
আলোর পথ এখন সিল করা,
অন্ধ কাচে ঠেকে যায় যূথবদ্ধ চোখ,
স্বপ্ন? তারা ম্লান বিজ্ঞাপনের মতো
নিচু হয়ে বসে থাকে শহরের পোস্টারে।

একটি মা চোখে তুলে দেয় ধূলি,
একজন পিতা হয়ে ওঠে
শূন্য পাঁজরের অনুরণন।
তাদের ছেলেরা দাঁড়ায় না আর গানের কণ্ঠে,
তারা এখন শুধু ফাইলের নিচে চাপা পড়ে-
নাম, বয়স, ঠিকানা, এবং “ঘটনা বিবরণ।”

কে বলবে: মানুষ এখন শুধু সংখ্যা নয়?
কে আনবে সে শব্দ,
যা ফাটিয়ে দেবে বুলেটের ঘূর্ণি?
কোন কণ্ঠ গাইবে-
এ জীর্ণ ব্যাকরণে যার নেই আশ্রয়?

অথচ, রক্ত এখনও গরম,
গন্ধ এখনও কাঁপে হাসপাতালের সিঁড়িতে,
পুঁজের মতো চুঁইয়ে পড়ে রাষ্ট্রীয় বিবৃতি,
অথচ বিচার নেই।

আকাশ, তুমি কি শুনতে পাও
সেই ঠা ঠা ঠা-
যা ভেঙে দেয় বর্ণনামূলক মানবতা?
রাস্তাগুলো এখন স্থির,
মিছিলগুলো ইতিহাসের নিচু স্তরে।

চোখ খুলে দেখো: মানুষগুলো তাদেরই প্রতিচ্ছবি
যারা প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে সংবাদের ফাঁকে।
কে দেবে তাদের আলোর প্রতিশ্রুতি?
কে বাঁচাবে তাদের:
যেখানে আশ্রয় মানেই ক্ষমতার ছায়া?

আমরা কি ভুলে গেছি
আলো কেবল সূর্যের একচ্ছত্র অধিকার নয়?
মানুষও আলো এক;
যদি তার কণ্ঠ খুঁজে পায় প্রতিধ্বনি।

ফয়সাল আহামেদ শান্ত

সন্ধ্যার আলো গলে যায় চট্টগ্রামের গলিতে!
আমি হাঁটছি
মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেটের দিকে,
মনে হচ্ছিল
তুই বুঝি ওই ব্রিজের কিনারায় দাঁড়িয়ে
চোখে রেখেছিস কোনো অসমাপ্ত ডাক।

শব্দ এলো-ঠা ঠা
একটি ইট
ছুঁড়ে উঠল হাত থেকে
তারপর থেমে গেল অনেক কিছু,
হয়তো হৃদয়,
হয়তো স্বাধীনতার এক অলিখিত উচ্চারণ।

তখনও তোকে খুঁজি
ভয় আর ধুলোমাখা মুখে
ভিড় ঠেলে, শব্দ ঠেলে,
চোখে তুলে ধরি তোর মুখ
জানার চেষ্টা-এই কি সেই?

হ্যাঁ, বলল কেউ!
“ফয়সাল আহামেদ শান্ত, অবস্থাটা ভালো না।”

একটি নাম,
একটি সময়,
একটি শোক
যে নিজেই উঠে আসে পতাকার লাল থেকে।

তুই ছিলি না শুধু বন্ধু,
ছিলি না শুধু একজন মিছিলের পথিক,
তুই হয়ে উঠলি একটা প্রতিশ্রুতি-
জীবনের চেয়েও বড়।

এ শহরের কোনো দেয়ালে তো আর লেখা হয় না
“দেশপ্রেম”,
তুই সেই দেয়াল নিজেই,
যার গায়ে ফুটে আছে সাহসের ইটের চিহ্ন।

সাজ্জাদ পড়ে গেল‍!
তুই এগিয়ে গেলি।

রক্তে রক্তে রচিত হল যে পদ্য,
তার নাম কেউ রাখল -“শান্ত”।

তোর শরীরের ওপর ঝুঁকে পড়ে সময়
কখনো দেখে বিদ্রোহ,
কখনো অনন্ত দয়া
তোর মধ্যে ইতিহাস থেমে আছে
অথচ বয়ে চলেছে নীরবে।

ফয়সাল আহামেদ শান্ত,
তুই তো শুধু নাম নয়
তুই এক গোপন গান,
যা শোনা যায়; শুধু খুব গভীর নৈঃশব্দ্যে।

