প্রচ্ছদগল্পউপন্যাসএকজন নৃশংস দুষ্কৃতকারী

ধারাবাহিক উপন্যাস : নেয়ামত ইমাম

একজন নৃশংস দুষ্কৃতকারী

নেয়ামত ইমাম 

দ্বিতীয় খণ্ড

৩.

রাতে অনেক দেরি করে ঘুমাতে যাই বিধায় সকালে ঘুম ভাঙতে আমার দেরি হয়ে যায়। চোখ মেলে জানালা দিয়ে দেখি সূর্য অনেক ওপরে উঠে গেছে। আমার কাছে ঘড়ি ছিল না, কিন্তু অনুমান করি কমপক্ষে সকাল দশটা হবে তখন। সর্বপ্রথম যে জিনিশটি আমার মনে আসে, তা হচ্ছে এত বেলাতেও কেউ আমাকে ডেকে তোলেনি কেন। এতক্ষণে তো অফিসের কাজ শুরু হয়ে যাবার কথা। আমাকে নিশ্চয়ই এখানে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ঘুমাবার জন্য তুলে আনা হয়নি। 

সুইচ টিপতেই এগিয়ে আসে পরিচর্যাকারী। সে আমাকে সালাম দেয়। বলে, “ভালো আছেন তো?” দেখতে অবিকল সাহাবুদ্দিন মিয়ার মতো মনে হলেও সে বলে সে সাহাবুদ্দিন মিয়া নয়, সে তার ছোট ভাই বাহাউদ্দিন মিয়া। “আমার ভাই কাজ করেন সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত,” সে বলে, “আমি কাজ করি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। আমরা দুজনে মিলে এই প্রতিষ্ঠান চব্বিশ ঘন্টা চালু রাখি। যাবার আগে তিনি আমাকে আপনার কথা বলে গেছেন। ইতোমধ্যে আমি দুইবার আপনার দরজায় এসে দেখে গেছি আপনি জেগে উঠেছেন কি না। আমাদের এখানে কেউ জেগে না উঠলে বিশেষ কারণ ছাড়া তাকে ডেকে তোলার নিয়ম নেই।” “কেউ কি আমার খোঁজ করেছে,” আমি জিজ্ঞেস করি। “আজ আমার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবার কথা।” “বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করতে তো আপনার উপস্থিতির দরকার নেই,” সে জবাব দেয়। “এটি নেহায়েতই একটি অফিশিয়াল প্রক্রিয়া, যখন আপনার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে একসাথ করে একটি ফাইলে রাখা হয়। যেহেতু এখানে আগে কখনো আসেননি, আপনি সম্ভবতঃ ব্যাপারটা জানেন না।” সে কোন ব্যাপারের কথা বলছে আমি তা জানতে চাই বললে সে বলে এখানে কাউকে নিয়ে আসার পর প্রথম দুই-তিন দিন সচরাচর কিছুই ঘটে না। “এমনটি হবার কারণ কি?” আমি বলি। “তাদের কি যথেষ্ট লোকবল নেই? তাহলে এত তড়িঘড়ি করে আমাকে তুলে আনা হলো কেন? আমাকে আমার কক্ষে ঢুকে টেবিলের ওপর রাখা ঘড়িটি পর্যন্ত নিয়ে আসার সুযোগ দেয়া হয়নি। আরেকটু হলে আমাকে খালি গায়েই গাড়িতে তুলে ফেলতো।” “কাউকে যখন তুলে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যায়,” সে বলে, “তখন সচরাচর তুলে আনার কাজটি যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হয়। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কেউই চায় না একটা স্পর্শকাতর বা নাজুক পরিস্থিতি আরো স্পর্শকাতর বা আরো নাজুক হয়ে যাক। কেউ যদি ছয়টি খুন করে থাকে, তাহলে তাকে দ্রুত তুলে আনা না হলে সে হয়তো সাত নম্বর খুনটির দিকে যাত্রা করতে পারে। কিন্তু কেন কাউকে তুলে আনা হলো তা জানা থাকলেও আইনের ধারা-উপধারাসহ অভিযোগগুলোকে অপরাধবিজ্ঞানের স্বীকৃত মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিকভাবে সাজাতে সময় লেগে যেতে পারে কমপক্ষে দুই-তিন দিন। এজন্যই এমনটি ঘটে। তবে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে যা শুনেছি, তাতে বুঝতে পারি আপনার বিচারের কাজ শুরু হতে লাগতে পারে স্বাভাবিকের চেয়ে আরো বেশি কিছু সময়। যেমন পাঁচ দিন।” “কেন?” আমি জিজ্ঞেস করি। “আমার ব্যাপারটি কী এমন ভিন্ন?” “সহজভাবে বললে আপনার অপরাধটি গুরুতর,” সে বলে। “এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এর সঙ্গে হয়তো জড়িত রয়েছে এমন সব লোক, যাদেরকে আপনি চেনেন না। আরো বলতে পারি এই অপরাধ মাত্র একদিনে সংঘটিত হয়নি। এর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে অনেক দিনে বা বছরে। ধরুন আপনি রাস্তার পাশের কারো শিমগাছ থেকে শিম পেড়ে নিলেন। কেউ তা দেখলো না। এরপর আপনি কারো দোকান থেকে তুলে নিলেন এক প্যাকেট সিগারেট। এবারও কেউ তা দেখলো না। এরপর শত্রুতাবশতঃ আপনি কারো গরুকে বিষ খাইয়ে দিলেন বা কারো ফসলে আগুন লাগিয়ে দিলেন। এবার কেউ দেখলো। কিন্তু তা অপরাধ হিসাবে তা গণ্য হলো না কারণ আপনি ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে সেই গরু বা ফসলের মালিকের মুখ বন্ধ করে ফেললেন। এভাবে এখানে তুলে আনা পর্যন্ত আপনি জড়িত হলেন অসংখ্য ছোট-বড় অপরাধে। এসব চিন্তা করেই আমার এই হিসাব। তা ছাড়া কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির ফাইলটি অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন কর্মকর্তার টেবিলে যেতে হয়, যার কয়েকজনের অফিস এখানে নয়, মন্ত্রীপরিষদ সচিবালয়ে। এর মধ্যে থাকা বিশ্লেষণগুলোও শুধু গ্রহণযোগ্য হলে হয় না, সেগুলো হতে হয় একবোরে স্বচ্চ এবং পাকাপোক্ত। এগুলোর সঙ্গে থাকতে হয় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের সাক্ষ্য-প্রমাণাদি। শুরুর দিকে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণকে হয়তো প্রথম পর্যায়ের বলে কাজ শুরু করে দেয়া হয়, কিন্তু যত সময় যায় বোঝা যায় সেগুলো আসলে দ্বিতীয় পর্যায়ে যাবে, যেখানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ে স্থান করে দেয়া সাক্ষ্য-প্রমাণকে নিয়ে আসতে হবে প্রথম পর্যায়ে। এই হেরফের হবার প্রধান কারণ অপরাধীকে তার সর্বশেষ অপরাধের ভিত্তিতে বিচার করা। সর্বশেষ অপরাধটি হয়তো অপরাধীর সর্বোচ্চ অপরাধ নয়। এটি হয়তো তার পক্ষে আরো ধ্বংসাত্মক একটি অপরাধ সংঘটিত করার প্রক্রিয়ার শুরু। তাই তার সারা জীবন নিরীক্ষা করে দেখতে হবে আসলে গলদটি কোথায়। তা না হলে এখান থেকে মুক্তি পাবার পর সমাজে ফিরে গিয়ে অপরাধী আবার একই রকম বা তার চেয়েও জঘন্য অপরাধ করে বসতে পারে। তবে ভয় পাবেন না, এগুলোর সবই আপনাকে ধীরে ধীরে জানানো হবে এবং পুরোপুরি জানানো হবে। এখন আমাকে কেন ডেকেছেন বলুন।” 

