শাকিল রিয়াজ
বিপ্লবের মন্ত্র ♦
হিটলার হটানোর
মন্ত্রটা মন্ত্রীকে
বলেছিল পুলিশের নরপশু হায়না,
— গুলি করি একটারে
একটাই যায় স্যার, বাকিডি তো যায় না।
তরুণ আর তরুণীর
জেগে ওঠা দেখেছিস?
সম্মুখে আগুয়ান, ডানে-বামে চায় না
— গুলি করি একটারে
একটাই যায় স্যার, বাকিডি তো যায় না।
বুকপাতা পোলাপানে
একবারই জেগে ওঠে
বারবার এ জাতি তা চাইলেও পায় না
— গুলি করি একটারে
একটাই যায় স্যার, বাকিডি তো যায় না।
গুলি এলো গোলা এলো
কত ধারা জারি হলো
এ যুগের তিতুমীর কার্ফুটা খায় না
— গুলি করি একটারে
একটাই যায় স্যার, বাকিডি তো যায় না।
ফ্যাসিমুখ রুখে দিতে
রাস্তায় বাসা বাঁধা
সন্তান কতদিন খায়-দায়-নায় না!
— গুলি করি একটারে
একটাই যায় স্যার, বাকিডি তো যায় না।
আগে বাড়া জেন-জির
গেঞ্জিটা টানো কেন?
পিছুটানা চেতনার গান এরা গায় না
— গুলি করি একটারে
একটাই যায় স্যার, বাকিডি তো যায় না।
ভয় থেকে জয় কেড়ে
আনা যায় লাল মেখে
রক্ততে যদি থাকে মুক্তির বায়না
— গুলি করি একটারে
একটাই যায় স্যার, বাকিডি তো যায় না।
……………………………….
স্টকহোম, ৩০/১১/২০২৪
মৃত্যুগুলো মরে নাই ♦
শ্বাসগুলোতে শ্বাস ফিরিয়ে
রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ে গিয়ে
অন্ধকারে লাল জ্বালিয়ে
ফিরছি যখন অনিশ্চিতে
মুগ্ধ আমার ঘরে নাই
মৃত্যুগুলো মরে নাই।
বিপ্লবে থাকেনা নেতা
প্রান্তবাসী ভুক্তভোগীর
ভিড় করা এক ইচ্ছাটাকে
নেতার রূপে রূপ দেয়ানোর
আকাঙ্ক্ষাটা সরে নাই
মৃত্যুগুলো মরে নাই।
গ্রাফিত্তির ওই আবু সাঈদে
ফুঁ দিয়েছেন মহান রবে
হাতদুটো ফের প্রসার করে
ফিরে এলো তারাই যারা
গুলি খেয়েও পড়ে নাই
মৃত্যুগুলো মরে নাই।
রাষ্ট্র গড়ুক রাজপথে আর
এপিটাফই সংবিধান যে —
এই জানাকে হত্যাকারী
অক্ষত তুই এই ভেবেছিস,
প্রাণ আমাদের ধড়ে নাই?
মৃত্যুগুলো মরে নাই।
দিন যতো যায় ঝরে পড়া
রক্তগুলো সামনে গড়ায়
নিথর হওয়া মানুষগুলো
মুখর হয়ে সাক্ষ্য দিবে,
কে ছিল, কে লড়ে নাই
মৃত্যুগুলো মরে নাই।
সব মথিত অগ্নিদগ্ধ
অসমাপ্ত বিপ্লবীরা
সিংহাসনে চড়ে নাই
মৃত্যুগুলো মরে নাই।
স্টকহোম, ১৬ নবেম্বর ২০২৪
দেয়ালের ছড়া ♦
কী হয়েছে রূপপুরে?
জিগাও হালার চুপ্পুরে
সজিব থাকা ট্যুলিপেরা
কাইত কেন হয় দুপ্পুরে?
পাঁচশো কোটি ডলারে
চোরের মায়ের গলারে
টিপ দিয়ে মুখ হা করিয়ে
ভরছে কারা কলা রে!
প্রেম দিয়েছি যদিও
উল্টে গেলে গদিও
হাত ছেড়ে দেয় দেওরাগুলা
পুতিন এবং মোদিও।
ফাল মারো ক্যান? ফালায় না।
চোর আমাদের খালায় না?
ভারত থেকে ডাক আসিবে—
“শেখ হাসিনা পালায় না”।
…………………………………..
স্টকহোম, ১৯ আগস্ট ২০২৪
গুম ♦
মৃত্যু এসে কানে কানে ফিসফিস করে।
চেঁচিয়ে ধমক দেই তাকে,
কী বলবে বলো, জোরেশোরে বলো বন্ধুবর
অন্তর্ধানের এমন ডাক হোক উৎসবমুখর।
জীবন তো গোপনীয় কিছু নয়
জীবন তো কেটে গেল সশব্দ বিলাপে হাহাকারে হাহাকারে
যে জীবন সকলেই চেনে তার কাছে কেন নিচুস্বরে প্রাণভিক্ষা চাও যাদুধন?
কী বলবে বলো। মুখোমুখি বলো। উচ্চস্বরে বলো
খাবার টেবিলে ট্রেনে-বাসে ভ্রমণের ভিড়ে তুমুল আড্ডায়
বলো মৃত্যু, প্রিয়জন, কী তবে চাওয়া
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠকে ধার নিয়ে বলো তবে
পূজোর মাইকে বলো গীর্জার ঘণ্টায় বলো
বলো সমাবেশে আঙিনা-বৈঠকে ক্লাসরুমে
ফুটবল মাঠে পূর্ণিমায় বিয়ের আসরে।
উচ্চরবে আমি মারা যেতে চাই সোনা
নিরিবিলি অন্ধকারে গুম হতে চাইনা কখনো।
স্টকহোম, ২৮ অক্টোবর ২০১৮
স্পর্ধা ♦
একটি নিয়ম বলুন
আমি তা লঙ্ঘন করবো।
একটি অনিয়ম বলুন
আমি তা নিয়মে ফেরাবো।
মৃত্যুকে জানাজায় রেখে এসে
আজ দাঁড়িয়েছি স্পর্ধার মঞ্চে
আমার স্পর্ধা পাঠ করুক স্বদেশ,
বিপ্লব গোছা হয়ে ঝুলুক
পতাকার আঁচলে।
স্টকহোম, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪
রাজাকার, রাণী কার ♦
অতীত আমার নিয়েছো কাড়িয়া
আগামী কাড়িবে ক্যামোনে
রক্ত ফোঁটায় অক্ষর এঁকে
গল্প লিখেছি এ মনে।
ইতিহাস তুমি দখল করিয়া
সাজিয়াছো মহারাণী
ভাবিছো ভবিষ্যতের চোখেও
টেনে দিবে লাল ছানি!
লক্ষ পড়ুয়া রাজাকার হলো
বুদ্ধিটা জানি, কার
প্রশ্নটা আর রাজাকার নয়
প্রশ্নটা, রাণী কার?
ঘুম লুটে নাও বুলেট গুলিতে
স্বপ্ন লুটিবে কী মতে?
স্বপ্ন আমার বহুগুণ হয়
তোমার সঙ্গে দ্বিমতে।
সামনের পথে বিছিয়ে রেখেছো
পেছনের বেড়িকেড
টপকে যাওয়ার জন্য আমরা
ধরেছি এবার জেদ।
সূর্যের দিকে ধাবিত আমার
নভোযান করো বন্ধ!
আমার রৌদ্র আমাকে পোড়াক
তুমি কে বলার ভণ্ড?
আমার মেধায় আমি চেনা হবো
দাদুর মেধায় নয়
এটাও একটি কারণ দাদুরা
যুদ্ধে এনেছে জয়।
………………………………….
স্টকহোম, ২৩ জুলাই ২০২৪