সুহার্তো-কেন চলে গেলি

নভেম্বরের প্রথম আলোর নিচে
জন্মেছিল যে মুখ-তার নাম ছিল সুহার্তো।
মমতাজ মায়ের আঁচলে বাঁধা শ্বাস,
আজ থেমে আছে
একটানা নিঃশব্দ চিৎকারে।

আমার খালামনি আজ কাঁদছে
কাঁদে না শুধু ছেলে হারিয়ে,
হারিয়ে ফেলা নিজেরও একটি অংশে,
যা আর ফিরবে না কখনো।

এইচএসসির বেঞ্চ থেকে
রাস্তায় নেমে পড়েছিল সুহার্তো!
কারো বিরুদ্ধে নয়, কোনো শত্রু নয়,
শুধু একটুকরো ন্যায়ের পক্ষে
উঠেছিল হাতে ব্যানার, চোখে আগুন-
চে গুয়েভারার মতো নয়,
নিজের মতো-নির্মল, ক্ষত-বিদ্ধ এক প্রতিবাদ।

তার বুকে বিঁধে ছিল না শুধু বুলেট,
ছিল অবহেলা, ছিল রাষ্ট্রের নির্বাক মুখ,
আর ছিল কিছু স্বপ্ন-
যা নিভে যায় হঠাৎ বাতাসে।

আমি আজ আর শুনি না সেই কণ্ঠস্বর
‘রাখি আপু, নেটফ্লিক্স দাও’
কোনো অভিযোগ নেই আর
কোনো দুষ্টুমি নেই-শুধু নির্জন এক দুপুরে
মনে পড়ে যায়
ব্রাজিল নিয়ে মজা করাটা,
অপুর্বর নামে করা বিচারগুলো।

তুই চলে গেছিস, আর ফিরে আসবি না!
এই সত্যটা যেন প্রতিদিন
একটি শীতল ছুরি হয়ে বসে বুকের উপর।

আমার ত্রিরত্ন: পরশ, সুহার্তো, অপুর্ব
আজ দুটি মুখ রয়ে গেল,
একটি হারিয়ে গেছে-অতল গহ্বরে।

কে দায়ী?
প্রশ্নটা জ্বলে ওঠে, নিভে যায়
চিৎকার করে বলি “বিচার চাই”,
তারপর থেমে যাই,
ঈশ্বরের দরজায় মুখ লুকিয়ে ফেলি
এই অসহায়তারও কি কোনো ভাষা আছে?

সব কথার শেষে থেকে যায় শুধু এই প্রশ্ন-

সুহার্তো, কেন চলে গেলি?

রক্তের বার্ষিকী

বছর ঘুরে এলো-তবু দেয়াল ছুঁয়ে
রক্তের গন্ধ পাই, দুপুরে হঠাৎ
ক্লান্ত ট্রামে, যেইখানে ছাত্র ছড়িয়েছিল বুক,
পিচঢালা পথ জানে সে ইতিহাস।
মিছিলের ছায়া এখনো বেঁচে আছে
অ্যাকাডেমির গম্বুজে, পলাশের নিচে,
আর হেলমেট পরা এক নিঃশব্দ ব্যর্থতা
ঘুরে বেড়ায় মেমোরি কার্ডে, রিলসে, পোস্টে।

কোনো শাসন ভুলে যায় না
কাদের রক্তে গাঁথা হয়েছিল তার টেবিল।
আড়াল করে রাখলে চোখ, গন্ধ থোমে না
শহর জানে, পিতা হারানো মা জানে।

আজ যারা ব্যস্ত গানের রিল বানাতে,
তারা কি জানে একদিন যাদের জন্য গান,
তারা রক্ত দিয়ে বানিয়েছিলো পথ?

আমি দাঁড়াই সেই দেয়ালে, টিএসসির কোণে-
তাজা গন্ধে কাঁপে হৃদয়:
কারা যেন এখনো বলে, “আমরা এসেছিলাম…”