“আমাকে একটু টয়লেটে নিয়ে যাবেন?” আমি বলি। 

“অবশ্যই,” সে বলে এবং ঘুরে আমার কক্ষ থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে একটি দরজার দিকে নির্দেশ করে। “আপনি সেখানে যান,” সে বলে। “আপনার কক্ষে ফিরে আসার পর আবার সুইচ টিপবেন। তখন আমি এসে দরজা আটকে যাবো।”

তার চলে যাবার পর আমি টয়লেটে যাই এবং সেখানে নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটাই। যত দ্রæত সম্ভব আমাকে দুটি কাজ করতে হবে। এক. ম্যানেজার রজব আলী সাহেবকে ফোন করে বলতে হবে একটি জরুরি কাজে আমি আটকা পড়ে গেছি। আগামি কয়েকদিন আমি কাজ করতে পারবো না। এই দিনগুলোর জন্য আমাকে অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা হোক। দুই. রফিকুল্লাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতে হবে সে আমাকে এখান থেকে বের করে নিতে পারবে কি না। তার যে ক্ষমতা আমি দেখেছি, তাতে কাজটি তার জন্য সহজ হতে পারে। প্রয়োজনে দুএকজন লোকের হাতে-পায়ে যদি তাকে ধরতে হয়, তাহলে সে তাই করবে। ক্ষতি কি? তার জায়গায় আমি হলে তাকে মুক্ত করবার জন্য আমি তাই করতাম। এমন পরিস্থিতি সবার জীবনে সবসময় আসে না। আমাকে কেন আটক করা হয়েছে তা আমার পক্ষে জানা সম্ভব না হলেও সে হয়তো তা জানতে পারে। যদি বাসা থেকে ফোনের মাধ্যমে সে তা করতে না পারে, তবে হয়তো সে এখানে আসবে এবং আমিরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করবে, যেটি এখন আমি এখানে থেকে করতে পারছি না। গত রাতে সে অসুস্থ ছিল, যার ফলে আজ হয়তো তাকে সারাদিন বাসায় পাওয়া যাবে। 

