আবু তাহের তারেক
জুলাই ঘইটা গেল। বাম-বাকশালী হেজিমনি মাইর খাইল। কিন্তুক, আমরা আবারো, বাম বাকশালিদের তৎপরতা খিয়াল করতে শুরু করলাম। আদতে, তাহারা তাহাদের স্থান বা শক্তি কিছুই তেমন একটা লস করেন নাই। জুলাইয়ের মোমেন্টামের সময় তাদের হেজিমনি ও ডমিনান্স কিছুটা হাতছাড়া হইছিল মাত্র। এখন তারা কালচারাল হেজিমনি ফিরে পেতে, বিভিন্নরকম কর্মকান্ড হাতে নিছেন– খিয়াল করা যাইতেছে।
যেই হেজিমনির জোরে আমরা জুলাই ঘটাইলাম, তার দম জারি রাখতে আমরা মোটাদাগে ব্যর্থই প্রমাণিত হইছি। কিন্তুক, কেন হইছি, তার কারণ অনুসন্ধান করছি কই!
জুলাইয়ের মতন রীতিমত বিপ্লব ঘটার পরেও, আমরা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়া দিলাম বাংগালি জাতীয়তাবাদের ঘরে। আমরা আমাদের করিম-রহিম বা ব্রাত্য লোকায়তদেরকে (ইনক্লুডিং মাইনরিটিজ) প্রাপ্য সম্মান দিতে পারলাম না। তাহলে জুলাইয়ের কালচারাল প্রমিজ কিভাবে রক্ষিত হইল!
আমরা খিয়াল করতেছি, অ-বাম, জুলাইপন্থী বা বাংলাদেশপন্থীরা বিরোধীদের লগে লড়াই করতে করতেই অধিকাংশ সময় পার করতেছেন। তাতে কি! বিরোধীরা ঠিকই তাদের শক্তি টিকায়া রাখতে সক্ষম হইতেছেন।
নিচের পয়েন্টগুলা এই সমস্যার জায়গা হইতে উদ্ভুত। আমরা জুলাইয়ের পরে কিভাবে জুলাইরে জারি রাখতে ও তারে হেজিমনিক, এইভাবে, ডমিনান্ট রাখতে পারি; নিচের পয়েন্টগুলা তারই কথা বলে–
০১. বাম-বাকশালীদের প্রতিরোধ করা জরুরী। কিন্তুক, শুধু বাম-বাকশালীদের প্রতিরোধ করলেই সবকিছু হবে, এমন না। (এদিকে, এও মনে রাখা দরকার, যে ‘বাম’ মানেই হরেদরে ‘বাটপার’ না)!
০২. ‘৪৭ এর পরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখি যে, ‘বাংগালি পরিচয়বাদ’ মাথাচাড়া দিয়া উঠে, ‘মুসলিম পরিচয়বাদের’ “সংকীর্ণতার” জায়গা হইতে। আমাদেরকে তাই, মুসলিম পরিচয়বাদের দুর্বলতাগুলারে চিহ্নিত করতে হবে। এর থেকে উত্তরণের পথ খুজতে হবে।
০৩. বাম-বাকশালীদের ন্যারেটিভের জায়গায়, নিজেদের ন্যারেটিভ এস্টাবলিশ করতে হবে। এইটা তিন স্তরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব–
ক. নেতৃত্বশীল প্রিন্ট মিডিয়া ও প্রতিষ্ঠান তৈয়ার করতে হবে।
খ. গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রতিষ্টানের কালচারাল নেতৃত্বে ‘মেরুদন্ডসম্পন্ন’ ও ‘আকলমন্দ’ লোকদেরকে নিয়ে আসতে হবে।
গ. সরকারী ও বেসরকারী পুরস্কারগুলা যোগ্যতাসম্পন্ন ও বাংলাদেশবাদী লোকদেরকে দিয়ে, তাদের ভয়েসরে পাওয়ারফুল করতে হবে।
০৪. প্রিন্ট-মিডিয়ার সম্পাদকদেরকে ‘বাংলাদেশী পরিচয়ের’ জায়গায় বেশী ফোকাস দিতে হবে। অতিরিক্ত মুসলিম পরিচয়বাদীতা পরিহার করতে হবে।
০৫. যাদেরকে কথা বলতে বেশী বেশী ডাকা হয়, তাদের উচিত, গুরুত্বপূর্ণ অন্যদের নাম-ধামও একটু আধটু লওয়া। এতে করে, পাঠের একটা ব্যালান্সই তৈয়ার হবে, তা না; বরং, এমন একটা পরিবেশ তৈয়ার হবে, যা সার্বিক হেজিমনি তৈয়ারে ভূমিকা পালন করে। এইজন্য দম্ভ, অহমিকা ও অতিরিক্ত লোভ ত্যাগ কইরা, একটা কমন প্লাটফর্মের লাগি, যৌথভাবে কাজ করতে পারতে হবে।
০৬. আমাদের শিল্প ও সাহিত্যে বাঁক বদলের দরকার– এই কথা বলার চাইতে, যেই বাঁক বদলের কারণে জুলাই ঘটল; তারে মূল্যায়ন করার কথা বলা অধিকতর সংগত ও জরুরী। আমরা একটা আধুনিক-উত্তর বাংলাদেশী কালচারাল পরিবেশে বিরাজ করি। এরে মূল্যায়ণ ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রয়োজন।







