প্রচ্ছদকবিতাজন্মদিনের কবিতা

লিখেছেন : সাজ্জাদ বিপ্লব

জন্মদিনের কবিতা

ভালোবেসে, তোমাকে
[ সহধর্মিণী ফাতিমা জান্নাত ]

সাজ্জাদ বিপ্লব

১.
ভরে উঠছে তোমার ফ্রিজ
মাছ, মাংস, আনাজে

ভরে যাচ্ছে কিচেন ক্যাবিনেট
সুগন্ধিযুক্ত মশলায়

ওভেনে গরম হচ্ছে সুখ
চুলায় জ্বলছে হিংসা ও অহঙ্কার

আমি রিমোট কন্ট্রোলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি

আমাদের স্বপ্ন।

৪.১১.১৬। সকাল ৮.৪৯।
লিন্ডবার্গ স্টেশন, আটলান্টা।

২.
আমার চোখ আমি রেখে গেলাম
দিয়ে গেলাম আমার আমার সুখ, সাধ ও সাধ্য

আমার অতীত, অর্থ ও আমল
পিছনে ফেলে আমি দৌড়াতে থাকলাম

আমার বয়স, বার্ধক্য ও বাধা
পথে থাকলো পড়ে চুপচাপ

আমি পেয়ে গেলাম তোমায়
আমার মনজিল, মকসুদ ও মসনবী

৪.১২.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া

৩.
ছেঁড়ো খাতা
আমার কবিতার

ও গো নারী

তুমি খাতা ছেঁড়ো না

ছেঁড়ো আমার
হৃদয়।

৪.১২.১৫
ডুরাভিল, জর্জিয়া।

৪.
তুমি ক্যান ছাড়বা
তোমার দখল?

ক্যান পারো না
আমারে ছিনাইয়া নিতে?

ক্যান লাগাও না
মল্ল যুদ্ধ?

যে
যুদ্ধে যেতে না

এ জমিন
তারে ত্যাজ্য করে

ক্যান তুমি লাগতে দাও
পরাজিতের পালক
তোমার ময়ুর পুচ্ছে

ক্যান লাগাও না
আগুন
এই বিশ্বে?

ক্যান করো না
তছনছ
প্রতিপক্ষের বাগান?

জানো না

সহজে
যারে পাওয়া যায় না

আমি তোমার
সেই
ভালোবাসার নাম।

৪.১২.১৫
বিউফোর্ড হাইওয়ে ফার্মার্স মার্কেট, আটলান্টা।

৫.
এসেছে নতুন বর্ষ
আসুক আনন্দ হর্ষ

কাটুক জ্বরা
কাটুক ক্ষরা

পেয়ে গো তোমার স্পর্শ।

৪.১৩.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া।

৬.
যত কষ্ট হোক, প্রভু
তবু
তারে, তুমি রেখো ভালো
সে যে আমার এ জগতের আলো।

৪.১৩.১৬
সকাল ৯.০৫
বেস্টবাই, সিডনী মারকাস বুলোভার্ড, আটলান্টা।

৭.
বাতাসে বাজে
তার

গমনের ধ্বনি…

ধন্বন্তরি এ জীবনে

কত কথা, কত স্মৃতি
হাসি-কান্না সুখ-দু:খ, ভীতি
রীতি-নীতি

পথ চলা বলা না বলা

পরে মনে

রেখে যায় দাগ, রাগ, ভালোবাসা
রিরংসা

এই মধ্যাহ্নে, মধ্য গগনে

কিছু এর
থাক বা না থাক
মানে

৪.১৩.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া।

৮.
তোমার আদরে
ভিজি

তোমার আলোতে
খুঁজি

নিজেকে

বারবার স্নাত হই

ভালোবাসায়, ভালোবেসে

অবশেষে…

৪.১৪.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া

৯.
বুঝলো না
সে

কি জমা আছে

এই বুকে!

মুখে যাই থাক

রাগ-বিরাগ-মোহ
ক্রোধ ও কাম

সব কিছুর মালিক সে
আমি শুধু নাম

নামের আড়ালে এক
দেহের খোলস

মুখ ও মুখোশে ঢাকা

এক অনন্য মানুষী

প্রতিবিম্ব মাত্র

আমার গাত্র থেকে
দেখো
খুলে যায়

যত পাপ-তাপ-পূণ্যতা

শূণ্যতা করে ভর
অন্তরের উপর

আমি ভাসতে থাকি
নীড় ছেড়ে

নিরন্তর…

৪.১৪.১৫
লিন্ডবার্গ স্টেশন, আটলান্টা।

১০.
বাহিরে কোন বৃষ্টি নেই, প্রভু
মনে হয় ব্যাপক বৃষ্টি

ধুয়ে যায় মন ও মনোমালিন্য
সূর্য ওঠে চরাচরে, চেতনাজুড়ে

ফেলি ভালোবাসার ছাউনি
ভালো বাসার জন্য।

৪.১৫.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া।

১১.
বদলে যাওয়াই
জীবন

এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তেও
দেখো,
বদলে যায় হাওয়া

ওড়ে খড় ও বিশ্বাসের ভ্রুকুটি
সন্দেহের ঝড়ে

পড়ে জল নড়ে পাতা
আর নড়ে

আমাদের মন দু’টি।

৪.১৫.১৫
বিসমিল্লাহ ক্যাফে, আটলান্টা।

১২.
পড়ে আছে
কত দাগ, কত রাগ, কত চিহ্ন।

ক্ষত চিহ্ন
যায় মুছে, যাবে হারিয়ে
একদিন

দেহ থেকে

মন থেকে তোমায়
সরাই বলো কি করে?

শিকড়ে তুমি

লতায়-পাতায় জড়িয়ে
বেড়ে ওঠা যেন এক স্মৃতির সম্ভার

বিপুল বিশ্বাসে
বেঁচে থাকো জীবনের এলবামে

আমি উল্টেপাল্টে দেখি
আমার দীর্ঘশ্বাস

৪.১৫.১৪
ডুরাভিল, জর্জিয়া

১৩.
দিন শেষে ক্লান্ত পথিক যেমন
ঘরে ফেরে, ঘুরে ফিরে

আমিও দিন শেষে, ভালোবেসে, অবশেষে
ফিরে আসি তোমার কাছে

তুমি, আমার মনজিল, আমার ঠিকানা
তোমায় ছাড়া এ ভূবনে আমি, কিছুই দেখি না

৪.৮.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া

১৪.
সে আমারে বুঝলো
না রে

খুঁজলো না আমারে
আমার মাঝে

কত কি যে বাজে
সকাল-সাঁঝে
তারি জন্য

বোঝে অন্য
অনন্য একজন

শুধু
বোঝে না সে

আর বোঝে না
তার
অবুঝ মন

৪.১৫.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া

১৫.
কারো-কারো চোখ আছে, তারা দেখতে পারে
কারো-কারো পাখা আছে, তারা উড়তে পারে
আমার যে কিচ্ছুটি নাই
আমার যে কোন ছুটি নাই

আমি কি বান্ধা গো তোমার তারে?

৪.১০.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া।

১৬.
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেখো
এতোটা বছর

মনে হয় যেন, এই তো সেদিন
তুমি আর আমি একপলকে অপরূপ রঙিন

সেজেছি নিজেরা, সাজিয়েছি চারিপার্শ্ব
প্রতিবেশ, পরিবেশ

আমাদের সমাজ, সংসার ও দেশ

বেশ।

৩.২৪.১৬
সকাল ৯.০৫
আটলান্টা, জর্জিয়া

১৭.
তোমাকে, ভালোবেসে
অবশেষে

যা পেয়েছি বা যা পাইনি
আমি তো মেলাতে যাইনি

চাইনি দেখতে
তার তালিকা বা খতিয়ান!

ভালোবাসা ও জীবন
পাওয়া, না পাওয়ার তালিকা ছাড়াই

সুন্দর। তোমার মতো।

৩.২৫.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া।

১৮.
আজ সারাটি দিন আমি তোমার
আজ সারাটি রাত আমি তোমার

আজ সারাটি ক্ষণ আমি তোমার

আমার জন্য তুমিও একটু
সময় রেখো…

৩.২৬.১৬
আটলান্টা, জর্জিয়া

১৯.
সে দিনও রঙ ছিলো মনে
সে দিনও মন ছিলো রঙে

এ দিনও রঙ আছে বনে

শুধু, পাশে তুমি নাই!

৩.২৭.১৬
সকাল ৯.৪৩
লিন্ডবার্গ স্টেশন, আটলান্টা।

২০.
(২৫ জুলাই, আমাদের বিয়ের ১৮তম বার্ষিকীতে, ফিরে দেখা)

আঠারো বছর
মনে হয়

শুধু কোন সংখ্যা নয়

পেরিয়ে এসেছি
হাতে হাত রেখে

সুখে-দুখে
থেকে না থেকে

কত হাসি কত কান্না
জমা থাকে

পৃথিবীর পথে

তার কিছু
এসেছে পিছু আর কিছু

হয়তো আসেনি

ভালো ও মন্দ

যা-ই থাক
আমাদের ভাগ্যে

আমরা হতে চাই
সুখি ও সৃষ্টিশীল, প্রভু

আমাদের দিও
শান্তি

পরম প্রশান্তি
প্রেমে ও ঘামে

তোমার নামে
জানি, সুখ ও শান্তি নামে

এ ধরায়
বাঁচা ও মরায়

আমরা যেন
তোমাতে হারাই

৭.২৬.১৫
আটলান্টা, জর্জিয়া

২১.
ধুয়ে যাচ্ছে
পাপ-তাপ রোগ-শোক

দু:খ, ব্যথা ও কাম

খুঁজে নাও
তোমার নাম

এই ধামে

আমার নামে
দেখো, বৃষ্টি নামে

প্রেমে, প্রকৃতিতে

আসে সুখ ও নতুন ধারা
পড়ে সাড়া

সারা জগৎ জুড়ে

সকলেই পাশে
আসে

আর হাসে

শুধু, তুমি নেই
থাকো দূরে

হৃদয় খুঁড়ে

৭.২৬.১৫
সকাল ১০.০৬
ডোরাভিল, জর্জিয়া

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা