প্রচ্ছদগল্পউপন্যাসএকজন নৃশংস দুষ্কৃতকারী

ধারাবাহিক উপন্যাস : নেয়ামত ইমাম

একজন নৃশংস দুষ্কৃতকারী

নেয়ামত ইমাম 

প্রথম খণ্ড 

৭.

নতুন বাজারের নিরুপমা ফার্মেসীর সামনে থেকে আমরা একটি সিএনজি নেই। যদিও আরামবাগে যাবার জন্য তাকে ভাড়া করি, সিএনজির চালক আমাদেরকে জানিয়ে দেয় সে হয়তো আমাদেরকে পাটোয়ারীর বাড়ির ঠিকানায় নিয়ে যেতে পারবে না। শাপলা চত্বরে জনসমাবেশের আয়োজন করার কারণে সেদিকে যাবার প্রতিটি রাস্তাই আজ বন্ধ, সেগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে অসংখ্য পুলিশ। চালক মাত্র সেদিক থেকে এসেছে, সুতরাং তার কথাই সঠিক হবে বলে আমাদের পরিকল্পনা থাকে মাওলানা ভাসানী রোডে না গিয়ে পান্থপথ ধরে চলা, তারপর মগবাজারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে ভিআইপি রোডে পড়া। সেখান থেকে আরামবাগ হবে মাত্র পায়ে হাঁটা পথ। একটু হাঁটতে অসুবিধা হবে কি না জিজ্ঞেস করলে সামিয়ানা দৃঢ়তার সঙ্গে জানায় রাস্তায় হেঁটে তার অভ্যাস আছে, তাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। সিএনজির চালক তাকে অভয় দিতে এগিয়ে আসে। সে বলে ডিআইটি রোড পার হবার পর আরামবাগে যাবার অনেক অলিগলি তার জানা, প্রধান রাস্তা বন্ধ থাকলেও সে আমাদেরকে পাটোয়ারী সাহেবের বাড়ির যতটা কাছে সম্ভব পৌঁছে দিতে পারবে।

