আমান আবদুহু
আমি যখন ড্রাইভিং লাইসেন্স নিবার নিমিত্তে থিওরিটিকাল পরীক্ষা দিতে উচ্চশিক্ষার্থে অধ্যয়ন করতেছিলাম, তখন একটা বিশেষ ঘরানার কিছু উত্তর আমার মনযোগ আকর্ষণ করেছিলো। এগুলো এমসিকিউ প্রশ্ন। মনে করেন, একটা প্রশ্ন হলো, আপনি যাইতেছেন যাইতেছেন এখন রাস্তা ক্রস করে ডানে একটা ড্রাইভওয়েতে ঢুকবেন। এদিকে সামনে থেকে একটা গাড়ি আসতেছে। এখন আপনি কি করবেন?
এর তিন চারটা উত্তর থাকে, একটা থাকে এইরকম: আপনি যেহেতু ড্রাইভওয়েতে ঢুকবেনই সুতরাং ঢুকে যাবেন এন্ড লেটস হোপ ফর দ্য বেস্ট।
অথবা মনে করেন আরেকটা প্রশ্ন হলো, আপনি পার্কিং থেকে বের হবেন এদিকে দেখতেছেন ঐপাশ দিয়ে আরেকটা গাড়ি পার্কিং এ ঢুকতেছে। এখন আপনি কি করবেন? এখানেও তিন চারটা উত্তর আছে, এর মাঝে একটা হলো, যেহেতু আপনি বের হইতেছেন সুতরাং আপনার অগ্রাধিকার আছে এবং আপনি বের হয়ে যাবেন, অন্য গাড়ি কি করতেছে তা দেখার দরকার নাই এন্ড লেটস হোপ ফর দ্য বেস্ট।
সুতরাং পরীক্ষার যখন প্রস্তুতি নিতেছিলাম তখন অন্তত একটা জিনিস বুঝতে পেরেছিলাম। জীবনে আশাবাদের গুরুত্ব থাকলেও পরীক্ষায় যদি হোপ ফর দ্য বেস্ট করি তাইলে ফেউল্যা হতে হবে।
আওয়ামী লীগ হলো সেই হোপ ফর দ্য বেস্ট গুন্ডাদল। এরা পাবলিককে ভয় দেখিয়ে এবং নিজেদের সমর্থকদেরকে আশার বাত্তি দেখায়ে মুর্গা বানাতে চায়। সংঘর্ষ অস্থিরতা লাগিয়ে দিয়ে আশা করে এর ভেতর দিয়ে তারা ইমার্জ করবে। এইবার না হলে পরের বার। তা না হলে তার পরের বার। গেস হোয়াট? বাংলাদেশ যেহেতু গোলামদের দেশ, গান্ডুদের দেশ, এই ট্রিক কাজে লেগেও যায়।
এটা নতুন কিছু না। সেই শেখ মজিব স্বয়ং ছিলো এই কর্মপদ্ধতির গুরু। প্রথম পথপ্রদর্শক।
মজিব সত্তর সালে পুরা দেশকে অস্থির বানিয়ে বজ্রহুংকার দিলো, তোমরা যার যা আছে তা নিয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো। যেন এখন সে ফাটাবে। তারপর কি করলো? সুটকেস গুছিয়ে নিজে সুড়সুড় করে পশ্চিম পাকিস্তানের মেহমানখানায় চলে গেলো। ভারত এসে যদি দেশ স্বাধীন না করতো, তাহলে সে বলতো, আমি কি করছি?
এই হলো টুঙ্গিপাড়ার বিখ্যাত বাটপার বংশ। বাটপারি এদের রক্তের কণায় কণায়।
শেখ বাটপারের মেয়ে শেখ বাটপারনি না কি দেশে ফিরবে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে কেন? কেন এখন না? এখন কি খুনী ডাইনিটার গলা দিয়ে পিরিয়ড চলতেছে কথা বলতে কষ্ট হয়? না কি দেশে গরমকাল, তার শীতকাল লাগবে? কোনটাই না। সে আসলে কয়েক মাস অস্থিরতা লাগিয়ে রাখতে চায়। এবং আশাও করে, এই ঝামেলার ভেতর দিয়ে তার ফেরত আসার রাস্তা সুগম হবে। যদি এইবার না হয়, তাহলে পরেরবার।
এইরকম ঘোষণা এই বাটপার লীগ অনেকবারই দিয়েছে। এটা তাদের জাতির বাটপার পিতা থেকে পাওয়া অভ্যাস। যেমন দিয়েছিলো বাইশ বছর আগে, ২০০৪ সালে। তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ওরফে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের জইল্যা বাটপার ঘোষণা দিয়েছিলো, ৩০ এপ্রিল তারা সরকার পতন করবে। এই কাজ করার জন্য তারা দশ ট্রাক অস্ত্র এনেছিলো, ১ এপ্রিল ধরা খায়। ধরা খাওয়ার পর বাঙু সাংবাদিকদের প্রচারণার জোরে সেই অপরাধ তারা বিএনপির উপর চাপিয়ে দেয়। পাশাপাশি প্রশিকার কাজী ফারুকের মাধ্যমে কয়েক লাখ শ্রমিককে জড়ো করার ষড়যন্ত্র করে। সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে যায়।
আওয়ামী লীগ হলো বিষাক্ত সাপ। যত যাই কিছু করেন না কেন সে অনবরত ছোবল মেরেই যাবে। পাবলিককে অনবরত উস্কাতে থাকবে। লেটস হোপ ফর দ্য বেস্ট মার্কা দল। এই ডিসেম্বরে কিছু না হলে পরের মার্চ মাসে আরেকটা ছোবল। তাতেও না হলে আগস্ট মাসে আরেকটা ছোবল।
আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রতিষেধক হলো এর বিষদাঁতগুলো উপড়ে নিয়ে ঘাড় মটকে দেয়া। দ্য অনলি গুড আওয়ামী ফ্যাশিস্ট ইজ এ ডেড আওয়ামী ফ্যাশিস্ট।