রক্তের গন্ধ এখনো

গন্ধ পাই এখনো রক্তের
কোথায় যেন পুষ্পবৃষ্টির বদলে
অর্কিড ছিঁড়ে পড়ছে ধূলিতে,
আকাশের অলিন্দ থেকে শূন্যে ঝুলে থাকা
একটি রাষ্ট্রীয় নিস্পন্দ ঘোষণা।
রক্ত মানে কেবল লোহিতবর্ণ নয়
এ এক অবিনাশী তাপমাত্রা,
মৃতদের চোখে টিকে থাকা জিজ্ঞাসার রেখা
যেখানে প্রতিটি ট্রাফিক লাইটের অন্ধত্বে
আত্মা খুঁড়ে খুঁড়ে জেগে ওঠে।
তখন গাছেরা শব্দহীন হয়ে দাঁড়ায়,
পত্রপল্লব মুছে নেয় বারুদের নামতা,
আর পাখিরা পাখা ঝাড়ে –
ক্রন্দন নয়, এক প্রাকৃত ছলনায়।
তবু যারা দেখে না,
তাদের জন্য দিনটি
এক ক্যালেন্ডার ছেঁড়া পৃষ্ঠা মাত্র
কিন্তু আমার শিরা-উপশিরায়
তাদের অনুবর্তী ধ্বনি –
মুখোশহীন, মাংসহীন এক দীর্ঘ আর্তনাদ।
আমি প্রতিদিন হেঁটে যাই
দূরত্বরেখার সেই শহরের পথে
সেখানে পদচিহ্নের বদলে রক্তচিহ্ন
এই চিহ্ন বৃষ্টি মুছে দিতে পারে না
কারণ সে লাল নয়,
তার নাম -অস্বীকৃত সত্য।
আমার ভাষার নিচে জমে আছে
দগ্ধ সংবাদপত্রের ছাই,
এবং কিছু উচ্চারণ
যাদের একমাত্র গন্তব্য,
চেতনার অনাহূত প্রান্তর।
তাই গন্ধ পাই এখনো
২৪ জুলাইয়ের রক্ত
এ তো ইতিহাস নয়,
সময়ের একটি অব্যক্ত বাক্যবিভাগ।

১০

কাকে রাজাকার বলো

তোমরা কাকে রাজাকার বলো,
যে কেঁদেছে রক্তস্রোতে ভেসে যাওয়া প্রজন্মের জন্য?
যে দেখেছে খোলা মাঠে ঝরে পড়া তারুণ্যের স্বপ্ন?
তোমরা কি তাকে রাজাকার বলো,
যে একবার প্রশ্ন তুলেছিল-কেন মাটির গন্ধে
রক্তের দাগ লেগে থাকে?
তোমরা কাকে রাজাকার বলো,
যে কেঁদেছে অসহায় মাতার আঁচলে মিশে থাকা
একগুচ্ছ মৃত স্বপ্ন দেখে?
তোমরা কাকে রাজাকার বলো
যে জিজ্ঞেস করেছে নির্বাক পিতার কাঁধে কেন
রক্তের ছাপ লেগে আছে?
তোমরা কি তাকে রাজাকার বলো,
যে শুনেছে গুলি আর রক্তের মাঝেও
এক শিশুর কান্না?
তোমরা কাকে রাজাকার বলো
যে থমকে গিয়েছিল প্রার্থনার সুরে,
যেখানে বারুদের গন্ধ ভেসে এসেছিল বাতাসে?
যে বলেছিল,
‘তোমাদের চেতনার ঘর কি এতটাই অন্ধকার
যে আলোও সেখানে কাঁদে?’
তোমরা কি তাকে রাজাকার বলো
যার গলায় আটকে গিয়েছিল ভাতের দানা
এবং ভেবেছিল,
গাড়ি থেকে টেনে ছুঁড়ে ফেলা ছেলেটার শ্বাস
তখনো সচল ছিল?
তোমরা কি তাকে রাজাকার বলো
যে ভাঙা পেন্সিল হাতে লিখেছিল,
‘মানুষ শুধু মানুষ হয়ে বাঁচুক’?
তোমরা কাকে রাজাকার বলো
যে সত্যের জন্য গলা ফাটায়, মৃতের নাম জানার
দাবিতে মিছিলের আগুন জ্বালায়?
তোমরা বলো, লাল জুলাইয়ে যে কাঁদে-
সে রাজাকার, যে ভালোবাসে সে শত্রু।
জানো কি, নাম বদলে গেলেও
মাটি বদলায় না
নদীর স্রোতও থেমে যায় না?
শুনে রাখো, তোমাদের ‘রাজাকার’ নামে
লুকানো অভিযোগের ভারে,
আমরা আছি-ছিলাম অরণ্যের শিকড়ের মতো,
গভীরে আঁকড়ে ধরে রেখেছি
সবুজের প্রতিশ্রুতি।
আমরা থাকব, ঝড়ের দোলায়
ভাঙা প্রতিরোধের মুখে দাঁড়িয়ে।

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা