প্রচ্ছদকবিতাসাম্প্রতিক কবিতা

লিখেছেন : জাকিয়া রহমান

সাম্প্রতিক কবিতা

জাকিয়া রহমান

১)
পথচলা রুদ্ধ
………………..
এক ধ্বংস স্তূপের বিধ্বস্ততায় দাঁড়িয়ে আমি– দৃষ্টি বিমূঢ়!
যত দূরে যায় চোখ, শুনি হৃদয়ের আর্তি
যত অসংযত আদর্শের চর্চা অবলোকন করে
নীতিমালার অপরিচ্ছন্ন পথে দাঁড়িয়ে আমি আজ।
যে পথে সমাহিত হয়েছে শান্তি
মিটিয়ে দিয়েছে প্রগতি আর সহনশীলতা
দিনে দিনে একদার আদর্শের পরিচ্ছন্ন পথ
হচ্ছে খন্দকে খন্দকে জীর্ণ।
আর খন্দকে ভরা পথে, হোঁচট খেতে খেতে
যত বিশ্বাসের ভিত্তি হচ্ছে অব্যবস্থিত,
খসে যাচ্ছে একটি একটি করে অনেক কষ্টে নির্মিত
সে পথের ইট কিংবা বিটুমিনের স্তর।
জীবন পাঠ করেছিল যে শপথ
অনেক আঘাতের বিনিময়ে পেয়েছিল প্রজ্ঞা,
আজ সে শপথ আর প্রজ্ঞা ক্ষয়ে ক্ষয়ে ধ্বসে পড়ছে–
জীবনের কাঠামো! রাস্তার ইট কিংবা বিটুমিনের স্তরের মতন
আদর্শের রাস্তাটার অবক্ষয় বুকে ধরে
খন্দকে খন্দকে পরিপূর্ণ পথটি
হতাশায় থাপ্পড় মেরে বলে আমাকে–
দ্যাখ চেয়ে, আজ থেকে তোর পথচলা রুদ্ধ।

২)
আমার জীবন পথে
…………………………
আমার জীবন পথে চলতে কত উদীপ্ত মুখ
একসময়ের চলার সঙ্গী, দিনান্তে গল্প গুচ্ছের শিহরণ
ব্যস্ত ছিল সবাই কত প্রদীপ্ত স্বপ্ন দেখার চর্চায়।
তারা ধীরে ধীরে যেন আজ জীবনের পটে
আবছায়া জলরঙে আঁকা তুলির আঁচড়ের মতো অস্তিত্ব,
আমার সাথে আজ পথ চলার কথা ভাবে না
দূরে কোথাও অন্য কোন অহল্যায় অন্য কোন গল্প কি শোনে?

আমাদের সে চলার পথে ছিল কত রাগিনীর অনুচল,
সেখানে স্বপ্ন ফুলের সুগন্ধ মেখে আমরা ছিলাম বিহ্বল
আজ সেই পথ আবছায়া হয়ে গেছে,
সেই পথে যেতে যেতে গল্পগুলো হয়েছে অদৃশ্য অন্য কোথাও।
ঋতু পরিবর্তিত হয়েছে, তাই আমাদের হৃদয়ে
স্মৃতির পাপড়ি গুলো ঝরে গেছে কালের আবর্তে
আর এখন, সেই পথ শ্যাওলা আচ্ছাদিত।
এক অদৃশ্য বন ছায়ে সে ভুলে যাওয়া পথ গেছে হারিয়ে —
সহসা মনে হয় আমি যেন দাঁড়িয়ে আছি সেথা প্রবেশদ্বারে,
শুনছি হলুদ পিঙ্গল ঝরা পাতার লুকানো রহস্য গল্প।
ফিস্ফিসিয়ে তারা বলে গাছের কাছে,
তাদের আশা আকংখার কথা কিংবা বিদায়বেলার যাতনার কথা।
এ সব কথাগুলো আমাকে এড়িয়ে যায়-
বুঝিনা তারা কি বলে,
আর পথ ছায়ার মতো দূরে সরে যায় ধীরে
তবুও পথ রয়ে গেছে, আমার প্রাণে খোদাই করা।
তাই আমি ধীরে হেঁটে যাই, স্মৃতির রূপরেখা খুঁজে বেড়াই,
সেই একসময়ের উজ্জ্বল মনের চিহ্ন খুঁজে পাওয়ার আশায়,
নস্টালজিয়ার ম্লান রঙে মানসপটে ছবি চলে এঁকে।

