হাসান মাহমুদ
আমলকি বনে
…………….
আমলকির ছায়ায় বসন্তের দিন—
মধুমিতা তোমার স্মৃতি করে রিনরিন।
বৈশাখের ধান গরম তোমার ঠোঁটে—
তোমার মুখের মতো শিউলি ফোটে!
তোমার প্রেমে বাজাই সুখের বীণ—
তোমার ভাগ্যরেখা মীনরাশি, মীন!
রাতের ডাহুকীর মতো তোমার রূপরঙ—
তোমার রাগীবর্ণ যেন রণজঙ!
তোমার হাসি যেন দুধের মতো ফর্সা—
তীর্যক কথাও তোমার বাঁকানো বর্শা!
গহিন অরণ্যে তুমি ছুটন্ত হরিণ—
তবু রেখেছি তোমায় প্রেমের অধীন!
………..
আশেকা
*
মির্জা গালিববের গজল দিয়ে সাজিয়েছি তোমার
হৃদয়ের গোলাপ কানন—
আমার গজলের সুর দরিয়া দিয়েও তোমার অন্তরজুড়ে প্রেমের ঢেউ তুলেছি উত্তুঙ্গ তরঙ্গে :
তুমি প্রেমের স্পর্শে সমুদ্রের ঊর্মি হয়েছ;
কখনও-বা সবুজবনের হলুদ পাখিটির মতো হয়েছ চঞ্চল!
রঙজমা আকাশের মতো সেজেছ রঙধনুর সাত রঙে—
কিবা
বিমূর্ত হয়েছ : আরও খানিকটা গাম্ভীর্যে পেয়েছ
অনন্য লাবণ্যতা—তোমার মাঝে আছে যেন ফিলিস্তিনের রমণীয়তা।
এমন তো নয় যে, তুমি শুধু এশিয়ার?
তুমি বর্ণে ভাষায় ফার্সি গজলের মতো রহস্যময় :
বহুধা বিভক্তির ছক তুমি মুছে ফেলো
প্রেমের পেয়ালা দিয়ে—
তোমাকে ইহসাস করেছি প্রেমের সৌন্দর্যে;
গজলপ্রেমের সুবাসে,
কিবা;
প্রেমের বয়ানে—তোমাকে করেছি অনন্যা!
তুমি অনন্তপ্রেমের অবগাহনে,
মির্জা গালিবের গজলপ্রেয়সী নবাব জানের মতো হয়েছ আমার আশেকা!
…………………
জলজোছনার গান
*
তোমার গহিনে ফকফকা আলো শরতের উঠোনে যেন চিরায়ত শাদা কাশফুল—
সমুদ্রের উত্তুঙ্গ ঊর্মির ফেনায়িত জলোচ্ছ্বাস
খেলে যাচ্ছে জলজোছনায়—
একটা মার্জারী হামাগুড়ি দিচ্ছে দুধের বাটিতে :
দুধেল চাঁদ যেন আরও হেসে উঠছে এমন ঘনীভূত আলোর গানে।
চাঁদের মহিমায় নিজস্ব আলো নেই :
চাঁদের আছে জলজোছনার গান—
তোমার সলাজ চাঁদের বদনে যেন আনে কোলাজ—
কী অপূর্ব তুমি—তুমি ও চাঁদ যেন পাতানো সই!
……………..
অলিভের ছায়া
*
তুমি এমন
যেন
চাঁদ সূর্যের দূরত্ব রেখা—
সন্ধ্যা ঘনালো সূর্যের কিরণ লুপ্ত করে—
গরম সূর্যটি রেখেছে চাঁদের দূরত্ব :
তুমিও তাই!
ডুমুরের ছোট ছোট ছায়ায় যে গোল দৃশ্য
সে ছায়াদৃশ্য তোমার বুকজুড়ে—
মসজিদে
মন্দিরে
প্যাগোডা
গির্জায়
হচ্ছে ধর্ম আর কর্মের উৎসব—
তখন তুমি জপছ প্রেম প্রেম আমার নামে :
যেন দ্বিপাক্ষিক কোনো
চুক্তিতে তুমি আমায় প্রেমের ঘরে
দাঁড় করালে—
বলো,
প্রেম কেন মানে ধর্মের মিথ?
মসজিদে আজান হলো—
মন্দিরে হরি জপ—
প্যাগোডায় বুদ্ধের নাম—
গির্জায় যীশুর নাম—
সব নামের পর প্রার্থনায় প্রেমই আগে আসে!
বলো তুমি কোন্ প্রেমে বেছে নেবে আমায়?
প্রেমের মেহফিলে বাংলার চিরায়ত সবুজ মেখেছি আমি প্রেমের অবগাহনে—
আমায় আপন করে রেখো :
অলিভের ছায়ায়।
……..
চন্দ্রিমা
*
কুয়াশায় মুড়ানো চাঁদ শিশির ফেলো নক্ষত্রের ওপর—
দূর্বাঘাসের গালিচায় জলজ কুয়াশায় ফেলো নিভু নিভু নরম আলো :
জোছনারঙের দুইফালি কুমারী চন্দ্রিমা
আজ
শিশিরের গড়িয়ে পড়া দৃশ্যে হোক প্রেমের জলসা।
ঝিম ধরা এই রাত্রি শেষে ভোরে ফুটুক
শিশির ভেজা কুসুম :
কুসুমের জল পতন বড় সুন্দর—
ও দুধরঙের চাঁদ! তুমি তোমার রূপে সুন্দর।
………..
রুহ বদল
*
এমন ছলনা করো না কখনো যেন আমায় কাঁদতে হয়—
হরিণীর মতো পালিয়ো না জলপিপাসায় :
জলঘোলা নয়নে কেঁদে কেঁদে করো না
রমণীয় ছলনা।
আমি তো তোমারই হতে চেয়েছি হয়েছিও তাই—
তবু কেন আমার মাঝে খুঁজো বিরাগ বুঝার
উপায় নাই।
শাল্মলির মতো নরম কাঁটা বিঁধে মনে বলো
কত আর ছলনার হাত ধরবে তুমি?
বলো কত আর আমাকে কাঁদাবে তুমি?
পুরুষের কান্না বেদানা ফেটে যাওয়ার মতোই বেদনার্ত:
তোমায় ভালোবাসি বলে আমার বেদনা
স্থির হয়ে আছে—
তুমি ঘনঘোর ছলনা না বদলালে আমি
বদলে যাব যেমন বদলে গেছে নিজাম ডাকাত…







