বিশ্বজিৎ মণ্ডল
জীবনানন্দ হতে চেয়ে
..………………
ভালতো বেসেই ছিলাম, সমুদ্রপারের ঝাউপাতার মতো
উপকূলে ঢেউ লাগতেই শুরু হয়ে গেল, অন্য এক
দিনান্তিকার গল্প
তুমি বিমুখ হয়ে বসে রইলে, উদ্দাম সমুদ্র অবয়বের দিকে
“প্রেম সমগ্র” ছেড়ে উড়ে গেল, কবিতার প্রণয়পাখি
তুমি এখন অন্তরীক্ষের গোপন জ্যোতিষ্ক
ছায়াপথ ভেঙে যেতে পারিনি,তোমার অভ্যন্তরেরঅলিন্দে
নিঃসীম একা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দেখেছি, বিভাজিত
সেই রেলপথ
গতি হারানো ট্রেন আর আমাদের হয়রানির বিকেল
ভালবাসায় দুরন্ত অঙ্গীকার ছিলনা…
ঝরে যাওয়া নক্ষত্রের ডানায় লিখে ফেলি, আমাদের
অমীমাংসিত শেষ তপস্যার কথা
আরও একবার জীবনানন্দ হয়ে আসব রূপসী বাংলায়
কেঠোপ্রেমিক ও বর্ষার কবিতা
…………………
এ শহরে আজ এই প্রথম বৃষ্টি
ডানা উড়িয়ে তুমুল ভাবে ভিজে গেলে একাকী
অদূরে শালবনি অরণ্য থেকে ভেসে এল, গোপন সংলাপ
মেঘমল্লারের তান
সিক্ত শরীরে তুমি তখন আজনবী কলম্বাস
ক্রমশ খুঁজে চলেছ, অভিনব আবিষ্কারের দেশ…
আমি তো একা কিন্নর ,ভিক্টোরিয়ার পাথরপরীর ডানাতে
উদ্দাম এঁকে চলেছি, আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের দিন
মুঠোয় ভরা দুপুরজুড়ে গোলাপবাগিচার প্রচ্ছন্ন দুপুর
কিন্তু বৃষ্টি ভেজা আর হল না আমাদের
অচ্ছুত শরীর থেকে খুলে নিলে প্রণয়ীর উল্কি , ওরফে
ভুল বানানে লেখা নামাবলির শব্দ
এখন আমি কাঠবাদামের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শূন্যপ্রহরের
কেঠো প্রেমিক
আমিও একদিন…
…………………
উদ্ধত নই; অন্তরের ইজ্জত বিক্রি করিনি কোনদিন…
কলম ধরতেই পাহাড় গড়িয়ে নেমে এল, ঝরনার জল
প্লাবনভূমি, উপকূল প্রান্তর ডুবিয়ে অবশেষে এভাবেই
অকাল বৃষ্টি নামল
আর সামলাতে পারিনি নিজেকে
অস্থির জলযানে ভেসে গেলাম, লাঞ্ছিত কাগজে নৌকা
এভাবে কতবার প্রলুব্ধ করেছে, ঝাউবনের একাকীত্ব
ওদিকে পা রাখিনি, মন্দপনা আলিঙ্গন করে নেয় বলে
অথচ আজ নিমগ্ন সন্ন্যাসীর মত উপবনে বসে
প্রণয়পাখি উড়িয়ে দিতেই বেজে ওঠে, পরাজয়ের বাজনা
আদতে ভুলতে পারিনি, আমিও একদিন প্রেমিক ছিলাম
ঝাউপাতার নিমিত্ত ছায়ায়
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।







