বেনজীন খান
[আজ ঠিক ৬ বছর হলো। তোমার শহীদ হওয়ার ৫ বছরের মধ্যেই প্রতিশোধ হয়ে গেছে, আবরার বাবা আমার। বলেছিলাম না, তোমার মৃত্যুতেও যদি প্রতিশোধ না হয়, তবে যে প্রকৃতির অনেক সত্য মিথ্যা হয়ে যাবে…]
এক || আর্তনাদ
——
আবরার ফাহাদ তুমি ঘুমাও, বাবা
তোমার মৃত্যুতেও যদি প্র’তি’শো’ধ না হয়
তবে যে প্রকৃতির অনেক সত্য
মিথ্যা হয়ে যাবে!
তোমার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে
আজ উদোম হয়ে গেছে
আমাদের স্বাধীনতা
আমাদের বা’কস্বা’ধী’নতা!
আবরার, তুমি ঘুমাও
তোমার ছোট্ট একটি স্ট্যাটাসের ওজন
বহন করতে পারে না যে দেশ
সে তোমার মাতৃভূমি নয়!
ত্রিশলক্ষ মানুষের শা’হাদা’তের বিনিময়ে
যে দেশ আমরা ক্রয় করেছিলাম
সে দেশ আজ বে-হাত হয়েছে
তোমার মৃত্যু এ আওয়াজ পৌঁছে দিয়েছে
উত্তর থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে!
এই অপরিচিত দেশ
কেউ চিনে না, কেউ না
আবরার, তুমি ঘুমাও বাবা
বিষাক্ত বারুদ ফুঁসছে…
০৭/১০/১৯
দুই || চিঠি
——
আবরার!
আমার বাবা, আমার কলিজার টুকরা। তুমি অভিমান করেছ জানি! কতগুলো বুনো শু’য়ো’র যখন তোমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, ঠেকাতে পারিনি বলে! তোমার শরীরে প্রতিটি আ’ঘা’তের শব্দ শুনতে পাইনি বলে! তোমার কাতর কন্ঠের বাবা ডাকে আমার কান ছিদ্র হয়ে যায়নি বলে!
বাবা আমার!
তুমি অভিমান করেছ! লা’ঠির আ’ঘা’তে আ’ঘা’তে তোমার শরীরের প্রতিটি শিরা উপশিরা যখন ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছিল তখনো তোমার মা কেমনে ঘুমিয়ে ছিল ভেবে!
বাবা!
আমাদের কাছে উত্তর নেই…
তবে এতটুকু বলব——ওরা তোমার মুখ বন্ধ করতে পারেনি! পৃথিবীর সবকটি মিডিয়া আজ তোমার মুখ হয়ে গেছে। তোমার নিথর দেহের সামনে ১৭ কোটী জীবিতরা আজ অপরাধী হয়ে গেছে! আমি আর তোমার মা বোবা হয়ে গেছি!
আবরার, বাবা আমার!
২১ বছরের ছোট্ট জীবনে না চাইতেই তুমি দিয়েছ অনেক—, তোমার জগতের সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট গুলো।
আমার বাবা!
আজ তোমার মা আর আমি একটা জিনিস চাইব, শুধু একটা। বলো, দিবে? বলো-বলো…
আমাদের তোমার কাছে নিয়ে চলো! বড় ভারি এই পাথরচাপা বুক’টা আর বইতে পারছিনা!
আমাদের নিয়ে চলো, বাবা! আমাদের নিয়ে চলো…
তোমার অধম বাবা!
০৯/১০/১৯