৩)
নিঝুম এক ভোরে
……………………….
নিঝুম এক ভোরে ঘন কুয়াশার মতো
স্মৃতির আবেগ ধরা দেয় মনে
জাপটে ধরতে চায় টেন্ড্রিলের মতো–
অস্তিত্বের স্নিগ্ধ মুহূর্তগুলো।
ওরা নাচে ভোরের হাওয়ায় আর অদৃশ্য হয়ে যায়,
দূরে ডাহুকের ডাকে মন প্রাণ ছুটে চলে দূরান্তে
খুঁজে ফেরে ক্ষণস্থায়ী কোন–
ভালো লাগার প্রচ্ছদ জীবনের পুস্তকে।
সূর্য দ্রুত আকাশ সফরে ধায়,
অতীতের ‘পর ছায়া ফেলে
সময়ের মধ্যে খোদাই করা মুহূর্তগুলি
মনে হয়, বিশাল আর ভঙ্গুর।
স্থান, মুখ, হাসি, অশ্রু— প্রতিটি যেন একটি করে রঙ,
আত্মার ক্যানভাসে নতুন করে আঁকে ছবি ।
আর কুয়াশায় বিচ্ছুরিত আলোর সাথে সাথে-
স্মৃতিগুলি বিবর্ণ হয়ে যায়,
তবুও মন অটুট নির্ঝরের মতো বেঁচে থাকে।
চিন্তাগুলো একাকার আর ব্যস্ত নিপুণ নাচে,
জীবনের সিম্ফনির প্রতিধ্বনিতে, যা কখনই স্পন্দিত হবে না।

৪)
আমার ক্লান্ত চোখ
………………………..
আমার ক্লান্ত চোখ যখন–
সবুজের সমারোহে খানিকটা বিশ্রাম নিতে চায় …
জীবনানন্দ, তোমার কবিতার শব্দ লহরী তখন মনে এলে
মনের দুগাঙ্গে শীতল স্বচ্ছ জলের ছোঁয়ায়
‘পৃথিবীকে মায়াবীর নদীর পারের দেশ ব’লে মনে হয়’।
দুচোখের সব ক্লান্তি আমার তখন,
নীলাম্বরী মেঘ গাংচিলের সাথে উড়ে উড়ে
ভেসে চলে আর নীলাম্বরীর ছাউনির ঊণ দেখে বিমূঢ়–
‘মস্ত বড় ময়দান— দেবদারু পামের নিবিড় মাথা— মাইলের পর মাইল;
দুপুরবেলার জনবিরল গভীর বাতাস
দূর শূন্যে চিলের পাটকিলে ডানার ভিতর অস্পষ্ট হ’য়ে হারিয়ে যায়’।
সহসা সম্বিৎ পেয়ে আমার ক্লান্ত চোখ চেয়ে দেখে-
‘শুয়েছে ভোরের রোদ’
‘অলস গেঁয়োর মতো এইখানে’- এরিনের সবুজ মেখলায়।
আর ‘মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ’।
সে সৌরভ নিঃশ্বাসের পাপড়ির গায়ে ছুঁয়ে দিয়ে যায়,
এক আকণ্ঠ প্রাণময়তার আবেগ
আর চোখের ক্লান্তি জীবনের জানালায় উঁকি দিয়ে অনুভব করে
‘বাতাসের বুকে স্পৃহা, উৎসাহ, জীবনের ফেনা’।

[প্রাণ প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশকে স্মরণ করে, আমার লেখা কবিতায় তাঁর রচিত ‘অবসরের গান’ ও ‘আমাকে তুমি’ কবিতার কিছু প্রিয় পঙক্তি সংযোগ করা হয়েছে।]

৫)
নিরুদ্দেশ কবিতা
………………………
সেই অসমাপ্ত কবিতাটি এবার কি লেখা শেষ হবে?
নাকি কোন নতুন গাথা লেখা কি হবে এবার?
আমার ব্যথিত আত্মা প্রশ্ন করে।
বাহান্নোর পর থেকে যে অসমাপ্ত কবিতা খুঁজত ছন্দ,
ভেবেছিলাম একাত্তরে হবে তা শেষ
আর জন্ম দেবে অন্য এক উজ্জ্বল নতুন সঙ্গীত,
নবীন সূর্যের ইতিহাস
আর ধান সিঁড়ি দেশে কিষান হবে উত্তাল।
সেথা নেচে নেচে রাধা কিশোরী মাখবে বকুলের সুবাস।
কিন্তু তা তো হয়নি
মায়ের বুকের হাহাকার,
আর নীরবে ঝরানো অশ্রুধারায় হৃদয়ের রক্তক্ষরণ–
সব বিফলে গিয়ে আজ সাদা কাফন হয়ে গেছে কৃষ্ণ কালো।
সব চাওয়া পাওয়া দ্বীপান্তরিত করে বৃথা আশায় রণক্লান্ত।
তবুও নিরুদ্দেশ কবিতার মেলেনি ছন্দ
আর হৃদয়ের আকুতি নিরবধি জাগিয়েছে দ্বন্দ।
কথার মালা টক্কর খেয়ে খেয়ে প্রেতাত্মার মতো,
ধ্বংসাবশেষের স্তূপে চিরকাল কি আর্তনাদ করবে?
মাথা ধুঁকে ধুঁকে সময়ের অসীম খাদের
দুর্বিষহ অন্ধকারের ঘূর্ণিপাকে চাবুক খাবে কি চিরকাল?

………………
আয়ারল্যান্ড

আরও পড়তে পারেন

5 COMMENTS

  1. কবিতাগুলি খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ৪ নম্বর হৃদয় ছুঁয়েছে আর ৫ নম্বর মনে হাহাকার বাড়িয়ে দিয়েছে। ভালো থাকবেন আর লিখে যাবেন।

    • অসংখ্য ধন্যবাদ।
      অসংখ্য ধন্যবাদ! অনেক দিন পর উত্তর লিখছি। ক্ষমাপ্রার্থী! আপনার সব কবিতা ভালো লেগেছে জেন অনুপ্রেরণা পেলাম।

      ৪ নম্বর কবিতা
      আপনার হৃদয় ছুঁয়েছে। আপনার মন্তব্য আমারও হৃদয় ছুঁয়েছে।
      এই কবিতায় আমি জীবনানন্দ দাশের কয়েকটি কবিতার পঙক্তি ব্যবহার করেছি।
      দেশ ছেড়ে এসেছি অনেক আগে। আজ আমার বাস অতলান্তিকের পাড়ে সবুজ একটি দ্বীপে- দেশটি অনন্য এক সুন্দরতার মোহময় কবিতা। জীবনানন্দ দাসের কবিতার শব্দ লহরী দিয়েই শুধু বোঝান যায়।
      তাঁর রচিত ‘অবসরের গান’ ও ‘আমাকে তুমি’ কবিতার কিছু প্রিয় বাক্য সংযোগ করেছি।
      যেমন,
      ‘পৃথিবীকে মায়াবীর নদীর পারের দেশ ব’লে মনে হয়’।
      ‘মস্ত বড় ময়দান— দেবদারু পামের নিবিড় মাথা— মাইলের পর মাইল;
      দুপুরবেলার জনবিরল গভীর বাতাস
      দূর শূন্যে চিলের পাটকিলে ডানার ভিতর অস্পষ্ট হ’য়ে হারিয়ে যায়’।
      ‘শুয়েছে ভোরের রোদ’
      ‘অলস গেঁয়োর মতো এইখানে’
      ‘মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ’।
      ‘বাতাসের বুকে স্পৃহা, উৎসাহ, জীবনের ফেনা’।

      আমার কবিতায় লিখেছি –
      ‘আর ‘মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ’।
      সে সৌরভ নিঃশ্বাসের পাপড়ির গায়ে ছুঁয়ে দিয়ে যায়,
      এক আকণ্ঠ প্রাণময়তার আবেগ
      আর চোখের ক্লান্তি জীবনের জানালায় উঁকি দিয়ে অনুভব করে
      ‘বাতাসের বুকে স্পৃহা, উৎসাহ, জীবনের ফেনা’।

      আমি ভাবি, এই বুঝি জীবন! নিজের অস্তিত্বকে পুনর্বাসন করে নতুন এক প্রেমের সন্ধান।

      ৫ নম্বর কবিতা

      সেই অসমাপ্ত কবিতাটি কোনদিন কি লেখা শেষ হবে? সবাই আমরা চেয়াছিলাম একটি সুন্দর দেশ গড়তে… জীবনান্দের রূপসী বাংলা যেমন। রবিঠাকুরের সোনার বাংলা আর নজরুলের বাংলাদেশ… সময় গড়িয়ে গেছে বাহান্নোর পর থেকে…
      কত রক্তপাত হয়েছে। প্রথমে ভাষা আন্দোলন তারপর বাংলার সংস্কৃতির জন্যে, একতা, মানবিকতা, দারিদ্র্যের মুক্তি, সমান অধিকার … সব ছিল এক একটি নতুন কবিতার ছন্দ- শান্তি ও প্রাণময় চিত্রররূপময়তা। আজ আবধি তা নিরুদ্দেশ হয়ে রইল। শান্তি, সুখ, উদারতা, মানবিক অধিকার আজ সব উধাও…
      মনের এই হাহাকার দূরীভূত কবে হবে?

  2. আপা অসাধারণ সুন্দর সব কটা কবিতা। আরো লেখ। তোমাদর এই লেখা আমাদের চেতনায় ভাবনার পথকে সঠিক ভাবে আলোকিত করে। খুব সুন্দর লেখা 🙏❤️❤️❤️। খুব ভালো থাকো, সুস্থ থাকো আপা। 🙏❤️❤️❤️

    • অসংখ্য ধন্যবাদ! অনেক দিন পর উত্তর লিখছি। ক্ষমাপ্রার্থী!
      আমি অনুপ্রাণিত!
      জীবনের পথে চলতে দেখেছি উৎফুল্ল তরুণ তরুণীর মুখ, সব যেন মিইয়ে পড়ে হতাশায় … এটা শুধু বয়সের ভার নয়- সব স্বপ্ন চূড় চূড় হয়ে ভেঙ্গে পড়ার যাতনা। সোনার বাংলা, রূপসী বাংলা, বাংলাদেশ আর তাদের বাংলাদেশ নেই। একটি আদর্শ, নীতিকথা সব পুড়ে ছারখার…
      ভাগ্যের সন্ধানে মানুষকে দেশ ছেড়ে এসে নতুন নিজেকে খুঁজতে গিয়ে বেশির ভাগ মানুষের আত্না যাতনায় দিনাতিপাত করে। দেশের স্মৃতি আর অবনতি তাদের প্রত্যাশিত আশা-স্বপ্ন সব গুড়িয়ে দেয়।
      ‘জীবন পাঠ করেছিল যে শপথ
      অনেক আঘাতের বিনিময়ে পেয়েছিল প্রজ্ঞা,
      আজ সে শপথ আর প্রজ্ঞা ক্ষয়ে ক্ষয়ে ধ্বসে পড়ছে–
      জীবনের কাঠামো! রাস্তার ইট কিংবা বিটুমিনের স্তরের মতন
      আদর্শের রাস্তাটার অবক্ষয় বুকে ধরে
      খন্দকে খন্দকে পরিপূর্ণ পথটি
      হতাশায় থাপ্পড় মেরে বলে আমাকে–
      দ্যাখ চেয়ে, আজ থেকে তোর পথচলা রুদ্ধ’।

      সব স্মৃতি জড় হয় মানসে…
      ‘অতীতের ‘পর ছায়া ফেলে
      সময়ের মধ্যে খোদাই করা মুহূর্তগুলি
      মনে হয়, বিশাল আর ভঙ্গুর।
      স্থান, মুখ, হাসি, অশ্রু— প্রতিটি যেন একটি করে রঙ,
      আত্মার ক্যানভাসে নতুন করে আঁকে ছবি’।

      বাঁচতে তাই নতুন জীবন দাঁড়িয়ে সম্মুখে… তবুও কষ্ট রুদ্ধ করে অনাবিল সুখ।

      দেশের স্বাদ-ঘ্রাণ জড়িয়ে থাকে জীবন তাই খুঁজে ফেরে প্রিয় কবির রূপসী বাংলা সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড়ে … জীবনান্দ দাসের কবিতার চিত্ররূপময়তা এঁকে নেয় চোখে।

      ‘নিরুদ্দেশ কবিতা’- এর রূপরেখায় বলতে চেয়েছি আমাদের রূপসী বাংলার আকুতি…

      ‘তবুও নিরুদ্দেশ কবিতার মেলেনি ছন্দ
      আর হৃদয়ের আকুতি নিরবধি জাগিয়েছে দ্বন্দ।
      কথার মালা টক্কর খেয়ে খেয়ে প্রেতাত্মার মতো,
      ধ্বংসাবশেষের স্তূপে চিরকাল কি আর্তনাদ করবে?
      মাথা ধুঁকে ধুঁকে সময়ের অসীম খাদের
      দুর্বিষহ অন্ধকারের ঘূর্ণিপাকে চাবুক খাবে কি চিরকাল’?
      আজ আবধি নিরুদ্দেশ হয়ে রইল শান্তি, সুখ। উদারতা, মানবিক অধিকার আজ সব উধাও…
      মনের এই হাহাকার দূরীভূত কবে হবে?

    • অসংখ্য ধন্যবাদ! উত্তর দিতে দেরী হলো বলে দুঃখিত।
      আমি অনুপ্রাণিত!
      জীবনের পথে চলতে দেখেছি উৎফুল্ল তরুণ তরুণীর মুখ, সব যেন মিইয়ে পড়ে হতাশায় … এটা শুধু বয়সের ভার নয়- সব স্বপ্ন চূড় চূড় হয়ে ভেঙ্গে পড়ার যাতনা। সোনার বাংলা, রূপসী বাংলা, বাংলাদেশ আর তাদের বাংলাদেশ নেই। একটি আদর্শ, নীতিকথা সব পুড়ে ছারখার…
      ভাগ্যের সন্ধানে মানুষকে দেশ ছেড়ে এসে নতুন নিজেকে খুঁজতে গিয়ে বেশির ভাগ মানুষের আত্না যাতনায় দিনাতিপাত করে। দেশের স্মৃতি আর অবনতি তাদের প্রত্যাশিত আশা-স্বপ্ন সব গুড়িয়ে দেয়।
      ‘জীবন পাঠ করেছিল যে শপথ
      অনেক আঘাতের বিনিময়ে পেয়েছিল প্রজ্ঞা,
      আজ সে শপথ আর প্রজ্ঞা ক্ষয়ে ক্ষয়ে ধ্বসে পড়ছে–
      জীবনের কাঠামো! রাস্তার ইট কিংবা বিটুমিনের স্তরের মতন
      আদর্শের রাস্তাটার অবক্ষয় বুকে ধরে
      খন্দকে খন্দকে পরিপূর্ণ পথটি
      হতাশায় থাপ্পড় মেরে বলে আমাকে–
      দ্যাখ চেয়ে, আজ থেকে তোর পথচলা রুদ্ধ’।

      সব স্মৃতি জড় হয় মানসে…
      ‘অতীতের ‘পর ছায়া ফেলে
      সময়ের মধ্যে খোদাই করা মুহূর্তগুলি
      মনে হয়, বিশাল আর ভঙ্গুর।
      স্থান, মুখ, হাসি, অশ্রু— প্রতিটি যেন একটি করে রঙ,
      আত্মার ক্যানভাসে নতুন করে আঁকে ছবি’।

      বাঁচতে তাই নতুন জীবন দাঁড়িয়ে সম্মুখে… তবুও কষ্ট রুদ্ধ করে অনাবিল সুখ।

      দেশের স্বাদ-ঘ্রাণ জড়িয়ে থাকে জীবন তাই খুঁজে ফেরে প্রিয় কবির শ্যমলী বাংলার রূপ সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড়ে…

      ‘নিরুদ্দেশ কবিতা’- এর রূপরেখায় বলতে চেয়েছি আমাদের বাংলার আকুতি…

      ‘তবুও নিরুদ্দেশ কবিতার মেলেনি ছন্দ
      আর হৃদয়ের আকুতি নিরবধি জাগিয়েছে দ্বন্দ।
      কথার মালা টক্কর খেয়ে খেয়ে প্রেতাত্মার মতো,
      ধ্বংসাবশেষের স্তূপে চিরকাল কি আর্তনাদ করবে?
      মাথা ধুঁকে ধুঁকে সময়ের অসীম খাদের
      দুর্বিষহ অন্ধকারের ঘূর্ণিপাকে চাবুক খাবে কি চিরকাল’?
      আজ আবধি নিরুদ্দেশ হয়ে রইল শান্তি, সুখ। উদারতা, মানবিক অধিকার আজ সব উধাও…
      মনের এই হাহাকার দূরীভূত কবে হবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা