ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম
বাংলা ভাষার খ্যাতিমান ও যুগস্রষ্টা সাহিত্যিক কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬ খ্রি.)। বলতে হয় কেবল মহাকাব্য ছাড়া সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই বিচরণ করেছেন বীরদর্পে। ব্যক্তিবৈশিষ্ট্য এবং সৃষ্টিকর্মের আঙ্গিকগত শৈলীর কারণে তাঁর রচিত ‘রুদ্রমঙ্গল’ গ্রন্থটি শতবর্ষ পেরিয়ে আজ যেমন ধ্রুব, তেমনই প্রাসঙ্গিক। তাঁর এই প্রবন্ধগ্রন্থটির রচনাকাল ১৯২৬ এবং প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বার্তাবাহক হিসেবে রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থের রুদ্রের উপস্থিতি। গ্রন্থে দেশপ্রেম, মানবতাবাদ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয় জাগরণের আহ্বান বিষয়বস্তু হিসেবে চিত্রিত। সেইসাথে সমকালীন জীবনের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক জাগরণের বাণী প্রবন্ধাকারে রূপায়িত। এমন⎯বিষয়বস্তু ‘রুদ্রমঙ্গল’ গ্রন্থের অনন্য বৈচিত্র্য। আজন্ম সংগ্রামী এই মানুষটিকে বলা হয় শক্তি ও মুক্তির উত্থানে যুগ যন্ত্রণার কবি। শোষণপীড়নে জর্জরিত জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্যই তিনি সংগ্রাম চালিয়েছিলেন। শাসনশোষণ ও অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। পরাধীন ভারতবর্ষ যখন বিপন্ন, স্বদেশ ও স্বজাতির জন্য যখন ভারতবর্ষ প্রকম্পিত⎯তখনই তিনি দীপ্ত কণ্ঠে জাগরণের বাণী উচ্চারণ করেছেন। এমন প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে ঘুমন্ত ভারতবাসীকে জাগানোর জন্যই রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থটি প্রণীত। প্রাবন্ধিক নজরুল গ্রন্থের আটটি প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে ভারতবাসীর আশা-আকাঙক্ষা ও জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত করতে চেয়েছেন।
গ্রন্থের প্রথম প্রবন্ধটির নাম ‘রুদ্রমঙ্গল’। ভারত ভূখণ্ডে যখন পরাধীনতায় মানুষ তমসাচ্ছন্ন, নিপীড়িত মানুষের গোমরানো কান্না যখন ধ্বনিত হয়ে ওঠছিল⎯তখনই তিনি তেত্রিশ কোটি মানুষের মুক্তির কামনায় জাগরিত হয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকার যখন মানুষের নাকে দড়ি লাগিয়ে ভারতবাসীকে মোড়াতে চেয়েছিল⎯তখনই তিনি তাঁর রুদ্রমঙ্গলের রুদ্রকে জাগরিত করতে চেয়েছেন। কবি আঘাতের দেবতা রুদ্রকে তাই আহ্বান জানিয়েছিলেন। রুদ্র এসে যেন ভীরু ও চির মারখাওয়া ভারতবাসীর পাশে দাঁড়ায়। ঘুমন্ত ভারতবাসীর যেন ঘুম ভেঙে যায়। যেন তারা জেগে ওঠে পরাধীনতার শৃঙ্খল ও নির্যাতনের নাগপাশ ছিন্ন করতে পারে। তিনি দেখেছেন পরাধীন ভারতবাসী পদে পদে লাঞ্চিত ও অপমানিত। তাই মাতৃভূমির এমন সর্বনাশা চিত্র দেখে কবির মধ্যে রোষের আগুন প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছিল। ভারতবাসী যেন এমন মুহূর্তে অত্যাচারীর বুকে ঝাপিয়ে পড়ে তা ছিন্নভিন্ন করতে পারে। সেজন্য তিনি ঘুমন্ত ভারতবাসীকে নতুন করে গড়ে তোলার মাঙ্গলিকতায় রুদ্রের প্রত্যাশা করেছেন।
