প্রচ্ছদকবিতাজুলাইয়ের কবিতা

লিখেছেন : কাজী জহিরুল ইসলাম

জুলাইয়ের কবিতা

কাজী জহিরুল ইসলাম

রক্ত-জুলাই
……..

রাজপথ জুড়ে ছড়ানো গ্রাফিতি
ঐক্যে মোড়ানো কী-যে সম্প্রীতি
শহীদ হয়েছে কত বোন, ভাই
লিখেছে সে-কথা রক্ত-জুলাই।

শ্রমে, ঘামে আর সৃজনানন্দে
ক্লান্তি বিহীন হর্ষ-ছন্দে
স্বদেশ গড়ার মহা-উৎসব
গণমানুষের এই বিপ্লব।
হাতে হাতে ঝাড়ু, কাস্তে-কোদাল
সাফ করি পাপ, মোহ জঞ্জাল
পথে পথে লেগে আছে যত কালি
স্বৈরাচারের ধুলো, কাদা, বালি
ধুয়ে মুছে সব ঝকঝকে সাফ,
বিকশিত আজ আলো-ইনসাফ।
সকলে ব্যাকুল হাত খুলে দিতে
এ-প্রিয় স্বদেশ প্রাণের মাটিতে।

হাতে হাতে কাজ কণ্ঠে স্লোগান
নতুন ফসলে ভরা উদ্যান;
নির্ঘুম রাত, জেগে আছে পাড়া
সোনার ফসল দিচ্ছে পাহারা
ছেলে-বুড়ো সব, ছাত্র-জনতা।
অন্ধকারের নিস্তব্ধতা
খান খান করে ভেঙে দিয়ে আজ
গণমানুষের কুচকাওয়াজ
দারুণ বাজছে তীব্র মুখর
কাঁপিয়ে রাতের ত্রস্ত প্রহর।

কত রাত পরে এলো এই ভোর
নৈতিকতার আলো-উন্মেষ
এখনো দুচোখে স্বপ্নের ঘোর
সত্যি কি জেগে উঠেছে এ-দেশ?

হলিসউড, নিউইয়র্ক। ১৪ আগস্ট ২০২৪

আন্দোলনের গান
…………..

রাঙা রাজপথ, শত শহীদের রক্তের আল্পনা
আত্মত্যাগের এই ইতিহাস কোনোদিন ভুলবোনা।।

কত বুক তুমি ঝাঁঝরা করবে আমরা যে অগণিত
সাহসে মোড়ানো এই বুকে আজ অধিকার বিম্বিত
দুঃশাসনের শৃঙ্খল ছিঁড়ে
ছাত্র-জনতা মানুষের ভিড়ে
এনেছি সত্য সাম্যের গান ছন্দের মূর্ছনা।

এখানে আমরা বৈষম্যের কবর রচনা করি
তপ্ত দুপুরে তৃষিত কণ্ঠে ঐক্যের গান ধরি।

চিল শকুনের নখের আঁচড়ে স্বাধীনতা বিক্ষত
হুশিয়ার করি ব্যারেলের গুলি রাখো তুমি সংযত
কত লাশ নেবে, আর কত খুন?
পেছনে তাকাও আসছে দ্বিগুণ
দাবী আদায়ের লক্ষ্যে অটল কেউ ঘরে ফিরবো না।

৩০ জুলাই ২০২৪

এখনই সময়
…………..

পুলিশ করেছে পুলিশের ছেলে খুন
দাউ দাউ জ্বলে বাংলাদেশে বিদ্রোহের এ-আগুন,
তরতাজা প্রাণ বিদ্যালয়ের শিশু
ক্রুশকাঠে নয় বুলেটবিদ্ধ যীশু,
লুটেরা শাসক করছে লুটতরাজ
যীশুদের গান নতুন আকাশে সূর্য উঠেছে আজ,
আর নয় লুট, খুন, ধর্ষণ, মিথ্যের জঞ্জাল
বুকের রক্তে রাঙা রাজপথ আকাশে আকাশে লাল,
লালের ঝাণ্ডা উড্ডীন আজ রাজপথে বিপ্লব
মিথ্যে দেমাগ অহমিকা যত ভেঙে-চুরে দেব সব,
এসো ভাই-বোন, ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী গুরুজন
লাল-সবুজের পতাকার নিচে দৃঢ় হোক বন্ধন।
এ-সময় যদি চুপ করে থাকো তুমি
‘পক্ষ নেবো না’ এই কথা বলে চালাও গোয়ার্তুমি
বেঈমান বলে চিহ্নিত হবে, ভুলবে না এই জাতি,
হও না যতই লাট-বাহাদুর ক্ষমতাধরের নাতি।
আর যদি করো মিথ্যার সাথে আপোষ?
তুমি হয়ে যাবে স্বৈরাচারীর পাদুকা মোছার পাপোষ।
সময় যে বড়ো কম
এখনই সময় শিরদাঁড়া তুমি সোজা করো একদম,
হাতে হাত ধরে সামনে এগিয়ে চলো
কন্ঠে স্লোগান, আকাশ কাঁপিয়ে সত্যের কথা বলো,

কালো রাত্রির আঁধার ছিন্ন করে
আনবো এবার নতুন সূর্য ঘরে।

হলিসউড, নিউইয়র্ক। ৩০ জুলাই ২০২৪।

শহীদ মুগ্ধকে লেখা চিঠি
…………

মুগ্ধ,
তোমাকে যখন এই চিঠি লিখছি তখন আমার করতলে,
সেলফোনের নীল আলোর নিচে,
তোমার বন্ধু রবিউলের একটি রক্তাক্ত স্ট্যাটাস,
বলাই বাহুল্য এই রক্ত তোমারই দেহ থেকে নেমে এসেছে
এবং সেই রক্তে এখন ভেসে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

রবিউল লিখেছে, যখন তোমরা দুই বন্ধু স্বপ্নপুরি আবাসিক প্রকল্পের
এক টিনশেডে থাকতে,
রাতের কুয়াশা জমে জমে ভোরের দিকে টিনের চাল বেয়ে
গড়িয়ে পড়তো তোমাদের লেপের ওপর, তোমাদের জীর্ণ তোষকের ওপর,

এই রকম একটা দিন আমারও ছিল।

সত্তুরের দশকে, আশির দশকের শুরুর দিকে,
ঢাকার শহরতলী বাড্ডার এক টিনশেডে আমিও বেড়ে উঠেছি,
শীতের জমানো কুয়াশায় অজু করে তখন জেগে উঠত প্রতিটি ভোর,
সেই দারিদ্রের মধ্যে ছিল স্বপ্নের উষ্ণতা, মায়ের স্নেহ, পিতার ভালোবাসা, ভাই-বোনের আলিঙ্গন,
স্বপ্নের ওমে ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হচ্ছিল আমার কৈশোর।

আজ, দু’হাজার চব্বিশ সালের জুলাই মাসে, নিস্তব্ধতার গভীরে ডুবে থাকা এক ভোরবেলা,
নিউইয়র্কের একটি সুসজ্জিত লিভিংরুমে বসে
রবিউলের স্ট্যাটাস পড়তে পড়তে
আমার দুচোখে জমা হচ্ছে স্বপ্নপুরির সেই কুয়াশা,
ভিড় করছে দূরের বাড্ডার কুয়াশাবিন্দুরা,
চশমার কাচ অতি দ্রুত ঘোলা হয়ে যাচ্ছে, আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে।

চশমার নিচে জমা হওয়া কুয়াশারা ক্রমশ ভারী হতে থাকে;
এবং এক সময় ওরা নিজেদের চেয়ে বড়ো হয়ে যায়,
চোখের সীমান্ত পেরিয়ে তখন নেমে আসে অপমানে লাল হয়ে ওঠা আমার দুই গালে;

