তাজ ইসলাম
‘জয়বাংলা’ মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। এই তো দাবী! তাই না? স্লোগান দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করছেন। পরে স্বাধীন দেশরে পরাধীন অঙ্গরাজ্যের সাথে মিলান কেন? শাসকের বেলায় প্রটোকল আছে, রাষ্ট্রের বেলায় নাই? এক দেশের সচিবের সাথে বৈঠক করে অন্য দেশের সচিব।মন্ত্রীর সাথে মন্ত্রী।
এপাড় বাংলা ওপাড় বাংলা যখন বলেন তখন কী করেন? ওপাড় বাংলা একটা দেশের অংশ।অংশত পরাধীন। ভারতকে দেশ বলেন কেন? বলেন অনেক দেশের স্বাধীনতা গিলে খাওয়া যুক্ত দেশ। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় দেশগুলো যুক্ত সে রাজ্যের। সিকিম একটা দেশ ছিল, হায়দ্রাবাদ স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। কাশ্মীর অধিকৃত। কলকাতা, উড়িষ্যা,বিহার নবাবী বাংলার অংশ ছিল। এসব দখল করে রূপ নিয়েছে বিশাল ভারত। ভারত বাংলার লোকেরা বিশাল ভারতের অংশ হয়ে মনের অনিচ্ছাতেই তারা ভারতীয়। পরাধীন হয়েও তারা খুশি হতে বাধ্য। পরাধীনতার মেয়াদ দীর্ঘ হয়ে গেলে স্বাধীনতার ইচ্ছা মরে যায়। বাংলা ভাষীরা ভারতের একটা অংশের নাগরিক।বাংলাদেশীরা পূর্ণ স্বাধীন।
যখন আপনারা এপাড়-ওপাড় বাংলা বলেন তখন হয় জেনে না হয় না জেনে স্বাধীন সার্বভৌম দেশকে হেয় করে ফেলেন। এটি রাষ্ট্রের প্রটোকলে যায় না।
১৯৭১ এ জয়বাংলা বলে দেশ স্বাধীন করলেন।এখন এপাড়-ওপাড়কে সমান করে ফেললেন। সুতরাং এখন যখন জয়বাংলা বলেন তখন প্রশ্নের জন্ম দেন,’কোন বাংলা’?
একাত্তরের পরে এইভাবে জয়বাংলাকে আপনারা খেয়ে দিলেন।
৭১ এর জয়বাংলা নিয়ে আপত্তি ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় জয়বাংলা তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ৭১ এর পর ৭৫ পর্যন্ত কিছু ম্লান হল। নিকট পনের বছরে জয়বাংলাকে একদম নস্যাৎ করেছেন আপনারা। আপনারা কারা? যারা জয়বাংলা নিয়ে মায়াকান্না করেন আপনারা তারা। আপনি না, আপনারা, আপনারা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে প্রকাশ্য রাজপথে হত্যা করেছেন বিশ্বজিৎকে। আপনারা ভোট কেন দিল এই জন্য গণধর্ষণ করেছেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চার সন্তানের জননীকে। আপনারা খুন,গুম,নির্যাতন,লুঠপাট করেছেন জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে। আমার বাবার দেশ,আমার দেশ বলে যেখানে যা পেয়েছেন খেয়ে সাবাড় করেছেন। পনের বছরের ফিরিস্তি অল্প কথায় হয়? বিশাল কলেবর হবে। কথা বললেই বলেছেন রাজাকার,পাকিস্তানের দালাল। তো এখন প্রমাণ হল আপনারা ভারতের দালাল। ভারতপন্থী। জুলাইয়ে যা করেছেন জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে তারপর জয়বাংলা ৭১ এর জয়বাংলায় থাকেনি।জয়বাংলাকে বাংলাদেশীর রাখেননি, বাঙালীর রাখেননি, মুক্তিযুদ্ধের রাখেননি, সংগ্রামের রাখেননি। করেছেন আওয়ামীলীগের, করেছেন হাসিনার। পনের বছরের বাস্তবতা ফ্যাসিস্ট,খুনি, দেশবিরোধী একটা অপশক্তির। কাজেই আজকে যখন জয়বাংলা বলেন তখন চোখের সামনে ভাসে তাজা বুলেট ছুটছে জনতার দিকে,পুলিশ,আওয়ামী গুন্ডারা আক্রমণ করছে ভার্সিটির ছাত্রীটির নরম পিঠে। জুলাইয়ে নির্মম চিত্র নিয়ে হাজির হয় জয়বাংলা। এখনো আপনারা যাকে তাকে অসভ্যের মতো গালিগালাজ করেন জয়বাংলা বলেই। জয়বাংলা বলে অতীত বলেন নিকট অতীত বলবেন না? নিকট অতীত বলে জয়বাংলাকে বিশ্লেষণ করে দেখেন লোকেরা খায় না কি? লোকেরা খাওয়ার আগে আপনারাই জয়বাংলাকে জয়বাংলা করে দিছেন। তেড়ে আসবেন না। আপনার তেড়ে আসার তেজ আম জাতি দেখেছে। শেষ পর্যন্ত পালিয়ে গেছেন। পলাতক হয়ে হম্বিতম্বি করা ভালো ঠেকে না। হেলমেট, হাতুড়িতো জয় বাংলারই অন্য ভার্সন। সুতরাং জয়বাংলাতে এখন ঐতিহ্যের চেয়ে হিংস্রতা বেশি, ঐতিহ্যের চেয়ে বাস্তবতাই জয়বাংলার বর্তমান। জয়বাংলা খেয়েছেন নিজেরাই।