আমি আমার কক্ষে ফিরে যাই, বাহাউদ্দিন মিয়াকে ডাকি। কয়েক মিনিটের মধ্যে সে আসে। “আমাকে কি একটু টেলিফোনের কক্ষটিতে নেয়া যায়?” আমি বলি। “কয়েকটা ফোন করতে চেয়েছিলাম।” “অবশ্যই,” সে বলে। “এখনি যেতে চান, না কি আগে কিছু খেয়ে নেবেন?” আমি বলি আমি আগে সেখানে যেতে চাই, যদি কেউ ফোনটি ব্যবহার না করে থাকে এবং যদি তাতে তার কোনো অসুবিধা না হয়। “ফোনের কক্ষটা এখন খালি আছে,” সে বলে, “আপনি চাইলে কথা বলতে পারেন।” “চলুন,” বলে আমি তাকে অনুসরণ করি এবং ফোনের কক্ষে পৌঁছি। “মাত্র কয়েক মিনিট,” আমি বলি। “তারপর আমি আমার কক্ষে ফিরে যাবো। আপনার অন্য কোনো কাজ না থাকলে আমাকে কিছু খেতে দিতে পারেন। আর হ্যাঁ, দয়া করে পানির জগটা একটু ভরে দেবেন।” মাথা নাড়িয়ে সে চলে যায়। 

আমি প্রথমে ম্যানেজার রজব আলীকে ফোন করি। প্রথম চেষ্টায় তার নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়। তা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের অনেক ক্রেতা এবং সরবরাহকারী রয়েছে। তাদের অনেকেই তাকে যে কোনো দিন ফোন করতে পারে। আমাদের আরো রয়েছে আমার মতো বেশ কয়েকজন বিক্রয় প্রতিনিধি, যারা দিনের যে কোনো সময়ে বিভিন্ন ব্যাপারে ফোন করে তার পরামর্শ চাইতে পারে। এখন হয়তো এমনই একটি সময়। কিছুক্ষণ নিরবে বসে থেকে আমি আবার তাকে ফোন করি। এবার ফোনটি সংযোগ পায় এবং ওপারে আমি তার সহকারী মিনহাজ আবেদীনের কন্ঠস্বর শুনতে পাই। মিনহাজ আমার একজন প্রিয় মানুষ। কোম্পানিতে সহকারী হিসাবে যোগদানের প্রথম দিন থেকেই আমাদের পরিচয়। ক্রিকেট খেলা তার খুব প্রিয়। কে কত ওভার বল করলো, কে কয়টি চার বা ছয় মারলো, কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম করছে – এসব তার নখদর্পণে। আমাকে অফিসে দেখলে সে তার চেয়ার থেকেই চেঁচিয়ে বলতে থাকে তথ্যগুলো। রজব আলীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে “এক মিনিট” বলে মিনহাজ আবেদীন চলে যায় এবং একটু পরে ফিরে এসে বলে, “ম্যানেজার সাহেব এখন ব্যস্ত আছেন। কথা বলতে পারবেন না।” আমি তার সঙ্গে রজব আলী সাহেবের জন্য একটা মেসেজ রাখতে পারবো কি না জিজ্ঞেস করি। ব্যস্ততা শেষ হলে সে মেসেজটা তাকে দিয়ে দেবে। “না, কোনো মেসেজ রাখা যাবে না,” সে বলে। “উনি আপনাকে দুটি জিনিশ বলতে বলেছেন। এক নম্বর : আপনি যেন আর এখানে ফোন না করেন। দুই নম্বর : আপনাকে আজ থেকে এই কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। আপনার সব পাওনা সময়মতো আপনার ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হবে।” আমার মতামত জানার জন্য অপেক্ষা না করে মিনহাজ আবেদীন ফোনের সংযোগ কেটে দেয়।

