এনামূল হক পলাশ
ইলেকশন
…………………..
কূপের ভেতরে একটি শিশুর পড়ে যাওয়া
নিতান্ত মামুলি ঘটনা হয়ে যায় যখন,
তখনই গণতন্ত্র রক্ষার জন্য দেশে প্রয়োজন
একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে কোমায়
চলে যায় যখন আমার সন্তান,
ঠিক সেই মুহূর্তে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য দেশে
একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন।
এই শীতে ইলেকশন হবে
রক্তের দাম চুকিয়ে দিতে।
এই শীতে ইলেকশন হবে
আনুগত্যের বিনিময়ে প্রাণ নিতে।
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, নেত্রকোণা
মৃত্যুর পাঠ
……………………..
কারো কারো মৃত্যু
অনন্ত মহাজীবনের সমান।
কারো কারো মৃত্যু
এক মহাজাগতিক ভ্রমণ।
আমরা জেনে গেছি–
জীবন যতোটা না ক্ষমতাবান,
মৃত্যু তার চেয়ে বেশি শক্তিমান।
-১ জানুয়ারি ২০২৬
বিচার
…………………..
আমাদের জামাগুলো কেড়ে নিয়েছে
বাটপারের দল।
ওরা সবাইকে উলংগ করেছে আবার।
আমরা কুয়াশার চাদর পড়ে
অনাগত সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছি।
আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার
রোজ কেয়ামতে হবে ইনশাআল্লাহ।
৮ জানুয়ারি ২০২৬
খামেনির জন্য শোক
…………………………………..
পাশাপাশি দুটি শিমুল গাছে
লাল আর হলুদ বসন্ত বইছে।
বাতাসের হঠাৎ শীতল পরশে
কলিজাটা হিম হয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ঝড় উঠেছে।
সেই ঝড়ে আড়াল হয়েছেন খামেনি।
মিসাইলের আঘাতে দক্ষিণে ঝরে গেছে
শতাধিক ইরানি গোলাপ।
আবু জাহেল সবংশে ফিরে এসে
নজদ থেকে হেজাজে রাজত্ব করছে।
বিপুল ধ্বংসস্তুপের ওপাশে দাঁড়িয়ে
একটা শুয়োরের বাচ্চা মানুষের
মুখোশ পড়ে উল্লাস করছে।
পাশাপাশি দুটি শিমুল গাছে
লাল আর হলুদ বসন্ত বইছে।
এবার,
ইমাম মাহাদী আসবেন,
পৃথিবী জুড়ে শীতল বাতাস বইবে।
১ মার্চ ২০২৬
অচল মালের কবিতা
……………………………………
আমার ঘাড়ের ওপর
স্বর্ণলতার বোঝা।
দূর থেকে মানুষ দেখে এক
বিপন্ন বড়ই গাছ।
আমিই কি সেই গাছ?
দাঁড়িয়ে আছি ঠায়
অচল মালে চাপা পড়ে।
-১২ মে ২০২৬
অচল মালের কবিতা ০২
………………………………………….
নারীবাদীরা এনজিওর ওপর ভর করে
সচল করেছে অচল মালের ফ্যাক্টরি।
তাদের প্রোডাকশন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে
বাজার থেকে বাজার হয়ে প্রতিটি ঘরে।
অচল মালের মহান সাম্রাজ্যের সাথে
আপোষ করে টেকার চেষ্টা চালাচ্ছেন
মহামতি ধর্মীয় পান্ডার দল।
এনজিও, নারীবাদ, মোল্লা, পুরোহিত, যাজক
মূদ্রামানে সমানে সমান।
সংস্কৃতির নামে সঙ সেজে ঘুরে বেড়ানো
মূর্খের দল অগোচরে ভেঙে দিচ্ছে সমাজ।
বাতাসে ভর করে শুকনো পাতার মতো
এলোমেলো উড়ছে আমাদের পরিবার।
অথচ মানুষের সংস্কৃতি মূল কথা ছিল
অচল মাল সচল রাখার একনিষ্ঠ ধ্যান।
সারা রাজ্যজুড়ে চেপে বসে আছে অচল মাল।
তারপর-
এনজিও, নারীবাদ, মোল্লা, পুরোহিত, যাজক সহ
আমি কাউকেই এখন আর বিশ্বাস করি না।
-১৩ মে ২০২৬
তারা আমাদের কেউ নন
(কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে)
…………………………………………
একজন মানুষের মৃত্যুতে
যারা উল্লাস করে
তারা আমাদের কেউ নন।
আমরা তো অতীতেও
ইন্নালিল্লাহ পড়েছি
অনেক পাষন্ড মানুষের মৃত্যুতে।
বিচারের মালিক তো মহান আল্লাহ
যার সামনে দাঁড়াতেই হবে একদিন।
যারা দাঁড়াবেন না
তারা হাত তুলুন।
তারা আমাদের কেউ নন।
-১৬ মে ২০২৬
এখলাছ
…………………..
কুলহু আল্লাহু আহাদ
তুমি মহা জগতের মালিক।
কারও তুমি ধারো না ধার
অপেক্ষায় থাকি তোমার করুণার।
তুমি অনন্ত অসীম শুরুহীন
তোমা থেকে কেউ হয়নি আসীন।
তুমি তুলনা বিহীন আমার আল্লাহ
তুমি অবিভাজ্য অখণ্ড আল্লাহ।
কাওছার
…………………………
ইন্না আতাইনা কাল কাওছার
ফাসাল্লি লি রাব্বিকা ওয়ানহার।
তোমার দয়ায় পেয়েছি আবে কাওছার
সেজদায় শুকর জানাই দয়াময় আমার।
চেষ্টায় আছি সালাত কায়েমের
কবুল করো হে কুরবানী আমার।
তোমার দয়া যারা করে অস্বীকার
আখেরে চূড়ান্ত ক্ষতি হবে তার।