স্মর্তব্য যে, ‘রুদ্রমঙ্গল’ গ্রন্থের অধিকাংশ প্রবন্ধ কবি নজরুল সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এগুলো গ্রন্থাকারে সংকলিত। সমকালে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় অগ্নিঝরা ভাষায় যেসব প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছিল তার মধ্যে ‘আমার পথ’ অন্যতম। যা ‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় ‘ধূমকেতুর পথ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে পাঠককে জানানোর বিষয়টি ছিল ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য। দেশে যখন অসহযোগ আন্দোলন, নানা ধরনের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভ দানা বেধে উঠছিল⎯তখন দেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করা এবং মানুষের মনে মুক্তবুদ্ধি জাগিয়ে তোলার অবলম্বন হলো ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি। কবির মতে এদেশের অস্থিমজ্জায় এবং নাড়িতে যে পচন ধরেছে তা একবারে ধ্বংস করে দিয়ে নতুন করে সৃষ্টি করতে হবে। যে ভীত পচন ধরেছে তা ধ্বংস করে সম্পূর্ণ নতুন ইমারত গড়তে হবে। যা কিছু মিথ্যা, মেকি, ভণ্ডামি তা দূর করতে পারে কেবল ‘ধূমকেতু’। ‘ধূমকেতু’ কারো বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেয় না। কেবল যা সত্য হিসেবে মনে করে তাই মেনে নেয়। এমন বক্তব্যকে সামনে রেখে ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ খুঁজে বের করে তার সমাধান দিতে পারে কেবল ‘ধূমকেতু’। আর সে বিশ্বাস ও সত্যকে সামনে রেখে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটির সারকথা অন্বিষ্ট। ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মাধ্যমে প্রাবন্ধিক নজরুল তাঁর ব্যক্তি মানুষের স্থিতি খুঁজে পেয়েছেন। এই প্রবন্ধে তিনি জাতির মধ্যে শক্তি আবিষ্কারে বদ্ধ পরিকর। যুগের প্রয়োজনকে ও জাতির সমস্যাকে সহানুভূতির সাথে আপন চেতনায় যেভাবে স্থান দিয়েছেন তারই অগ্নিমশাল ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি।
নজরুলের ‘রুদ্রমঙ্গল’ গ্রন্থের এক অনন্য বৈশিষ্টের প্রবন্ধ ‘মোহররম’। এটি তাঁর ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) কাব্যের অন্তর্গত ‘মোহররম’ কবিতার গদ্য ভাষণ। কবি মুসলিম সমাজের বর্তমান দৈন্যদশার চিত্র প্রেক্ষিত হিসেবে এই প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন। মূলত কারবালার বিষয়বস্তু নিয়ে প্রাবন্ধিক প্রবন্ধটি রচনা করেছেন। পুত্রহারা মা-ফাতেমার ক্রন্দনে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল। তাই মুসলমানের উচিত হবে কারবালার ঘটনাকে নিয়ে যেন কোনো অভিনয় করা না হয়। ইসলামের স্বাধীনতাকে এজিদের বংশধরেরা যেভাবে লাঞ্চিত ও নিপীড়িত করেছে⎯ তার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে প্রবন্ধটির সারকথায়। প্রাবন্ধিক নজরুল চরম সত্যকে রক্ষার জন্য মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। মোহররমের মেকি আচরণ, মাতম ইত্যাদি বিষয়কে অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে দেখাতে চেয়েছেন । এসব আচরণ থেকে বের হয়ে এসে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা তিনি মোহররম থেকে নিতে বলেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন⎯আত্মত্যাগের শিক্ষাই হলো মোহররমের শিক্ষা।
নজরুল এ গ্রন্থের ‘বিষ-বাণী’ প্রবন্ধে বিদ্রোহী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। সেইসাথে দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। স্বাধীনতার প্রতি যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেইসব বিভীষণের প্রতি তিনি তীর্যক ভাষায় বিষ-বাণী গেয়েছেন। এই বিষ-বাণী হলো সামাজিক অন্যায়-অবিচার, শোষণ-দুঃশাসন এবং অমানবিকতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা। ভারতীয় তরুণদের বিষমুখ আজ অভয়দানে অভিসিক্ত হয়েছে। প্রাবন্ধিক তরুণদের বিষ সঞ্চয় করতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রাবন্ধিকের মতে তরুণদের সমস্ত শরীর আজ বিষময় হয়েছে। এদেরকে কেউ কোনো দিন দাবায়ে রাখতে পারবে না। তাদের ধরতে গেলেই বিষের দহনে হাড়মাংস এক হয়ে যাবে। পৃথিবীর কোনো কারাগার এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তরুণদের কখনো আটকে রাখতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। তরুণদের বিষের দহনে কারার লৌহকপাট গলে পড়ে যাবে। এদের নিঃশ্বাসের অগ্রভাগে যে আগুন বহমান, তা যেন বহিঃশিখার মতই প্রজ্বলিত। তাই কারাগার জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। নাগরূপী তরুণদের যদি কোনো দস্যু হত্যা করতে আসে, তাহলে তাদের বিষের আঘাতে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। প্রাবন্ধিকের মতে তারুণ্যের শক্তিই কেবল জগতের সব অন্যায় প্রতিহত করতে পারে। তাই তিনি তরুণদের শক্তি সঞ্চয় করতে বলেছেন। তরুণদের বিষ মরণের পরেও থেকে যাবে। নজরুলের এমন জ্বালাময়ী বক্তব্য নির্ভীক চিত্তে ‘বিষ-বাণী’ প্রবন্ধে প্রতিভাত হয়েছে।
এ গ্রন্থের ‘ক্ষুদিরামের মা’ প্রবন্ধে দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত মায়ের কথা বলেছেন। দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সূত্র ধরে প্রাবন্ধিক ভারতের যুব সম্প্রদায়কে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গে উজ্জীবিত হতে বলেছেন। আত্মোৎসর্গের বিনিময়ে ভারতমাতাকে তিনি স্বাধীন করার আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষুদিরাম মাতৃভূমির জন্য জীবন বলি দিয়েছেন। তার জীবন বলিদানের মধ্য দিয়ে ভারতীয় মা-জননীর মনে একধরনের অনুভূতির সৃষ্টি হয়। ক্ষুদিরাম ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিল ভারত মাতার জয় হোক। ক্ষুদিরাম ভারতীয় মা’দের জানিয়েছেন শহিদের রক্ত কখনো মিথ্যা হতে পারে না। ক্ষুদিরামের জন্ম হয়েছে মূলত আত্মবলিদানের মাধ্যমে পরাধীন দেশমাতাকে মুক্ত করার জন্য। আজ ক্ষুদিরাম নেই, কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে জন্ম নিয়েছে কোটি কোটি ক্ষুদিরাম। দেশপ্রেমিক প্রাবন্ধিক নজরুল ইসলাম ভারতীয় মা’দের চোখের জল মুছে দিয়ে ক্ষুদিরামদের কোলচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষুদিরামদের জন্ম হয়েছে দেশরক্ষার স্বার্থে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানুষের জয়গান করার জন্য। তাই ভারতীয় মা’দের বুঝতে হবে ক্ষুদিরাম কোনো মায়ের একক সম্পদ নয়, এরা দেশের সম্পদ। পরাধীন দেশমাতাকে স্বাধীন করার জন্য ওদের বলিদান অপরিহার্য। আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুল এমন বক্তব্যই উপস্থাপন করেছেন।
প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম এই প্রবন্ধগ্রন্থের ‘ধূমকেতুর পথ’ প্রবন্ধের মাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন⎯ ‘ধুমকেতু ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়’। ভারতবর্ষ কারো অধীনে থাকতে চায় না। ভারতের শাসনভার, স্বাধীনতা, দায়দায়িত্ব থাকবে কেবল ভারতীয়দের হাতে। যে বিদেশিরা ভারত পরিচালনার নামে ভারতবর্ষকে শ্মশানে পরিণত ও ভারত অধিবাসীকে পোট্লা বেধে সাগরে নিক্ষেপ করতে চায়⎯তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায় ‘ধূমকেতু’। তাই স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে চাইলে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশিদের চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম কানুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে হবে। আর এ বিদ্রোহ করতে হলে অবশ্যই নিজেই নিজেকে চিনতে হবে। যে নিজেকে চিনতে পারে⎯কেবল সেই পারে অসাধ্য সাধন করতে। অর্থাৎ অন্য কারো কাছে সে মাথা নত করে না। তাই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন হওয়ার জন্য নিজেকে চেনা খুবই জরুরি। নিজেকে চেনা অর্থ সত্যকে চেনা। সত্যিটাকে চেনা ও জানার জন্য জাগ্রত হতে হয়। আর সত্যকে জাগানোর জন্য প্রয়োজন হয় বিদ্রোহের। ‘ধূমকেতুর পথ’ প্রবন্ধে স্বাধীনতা অর্জনের সেকথা সত্যভাষ্যে উচ্চারিত।
‘মন্দির ও মসজিদ’ প্রবন্ধে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে একই মোহনায় মিলিত হয়ে মানবতার জয়গান করতে বলেছেন। হিন্দু-মুসলমানের ভেদবুদ্ধিহীন আচরণের কারণে দেশ আজ ধংসের পথে পরিচালিত হচ্ছে। হিন্দু-মুসলমান যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে তা নজরুলকে বেদনাদীর্ণ করে তুলেছে। মানুষকে তিনি ধর্মীয়গণ্ডির বাইরে এসে মানবতার জয়গান করতে বলেছেন। ‘রুদ্রমঙ্গল’ গ্রন্থের সর্বশেষ প্রবন্ধের নাম ‘হিন্দু-মুসলমান’। হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হাজার হাজার মানুষ রক্তাক্ত হয়েছে। মানুষের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তিনি আহাজারি করেছেন। এমনকি তিনি হিন্দু-মুসলমানের অকারণ সংঘর্ষ দেখে বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগ্রত হয়েছে⎯ মানুষকীভাবে পশু হয়ে যায়। এরই সূত্র ধরে হিন্দু ও মুসলমানের সংঘাতের মূল কারণ তিনি উদ্ঘাটন করেছেন।
প্রাবন্ধিক ‘রুদ্রমঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশের সমকালীন সমাজ, সংস্কৃতি এবং শাসন তোষণের প্রকৃত চিত্রকে আবেগহীন ভাষায় বলার প্রেরণা উজ্জীবিত ছিলেন। চরম সত্যকে প্রবন্ধের মাধ্যমে যুক্তিতর্কে উপস্থাপন করে সমকালীন সমাজে সার্বজনীন এক ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি যা সত্য হিসেবে জানতেন সেগুলোই স্বভাবগত আচরণ ও আঙ্গিকগত বৈশিষ্ট্যে ‘রুদ্রমঙ্গল’ গ্রন্থে রূপ দিয়েছেন। তাইতো বলতে হয় ‘রুদ্রমঙ্গল’ গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে যেসব অন্যায়, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যাতনা উচ্চারিত হয়েছে তা⎯শতবর্ষ পেরিয়েও আজ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সেইসাথে ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিভেদ ভুলে যুবসমাজকে সাহস, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদাবোধে জাগ্রত হতে বলেছেন। যেখানে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার সাদৃশ্য মেলে।
………………
বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ
নওগাঁ সরকারি কলেজ, নওগাঁ







