আবু তাহের তারেক
হজরত জহির হাসান যখন সমুদ্রের কবিতার সিরিজ লেখতেছিলেন, তখন এর কয়েকটা পড়ার পরে, অন্যগুলা আর পড়তে ভাল লাগে নাই। এইবার যখন সবগুলা কবিতা একলগে পড়লাম, বেশ মজা পাইলাম।
কবি বা সাহিত্যিকদের মইদ্যে মাঝে মাঝে অদ্ভুত বিষন্নতা ভর করে। এইরকম একটা ঘোরের মইদ্যে ছিলাম, এই বই পড়ার আগে। গতরাইত জসীম উদ্দিন, আল মাহমুদ, ফরহাদ মজহারদের বই লইয়া গেছিলাম বেডে। ঘুম আসতেছিল না তাই। আর, কারো কবিতাই আমারে কান্দাইতে পারতেছিল না। (বলা বাহুল্য, জীদাও আমারে কান্দাইতে পারেন না। তাই উনার কবিতা তখন বেডে নেই নাই)। খিয়াল করলাম, আল মাহমুদ পড়লে দিল কিছুটা নরম হয়। কিন্তুক মনে বৃষ্টি বাদল হয় না!
তো, জহির হাসানে বেপারটা বেশ হয়। উনার কবিতার মেটাফিজিকাল আসপেক্টে অনেকেই বিরক্ত হন যদিও। রিয়ালিটি-বিচ্ছিন্ন ভাবেন এসবরে। জহির অবশ্য, আমরারে আরেকটা রিয়ালিটির লগেই যুক্ত করেন! ফলে, তিনি রিয়ালিটি হইতে বিচ্ছিন্ন- এই কথাখান খাটে না। তবে এইটা ঠিক, ‘আম্মার হাঁসগুলি’র পরে তান বেপারে পাঠকের একটা এক্সপেক্টেশন ছিল। গ্রামের সমাজরে কবিতায় তুইলা আনার বেপারে।
কিন্তুক, কবি তো আসলে নিজের খিয়ালেই লেখেন। ‘সমুদ্রের কবিতা’ও এইরকম খেয়ালি লেখা। পড়তে পড়তে অঝোর ধারায় পানি পড়ল, গাল বাইয়া। কবিতার বেশকিছু লাইন দিয়া স্ট্যাটাস লেখতেও ইচ্ছা হইল!
বরাবরের মতন, জহির হাসানের এই বইও হয়ত আরো অনেকবার পড়ব। তারপরে বপ্লা যাবে কয়টা কবিতা এইখানে মনে ধরার মতন পাওয়া গেল!
কিন্তুক, এইটা তো সইত্য, এই বইয়ের কল্যাণে দরিয়া নিয়া অনেকগুলা পার্সপেক্টিভ-যুক্ত কবিতা পড়া গেল! আমাদের কপাল মন্দ, তাই দরিয়ার পাশে যাদের জীবন, তারা এরে বড় সেটিংয়ে আমাদের কাব্যে নিয়া আসেন নাই, অন্তত, সাম্প্রতিক সময়ে। জহির হাসানের কবিতা আপাতত সেই অভাবরে পূরণ করবে! কিন্তুক, যে যতই লেখুক ফিউচারে, জহিরের ফিলসফি আর তান লেখার ভংগিমা ত আর কেউ চুরি করতে পারবে না!
জহিরের অধুনা প্রকাশিত এই বই যেকুনু সেন্সেই তান রচনাবলীর প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে, বরাবরের মতই, এইটা আমাদের সময়কার প্রতিনিধিত্বকারী একখানা কবিতার কিতাব। জহিরের সুর আর স্বররে উপেক্ষা করার মানে, আমাদের কবিতার নয়া ভয়েসরে মিস করাও!
আমরা এই বইয়ের বহুল প্রচার ও প্রসার কামনা করি!