কল্যাণপুর বাজারের কাছে আমাদের বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। জানা যায় নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তার এক দিকটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সে জন্য মাত্র একটি লেনে রিক্সা বা সিএনজি বা গাড়ি যাতায়াত করতে পারে। তার ওপর থাকে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো খালি রিক্সাগুলো। ছুটির দিন হওয়ায় আজ পথেঘাটে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। খালি রিক্সাগুলো তাই নড়তে চায় না। কোনো কোনো চালক আবার রিক্সার সিটে বসে চোখ বন্ধ করে জিরিয়ে নিচ্ছে। গামছার কোণ খুলে কেউ মুখে দিচ্ছে পান। যাই হোক, সিএনজি ড্রাইভার বিরক্ত হবার আগেই আমরা মিরপুর রোডে উঠে যেতে পারি এবং তারপর বাম দিকে মোড় নিয়ে চলতে পারি শ্যামলীর দিকে। 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও কাশবন নার্সারী পেছনে ফেলে আমরা বেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারি এরপর। চালক অভিজ্ঞ হওয়ায় রাস্তার ছোটখাটো গর্ত বা ধীরে চলা মালবাহী ভ্যানগুলো কোনো বাধা হয় না। কখনো দেখি সে বেশ আনন্দের সঙ্গেই পেছনে ফেলে যাচ্ছে অন্যান্য সিএনজিকেও। তবে মানিক মিয়া এভিনিউর মোড় পার হবার পর আরো কিছু চললে আমাদের সামনে যানজটের কিছু আলামত দেখা যায়। শুক্রাবাদে এসে আমাদের চলতে হয় হাঁটার গতিতে। চালক আশা দিয়ে বলে পান্থপথ আর বেশি দূরে নয়, এই জট আমাদেরকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারবে না। এক পর্যায়ে আমাদের যাত্রা স্থবির হয়ে আসলে আমি লাফ দিয়ে সিএনজি থেকে নেমে অন্য অনেকের মতো অপ্রশস্ত হলুদ সড়ক-বিভাজকের ওপর দাঁড়িয়ে সামনের দিকে তাকাই। শদুয়েক মানুষের একটি মিছিল, সঙ্গে বিভিন্ন ব্যানার আমার নজরে আসে। তাদের শ্লোগানের স্পষ্ট শব্দ আমার কানে আসে না, কিন্তু দেখি তারা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে, যার অর্থ হচ্ছে কিছুটা দেরিতে হলেও আমরা একসময় পান্থপথে ঠিকই পৌঁছে যাবো। আমাকে সিএনজিতে ফিরে যেতে ইশারা করে চালক। মুহূর্তের মধ্যে আমি বুঝতে পারি আমাদেরকে জায়গামতো দ্রুত পৌঁছে দেবার দায়িত্বটি সে কঠিনভাবেই নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। সে ক্রমাগত হর্ণ বাজায়, রিক্সাওয়ালাদের মধ্যকার সামান্য জায়গায় ঢোকার চেষ্টা করে, তাকে এগোবার সুযোগ না দেওয়ায় কারো প্রতি আক্রমণাত্মক বা অশ্লীল শব্দ ছুঁড়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। যে কোনো মুহূর্তে সে লেইনের শাদা দাগ অতিক্রম করে চলে যায় ফুটপাত বা বিভাজকের খুব কাছাকাছি। তাতে খুব একটা লাভ না হলেও এমনটি সে করতে থাকে আমরা পান্থপথে না পড়া পর্যন্ত। তারপর সিএনজি পূর্ণ গতি পায়, আনন্দে চালক চিৎকার করে ওঠে। তবে চারশ মিটার পরেই আমাদের সামনে থাকে বিশাল ও খুব ঘন জট। মিরপুর রোড থেকে প্রায় সব যানবাহন পান্থপথে আসায় এখন এদিক দিয়ে এগোনো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আধঘন্টা সময় ব্যয় করে আমরা আধ কিলোমিটারের বেশি এগোতে পারি না। কাওরান বাজারের মোড়ে এসে আমরা আরেকটি মিছিলের খপ্পরে পড়ি, তারপর আরেকটি মিছিল, মগবাজার রোড ও নিউ ইস্কাটন রোডের ক্রসিংয়ে। মগবাজার রোড ধরে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয় না বিধায় চালক কায়দা করে বেইলি রোড এবং তারপর শান্তিনগর রোড ধরে ডিআইটি এভিনিউতে পড়ে। তবে ভিআইপি রোড পর্যন্ত আসার পর আমাদের আর সামনে অগ্রসর হবার উপায় থাকে না। সেখানে পুলিশ তিন স্তর বিশিষ্ট লোহার শক্ত ব্যারিকেড তুলেছে, সব ট্রাফিক ঘুরিয়ে দিচ্ছে কাকরাইল মসজিদের দিকে। এমনকি রিক্সাও ঢোকার উপায় নেই।

সিএনজি চালককে ভাড়া পরিশোধ করে সামিয়ানা এবং আমি নেমে পড়ি। আমাদের চারপাশে থাকে প্রচুর মানুষ, যাদেরকে একইভাবে এখানে এসে যাত্রা ভঙ্গ করতে হয়েছে। কিছু মানুষ রিক্সা থেকে নেমে তাদের বোঝাগুলো টেনে নিচ্ছে অ্যাশফল্টের ওপর দিয়ে। কেউ চারদিকে তাকাচ্ছে সাহায্যের খোঁজে। একই সঙ্গে সেখানে সরব আগমন ঘটেছে ঝালমুড়ি ও চানাচুর বিক্রেতার, জনসমাবেশকে যারা একটি বিরাট সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করে কয়েকটি টাকা উপার্জন করবার চেষ্টা করছে। অসুস্থ বা বুড়ো মানুষকেও এখানে গাড়ি ছেড়ে নেমে যেতে হয়, যেমন নেমে যেতে হয় নববধূকে। নিরাপত্তা মানে নিরাপত্তা। ব্যারিকেড ভেঙ্গে কোনো যানবাহনকে ভেতরে যেতে দেওয়া হবে না। 

