সাজ্জাদ সাঈফ
আমি মুহাম্মদের (সাঃ) লোক
০৯/
কথার ভিতর ভাষা একটা জিরাফ দেখো মাথা উঁচু করে থাকে। যেমন তোমার স্মৃতি হৃদয়ে দাঁড়ায় এসে, অনুরাগ অনুপ্রাসে, থামে লোকাল ভাষার টানে; বকুল ঝরানো দিলখোলা সকালের মত মিহিদানা রোদ ছানে!
কথার ভিতর হতে ঘুম জড়ানো গলায় ডাকে মাঘের সরিষা ফুল, আর তুমি হীরণ্য কুসুম নাকি? এক জন্মে শতেক শতাব্দী আলো করে গেছো হযরত!
স্বপ্নকে কুরসিবর্ণ লাগে, কাছেই ধূসর মরু, আসছে আজান ধেয়ে!
:
১০/
তোমার ভ্রু কুচকায় কেন ভাই আমারে দেখলে, মুখে ভাঁজ পড়ে কেন, কেনরে ভাই? এই যে এতটা ছোট আর অল্প আলোর ঘরে বাস করি, আকাশ যতই উদার হোক জমীনে সব উঁচা দালানের ভিড়ে একেকজনের বুক খুপড়ি ঘরের মত ছোট হয়া আসছে দিনকে দিন যাতে অন্যদের জন্য যথেষ্ট জায়গাই আর নাই আজকাল তবু তোমার খ্যাতির দৌড়ঝাঁপ দেখতে কিন্তু দারুণই লাগে অথচ আমার তাওয়ায় যথেষ্ট তেল আছে তোমারে ভাজার মতন কিন্তু আমি তোমারে ছাইড়া দিছি খোদার হাওলায়। আমার অন্য কাজ আছে। মগজে এলান হচ্ছে আয়া সোফিয়ার। বুকে বান্ধা আছে তিনশো পাথর। তোমার পথ আমার পথ নয়। তবুও কলার উঁচায়া তুমিই হাঁটবা ভাই, কেননা আবাবীল ক্রাইসিস তোমার ধারণাতেই নাই। এই যে বাংলাদেশে যতগুলা মাঠ আছে সবার জন্য পর্যাপ্ত সবুজ ঘাসও আছে আমার কবিতায় তারপরেও তুমিই নাকি দেশপ্রেমের উজ্জ্বল প্রতিভা তাই আমারে দেখলেই তোমার বুটের শব্দ বাইড়া যায় আর আমি মাটির দিকে তাকায়া হাঁটি রাস্তার ডানপাশ দিয়া, আমারে আজানের উত্তর দিতে হবে এখন, প্রতিবেশির জানাজা আছে।
:
১১/
ছিমছাম মেথিফুল
হাত বেয়ে নেমে আসা মেঘের কৌশলে ডাকে
চেনা কোনো বন্ধুর সাথে দীর্ঘ বিরতির পর সাক্ষাতে যেন করমর্দন; একলা দুপুর জুম করে শীতল বাতাস বুকে!
এতসব শোভা আয়োজন কার তুমি জানো নাকি?
এত ঝিক, নগর ট্রাফিক ছেড়ে এসে প্রাঞ্জল মাষকালাই, যেন ডাকে অমৃতস্বর কাছেই, কেনই বা আড়াল থাকছো চোখ?
দৃশ্যেরা অক্ষর যদি এত প্রকৃতি নিজেও মহাগ্রন্থ আল কোরআন, কুসুমিত ভোরের আযান-
‘ফাবি আইয়ি আলাইহি রাব্বিকুমা তুকাযযিবান’!
:
১২/
সানগ্লাস থেকে বাঁয়ে সরে গিয়ে সূর্য
পৃথিবীর কলাপাতা বাগানকিনারে থামে।
এই ফাঁকে ভাবছি নাগরদোলা
এই ফাঁকে দেখছি কচুরিপানা
মায়ের আঁচল হতে নেমে গানে ও গুঞ্জনে
ফুটে আছে ফুল, তারকাতরুণ ফুল!
যত ধেয়ে আসে পাতা ফসকানো রোদ
যত প্রীতিধারা স্মৃতিরা উসকে দেয়
তুমি ততখানি দরুদ কিনারে থির!
এই ফাঁকে আমি শুনছি ফাতিহা কিরাত
এই ফাঁকে মানুষ সইছে ছায়ার আঘাত;
তুমি মানে একমাত্র খেজুরপাতার ঘর
সমস্ত পৃথিবী দেখো আজ যুদ্ধের প্রান্তর?
পৃথিবীতে বলো প্রকৃতির চেয়ে কোনো
বিশুদ্ধ সংঘের খোঁজ পাব নাকি, হযরত?
:
১৩.
*
নিজেকে অচিন পাতায় বসিয়ে দেখি গাছেরা এগিয়ে দিচ্ছে হাত, করমর্দন করে। এইভাবে তবে কি প্রকৃতিই মূলতঃ বন্ধু? গাছেরা যমজ নাকি মানুষের?
বাচাল সমস্ত ভাবনার শেষে তোমার মোজেজা নিয়ে কি লিখি কি লিখি করে অর্ধজীবন গেলো উদ্ভ্রান্ত। মুমিনের দ্বিধাগ্রস্থ মন নিজেই অপাপবিদ্ধ জ্ঞানের প্রজ্ঞাপন, তাকে প্রয়োজন মান্য করে অন্ধকার হেরা গুহা কি যে আলোকিত ইতিহাসে!
আজ এসে বেশি করে মনে হয় সেইসব কথা।
মনে হয় বাড়ির ধারে পোল পড়ছে পোস্তগোলা ব্রিজের, মনে হয় কঠোর মক্তব শেষে রেহাল গুছাচ্ছি, অবাধ শৈশব, মনে হয় দাবার চালে কত শত ভুল ছিলো আমাদের। অথচ সে-কালের কামলিওয়ালা তুমি, উহুদে নিরাপোষ ত্রাস, বদরের ডাকে সাড়া দেয় মরুবৃক্ষ!
অতিতারুণ্যে কত কি করে এসে চল্লিশে প্রসিদ্ধ হয় মানুষ আর সেই প্রজ্ঞার অপেক্ষায় তোমাকে পাঠ করি আদিগন্ত হিমাচল।
সারারাত কুরসি আয়াত, বুকে নক করে হিলফুল ফুজুল। যুদ্ধ চলছে জল-স্থল-ন্যাটো ও হরমুজে, ঘুড়ির জায়গা দখল করেছে মিসাইল আর ড্রোন।
তোমার মোজেজা ভেবে কখন যে কলম তুলেছি হাতে! আর দুনিয়ার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আমৃত্যু কাবায় সাব্যস্ত ছিলে তুমি; তায়েফে অঝোর রক্তলাল।
পড়ছি তোমাকে একা, অদূর শেফালি ডাকে দরদিয়া সুরে। পড়ছি মদীনা শরীফ, সিরাতুল মুস্তাকিম!
কি লিখি তোমাকে ভেবে, চলে গেল অর্ধজীবন পথে!
বাকি অর্ধেক না হয় সিরাত-আখলাকে যাক মদীনামন্থনে কেটে; কবুল করিও ইশকে রাসুল, ক্বলবে দরুদ কোটি!
::
১৪.
ভোরের পাথরলিপি আর মাটি বাংলাভাষী;
এতসব মরমী গীতলে বলো, কতোকাল গাইছো তুমি সলো?
বাংলার প্রন্তরে মরা নালিঘাস, চলিত ঘাসের ভাষা
সচল রেখেছে এক প্রজ্ঞার আবহাওয়া;
যে বোঝে সেই হাওয়ার ঈশারা তারে ঘিরে থাকে
যাতনাগেরাম আর অজস্র মফস্বল!
সে-ই আবহাওয়াময় ইলম জাগায় আত্মজিজ্ঞাসা!
ঝিলমের পাড় আঁকা দুই চোখ নিয়ে, এই ঘোরলাগা হাঁটা, এই জরা-ঘৃণা-যুদ্ধময় মহাবিশ্বে চিরন্তন একা কোনো মুসাফির বান্দার নাকি?
কবরফলক ক্ষয়ে, কত ঋতুর অক্ষর, কত স্রোতের আঁচড়, কত মাটির নির্মোহ জিকির ডুবে গেছে ইতিহাসে, ভাতঘুমে। কত প্রেমময় আত্রাই চলেছে বিষাদ-ঘুড়িতে দুলে, জানো এর প্রত্যুত্তর?
এতসব আয়াতের আয়োজন ফেলে নিথরতা নিলে দেহ, সেই আজন্ম হাঁটা শব্দে বাঙ্ময় জার্নি, পারি দিতে যেন পারি সাওম-শোভিত মুখে!
গ্রহ আর নক্ষত্রের ভাষা
নদী আর তরল মেঘের ঘড়ি
মানুষের আয়ু থেকে নেমে আসা
আয়ুর যে কাড়াকাড়ি
কতখানি অভয় অরণ্যে
লাব্বাইক ধ্বনি ডেকে এসে আগুন তারুণ্যে
কতগুলি অক্ষর বসিয়ে গেল তোমাদের আঘাতের দাগে
লিখে যাবো তার আগে!
সেটুকু নিছক দিও, সুযোগ আমাকে প্রভু!
এ’ই বলে আয়না আমাকে ডাকে, যেন এক প্রাচীন ভাষার নদী এইদিকে বয়ে এসে গেঁথে গেছে মেঘে, এই রাত অমল তরণী চেনে? নির্বাণে থির হবে নাকি রুহ?
বহুদূর, অদেখা মদীনা ঘেঁষে দরুদ সুরত চায়
চিরল ধ্বনিত হতে পুণ্ড্রশোভিত কোনো ভাষামিস্ত্রীর বুকে; জোয়ার বালুকা ঢাকে, যেন ডাকে মৌরসিপাট্টা; যেন তুমি পাঠ নিতে যেতে বহুদূর, সোমপুর; সেখানে শুক্লপক্ষের চাঁদ একটানে এসে
আজো নামে চর্যার অক্ষয় অক্ষরে!







