সোহেল মাহমুদ
১. এই মানচিত্রে বীভৎসতা
……………
তোমাদের দেয়া শেষ উপহার আমি পেয়েছি !
দুঃসহ চাবুকের আঘাত এখনো দৃশ্যমান পিঠে !
পাশবিকতার স্টিমরোলার ঢাকার রাজপথের মত,
এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত !
আমার পৃষ্ঠদেশ যেন এক বিধ্বস্ত ক্যানভাস !
তোমাদের শৈল্পিক বীভৎসতা জয়নুলের আঙুলের মতো,
বুকের মানচিত্রে এঁকে দিয়েছে পৈশাচিক এক পোট্রেট !
এতদিন সাদা কালো পৃষ্ঠায় মানুষের বিবরণ পাঠে,
নষ্ট করেছি সময়।
আজ তোমাদের জিঘাংসার চোখ,
আর আমার হৃদয় মন্দির ভাঙ্গনের শব্দ শুনে বুঝলাম,
তাহলে তোমরাই মানুষ ?
তোমরাই নির্মাণ করবে
কোন এক নষ্ট আগামীর অন্ধ ভবিষ্যৎ ?
তোমাদের হাতে কলম নয় , আগ্নেয়াস্ত্র !
তোমাদের হাতে পুস্তক নয় , বিস্ফোরক !
জানি আমাদের মৃত্যু পরোয়ানা তোমাদের হাতে !
আমাদের নিঃসীম স্বপ্নেরা বন্দি তোমাদের কারাগারে!
তবু এখনো রয়ে গেছো অতৃপ্ত,
এখনো অসমাপ্ত লেলিহান অগ্নিশিখা !
তোমাদের আগুনে পুড়ে ছাই ভস্ম হতে ,
এখনো অপেক্ষমান শত সহোদর।
আর কত আবরার নিশ্চিহ্ন হলে পরিতৃপ্ত হবে তোমরা?
আর কত মায়ের অশ্রু বিসর্জনের প্রতীক্ষায়,
নিশ্চিত মৃত্যুর পরোয়ানা হাতে নিয়ে,
এখনো অপেক্ষমান বিধ্বস্ত করোটিতে !
আর আমরা স্বাধীন বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ,
নিছক ভদ্রলোকের মত অবলোকন করছি,
এইসব বীভৎসতার নীরব দর্শক হয়ে !
আবরার হত্যায় ব্যতীত হতে হতে ১৬ কোটি বাঙালি, আবারও ঘুমিয়ে পড়বে একদিন !
পাশবিকতায় আধুনিক ত্রাসে সজ্জিত হবে নরপশুরা !
একদিন, এক মাস, এক বছর বাদে আবারো,
নব যৌবনে জেগে উঠবে জাহান্নামের প্রেতাত্মারা !
আর এই আমরা সুবোধ সন্তানের মত
আবারও ব্যতীত হবো !
আবারো অশ্রুপাত করব কয়েকফোটা, কয়েক মুহূর্ত !
নরপশুদের রক্তে ভেজা হাতে
আবারও রচিত হবে নষ্ট ইতিহাস !
নির্বিচারে এইসব হত্যার অপ্রতিবাদে,
তোমরা ঘুমিয়ে থাকো মৃত্যুর ঘুমে !
আর এই আমি নিগৃহীত বিবেকের প্রচন্ড তাড়নায়,
গলিত সভ্যতার নষ্ট নৈতিকতার বিরুদ্ধে,
দ্রোহের ভিসুভিয়াস হয়ে উঠবোই জ্বলে !
অবশেষে নরপশুদের নিশ্চিহ্ন করে,
চিরতরে বিতাড়িত করে এই স্বাধীন মানচিত্র থেকে,
অহিংস সোনার বাংলা গড়ার ঈপ্সিত প্রত্যয়ে,
৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা এই মৃত্তিকায়,
উড়াতেই হবে শান্তির শুভ্র পতাকা,
৫৬ হাজার বর্গমাইলের রক্তস্নাত এই বাংলায় !
১৩/১০/১৯
২. একজন আবরার।।
……….
চাইলে পারি সকাল হতে, আগুনপোড়া রোদ !
নিতে পারি আমার খুনের সকল প্রতিশোধ !
ঘরে পোষা অ্যালসেশিয়ান, ঘরভরা ঘেউঘেউ;
চোখের তলে জীবন্ত লাশ, কেউ দেখে না, কেউ!
ধান-শালিকের মতোই ছিল উড়ন্ত উচ্ছ্বাস,
এখন আমার নিজের খুনে, লাল হয়েছে ঘাস!
আমার বুকে স্বীকৃত ক্ষুর, সরকারি শৃংখল,
ওদের মুখে দ্বিগবিজয়ের নগ্ন কোলাহল !
নিজের কবর নিজেই খুঁড়ি, কাফনজুড়ে ঘাম,
মরদেহের প্রাপ্তি হলো আকণ্ঠ বদনাম!
মরেগেছি মরার বুকে অকথ্য বিদ্রূপ,
শ্মশান নাকি জন্মভূমি? সবাই দেখি চুপ!
কেউ দেবে না সাক্ষী সাবুদ– জঘন্য হত্যার,
আমার খুনের বদলা নেবে– অসংখ্য আবরার!
১২/১০/১৯