সন্ধ্যা নেমে এসেছে তখন। আশেপাশের বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে সাঁটা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডের আলো এসে রাস্তায় পড়ছে। ব্যরিকেডের কারণে রাস্তা দিয়ে চলা যায় না বিধায় ফুটপাতে মানুষের প্রচন্ড ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার সময় যাতে সে হারিয়ে না যায় সেজন্য আমি সামিয়ানার একটি হাত আমার হাতে রাখি। সে আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে বলে কিছু মনে করে না। আমরা প্রায় দুইশ মিটার সামনে গিয়ে ফকিরাপুল বাজারের মধ্য দিয়ে আবদুস সালাম রোডে প্রবেশ করি, সেখান থেকে লাকি বোর্ডিং-এর সামনে দিয়ে হেঁটে কমিশনার লেইন অতিক্রম করে চলে যাই আরামবাগের দিকে। আমাদের মতো অনেকেই এই পথটি বেছে নেয়, কারণ এই পথ ধরে শুধু আরামবাগে কেন, যাওয়া যায় গাজী দস্তগীর সড়কে এবং সবশেষে মতিঝিল রোডে, যেখানে হচ্ছে জনসমাবেশ। পথটিতে কিছুক্ষণ পর পর রয়েছে বিদ্যুতের খাম, যেগুলোতে রয়েছে উঁচু ক্ষমতাসম্পন্ন বাতি, যে কারণে অচেনা হলেও আমরা পথ চলতে পারি নির্বিঘ্নে। তা ছাড়া পাশের বাড়িঘরগুলো থেকে আলো ঠিকরে পড়ে আমাদের যাত্রা আরো সহজ করে দেয়। সেজন্য এদিক দিয়ে যদিও আমি আগে কখনো আসিনি, পাটোয়ারী সাহেবের বাড়িটি খুঁজে পেতে আমাকে বেশি বেগ পেতে হয় না।

বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আমার সন্দেহ হয় আজ এখানে কোনো জানাজার নামাজের আয়োজন করা হয়েছে। কাউকে কোথাও দেখা যায় না বা কারো কথা শোনা যায় না। এমনটি কি হতে পারে যে আমাদের নৌবিহারটিকে যেমন, একজন মৃতকে বিদায় জানানোর সর্বশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানটিকেও প্রভাবিত করে ফেলেছে এই জনসমাবেশ? আমি সামিয়ানাকে জিজ্ঞেস করি, “আমার সঙ্গে বাসার ভেতরে যেতে আপনার অসুবিধা নেই তো?” “কোনো অসুবিধা নেই,” সে বলে। “এমন একটা দিনে এতটা দূরে যখন আসতে পেরেছি, বাসার ভেতরেও যেতে পারবো।” “অনেকেই মৃত্যুর কথা শুনলে ভয় পায়,” আমি বলি, “সেজন্যই জিজ্ঞেস করছিলাম। আত্মীয় না হলেও আমি পাটোয়ারী সাহেবকে চিনতাম। কিন্তু আপনার সঙ্গে তো তার কোনো সম্পর্ক নেই। তাতে আপনি নিজেকে একটু দূরে রাখতে চাইলে কোনো সমস্যা নেই।” “আমাকে নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবে না,” সামিয়ানা দৃঢ়ভাবে জবাব দেয়, “বরং দেখুন জানাজা কোথায় হচ্ছে, কখন হচ্ছে।”

বাড়ির সামনেটায় রয়েছে বড় একটি বাতি। ওপরে সামনের কক্ষে রয়েছে মৃদু আলো। পুরো বাড়িতে জানালাগুলো বন্ধ। আমি গেইটের পাশে লাগানো কলিং বেল টিপি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবার পরও কেউ সাড়া দেয় না বলে তা টিপি আরেকবার। এরপর রাস্তার ওপর কিছুটা পেছনের দিকে সরে দেখতে চাই ওপরের তলায় কাউকে চোখে পড়ে কি না। এক সময় সামিয়ানা জিজ্ঞেস করে, “আমরা ঠিক বাড়িতে এসেছি তো?” “অবশ্যই ঠিক বাড়িতে এসেছি,” আমি বলি। “বাবার ফোন পাবার পর মাত্র কয়েকদিন আগে আমি পাটোয়ারী সাহেবকে দেখার জন্য এখানে এসেছিলাম।” “তাহলে হয়তো সবাই জানাজার নামাজে চলে গেছে,” সে মন্তব্য করে। “কিন্তু কেউ না কেউ তো থাকবে বাড়িতে,” আমি বলি। “তার ভাইয়ের ছেলেপুলে – তারা গেল কোথায়?” কলিং বেল টিপে সাড়া পাওয়া যায় না বলে এবার আমি মুষ্ঠি দিয়ে লোহার গেইটে আঘাত করি। সামিয়ানা আমার সঙ্গে যোগ দেয়। তাতে কাজ হয়।

