মামুন সুলতান
ঝড় নয় বৃষ্টি হোক এই বৈশাখে
…………………
কখন যে বৃষ্টি এসে আমার গা ধুয়ে দিলো
আমার শাদা পাঞ্জাবি লেপটে গেছে শরীরে
আমার চোখ বিদীর্ণ মেঘের অনেক দূরে
কপাল ছুঁয়ে কেবল শীতল বৃষ্টি-মাধবী
আমি কবি তাই ধ্যানে ধরা দেয় বৃষ্টির সুখ
এই বৈশাখে তুমুল বইছে অনর্গল বৃষ্টি
মাতালের মত ঝড় মাঝে মাঝে কোত্থেকে যে
উড়ে আসে এই হাওড়ে বুরোফসলের খলায়
তখন কবিতা আর আমি অবাক হয়ে ভাবি
বৃষ্টির শীতল স্পর্শ ভুলে যাই
হয়ে যাই পূর্ণাঙ্গ পুরুষ কিংবা কৃষিজাতের মানুষ
দেখি গামছায় কোমর বাঁধা ধানকিষানের দৌড়
কেবল তোমাকে নিয়ে কতো আবেগ গাঁথি হে বৈশাখ
নবকুড়ির নরম স্পর্শের মতো তোমাকে স্নেহ করি
পল্লবিত নবানন্দে শিহরিত হই সজীব সন্ধ্যায়
ভোরের শীতল বায়ে মিশে যাই তোমার গহীনে
অথচ রুদ্রমূর্তির মাতাল রূদ্ধশ্বাস আমার
কাম্য নয় কখনও। উঠোনে যে ধান পড়ে আছে
জীর্ণ ঘরের নরম দেরাজ কিংবা পুরান টিনের চালে
তোমাকে কখনো দেখি না যেন আর
আমাকে ভিজিয়ে যাও পরম স্নেহ-মমতায়
কবিতার সীমানায় হয়ে থেকো ভালোবাসার দ্বারবান।
বিদ্যুৎ বিকেন্দ্রে নিলামে ওঠা চোখ
………………
জলাঙ্গিনী তুমি এতো ফর্সা কেন
চাঁদের রূপালি রঙ তোমার চোখের তারা
সকালে নিলাম হবে তোমার চোখ বিদ্যুত বিভাগে
তুমি জিইয়ে রাখো আলো অবিরত অবিরাম
এই শহর এইসব গ্রামে ঘুটঘুটে অন্ধকার
কাদামৃত্তিকার পথ যেন মিশকালো ভূত
গা ঝিমঝিম করা চমচম ভয়ে আঁতকে ওঠে চোখ
এমন দূর্যোগে আসো তোমার আলোয় যাবো বাড়ি
তোমার ফর্সা শরীর নিলামে যাবে এখন
পিডিপি দরপত্রে সাইন করেছে বহুমূল্যে
কিন্তু তোমাকে হারালে আমি জন্মান্ধ হয়ে যাবো
খাম্বায় বিদ্যুৎ নেই তারে তারে লোডশেডিং
তোমার চোখের আলো আছে তাই
আমার আঁধার বলে কিছু নেই
তুমি বিকেন্দ্রীকরণ আমার বিদ্যুৎ অফিস।
সিসিক্যাম
…………
নির্ঘুম নিশিতে জ্বলে নিয়ত নিয়ন বাতি
নির্জীব আঁধারে শুনি নীরব রাতের শান
বৃক্ষের বাকল ঘষে বেরিয়ে আসে জোনাকি
পাতার আলাপ শোনে পির-ফকিরের কান
কথার ফিস-ফিসানি যেন বাতাসবাহিত অসুখ
মানুষের দ্বেষ-দূষণ দেখে দেখে করে আফসোস
অসহ্যে বিক্ষত করো গোপন ঘরের সুখ
প্রকৃতির সিসিক্যমে জমা আছে তোমার মুখোশ
বৃক্ষেরা পাতার ফাঁকে লিখে রাখে শত-অব্দের প্রাণ
বাতাসেরা বয়ে চলে
মানুষের দোষ আর গুণের প্রমাণ।
কঙ্কাল শরীর নিয়ে
…………………
বয়স মানে শরীর নুয়ে পড়া দেহের কঙ্কাল
দুরন্ত দুপুরে বুক টানটান যৈবন
বিকেলে বাজারে যায় ব্যাগ হাতে সূর্যডোবার নাইয়ে
সন্ধ্যার ফেরার তাড়া সিদ্ধসংসার ধোঁয়ায়
ঘামতে ঘামতে বারান্দায় বসে বয়স গোণে
সন্ততি মাছের মতো হা করে বিস্কিট খোঁজে
পঁচা মাছের গন্ধের মতো বেরিয়ে আসে
বগল তলের ঘ্রাণ
গন্ধে গন্ধে উড়ে যায় দুঃখশ্রান্ত অবিশ্রাম দিন
সূর্য ওঠে সূর্য ডোবে
জমা হয় ক্যালেন্ডার বছরের পর বছর
মাত্র কয়েক পাতার হিশেব খুঁজে দেখি
পঞ্চাশ বছরের বিশীর্ণ মুখে জমে গেছে
চৈতালি বিলের আঁকাবাঁকা বক্ররেখা
আমার হাড়গোড় ভেঙে
সময় এখন অন্যপক্ষে শুশ্রূষায় গেছে
কঙ্কাল শরীর নিয়ে আমি আকাশ দেখি
তপ্ত রোদের যৌবন আমাকে কেউ দেবে না আর।