এরপর সেই স্রোতধারা হরহর করে ছুটে যায় আরো গভীর কোনো বেদনাকেন্দ্রের দিকে,
সেই পবিত্র কুয়াশার জল গড়াতে গড়াতে ছুটে চলে আমারই বুকের বাঁ দিকটা লক্ষ্য করে;
সম্ভবত এখন আমি কিছুটা বাঁ দিকে ঝুঁকে বসেছি,
জলেরা কখনো ব্যাকরণের অবাধ্য হয়েছে, এমন শুনিনি।

এবার ওরা থমকে দাঁড়ায় ঠিক সে জায়গাটিতে,
যেখানে আমার সদ্য মেরামত করা হৃদয় প্রচণ্ড ক্রোধে রেলগাড়ির ইঞ্জিনের মতো ধরাস ধরাস করে লাফাচ্ছে,
হয়ত আমার নতুন হৃদয়খানি এক আশ্চর্য চৌম্বক শক্তি অর্জন করেছে।

রবিউল আরো লিখেছে, তুমি খুব উদাসীন ছিলে,
একদমই নিজের খেয়াল রাখতে না,
আর ছিলে ভীষণ পড়ুয়া,
প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও ছুটে যেতে ক্লাসে,
যদিও মাঝে মাঝে শিক্ষকই ক্লাসে আসতেন না,
তবু তুমি জেদ ধরতে, হেরে গেলে চলবে না, পৃথিবীর মানুষ ঝড়-বৃষ্টিকে জয় করেছে কত আগেই,
মানুষ তুষারপাত ঠেলে কাজে যায়, ক্লাসে যায়,
মরুর হাবুব ঠেলে যায়,
পাহাড় কেটে সুড়ঙ্গ-পথ বানায়,
ডুবো জাহাজে চড়ে জলের অতল স্পর্শ করে,
আর আমি, রূপসা নদীর স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেড়ে ওঠা এই আমি,
বৃষ্টির কারণে ক্লাসে যাবো না, সে-কী হয়?

ওরা, বন্ধুরা, তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকিয়ে
মুগ্ধ হয়ে শুনত সেসব কথা,
বন্ধুরা যথার্থই বলতো, তোমার চোখ দুটি সারাক্ষণ হাসে,
কী মায়া, কী মায়া সে হাসিতে,
এজন্যই কী মা তোমার নাম রেখেছিলেন মুগ্ধ?

মা টেলিফোন করে বলতেন, বাবা রবিউল, তুমি মুগ্ধকে দেখে রেখো,
মা হয়ত জানতেনই না, তুমি এখন অনেক বড়ো হয়ে গেছ,
তুমিই বরং দেখে রাখছ সহপাঠীদের,

যখন তোমার বন্ধুরা মেধার সঠিক মূল্যায়নের জন্য নেমে এসেছে রাজপথে,
বুক দিয়ে ওদের আগলে রাখবে বলে তুমি ছুটে গেলে মিছিলের পুরোভাগে;

টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন তোমার দু’চোখ;
চোখের পানি মুছতে মুছতে তুমি
ছুটছিলে বন্ধুদের দিকে,
হাতে তোমার ভারী পানির ক্রেট,
তুমি চিৎকার করে বলছিলে, “পানি লাগবে পানি, ভাই, পানি লাগবে?”
ঠিক তখনই ঘাতক পুলিশের নির্মম বুলেট এসে বিদ্ধ হয় তোমার মাথায়,
তুমি লুটিয়ে পড়ো আন্দোলনের রাজপথে,
এমনি করেই একুশের দুপুরে ভাষাশহীদ রফিকের মাথা দুভাগ করে দিয়েছিল দখলদার পুলিশ ঊনিশ’শ বায়ান্ন সালে।

তুমি যেমন বিশ্বাস করতে পারোনি, আমরা কেউই বিশ্বাস করিনি,
আমাদেরই করের টাকায় কেনা বন্দুক, আত্মরক্ষার বুলেট,
আমাদের নিরাপত্তা দেবে বলে যারা শপথ করেছিল,
সেই জালিম শাসক, নির্দয় পুলিশ আমাদেরই বুক লক্ষ করে ছুঁড়তে পারে।

মুগ্ধ, তোমারই মতো আমিও একটি জীর্ণ টিনশেডে বেড়ে উঠেছি,
স্বপ্নের পথে ছুটতে ছুটতে আজ আমি কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি?
একেই কী সাফল্য বলে? স্বপ্নের চূড়ান্ত লক্ষ্য?

