সাবিনা ইয়াসিন
তৈমুর খানের কবিতায় যে পরিমিতিবোধ এবং মাটির কাছাকাছি থাকার প্রবণতা দেখা যায়, তা তাঁকে সমসাময়িক অনেক কবির থেকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। তাঁকে ব্যতিক্রমী কবি বলার পেছনে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি রয়েছে:
তৈমুর খানের কবিতায় কোনো কৃত্রিম শব্দজট নেই। তিনি অত্যন্ত সাধারণ এবং আটপৌরে শব্দ দিয়ে এক গভীর জীবনবোধ তৈরি করেন। তাঁর কবিতায় গ্রামীণ অনুষঙ্গ যেমন সহজভাবে আসে, তেমনই শহুরে জীবনের ক্লান্তিও ফুটে ওঠে কোনো মেকি জটিলতা ছাড়াই।
অনেকেই তাঁকে ‘নিভৃতচারী কবি’ বলে থাকেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিজের মতো করে এক মগ্নচৈতন্যের জগৎ তৈরি করা তাঁর এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তাঁর কবিতায় এক ধরণের বিষণ্ণতা থাকলেও তা কখনো নেতিবাচক নয়, বরং তা জীবনের এক গভীর সত্যের উন্মোচন ঘটায়।
তিনি কেবল কল্পনাপ্রসূত কবিতা লেখেন না। তাঁর কবিতায় আমাদের চারপাশের চেনা সমাজ, মানুষের হতাশা, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং প্রকৃতির প্রতি এক ধরণের দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়। বিশেষ করে “আমাদের হতাশা যাপন”-এর মতো সৃষ্টিগুলোতে সমকাল ও ব্যক্তিমানসের এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যায়।
কবি হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন অত্যন্ত মননশীল প্রাবন্ধিক। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন এবং সমকালীন সাহিত্য নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণাত্মক কাজগুলো প্রমাণ করে যে তাঁর কবিতার ভিত্তিটি কেবল আবেগের নয়, বরং গভীর পঠন-পাঠন ও মননশীলতার।
বাংলা কবিতার ভিড়ে যেখানে অনেকেই বিমূর্ততা বা দুর্বোধ্যতাকে আধুনিকতা মনে করেন, সেখানে তৈমুর খান স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতাকে আঁকড়ে ধরে তাঁর স্বতন্ত্র পথ তৈরি করেছেন। এই মৌলিকতা এবং স্বকীয়তাই তাঁকে বর্তমান সময়ের একজন ব্যতিক্রমী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।







