প্রচ্ছদকবিতাকবিতাগুচ্ছ

লিখেছেন : নাবিল নিশাত

কবিতাগুচ্ছ

নাবিল নিশাত

কথা ছিলো
………….

আমার অবর্তমানে কোথাও থামেনি কিছুই
সকালগুলো দুপুর হয়ে গেল,
দুপুরগুলো দৌঁড়ে গেল বিকেলের দ্বারে!
থমকে থাকবে বলে কথা দেওয়া বিকেলগুলো
সন্ধ্যার সাথে সন্ধি পেতে নামিয়ে আনলো রাত!

অথচ কথা ছিল—
আমিহীন সকালগুলো শুরুই হবে না
উদিত হলেও আলো বিলাবে না ভোরের দিবাকর!
ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকবে— দৌঁড়ে বেড়ানো দুপুর।
বয়স বাড়বে না মিহি রোদ মাখা বিকেলের গায়।
রাতের সাথে সন্ধি বাতিল করবে
অন্ধকার বুকে পোষা আমাদের সন্ধ্যেরা!

কথা ছিল— আমিহীন দিনে তুমি দেখবে না আকাশ,
ভুলে যাবে তোমার প্রিয় বাহন রিক্সার বেল,
বিষণ্ণ মনে হবে অবাক জ্যোৎস্নায় ভেসে যাওয়া চাঁদ,
কথা ছিল— মেঘের বার্তা পেলেও তুমি খুলবে না খাম,
দৃশ্যমান দৃষ্টিকেও মনে হবে অতল,
কাজলের বদলে সেখানে জায়গা করে নেবে জল।

কথা ছিল— আমিহীন দিনে হাসিতে হাসবে না টোল
খোপা খুলতে ভুলে যাবে উড়ে যাওয়া চুল,
আমিহীন দিনে তুমি রান্নায় নুন দেখতে ভুলে যাবে,
ভুলে যাবে আদৌ খেয়েছো নাকি কিংবা ক’বেলা খেলে!
হাত ধরে রিক্সায় উঠতে হতো বলে
আমিহীন দিনে ওটুকু পথ তুমি হেঁটেই চলে যাবে।

অথচ আমার অবর্তমানে কোথাও থামেনি কিছুই!
সকাল শুরু হলো, দুপুরগুলো দৌড়ালো,
মিহি রোদের বিকেলেরা সন্ধ্যার সাথে সন্ধি পাতলো!
অবাক জ্যোৎস্নায় রাতভর স্নান হলো রাত।

আমার অবর্তমানে তুমি ‘এ্যাই খালি’ বলে
প্রিয় বাহনে করে— চষে বেড়ালে পুরো শহর।
নিখুঁত দৃষ্টিতে ধরে রাখলে আকাশ,
জলজ চোখ সরিয়ে তাতে বসালে কাজল,
মেঘেদের নিমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বললে; ‘সঙ্গে যাব চল’।

আমার অবর্তমানে তোমার হাসিতে টোল হাসলো,
খোঁপা খুলে উড়ে গেল বনলতার চুল,
তরকারিতে নুন দেখলে, খাবার কথা মনে রাখলে,
শোকের গায়ে গেথে দিলে প্রশান্তির ফুল!
আমার অবর্তমানে কোথাও থামেনি কিছুই!
থামবে বলে ভেবে যাওয়া আমার আমিটাই শুধু ভুল।

বিস্মৃতির অলিখিত চিঠি
……………..

তারপর একদিন—একটি নিঃশব্দ সকাল,
তুমি অন্য কারো হাসিতে খুঁজে পাবে ঘরের জানালা।
তার চোখে জ্বলে উঠবে সেই আলো,
যা একসময় আমার ছিল—অথচ কোনোদিন ধরা দিইনি।

তুমি হয়তো ধরবে তার হাত—
এবার আর থেমে যাবে না, যেমন আমার সঙ্গে থেমে গিয়েছিলে।
সে হয়তো তোমার কফির স্বাদ জানবে,
আর আমি—এক দূরবর্তী উপমা হয়ে রইব কোনো কবিতায়।

আমাকে তুমি মনে রাখবে না,
তবু কিছু শব্দ তোমার নিঃশ্বাসে থেকে যাবে,
যেমন বৃষ্টির পরে কাদা থেকে যায় পায়ের রেখায়—
মুছে ফেললেও গন্ধটি কোথাও রয়ে যায়।

তুমি ভুলে যাবে, নিঃসন্দেহে ভুলে যাবে—
এই জানাটাই সবচেয়ে নিষ্ঠুর শান্তি।
কিছু মানুষ কষ্ট দিয়ে ভালোবাসে,
আর কিছু মানুষ ভালোবেসেই কষ্টে হাসে।

কামুক প্রেম’
………..….

জেগেছে সোনালি পরশ
হারিয়ে হরিছে জাগোয়ান—
ভেঙেছে গণতন্ত্রের মন
গজেছে পিপীলিকার পাখা।

ভালো নেই ভালোবাসা
মিথ্যের মতো মিথের অভিমান,
ঠোটের গোলাপি রঙের কামবাসনা
অট্টহাসির ঘরে রাজতন্ত্রের বাসনা।

ভালো নেই গণতন্ত্র
পতনের হাতে স্বৈরাচারী প্রেম,
রাক্ষসীর হাসিতে পুডেছে ঘর
সাংসারিক হরিৎ উপত্তকা।

অগোছালো আলগা চুলে
বেপরোয়া কামারু সনেট
জানলার ফাকে দেহাবসানের
কায়া কামনা নিশিথ অন্ধকারে।

ভালো নেই গণতন্ত্রী প্রেমিক
শাখে মেটেনি সেলফি উন্মাদনা
কামজ্বরে ঠাপাঠুপে ঘামুক
একবিংশে মিথের মতো মিথ্যে
প্রেমিকেরা।

||১৬ই অক্টোবর,২০২৫
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুর||

নির্লজ্জ কবি
……………

স্রষ্টার সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ জাতি
অক্ষ ছিড়ে নক্ষত্র ছুয়েছে বহুবার,
প্রেমের এজলাসে মুক্তি পেয়ে
মরার আগে মরতে চায় আবার।

কবির তরে ফাঁসির দড়ি ঝুলছে মগডাল
তাই বুঝি প্রেম মানে রক্তিম কারবার,
নির্লজ্জ বেহায়া কবি ফেঁসেছে কোন ঘরে?
এই বুঝি প্রেম করে কবি আবার মরে!

কবি কেন বারবার প্রেমে পড়ে?
বদলে গেছে মানুষ, বদলেছে নগর —
সব বদলেছে বলে বদলাবে কবে
কবির নিজস্ব দুঃখ সাগর?

||১৭ই অক্টোবর, ২০২৫||

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা