সালেম সুলেরী
আবু সাঈদের রংপুরে রুদ্ররং
……….
অহল্যা’র গ্রাম থেকে শহরতলীতে আসা যুব,
তেভাগা আন্দোলনে‘র উত্তরাধিকার অতিদূরে
তোমাদের জোর আমন্ত্রণ বাংলাদেশের রংপুরে।
উনিশশ’ ছে‘চল্লিশে শিল্পযোদ্ধা সোমনাথ হোর
তেভাগা‘র ডায়েরী লিখবে, ছবিও আঁকবে বলে
‘দার্জিলিং মেইলে’ কলকাতা থেকে এসে তো অবাক
শতাব্দীর পাদপীঠে শত আন্দোলন, ইতিহাস অগণন।
নূরলউদ্দিন, দেবী চৌধুরাণী, তন্বারায়ণ নিধনপুরে,
‘সতীদাহ প্রথা’র বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন তখন রংপুরে।
এমন কি উনিশ’শ একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধবর্ষে
উত্তাল মার্চের তিন তারিখেই প্রথম রক্তশহীদ।
ইংরেজিতে রায় লিখতে গিয়েও প্রতিবাদ
জজ সাহেবের কলমটি ভেঙে দিলো
ভিখু চৌধুরী’র বিপ্লবী স্ত্রী, মিলি চৌধুরী‘র দ্রোহ।
পর সমাচার, সামরিক স্বৈরাচার বারবার কী বিদ্রোহ।
সংগ্রাম উত্তাল, কমরেড আফজাল, সর্ববোধের সকাল।
মানুষ গড়ার আঙিনা‘র অগ্নিগর্ভকাল চব্বিশে বিদ্যার্থী
মননে বেগম রোকেয়া‘র শিক্ষা-সাহস শিক্ষার্থী।
বীরত্ব দেখালো মহাকাব্যের নায়ক আবু সাঈদে‘র বুক,
কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রথম সে শহীদি চাবুক।
শোষকের বুলেটের মুখে জীবন উৎকীর্ণ করা ছাত্র,
মহাপাত্র, সকলে উদ্দীপ্ত, খোলে বুক-গাত্র
চারশ’ লাশের বীর, গুলীবর্ষন বিপ্লবী দেখা মাত্র…
রংপুরের রং-মাখা আন্দোলন, রক্তলাল বঙ্গের প্রাঙ্গন।
বাংলাদেশ মানেই বিজয়-বিপ্লব– স্বৈরবিদায় হে কৃষ্ণরাত্র,
‘নোবেল বিজয়ী’ রাষ্ট্রপক্ষ এসে আবু সাঈদে শ্রদ্ধাবনত,
বিশ্বের বিস্ময়ে তোমাকে স্মরণ দিবারাত্র।
টিটিসি, ঢাকা ॥ আগস্ট ২০২৪
লাশের ভেলায় বাংলাদেশ
…………
বৃষ্টিধারার আষাঢ়-শ্রাবণ
কাদঁলো গুলী-বর্ষনে,
ছাত্র-তরুণ আন্দোলনে
দাবি-শ্লোগান স্বর শোনে।
জল-আঙিনায় রক্ত-ধারা
লাশের ভেলায় বাংলাদেশ,
দাবির চাবি খুললো তালা
নাভী‘র শহর, দেশ-বিদেশ।
চাকরি-কোটা পদায়নের
সংস্কারের আন্দোলনে,
দেশের দেহ এক হয়েছে
ঐক্য-শ্লোগান, গান-দোলনে।
রক্তে পাওয়া স্বাধীনতা
রক্তে আবার যুক্ত হলো,
রক্তনদীর প্লাবন দিয়েই
পাষাণ-শাসন মুক্ত হলো।
রাজার পতন, হাজার শহীদ
লাশ বিছানো সবুজ ঘাসে,
স্মরণ রেখো বিপ্লবীদের
বিজয় তোমার শ্বাসে শ্বাসে।
টিটিসি, ঢাকা ॥ আগস্ট ২০২৪
আয়নাঘর
………..
কী দারুণ নাম নিদারুণ সাজঘর,
অধিবাসীদের কপাল-পোড়ানো ধী-জীবন বর্বর।
লাশ নয় তবে বোবা হয়ে থাকা
শাসনে বিরোধ, নিভৃতে রাখা
একাকী যাপন, কথোপকথন কারো সাথে কারো নেই,
কেটেছে বছর, দশক ও যুগ চোখবাঁধা শূন্যেই।
কারণ শাসক দেমাগী ত্রাসক, মানবিক গুণ নেই।
দু‘চোখে ছিলোনা ঘুম
আয়নাঘরে‘র অভাগা আঙিনা শিরোপা দিয়েছে ‘গুম।’
আলোর ধরা‘তে কালো ও কালিমা, রেখোনা আঁধারে শ্বাস,
অত্যাচারের পাহাড়ে উঠলে হাতছাড়া নিজ বাস,
আয়নাতে দেখো বিধির বিধান
পরাজয়, পরবাস।
টিটিসি, ঢাকা ॥ আগস্ট ২০২৪
অন্ধকারের আয়নাঘরে
………..
যে ঘরে ঢুকলে মানুষেরা আর মানুষ থাকেনা…
যেমন গেস্টাপো তাঁবু, গুহাবাস,
হিটলার শাসিত জার্মান নাৎসী বাহিনী সন্ত্রাস।
তারাও পুলিশ ছিলো তাবে পোলাইট ছিলো না,
ধরণটা ছিলো প্রাণহরণের, উগ্রদূত মরণের।
‘মর্তের নরক’, ছিলো আন্দামান নিকোবর দ্বীপ।
কালাপানি সেলুলার জেল
স্বাধীনতাকামী দেশদ্রোহী রাজনীতিকও
দাগী অপরাধী পাশাপাশি, ঠাসাঠাসি, গর্বনাশী।
সাতাশ বছর ভূতলে উতল নেলসন মান্দেলাও।
রুবেনদ্বীপ, পুলসমুর, ভিক্টর ভার্স্টার কারাগার।
কিংবা গুয়ানতানামো কিউবা‘য় মার্কিন বন্দিকারার…
শুধু কি তারাই পারে।
আমরাও পারি বলে বঙ্গদেশ রচেছে ‘আয়নাঘর’,
অন্ধকারে বেঁচে থাকা সরব জিন্দাকবর।
সীমাবদ্ধ ঘুম, খাদ্য, চোখবাঁধা অসুস্থ সঙ্গীত
তারাই অতিথি যারা চিন্তাকর্মে শাসকের বিপরীত।
প্রিয়দেশ সবুজাভ তবে তামাটে আয়নাঘর
মুক্তিলাভ তবু বেদনা পারদ কাদঁছে, যায় না জ্বর।
টিটিসি, ঢাকা ॥ আগস্ট ২০২৪
প্রতিবিপ্লবের গতিহীন ঢেউ
…………….
প্রতিবিপ্লবের ঢেউ তুলে
কখনো ডাকাত তারা, পাড়াময় নির্যাতন।
কখনো বা সংখ্যালঘু ইস্যু সনাতন।
হাঁটুমোড়া জুডিশিয়াল ক্যু, আদালতের অঙ্গন।
নোটিশবিহীন বাঁধ ছেড়ে কখনো প্লাবন,
পেশাজীবীদের দাবি‘র মিছিল, আষাঢ়-শ্রাবণ!
ঘেরাও রাষ্ট্রকর্মের সচিবালয় প্রাঙ্গন
কখনো বা ক্যু-ব্যর্থতা, ‘আনসার’ অভ্যুত্থান,
পেয়েও না পাওয়ার রাজনীতি, রতনে রতন,
দেখেছে ছাত্র ও সেনাশক্তিÑ বস্ত্রহরণ যতন।
পতন হয়েছে তাই খুনীচক্র বক্রতায়
প্রতিহিংসার খেলে যায় সাপলুডু, যদিও তা
পরাজয় ছাত্র-জনশক্তির রক্তারক্তির ক্ষিপ্রতায়।
গণতন্ত্রের উদ্ধার নিয়ে যতোই এগুতে চায়
প্রতিপক্ষ, প্রতিরোধ, ষড়যন্ত্র কোনায় কোনায়।
কতো যে বর্বর অন্ধকারের ‘আয়নাঘর’
পুরো রাষ্ট্রকে ফেরত দিতে, চায় বিষাদ-বহর।
ওপরে হাজার আত্না, তারুণ্যশহীদ,
বিপ্লবের ছায়াগুলো ভূমিপেদ্দাদের আশীর্বাদাকাশ,
ঠেকাচ্ছে প্রতিবিপ্লব, নব-স্বাধীনতা, মাটি-বায়ু উর্ধাকাশ।
হে প্রতিবিপ্লব কেনো তুই রক্তবিপ্লবের প্রাচুর্যে তাকাস?
টিটিসি, ঢাকা ॥ আগস্ট ২০২৪