গেইটের দরজা খুলে সামিয়ানার বয়সী একজন নারী আমাদের দিকে তাকায়। “আপনারা কারা?” সে জিজ্ঞেস করে। “বেল টিপছেন কেন?” আমি আমার নাম বলি এবং বলি ইনি সামিয়ানা, আমার বাসার মালিক। “আমার বাড়ি টাঙ্গাইলে। পাটোয়ারী সাহেব মারা গেছেন শুনে বাবা আমাকে তার জানাজায় পাঠিয়েছেন।” “জানাজা তো ঢাকায় নয়,” নারীটি বলে। “জানাজা টাঙ্গাইলে।” “তাই নাকি?” আমি আশ্চর্য হই, তবে বুঝতে পারি পাটোয়ারীর মৃত্যুর খবর শুনে বাবা হয়তো এতটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন যে জানাজার নামাজের সঠিক স্থানটির কথা তিনি স্মরণ করতে পারেননি। হতে পারে যাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, তারাও সঠিকভাবে জানাজার স্থানটির কথা জানতো না। “মৃত্যুর আগে পাটোয়ারী সাহেব খুব করে অনুরোধ করেছিলেন তাকে যেন টাঙ্গাইলে দাফন করা হয়,” নারীটি বলে। “সেখানেই তিনি জন্মেছিলেন কি না। সে জন্য আজ ভোরে ট্রাকে করে তার লাশ সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। টাঙ্গাইলে পৌঁছার পর আজ বিকেলে বা সন্ধ্যায় তার জানাজা হবার কথা।” “আপনাকে তো চিনলাম না,” আমি বলি, “আপনি কি এখানে থাকেন?” “আমার নাম মোশাহিদা নাজ,” তিনি বলেন। “পাটোয়ারী সাহেব আমার মামা। তার অসুস্থতার খবর শুনে কয়েকদিন আগে এখানে এসেছি। আমাকে বাড়ির পাহারায় রেখে আজ পুরো পরিবার টাঙ্গাইলে চলে গেছে।”

এমন সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। আরামবাগের রাস্তায় নেমে আসে অন্ধকার। পাটোয়ারী বাড়ির স্বয়ংক্রিয় জেনারেটরটি সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়ে গেলে ঘরের ভেতরকার বাতিগুলো জ্বলে ওঠে, তবে দরজার ওপর থাকা বড় বাতিটি থাকে নিভন্ত। “মনে হচ্ছে অন্ততঃ কিছুক্ষণের জন্য আপনারা এখানে আটকা পড়ে গেলেন,” মোশাহিদা বলে। 

আরামবাগের সব বাড়িতে এরকম স্বয়ংক্রিয় জেনারেটর না থাকায় এসময় রাস্তায় হেঁটে চলা সহজসাধ্য হবে না, আমি বুঝি। বিশেষ করে পাড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো মোড় নেয় কমপক্ষে হাজার বার। তারপর কোথাও কোথাও সেগুলোর ওপর রয়েছে বিদ্যুতের খাম, তাতে বিঁধানো অসংখ্য তারকাটা, যে কোনো স্থানে পার্ক করা রিক্সা বা হকারের ভ্যানগাড়ি। ময়লার সবুজ কন্টেইনারগুলোও অগোছালোভাবে ফেলে রাখা হয় বিভিন্ন কোণে, যার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ময়লার ব্যাগ, পুরনো আসবাবপত্র, বাতিল ইলেকট্রনিক্স। আমি একা হলে এসব হয়তো কোনো বাধা হতো না, কিন্তু সামিয়ানার কথা চিন্তা করে বলি, “হ্যাঁ, তাইতো মনে হচ্ছে। এই অন্ধকারে রাস্তায় নামা নিরাপদ হবে না।” 

“তাহলে চলুন বসি,” মোশাহিদা বলে। “কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখতে পারেন বিদ্যুৎ আসে কি না।”

আমরা ভেতরে যাই। মোশাহিদা আমাদের জন্য পানি নিয়ে আসে। “আমার বাবা পাটোয়ারী সাহেবের একজন বিরাট গুনগ্রাহী,” আমি বলি। “তবে আমাদের বাড়ি টাঙ্গাইলে হলেও তা পাটোয়ারী সাহেবের পৈতৃক বাড়ির একেবারে উল্টো দিকে।” “আমি কয়েকবার টাঙ্গাইলে গিয়েছি,” মোশাহিদা বলে। “ঠিক কোন মহল্লায় আপনাদের বাড়ি?” “বাজিতপুর,” আমি জবাব দেই। “বাজিতপুর সাহা পাড়া। লৌহজং নদীর ওপর বানানো আনন্দ সাহা পুলের কাছে।” “চিনি না,” সে বলে, “আমি গিয়েছি এনায়েতপুরে। গুম্বুজ মসজিদ চেনেন আপনি? পাশে একটি দিঘী, কয়েকটি তালগাছ?” “খুব ভালো করে চিনি,” আমি বলি। “অনেকবার সেদিকে গিয়েছি। মোশাররফ নামে আমার এক বন্ধু ছিল সেখানে।” “গুম্বুজ মসজিদ থেকে আমার মামাতো ভাইয়ের বাড়ি মাত্র কয়েক পা,” মোশাহিদা বলে। “মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্ব দিকে তাকালে বাড়ির ছাদগুলো দেখা যায়।” সে সামিয়ানার দিকে তাকায়, বলে, “আপনিও কি তবে টাঙ্গাইল থেকে?” “না,” সামিয়ানা বলে। “আমার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে। রাজশাহীর চাটমোহরে।” “কি আশ্চর্য ব্যাপার,” মোশাহিদা বলে, “আমরা বোধ হয় একে অন্যের আত্মীয় হয়ে যাচ্ছি। আমার বাড়ি সেদিকেই। চাটমোহরের মানুষ হলে আপনি নিশ্চয়ই অষ্টমনিষার নাম শুনেছেন। আমার বাড়ি সেখানে। বিভিন্ন কাজে আমাদের প্রায়ই চাটমোহরে যেতে হয়। তা ছাড়া মাত্র কয়েক বছর আগেও আমার ভাসুর শাহজাদ খান চাটমোহর পৌরসভা অফিসে কাজ করতেন। তিনি অবসর নিয়েছেন, কিন্তু এখনো থাকেন চাটমোহরে।” “অষ্টমনিষায় আমি কয়েকবার গিয়েছি,” বলে সামিয়ানা। “অনেক আগে সেখানে কাদম্বিনী দেবী নামক আমার এক শিক্ষকের বাড়ি ছিল। অষ্টমনিষা থেকে আমার বাবা একবার আমাদের জন্য চমচম নিয়ে আসেন।”

ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির সামনের রাস্তায় মৃদু কোলাহল শুরু হয়। জানালার দিকে তাকিয়ে মোশাহিদা বুঝতে চেষ্টা করে কি হচ্ছে। সামিয়ানা এবং আমিও সেদিকে তাকাই। “অন্ধকারে কেউ হয়তো হোঁচট খেয়ে পড়েছে,” আমি বলি, “ভাগ্যিস আপনি আমাদের বসতে দিয়েছেন। মানুষটি আমাদের একজন হতে পারতাম।” 

কোলাহল না থেমে আরো বেড়ে যায়। বেড়ে যায় মানুষের পায়ের শব্দ। আমরা তিনজন প্রায় একসঙ্গে উঠি এবং জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকাই। পাটোয়ারী সাহেবের বাড়ি এবং এর মুখোমুখি বাড়িটি থেকে আলো পড়ে রাস্তাটিকে যথেষ্ট পরিমাণে আলোকিত করেছে। সে আলোয় আমরা দেখি মানুষেরা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে – যুবক, প্রোঢ়, বুড়ো। তারা আসছে ইটপুকুরিয়া বাজারের দিক থেকে, চলে যাচ্ছে নতুন পোস্ট অফিসের গলি কিংবা আরামবাগ স্কুল রোডের দিকে। প্রথমে দেখা যায় মাত্র কয়েকজন, তারপর আরো কয়েকজন, তারপর আরো আরো কয়েকজন বা তার চেয়েও বেশি। কেউ পালাতে পালাতে থামছে, তাকাচ্ছে পেছনের দিকে, অন্যদের পালাতে সাহায্য করছে কিংবা চিৎকার করে কাউকে কিছু বলছে, তারপর পালাচ্ছে আবার। কেউ দুটি বাড়ির ফাঁকে ঢুকে পড়ছে, লুকিয়ে পড়ছে দেয়ালের পিছে। বাঁচার জন্য কেউ আশেপাশের বাড়িগুলোর কলাপ্সিবল গেইট ধরে নাড়া দিয়ে সেগুলো খোলার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাতে সফল না হয়ে দৌড়াচ্ছে আবার। 

“এরা হয়তো আসছে জনসমাবেশ থেকে,” আমি বলি। “দেখছেন না কারো হাতে প্ল্যাকার্ড, কারো গায়ে জামা বা পাঞ্জাবির ওপরে একই রকমের টি-শার্ট।” 

“কিন্তু পালাচ্ছে কেন?” মোশাহিদা মন্তব্য করে। “আমি তো কাউকে ধাওয়া করতে দেখছি না।” 

গলির মোড়টা দেখার জন্য আমরা পাশের কক্ষে যাই। এক লাফে সামিয়ানা বিছানার ওপরে উঠে যায়, তারপর পর্দা সরিয়ে আমাদের দুজনকে রাস্তার মোড়ের দিকে তাকাতে সাহায্য করে। অকস্মাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়, তার সঙ্গে বাসার সামনে কেউ তারস্বরে চিৎকার করে ওঠে। দেখি গুলিবিদ্ধ একজনকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে দুজন লোক। আবার গুলির শব্দ হয় বলে তারা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। 

“এরা হয়তো জনসমাবেশ থেকে আসছে না,” বলে সামিয়ানা, “হয়তো পাড়ার দুপক্ষ আধিপত্য বজায় রাখার জন্য গোলাগুলি শুরু করেছে। দক্ষিণ পাইকপাড়ায় এমনটি আমি কয়েকবার দেখেছি। একবার একজন মারাও যায়। নতুন বাজারের সবজি মার্কেটে আলুর বস্তার ওপর তার লাশ পড়ে থাকে প্রায় দুই ঘন্টা।” 

তার কথা শেষ না হতেই মোশাহিদাকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশ আসছে! পুলিশ!” 

সামিয়ানা ও আমি ইটপুকুরিয়ার দিকে তাকাই। অগোছালো একটি পুলিশের দল গুলি করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে রয়েছে গতি, উন্মাদনা। পেছনে বিশাল হেডলাইট জ্বালিয়ে আসছে তাদের গাড়ি। সামিয়ানা এর কোনো অর্থ করতে পারে না। পর্দাটি ছেড়ে দিয়ে সে তাকায় ঘরের ভেতর। হয়তো সে ভেবেছিল পুলিশের উপস্থিতিতে গোলাগুলি বন্ধ হবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অন্য কিছু। আবার সে মাথা ঘোরায় রাস্তার দিকে। দৌড়াতে দৌড়াতে পুলিশের গুলি খেয়ে পাটোয়ারী বাড়ির সামনে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে কয়েকজন লোক। দৌড়ে পালাতে গিয়ে অন্য কয়েকজন তাদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তা দেখে সামিয়ানা আর বাইরে তাকাতে পারে না। আমি দৌড়ে গিয়ে দেয়ালের ওপর থাকা বাতির সুইচটি অফ করে দেই। রাস্তায় বিদ্যুৎ বাতির অবর্তমানে যে কোনো আলোর দিকে চোখ যাবে যে কারো। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় না। একটি গুলি এসে আমাদের জানালায় পড়ে। তাতে ভেঙ্গে যায় যায় জানালার কাঁচ, ফুটো হয় দেয়ালে। মোশাহিদা চিৎকার করে ওঠে। আমি ফিস ফিস করে জিজ্ঞেস করি, “গুলি লেগেছে? আপনি ঠিক আছেন তো?” সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলে সে আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। তাই আমি তাকে আবারো একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি। কক্ষটি অন্ধকার হওয়ায় আমি তার চেহারা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম না। সামিয়ানা তখন আমার পায়ের কাছে শুয়ে পড়ে গুলি থেকে নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। গায়ে গুলি লাগেনি বললে আমি মোশাহিদাকে বলি, “আপনিও শুয়ে পড়ুন। আবার গুলি আসতে পারে।” আমি বসি দেয়ালের আড়ালে, মাথা নিচু করে। সেখান থেকে আমি আরো গুলির শব্দ পাই, শুনি পাশের বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙ্গে পড়ছে, আরো কাছে এগিয়ে এসেছে পুলিশের গাড়ি। যদিও তাকে শুয়ে থাকতে বলেছি, মোশাহিদা মেঝে থেকে উঠে মাথা তুলে আবার বাইরের দিকে তাকাতে চেষ্টা করে। একই কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করে সামিয়ানা। একনজর বাইরে তাকিয়ে সে মুখ ফিরিয়ে আনে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে। আমি এক হাতে তার মুখ চেপে ধরি যাতে শব্দ বাইরে না যায় এবং অন্য হাতে মোশাহিদাকে জানালা থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করি। পুলিশের দলটি ততক্ষণে পাটোয়ারী বাড়ির একেবারে সামনে চলে এসেছে। কংক্রীটের রাস্তার ওপর আমি তাদের জোরালো বুটের শব্দ শুনতে পাই। সামিয়ানা এবং মোশাহিদাকে নিরস্ত্র করলেও এই মুহূর্তে আমি নিজেও মাথা একটু উঁচু করে বাইরের দিকে তাকাবার লোভ সংবরণ করতে পারি না। হঠাৎ বুটের শব্দ কমে যায়। আমরা দেখি চারজন পুলিশ মুখোমুখি বাড়িটির পাশে একটি কোমর সমান দেয়ালের ভগ্নাবশেষের দিকে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কথা আমি বুঝতে পারি না, কিন্তু পরক্ষণেই দেখি দেয়ালের আড়াল থেকে কয়েকজন লোক বের হয়ে আসে। তাদের কেউ দৌড়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা কেউ মুক হয়ে যায়, কেউ হয়তো এত বেশি অনিশ্চয়তা সহ্য করতে পারে না বলে লুটিয়ে পড়ে রাস্তার ওপর, কেউ এগিয়ে গিয়ে পুলিশের পা জড়িয়ে ধরতে চেষ্টা করে। কয়েক পা পেছনে সরে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। মাথায়, বুকে, শরীরের যে কোনো স্থানে। গুলি করেই শান্ত হয় না তারা। কাতরানো মানুষগুলোকে তারা বুট দিয়ে নৃসংশ ভাবে আঘাত করে, তাদের গলা বা পেটের ওপর এক পা তুলে দাঁড়ায়। তারপর বন্দুক উঁচিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশের আরেকটি দল গাড়ি নিয়ে এগোবার জন্য গুলিবিদ্ধদেরকে হাতে বা পায়ে ধরে টেনে রাস্তার পাশে সরিয়ে দেয়। এমন নিষ্ঠুরতার পরও গুলিবিদ্ধদের কারো কারো বুকে হয়তো নিঃশ্বাস থাকে, যে কারণে তাদেরকে নতুন করে গুলিবিদ্ধ হতে হয়, পড়তে হয় নিরলস বুটের নিচে।

পুলিশের গাড়িগুলো আরামবাগ স্কুল রোডের দিকে চলে গেলে কিছুক্ষণের জন্য পাটোয়ারী বাড়ির আশেপাশে নিরবতা নেমে আসে। এখন আর কাউকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায় না। যতদূর চোখ যায়, কোনো বাড়িতে নতুন করে আলো জ্বলে ওঠে না, কেউ শব্দ করে কথা বলে না। তবে আরামবাগ রোডের দিকে গুলির শব্দ তখনও শোনা যায়। শোনা যায় টয়েনবি সার্কুলার রোডের দিক থেকে আসা মানুষের বিরাট সোরগোল। আমার মারাত্মক তৃষ্ণা লাগে বলে মোশাহিদার কাছে একটু পানি চাই। সে উঠে রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। সামিয়ানা এখনো মেঝেয়। সে এতটা ভয় পেয়ে গেছে যে আমি তাকে হাতে ধরে টেনে বিছানায় তুলতে চাইলেও সে মেঝে থেকে উঠতে চায় না। “পুলিশ চলে গেছে,” আমি বলি। “ভয় নেই।” তাতে তার কান্না আরো বেড়ে যায়। পুলিশ শুনতে পাবে বলে এতক্ষণ ধরে সে হয়তো নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছিল। এখন সে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। আমি তার সামনে অসহায়ের মতো বসে থাকি। এই প্রথম সে আমার সঙ্গে বেরিয়েছে। সিএনজি আরামবাগ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না জেনেও সে পিছ-পা হয়নি। সিএনজি থেকে নামার পর সে নিরবে আমার সঙ্গে পথ চলেছে। কিন্তু এখন আমাদের সামনে নেমে এসেছে একটি ভয়াল রাত। আমি দরজা দিয়ে রান্নাঘরের দিকে তাকাই। সেখানে পানির গ্লাসটি ভর্তি করে তা টেবিলের ওপর রেখে আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে বসে বসে কাঁদছে মোশাহিদা। আমি উঠে গিয়ে গ্লাসটি মুখে নেবো এমন সময় বাইরে গাড়ির শব্দ শুনতে পাই, সঙ্গে শুনতে পাই বুটের ভারী শব্দ ও সামান্য কোলাহল। মোশাহিদা এবং আমি দৌড়ে জানালায় যাই। বুটের শব্দ শোনার পর কান্না থামিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয় সামিয়ানা। আমরা দেখি ইটপুকুরিয়ার দিক থেকে একটি গাঢ় নীল রঙের ট্রাক এগিয়ে আসছে, তার পেছনে একটি পুলিশের গাড়ি। পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এসে ট্রাকটি থামে। ট্রাকের চালক ও কয়েকজন পুলিশ গুলিতে নিহত লোকগুলোকে টেনে ট্রাকে তোলে। ওপর থেকে দেখা যায় ট্রাকের পেছনটায় আগে থেকেই ছিল কয়েকটি লাশ। বুঝতে পারি পুলিশ এ পাড়ায় আসার আগে যেসব গুলির শব্দ আমরা শুনতে পেয়েছি তার সবগুলোই ফাঁকা ছিল না। আমি সামিয়ানা এবং মোশাহিদার দিকে তাকাই। তারা এখন আর কাঁদে না। জানালা দিয়ে ট্রাকের আলো এসে মুখে পড়ে বলে তারা পর্দার আড়ালে চলে যায়, তবে সে আলো চলে গেলে আবার তারা জানালার গ্রীল ধরে বাইরে তাকায়। ট্রাক দুটি সামনের দিকে যেতে থাকলে তাদের পেছনে পেছনে আসে সিটি কর্পোরেশনের একটি শাদা পানির ট্রাক। আমাদের সামনে দিয়ে রাস্তায় এবং পাশের দেয়ালগুলোতে প্রবল বেগে পানি ছিটাতে ছিটাতে চলে যায় ট্রাকটি। 

কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে। বাড়ির সামনের বড় বাতিটি জ্বলে ওঠে, জ্বলে ওঠে রাস্তার বাতিগুলো। সামনের বাড়িতে এবং ডানে-বামে তার পরের বাড়িগুলোতে অন্ধকার কক্ষগুলো আলোয় ভরে যায়। বিভিন্ন তলার মানুষ ব্যালকনিতে বেরিয়ে আসে। যাদের ব্যালকনি থাকে না, যেমন বাক্সের মতো লাল রঙ্গের ছয়তলা বাড়িটি, তারা আসে জানালায়। আমি শোবার ঘরের বাতিটি অন করে দেই, ভাঙ্গা জানালাটি পরিক্ষা করে দেখি এবং তারপর মেঝে থেকে কাঁচের টুকরাগুলোকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা করি। সামিয়ানা বা মোশাহিদা সেদিকে নজর দেয় না। বিছানার কিনারে বসে তারা নিরবে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে। 

পরবর্তী কয়েক মিনিট কাউকে রাস্তায় নামতে দেখা যায় না। চলে না কোনো রিক্সা বা সিএনজি। এক গুমোট, দম বন্ধ করা সময় এগিয়ে চলে আরামবাগে। হয়তো মতিঝিল রোড, ডিআইটি অ্যাভিনিউ, টয়েনবি সার্কুলার রোড এখনো খুলে দেওয়া হয়নি। “এত রাতে বেরোনো ঠিক হবে না,” বলে মোশাহিদা। “আপনারা আজ এখানেই থাকুন।” আমি সামিয়ানার দিকে তাকাই। সে কিছু বলে না বলে আমি সায় দেই। ঘুমানোর আগে কিছু খাবে কি না জিজ্ঞেস করলে সামিয়ানা না-বোধক মাথা ঝাঁকায়। “আমিও না,” আমি বলি। মোশাহিদা সামিয়ানাকে পাশের কক্ষে নিয়ে যায় এবং ফিরে এসে আমার হাতে ধরিয়ে দেয় একটি কম্বল ও বালিশ। “এখানে ঘুমালে ঠান্ডা লেগে যাবে,” সে বলে। “সামনের ঘরে চলে যান।” তার কথামতো আমি সোফায় গিয়ে বসি এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি।

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা