খান কাওসার কবির
সম্প্রতি হাতে পেলাম কবি ও সাহিত্য সমালোচক তাজ ইসলাম-এর সমসাময়িক বিষয়ক ৩টি বই। ‘গণ অভ্যুত্থানের ৩৬ জুলাই কবিদের ভূমিকা ‘, ‘বাংলা বসন্ত’ এবং ‘ বিসমিল্লাহতে গলদ নাই’। প্রথমটি প্রবন্ধ, দ্বিতীয়টি কবিতা এবং শেষেরটি ছড়ার বই। প্রথম দুটির প্রকাশক: সাজ্জাদ বিপ্লব (ফেব্রুয়ারি ২০২৬), শেষেরটির প্রকাশক, ইনভেলাপ পাবলিকেশন্স (মার্চ ২০২০)। বই ৩ টি বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধন্যবাদ জানাই লেখক ও প্রকাশককে।
গণ অভ্যুত্থানের ৩৬ জুলাই কবিদের ভূমিকা:
………………..
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ‘গণ অভ্যুত্থানের ৩৬ জুলাই কবিদের ভূমিকা ‘, শীর্ষক বইটি লেখকের একটি সাহসী পদক্ষেপ। সাহস করে এই ধরনের বই দ্বিতীয় কোন লেখক লিখেছেন কি-না আমার জানা নেই। কোন্ কোন্ লেখকেরা ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন, কারা ফ্যাসিস্টের পক্ষে ছিলেন, আবার কারা নিরবে থেকে ফ্যাসিবাদের সমর্থন জুগিয়েছিলেন, সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও আমরা জেনেছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মরা হয়তো একদিন জানতে পারবে, কোন্ কোন্ লেখক বা বুদ্ধিজীবীরা, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পক্ষে ছিলেন। এই বইটি তাই নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক দলিল।
২৪ এর গণ অভ্যুত্থানে আমরা একটি প্রতীকী সংখ্যা পেলাম, আর তা হল ৩৬ অর্থাৎ ৩৬ জুলাই এর গণ অভ্যুত্থান। এই সংখ্যাটি নিয়ে সবার আগ্রহ। যদ্দুর জানা যায়, শাহেদ আলম, মতান্তরে মোঃ সামসুল আলম ‘৩৬ জুলাই’ কথাটি প্রথম উচ্চারণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোঃ শামসুল আলম, তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলে—একটি ফেসবুক পোস্ট করেন এবং বলেন:
“July has been extended until victory – today is the 32nd, tomorrow is the 33rd… in this way, the calendar of liberation will end with victory!”
অর্থাৎ, তিনি প্রতীকীভাবে জুলাই মাসকে দীর্ঘায়িত করেছেন বিজয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া পর্যন্ত—ফলস্বরূপ অগাস্ট ৫ তারিখকে “৩৬শে জুলাই” বা “July 36” হিসেবে নাম দেন। ( সূত্র: ফেসবুক ও সোসাল মিডিয়া, তবে তথ্যটি সত্য কি-না তা গবেষণার দাবী রাখে।)
বাংলা বসন্ত:
………………
‘বাংলা বসন্ত’ নামকরণটিও আরব বসন্ত-এর একটি সমান্তরাল যুগল শব্দ। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ায় শুরু হয় এবং ২০১১ সাল জুড়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আরব বসন্ত নামক এই গণ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল স্বৈরশাসন, দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে একটি গণবিপ্লব। পরিশেষে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বোয়াজিজির পতন ঘটে ।
আমাদের দেশের ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও অনেকটা এ রকম। কবি তাজ ইসলাম চমৎকার করে তাঁর অনূভুতি প্রকাশ করেছেন কবিতায়, তাঁর নিজস্ব কাব্য ঢঙে, শব্দে আর ভাষায়। ব্যবহার করেছেন অসংখ্য প্রতীক, উপমা আর দর্শন যা পাঠককে ভাবায়। লিখেছেন,
শ্লোগানের উপর নেমে আসছে/ একদল হিংস্র লাঠি/ গরম জলের আক্রমণ /সুসজ্জিত হেলমেট(শ্লোগান)…….।
বিসমিল্লাহতে গলদ নাই:
……………………
এটি একটি ছড়ার বই। অত্যন্ত সাবলীল শব্দ, ভাষা ও স্বরবৃত্ত ছন্দে ছড়াগুলো লিখেছেন। ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করেছেন স্বৈরাচারের প্রতিটি আচরণকে। এটাও একটা তাঁর অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ, কারণ বইটি প্রকাশ করেছেন ২০২০ সালে, যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ছিলেন এবং বিভিন্ন আইন কানুন করে জনগণের বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করেন ।
তিনি লিখেছেন,
আপনি যে স্যার স্বৈরাচার /বুঝছি অনেক পরে
কিন্তু এখন রক্ত নদী /থামাই কেমন করে
স্বৈরাচারের এমন ধারা/ কেউ নামে না রক্ত ছাড়া।(স্বৈরাচার)
পরিশেষে আমি লেখকের সুস্বাস্থ্য ও তার দীর্ঘ সাহিত্য চর্চার মঙ্গল কামনা করি।
…………
ঢাকা।








সংগ্রহ রাখার মতো বই। ঐতিহাসিক আকরগ্রন্থ।