নিজেকে আজ খুব অপরাধী মনে হচ্ছে, তোমাদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাধীন বাংলাদেশ রেখে আসতে পারিনি,
এখনও শাসক নামের নরঘাতকেরা
আমাদের সন্তানের বুক বুলেটের আঘাতে ঝাঝরা করে দেয়
ইয়াহিয়া-টিক্কা খানের চেয়ে বহুগুণ অধিক নিষ্ঠুরতায়।

মুগ্ধ, তুমি চেয়েছিলে ছাত্ররা মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হবে,
কিন্তু আফসোস এদেশের কোথাও মেধার কোনো মূল্যায়ন নেই,
দালাল, চাটুকার আর লুটেরাদের নখের থাবার নিচে আজ বাংলাদেশের মানচিত্র,

কিন্তু আমি হতাশ নই, আমরা যা করতে পারিনি,
তুমি, তোমরা তা করে দেখিয়েছ,
তুমি হেরে যাওনি মুগ্ধ, তুমি হারতে পারো না।

মুগ্ধরা হেরে গেলে যে হেরে যাবে বাংলাদেশ,
হেরে যাবে ইনসাফ,
হেরে যাবে মানবতা, মানুষের অধিকার…

তোমাদের রক্তে আজ নরোম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ,
এবার নরোম মাটি ফুঁড়ে উঠে আসবে সুশাসনের সোনালী শস্য,

বাংলাদেশ আজ বহুদিন পর খুঁজে পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা,
সেই চেতনার খোঁজ তোমরাই দিয়েছ;

তুমি চেয়েছিল পাষণ্ডদের হাত থেকে বন্ধুদের রক্ষা করতে,
ভেবো না তুমি ব্যর্থ হয়েছ,
তোমার নিথর দেহ আজ এতোই শক্তিশালী আর ভারী যে,
পুলিশের ধাওয়া, জলকামানের গোলা কিছুই তাকে নাড়াতে পারছে না,

বরং ওরা এখন তোমার ভয়ে ইঁদুরের মতো পালাবার গর্ত খুঁজছে।

তুমি হয়ত টের পাচ্ছ যে প্রতি মুহূর্তে তোমার হাতের সংখ্যা জ্যামিতিক হাড়ে বাড়ছে,

তোমার পায়ের সংখ্যা অতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে,
বাড়তে বাড়তে বাংলাদেশের সকল হাত এখন মুগ্ধের হাত হয়ে উঠেছে,
সকল পা এখন মুগ্ধের পা,

তোমার পদভারে এখন কাঁপছে আটষট্টি হাজার গ্রাম,
কাঁপছে গণভবন,
স্বৈরাচারের অবৈধ প্রাসাদ তোমার পায়ের নিচে পড়ে
ডিমের খোসার মতো ভেঙে যাবে যে কোনো মুহূর্তে।

হলিসউড, নিউইয়র্ক। ২৪ জুলাই ২০২৪

সাঁজোয়া থেকে গড়িয়ে পড়া
শহীদ ইয়ামিনের দেহ

………….

ঝাঁঝাঁলো দুপুরে পুলিশের নীল
সাঁজোয়া যানের ছাদ থেকে গড়িয়ে পড়লো ইয়ামিন;
লাল জুলাইয়ের তরুণ বিপ্লবী
একটি প্রকাণ্ড হিমবাহের মতো ভেঙে পড়ে উষ্ণ সমতলে।

মুহূর্তেই ওর দেহ থেকে বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে পড়ে
রক্তাক্ত নতুন এক জুলাইয়ে,
যা ক্রমশ প্রলম্বিত হতে হতে গড়ায় ছত্রিশ তারিখ অবধি।

খয়েরি স্যুয়েটারের নিচে
ইয়ামিনের পরনেও ছিল নীল রঙের একটি জিন্স,
সেই নীল রচনা করেনি স্নিগ্ধ এক বর্ষার আকাশ
শিল্প-নগরীর দীর্ঘ রাজপথ জুড়ে;

ওর নীল জিন্স চোখের পলকে দ্রোহের ঝলকে
হয়ে ওঠে ক্ষেপা এক মহাসমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ,
বেপথু খড়কুটোর মতো তুচ্ছ করে তোলে,
সহসা ভাসিয়ে নেয় ঘাতকের নীল এপিসিগুলো…

তখনও স্পন্দন ছিল,
আব্বার শুভ্র পাঞ্জাবীর মতো স্নিগ্ধ এক স্বদেশের স্বপ্ন
কেঁপে কেঁপে উঠছিল ওর গ্রীবার বাঁ দিকে;

ঘাতকেরা এই স্পন্দনতরঙ্গে এতোটাই ভীত হয়ে পড়ে যে
ইয়ামিনের দেহকে
সম্পূর্ণ নিথর করে দেবার উল্লাসে মেতে ওঠে পুনরায়,
বিপ্লবের আগুন দৃষ্টির আড়াল করার জন্যে
ওরা এক উদ্দীপ্ত তরুণ সৈনিকের মুমূর্ষু দেহকে সাভারের রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে
ছুঁড়ে ফেলে দেয় কংক্রিট-ডিভাইডারের অন্য পাশে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তপ্ত ছাত্রাবাসগুলো
বন্ধ করে দেয় স্বৈরাচারের দোসর নপুংসক কর্তৃপক্ষ;

নিরাপদে বাড়ি ফিরেও স্বস্তি নেই তরুণ ইয়ামিনের,
বন্ধুরা ফিরতে পেরেছে তো?

অস্থির ইয়ামিন,
বাবা ওকে ফেরাতে পারে না, বন্ধুদের বাঁচাতে হবে,
এক্ষুনি বেরিয়ে পড়তে হবে,
ডাকতে হবে অন্য বন্ধুদেরও,
ভেঙে দিতে হবে স্বৈরাচারের তখতে-তাউস;

শত বিপ্লবীর দুঃসাহসী মায়েদের একজন ইয়ামিনের সামনে এসে দাঁড়ান,
কৈশোরোত্তীর্ণ পুত্রের বুকে দোয়া ইউনূস পড়ে নির্ভরতার ফুঁ দিয়ে বলেন,
যাও সোনা, বাংলাদেশ আজ তোমার প্রতীক্ষায়, তুমি যাও…

মমতার বুক থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে মধ্যবিত্তের স্বপ্ন
আন্দোলনের উত্তপ্ত রাজপথে,
দেশ মাতৃকার সুবৃহৎ কোল উজ্জ্বল করে জ্বলে ওঠে ওরা;

ঘাতকের গুলি বোঝে না স্বদেশ,
বোঝে না মায়ের মমতা, পিতার অশ্রুসিক্ত শব্দাবলী,

শুধু রক্ত বোঝে, বোঝে লাশ আর অবৈধ ক্ষমতা।

হাসিনার রক্তলোলুপ ঘাতক বুলেট ঝাঁঝরা করে দেয়
এক সম্ভাব্য প্রকৌশলীর দেহ;

ভেঙে পড়া,
নষ্ট হয়ে যাওয়া রাষ্ট্র মেরামতের প্রতিশ্রুতি বুকে নিয়ে
ভর্তি হয়েছিল যে তরুণ এমআইএসটির উজ্জ্বল ক্যাম্পাসে,
চকিতে লুটিয়ে পড়ে সে রক্তাক্ত জুলাইয়ের সমস্ত অবয়ব জুড়ে;
চতুর্দিক প্রকম্পিত করে তখন সহস্র কন্ঠে উচ্চারিত হয়
এক গগনবিদারী স্লোগান…

“বুকের ভেতর দারুণ ঝড়
বুক পেতেছি গুলি কর।”

ডেল্টা এয়ারলাইন্স। নিউইয়র্ক – ডালাস আকাশপথ। ১৯ আগস্ট ২০২৪

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা