ইমরুল হাসান
তোফায়েল আহমেদ মারা যাওয়ার নিউজ দেখার পরে উইকিপিডিয়ায় উনার এন্ট্রি’তে কি লেখা – সেইটা দেখতে গেছিলাম, ১৯৬৯ সালে আবদুল মালেকের খুনের ঘটনার পরে ১৯৭৫-এর কথা, ইভেন কোন মুক্তিযুদ্ধও নাই! অথচ উনার লাইফের সবচে পাওয়ারফুল টাইম তো হইতেছে ১৯৭২-৭৫ সাল! মাফিয়া-মিডিয়া ও প্রো-ইনডিয়ান ন্যারেটর’রা যাদেরকে ৪ খলিফা বানাইছে (খেয়াল কইরা দেখেন, মুজিব নেতা না, নবী!) তাদের মধ্যে সবচে ধুরন্ধর ও ক্রিমিনাল ছিলেন তোফায়েল আহমেদ! ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধিন হওয়ার পরে শেখ মুজিবের সবচে ক্লোজেস্ট লোক উনি!
এইরকম একটা ভিডিও ক্লিপও দেখলাম যে, তোফায়েল আহমেদ বলতেছেন, জিয়াউর রহমান কে আমরা চিনতামও না! তো, এইটা ভান কইরা বলা না, কারন ১৯৭২’র পরে তোফায়েল এতোটাই পাওয়ারফুল আছিলেন যে, এইরকম কথা চালু আছে, জিয়াউর রহমান লোকজন ধইরা তার কাছে রিকোয়েস্ট পাঠাইছিলেন যাতে রাস্ট্রদূত কইরা সেনাবাহিনি থিকা সরায়া না দেয়! মানে, তোফায়েল আহমেদ’রা-ই তো বাংলাদেশ চালাইতো তখন! চালাইতো মানে কি, লুটপাট করতো, ক্রিমিনাল এক্টিভিটি রান করতো পলিটিকসের নামে!
এবং পলিটিকস করতে হইলে আপনারে যে ক্রাইম করতে রাজি হইতে হবে – অই বটমে নামায়া নিয়া যাওয়ার ক্রেডিট পুরাটাই তোফায়েল আহমেদের! এর আগে যে গুন্ডামি-মাস্তানি ছিল না পলিটিকসে – তা না, সবসময়ই কম-বেশি ছিল বা আছে, কিনতু পলিটিকাল নেতা হওয়া মানে ক্রিমিনাল হয়া উঠা – এর উদাহারন মেবি তোফায়েল আহমেদের আগে বাংলাদেশে আর নাই!
তোফায়েল আহমেদ পলিটিকস’রে ক্রিমিনাল এক্টিভিটিতে এক্সটেন্ড কইরা নিয়া গেছেন স্বাধিন বাংলাদেশে – এইটাই আমি মনে তার সবচে বড় পলিটিকাল সিগনিফিকেন্স! আমি মনে করি ১৯৭২ টু ১৯৭৫-এ তার যেই ক্রিমিনাল এক্টিভিটি, তার খুব কম জিনিসই আমরা জানি (তোফায়েল ক্যাডার, রক্ষি-বাহিনি, এইটুকই আছে আলাপে…), কারন বাংলাদেশের মাফিয়া-মিডিয়াতে অই জিনিসগুলা এখনো ট্যাবু হয়া আছে… তো, উনার ‘মহত্ব’ এখনো টু সাম এক্সটেন্ড আবিস্কৃত হওয়ার অপেক্ষায় আছে বইলা আমি মনে করি…
১৯৭৫-এ মুজিব মারা যাওয়ার পরে উনি কিছুদিন বন্দি থাকলেও মোটামুটি ‘অলৌকিক-ভাবে’-ই বাঁইচা থাকেন, অনেকে তো এই সন্দেহও করেন উনি কোনভাবে ইনভলব কিনা… কিনতু আমি মনে করি, উনি কোন একশনে থাকার কথা না, বরং বেনিফিটের অপেক্ষায় থাকার কথা, যেইটা এরপরে আর কোনদিনই খুব একটা পান নাই, এই সন্দেহের কারনেই হয়তো…
রেস্ট অফ দা লাইফ, আওমি-লিগের বার্কিং ডগ বা ঘেউ ঘেউ করা কুত্তা হিসাবেই উনার পলিটিকাল লাইফ পার করছেন… এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে বানিজ্যমন্ত্রি হওয়ার সুবাদে ব্যবসায়িদের পছন্দের লোক হিসাবে ২০০৭-এর সিভিল-মিলিটারি ক্যু’তে জয়েন করতে গিয়া আরেক দফা ধরা খান! যদিও কাম-ব্যাক করেন আবার, ২০১৪ সালে বানিজ্যমন্ত্রি হন, মেবি অই ব্যবসায়িদের ব্যাক-আপেই…
এখন মনে হইতে পারে যে, রাজনীতিরে উনি বিজনেসে পরিনত করছিলেন বা ব্যবসায়িদেরকে পলিটিকসে ইনক্লুড করছিলেন উনি… (মানে, এইটুক হইলে তো হইতোই!) কিনতু আমি মনে করি, ঘটনা’টা ফার মোর ওরস্ট! স্বাধিনতার পরে জোর-জবরদস্তি কইরা মানুশের সম্পত্তি, বিজনেস দখল করাটারেই যে ‘পলিটিকস করা’ বানাইছিলেন, পরে ডাকাতি ও লুটপাট করতে পারাটারেই বাংলাদেশে ‘বিজনেস করা’ হিসাবে এস্টাবলিশড করতে পারার একজন কারিগর তোফায়েল আহমেদ!
এবং তার ক্রিমিনাল এক্টিভিটিগুলারে এখনো হাইড কইরা, টোন-ডাউন কইরা রাখা হয় এর একটা বড় কারন হইতেছে, বাংলাদেশের এস্টাবলিশমেন্ট এখনো তোফায়েল আহমেদ’দের তৈরি করা ‘নিয়মে’-ই চলে! হিজ ফিজিকাল ডেথ ইজ ইম-ম্যাটেরিয়াল! যেই বিষ উনারা ঢুকায়া দিয়া গেছেন বাংলাদেশ রাস্ট্রে ও সমাজে, সেইটা এটলিস্ট খেয়াল করতে রাজি হওয়া দরকার আমাদের!
আল্লাহ উনার কাজের বিচার করবেন! আমাদেরও তার কাজের বিচার-বিবেচনা করাটা জরুরি এখন, বাংলাদেশের ভালো’র জন্যই!
৬/১/২০২৬