রজব আলী সাহেবের সঙ্গে আমাকে মুখোমুখি বসতে হবে, আমি ভাবি। হয়তো কোনোভাবে তার কাছে খবর চলে গেছে যে আমি এখন এখানে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক, যে কারণে তিনি মনে করেছেন আমি নিশ্চয়ই কোনো না কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবো। এখান থেকে বেরোতে পারলে নিশ্চয়ই তাকে বোঝানো যাবে বিষয়টি আসলে তেমন কিছু নয়। এ হচ্ছে একটি ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি, যার জন্য আমি নিজেও প্রস্তুত ছিলাম না। তখন তিনি নিশ্চয়ই আমাকে আবার নিয়োগ করবেন। কোনো কারণ ছাড়া তিনি নিশ্চয়ই আমাকে চলে যেতে বলবেন না। এমনকি সুমন এন্টারপ্রাইজ বা ডায়নামিক মোটর্সের কথা বাদ দিলেও একজন বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে গত কয়েক বছরে আমি একেবারে খারাপ করিনি। আমি হয়তো সবচেয়ে সফল বিক্রয় প্রতিনিধি নই, কিন্তু আমাদের বেশ কিছু কাস্টমার রয়েছে যারা আমাকে বিশ্বাস করে এবং আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে। যেমন : খিলক্ষেতের বাম্পার টু বাম্পার, ডেমরার আফজাল ব্রাদার্স বা হাসনাবাদের কাজী মোটরস্পোর্টস। রজব আলী সাহেবকে তো তাদের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে। আমাকে কেন তাড়িয়ে দেয়া হলো – এমন একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি কী বলতে পারবেন? আমাকে এখান থেকে আজই বেরিয়ে যেতে হবে এবং তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। যদি আমাকে মুক্তি দেওয়া না হয়, কিন্তু কমপক্ষে ছয় ঘন্টার জন্য কারো দায়িত্বে বাইরে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়, তাতেও কাজ হবে। আমি অফিসে গিয়ে আমার অবস্থা বিশ্লেষণ করে তারপর এখানে ফিরে আসবো। তাতে কারো কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গতকাল রাতে সরদার আমিরুল ইসলামকে আমি যেমন দেখেছি, আমি মনে করি না তিনি এমন একটি প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে মনে করবেন। তাকে আমি বোঝাবো এই চাকরি চলে গেলে আমার মতো ছা-পোষা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ দুমড়ে-মুচড়ে পাড়ে যাবে, আমি শেষ হয়ে যাবো। এমন হতে পারে যে তিনি ইসহাক সাহেব এবং তার সহকর্মীদের হাতেই আমাকে সোপর্দ করবেন। তারা যদি আমাকে দক্ষিণ পাইকপাড়া থেকে নির্বিঘ্নে এখানে নিয়ে আসতে পারে, তবে কেন আমাকে কাকরাইল থেকে এখানে নিয়ে আসতে পারবে না, বিশেষ করে আমি যখন তাদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং আবারো তা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি?

আমি রফিকুল্লার নম্বরে ফোন করি। গতকাল রাতের মতো ফোনটি ধরে মাহরুবা। “কেমন আছেন আপনি?” আমি জিজ্ঞেস করি। জবাব না দিয়ে সে বলে, “আপনি কি রফিকের সঙ্গে কথা বলতে ফোন করেছেন? সে কিন্তু বাসায় নেই।” “আচ্ছা,” আমি বলি। “আমি না হয় পরে ফোন করবো।” এর পর আমি হয়তো জানতে চাইতাম রফিকুল্লার শরীর এখন কেমন আছে বা সে কখন বাসায় ফিরবে এই ব্যাপারে কিছু বলে গেছে কি না। কিন্তু এর একটি শব্দও উচ্চারণ করবার আগেই আমি মাহরুবার ফোন নামিয়ে রাখার শব্দ শুনতে পাই।

টেলিফোনটি টেবিলে রেখে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকি। হতাশায় আমার চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছা করে, কিন্তু আমি মেঝের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সংবরণ করি। অন্ততঃ এখানে এমনটি করা যাবে না। তাহলে দৌড়ে আসবে বাহাউদ্দিন। চাই কি, কি ঘটছে তা জানার জন্য সরদার আমিরুল ইসলামও আসবেন। তাদেরকে আমি কী বলবো? আমার দরকার ধৈর্য ধরা। আজ হোক বা কাল হোক, আমি এখান থেকে বেরিয়ে যাবোই। সেদিন এসব সমস্যা কেটে যাবে। তা ছাড়া কয়েকটি দিন বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে কাজ না করলে তো আমি আমার সব অভিজ্ঞতা হারিয়ে ফেলবো না। রজব আলী সাহেব একজন বুদ্ধিমান লোক। তিনি নিশ্চয়ই তা বুঝবেন। 

টেলিফোন কক্ষ থেকে মৃদু পায়ে হেঁটে আমি আমার কক্ষে যাই এবং বাহাউদ্দিন মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করি। একটি জগে করে পানি নিয়ে এসে সে আমার টেবিলের জগটি ভর্তি করে দেয়, তারপর বলে, “আপনি বসুন, আপনার খাবার নিয়ে আমি এখনই আসছি।” দরজাটি খোলা রেখেই সে রান্নাঘরের দিকে চলে যায়।

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা