প্রচ্ছদসাম্প্রতিকহাসিনাপতনে শিল্প-সাহিত্য

লিখেছেন : সাজ্জাদ সাঈফ

হাসিনাপতনে শিল্প-সাহিত্য

হাসিনাপতনে শিল্প সাহিত্যঃ শিল্পী সাহিত্যিকদের লাগাতার এক্টিভিজম, শ্লোগান, গ্রাফিতি, গণসংগীত, র‍্যাপ সং রাজপথে না থাকলে জুলাইয়ে মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্তি অসম্ভব ছিল!

ডাঃ মোঃ রমজান সরকার সাজ্জাদ (সাজ্জাদ সাঈফ)

*

দেশের ঋণগ্রস্ত অর্থনৈতিক ধ্বংসাবশেষ রেখে যাওয়া আওয়ামী লীগকে হরহামেশা জুলাইপন্থী এর ওর দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বৈধতা দিতে যারা বছরকে বছর মেটিকুলাস ক্যারিশমা উপস্থাপন করে জুলাইকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জান প্রাণ দিয়া মরিয়া তারা প্রত্যেকেই বিডিআর গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, জুলাই গণহত্যার দোসর এবং বিবেকহীন ভারতীয় আধিপত্যবাদী বাঙালি নট বাংলাদেশি। তাদের পিতা ও পৈতা সব ভারতফিরত। এরা আবু সাঈদ মুগ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার করে, ভারত কর্তৃক হাদিরে হত্যার জন্য আনন্দোল্লাস করে, তুরাগ নাটক খাওয়াইতে একযোগে নোংরা বয়ান ফেরি করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে সহিংস হিন্দুদের দিয়ে নিরীহ হিন্দুদেরকে বলির পাঠা করবার ষড়যন্ত্র করে, বিভিন্ন পর্যায়ের দোসর চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের গ্রুপকে মাঠে নামিয়ে র এর প্রজেক্ট ধরায় দেয়, কিন্তু নিজেরা নামে না মাঠে, এদের গোয়া ইন্ডিয়ায় মাথা বাংলাদেশে, বিএনপি সরকার অহিংস বলে এরা এখন মবের হাত হতে মুক্ত, ঠিক একই ঘটনা বিপরীত হইলে দেশে থাকা বিএনপির একটা নেতাকর্মীর জান রাখতো না এই ভারতীয় গোয়ারা। এরা কোনায় কোনায় টাকা ছিটাইয়া দশ বারোজন অপ্রাপ্তবয়স্ক আর শম্পা রেজার মত বিক্রিত বিকৃতরূচিকে প্রমোট কইরা জনগণের সরকার ও বিরোধি দলকে প্রতিনিয়ত উস্কানি দিয়ে ভাত হজম করে। সোস্যাল মিডিয়ায় এরা দিনরাত মিথ্যা ফটোকার্ড, ন্যারেটিভের জোয়ার বসায় বমি পিয়ালদের হাত ধরে। সমাগত আরেক জুলাইয়ে জুলাই যাদুঘর উন্মুক্ত করে বিশ্ব দরবারে এদের সবার মুখ ভোতা করার এখনই সময়। 

বিএনপির একটা বড় ভুল হাদিরে রাষ্ট্রীয় বীর হিসাবে সেট না করা, যদিও অমিত শাহের খুনী চ্যানেল হাদিকে পুরো বিশ্বে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবিসংবাদিত তরুণ আইকন হিসাবেই প্রমাণ কইরাই খুন করাইছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে প্রথম কবর জিয়ারত করছিলেন হাদির কারণ তিনি জানেন হাদির ইম্প্যাক্ট কতখানি। স্ল্যাং নিয়া যারা ট্রল করে তারা এই সত্যটাই লুকায় যে তারা বাংলাদেশের যে গভীর ক্ষতিটা করছে সেই স্ল্যাংই তারা ডিজার্ভ করে। 

সবার জন্য জুলাইয়ের বর্ষপূর্তিতে আহবান হাদির বিরুদ্ধে ভারতীয় আওয়ামী বয়ান নাকচ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হাদির বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইকে জাতীয় ঐক্যের আইকন হিসাবে স্বীকৃতি দেন। আজ না হয় কাল ভারত বাংলাদেশে থাকা দালালদের দিয়া হাদির স্পিরিট হতে অনৈক্যগ্রস্থ রাজনৈতিক দলগুলারে একের সাথে অন্যের ভয়াবহ ফ্যাসাদ কায়েম করবে এইটা রিয়েলিটি, সময় থাকতে রিয়ালিটি মাইনা নেন। যখন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সুসংহত করতে হাদিই একমাত্র ফোকাস হবার কথা তখন হাদিবিরোধিতার ভারতীয় চক্রান্তের ফাঁদে পা দিয়ে রাখা হবে বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। সুসময়ে ৯৯ ভাগ লোকই শুধু প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে কিন্তু বাকি একভাগ যে কঠোর সমালোচনা করবে তারাই ক্ষমতার সুবিধাবিমুখ পরীক্ষিত জাতীয়তাবাদী মুখ। 

নিজেদের জন্য এই একভাগ মানুষ সরকারের কাছে কিছুই চায় না, কিন্তু বিএনপি ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে চলা ১৭ বছরের নির্যাতনের সামনে সিনাটান করে যার যার সেক্টরে তারা আওয়ামী ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে সব ঝুঁকি নিয়াই বলিকাঠে গর্দান রেখে কথা বলে গেছে, তাদের লড়াই বিএনপির যে কোনো ত্যাগী নেতাকর্মীর মতই শুধুমাত্র জুলাইয়ের ছিল না তাদের জীবনের সর্বসুবিধার সুযোগ উপেক্ষা করা ফ্যাসিস্টবিরোধি কর্মকাণ্ড কথা বলেছে ১৭ বছরই। আর এই মানুষগুলা ফ্যাসিস্ট বিরোধী শক্তিগুলোর সু সময়েও শুধুমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা হিসাবে এখনো ভারতীয় আধিপত্যবাদী ভারতীয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের সমস্ত চক্রান্তের ন্যারেটিভকে ডিকোড করে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উপযুক্ত কাউন্টার ন্যারেটিভ উৎপাদনে দিন রাত শ্রম লগ্নি করে চলেছেন। কবি ও ফ্যাসিস্টবিরোধি সংস্কৃতিজন এনামূল হক পলাশ, সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ, কবি ও জাতীয়তাবাদের অতন্দ্র প্রহরী সানী মহারথীসহ অসংখ্য ফ্যাসিস্টবিরোধি দেশাত্মবোধক মানুষের এইসব রাজনৈতিক দর্শন ও ন্যারেটিভের কালেক্টিভ শিল্ড ছাড়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের আশা দূরাশায় পরিণত করতে আওয়ামী কালচারাল উইংসের ঘাম ছুটবার বেগ পেতে হবে না। দ্যাটস রিয়েলিটি। চূড়ান্ত বিচারে সাইবার সেক্টরে আওয়ামী ন্যারেটিভের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এই যোদ্ধাদেরকে ওউন করতে বিএনপি বাধ্য কারণ তাদের শ্লোগানই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

বিভিন্ন সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অশেষ কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও একইসাথে বিরোধি দলকেও, মতপার্থক্যের উর্ধ্বে দেশকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের রক্তচক্ষু মোকাবিলা করার আন্তরিকতা হেতু। 

ওয়াসিম মুগ্ধ সাঈদ রিয়া গোপসহ দেড় সহস্রাধিক জুলাইশহীদ, আহত গাজী, ওসমান হাদির কালেক্টিভ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী আত্মত্যাগকে দল মত নির্বিশেষে  ওউন করে গদি মিডিয়ার এ দেশীয় দালালদের চিরদিনের জন্য বাকোয়াজি, মিথ্যা ন্যারেটিভের অপরাজনীতি নির্মূল করে জেনজিকে সুস্থ ধারার রাজনীতি উপহার দিবার আর কোনো বিকল্প আছে কি?

মহান ব্রিটিশ কবি পার্শী বিশী শেলী দুইশ বছর আগে বলছিলেন-

শিল্প সংস্কৃতির যোদ্ধারা নিজ নিজ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হবার যোগ্য এবং তাদের দার্শনিক অবস্থান দেশের আইন প্রণয়নের সর্বোচ্চ উপযোগী।

অথচ আওয়ামী ক্রিম খাওয়াদের আমরা ডেকে ডেকে এফডিসি হতে শুরু করে বাংলা একাডেমিতে জুলাইমিত্র হিসাবে বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়াই শুধুমাত্র ভাই ব্রাদার জ্ঞানে স্পেস দিয়ে দিছি অথচ এই আওয়ামী লেজ লেখক সাহিত্যিকের দিনরাতের ধ্যান ‘আপা আসবে’। দুঃখের বিষয় হইল ১৭ বছরে ভারত ও জিয়াউল হকের নির্দেশনায় নিরীহ মানুষকে জঙ্গী নাটকে হত্যাযোগ্য করা প্রথম আলো ডেইলি স্টারকে কতিপয় জুলাইপন্থী শিল্পী সাহিত্যিকরা এখনো উপরে ওঠার একমাত্র উপায় হিসাবে ট্রিট করে ভুল উচ্চাভিলাষের পথে অগ্রসরমান যেই প্রবণতা জুলাই স্পিরিটের বিরুদ্ধে যাচ্ছে তা কি তারা বুঝতে পারছেন না? মোদ্দাকথা চঞ্চল চৌধুরীর মত খাস ভারতীয় এজেন্ডাধারী সংস্কৃতিজন যার বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের রেকর্ড রয়েছে সে অব্দি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আরো জোরালো সক্রিয় হইছে যার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু পরিস্কার এই যে সে তার আওয়ামী সখীদের পুনর্বাসনে বদ্ধপরিকর। জাতি হিসাবে লজ্জিত হই যখন দেখি শাওনসহ এতগুলি গণহত্যার দোসরবৃন্দ বহাল তবিয়তে আওয়ামী ফ্যাসিজমের বৈধতা জারি রাখতে কথায় কথায় জুলাইকে অপমান করে চলেছে। অথচ হাসিনাকে কালচারাল ফাইট দিয়ে জীবনের প্রায় সর্বস্ব হারানো লেখক শিল্পীরা বরাবরের মত উপেক্ষিত হচ্ছে পদে পদে। যাদের লেখা শ্লোগান ও ছবি মধ্যবিত্তকে রাজপথে নামতে উদ্ধুদ্ধ করেছে হাসিনাপতনে তাদের আশিভাগেরই নামগন্ধ নাই সরকারি সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলিতে। যারা ধর্মেও আছে জিরাফেও আছে তাদেরকে নিয়েই সরকার ব্যস্ত।

দল মত নির্বিশেষে জুলাইকে কালচারালি সংগঠিত করা শিল্পী সাহিত্যিকরাই মূলত আওয়ামী কালচারাল ফ্যাসিজমকে ধ্বংস করবার যোগ্যতম ব্যক্তি বিবেচনায় সবাইকে আন্তরিকভাবে তাদের অভিজ্ঞতা, দর্শন ও দেশপ্রেমকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সুরক্ষায় কাজে লাগানোর সত্যি বিকল্প আছে বলে মনে করেন কেউ? হ্যাঁ সুবিধাভোগী নয় সুবিধাবিমুখ এইসব রাজনৈতিক শিল্পীদের কাজে লাগানো বর্তমান বাস্তবতায় ফরজ। আর আওয়ামী রেজিমের বিরুদ্ধে অল্প সংখ্যক শিল্পী সাহিত্যিকের লাগাতার এক্টিভিজম, কবিতা-সাহিত্য, শ্লোগান, গ্রাফিতি, গণসংগীত, র‍্যাপ সং রাজপথ না মাতালে জুলাইয়ে মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্তি যে অসম্ভব ছিল এই সত্যটা সামনে রেখেই শেষ করি আজ।

লেখক

কবি ও চিকিৎসক 

উত্তরবঙ্গ সমন্বয়ক

সাংস্কৃতিক আন্দোলন বাংলাদেশ

মুখ্য আহবায়ক 

জাতীয় ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মঞ্চ 

(জুলাইয়ে লেখক শিল্পীদের সংগঠিত করতে সক্রিয় সংগঠন)

প্রস্তাবক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক 

জিয়া সাইবার দল

সহ সভাপতি 

জিসাস, বগুড়া মহানগর শাখা।

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা