উম্মে হাবীবা মায়া
ঘুমুতে নাও
……………..
মৃত নগরের ফটক ভেঙে গেছে
প্রতিটি লাশের উপর চেপে বসেছে
আরেকটি করে নতুন লাশ
মৃত্যুর পরে মূলত তারা ওজন
বাড়াতে চেয়েছিলো নিজেদের
যুদ্ধের গল্প শুনতে শুনতে
নিজেরাই নিজেদের মেরে ফেলার
সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে গুলি করেছে
কেউ কেউ তখন আলাদা করেছে
রক্তের স্বাদ গন্ধ ও রঙ
যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে
তাদের রক্তে রোদ পড়লেই
দাউদাউ জ্বলে ওঠে লাল আগুন
আকাশ পুড়তে থাকে একটা করে
ঝুরঝুর করে ঝরে যায় মেঘ
তার আগে ধাক্কা লেগে গর্জন
বিদ্যুৎ লেখার ঝলকানিতে
অন্ধ হয়ে যায় দু’চোখ
ফলশ্রুতিতে কেবল জেগে থাকা
মাঝরাতে কানের কাছে এসে
বলতে পারছি না
ভীষণ ভয় করছে আজ রাতে
আমাকে তোমার বুকের ভিতর
ঘুমুতে নাও।
মজলুমের জুলুম
…………………….
কারফিউ সব
আমার বুকের উপর তুলে দাও
সাউন্ড গ্রেনেড তুলে দাও কাঁধে
টিয়ারগ্যাস রাবার বুলেট
জনতার শ্লোগানে মিশিয়ে দাও
প্রতিরোধে আগুনে
প্রাচীন ঘি ঢালো অনবরত
যেখানে যতো রক্তের দাগ দেয়াল
তুলে আগলে রাখো
ঝলসানো লাসের গা থেকে
গণতান্ত্রিক পরিচয় মুছে দাও
চোখ তুলে নেয়া শুন্য কোটরে
গণতন্ত্রের বীজ রুয়ে দাও
ছররা গুলির ঝাঁঝর বাজলে
আমিও নিজের পাঁজর থেকে
খুলে নেবো একেকটা হাড়
আর এমন নাচাবো
তালা লাগবে শাষকের কানে
ওদের জিহবা ছিঁড়ে সাধারণ
মানুষের মুখে জুড়ে দিয়ে
উচ্চারণ করাবো
ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক
গণতন্ত্র মুক্তি পাক।
যুদ্ধ
……
আমাদের যুদ্ধ বিক্রি হবে না। শতরঞ্জি পাতা মেঝেয় অস্ত্রগুলো এভাবেই থরে থরে সাজানো থাকবে। ফুল ঝরে পড়ার সময় যাদের মৃত্যু হয়েছে তোমরা তাদের মৃত বলতে পারো না। যুদ্ধ আরম্ভ হবার কথা ছিলো চন্দ্রাহত রাতের মধ্যভাগে। প্রতিপক্ষ শর্ত ভেঙে প্রথম গুলি ছোড়ে।
শিশুরা তখনো ঘুমায়নি। দুধভাতের গন্ধে যুদ্ধ মিশে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে দেখতে মানচিত্রে আঁকা যতো নদী লাল হয়েছে। সবুজ ঘাসের দেশ লাল হয়েছে। দেয়ালে বুক চিতিয়ে থাকা সমূহ অক্ষর লাল হয়েছে। শ্রাবণ আষাঢ় লাল হয়েছে। বুলেটবিদ্ধ বৃষ্টির ফোঁটাগুলো কাঁপতে কাঁপতে ঝরতে চায়নি। বাতাসের ধাক্কা সামলে ফিরে যেতে চেয়েছে মেঘের কাছে। নাহয় যুদ্ধের দামামা হয়ে বাজতে চেয়েছে ক্রমাগত।







