ইমরুল হাসান
.
রাজনীতি করতে হইলে যে, নেতা ধরতে হবে, এই শিক্ষা শেখ মুজিবুর রহমানই হয়তো প্রথম দেন নাই, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে উনার সাফল্য এই ব্যাপারটারে পরবর্তীতে মাস্ট কইরা তুলছে। (উনি শহীদ হোসেন সরোয়ার্দি’র পান্ডা হিসাবেই পরিচিত ছিলেন…)
প্যার্টানটা হইলো একজন রাজনৈতিক গুরু’র প্রতি সৎ থাকা এবং নিজের একটা অবস্থান বা সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করা। এইটা এতোটা মাইক্রো-লেভেলে পৌঁছাইছে যে, এইবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার সময় কিছু ব্যানার দেখলাম, যার ক্রমটা অনেকটা এইরকম:
জিয়াউর রহমান > খালেদা জিয়া > তারেক জিয়া > কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা > জেলা কমিটির নেতা > ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা > সমর্থকের নাম
শেখ মুজিবুর রহমান > শেখ হাসিনা > জয় > স্থানীয় এমপি > জেলা কমিটির নেতা > ছাত্রলীগ নেতা > তার সমর্থক
/সেপ্টেম্বর ১, ২০১২
…
সরকারি লাইসেন্স, ঠিকাদারি, সব কাজকাম নিজের দলের লোকজনরে দেয়া — এইটা মোটামুটি কমন প্রাকটিস হইলেও এর শুরু হইতেছে শেখ মুজিবুর রহমান যখন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে। অইটার কথা আমরা ভুইলা যাই বা ফ্যাক্ট হিসাবে বলাবলি করি না তেমন।
তখন উনি সরকারি লাইসেন্সগুলা বিহারিদের হাত থিকা নিয়া বাঙালিদেরকে দেন; যেই কারণে দেখবেন বাংলাদেশের ‘বনেদি’ ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই হইতেছে আওয়ামী লীগের সার্পোটার; সেইটা এই লিগাসি’রই একটা ঘটনা হওয়ার কথা, কম-বেশি। [ ‘বাঙালি-জাতীয়তবাদের চেতনার উন্মেষে’-ও এইটা একটা ইম্পর্টেন্ট ঘটনা হওয়ার কথা।]
/অক্টোবর ০৭, ২০২১
…
শেখ মুজিবুর রহমানের মেজর পলিটিক্যাল ব্যর্থতা ছিল দুইটা – এক, উনি কোন পলিটিক্যাল সিস্টেম তৈরি করতে পারেন নাই পারসোনাল কারিশমার বাইরে। সেকেন্ড, উনি খালি ‘দলীয় নেতা-কর্মী’ না, বরং সরকারি আমলা-কর্মচারীদের কাছে সারেন্ডার করছিলেন। (উনার বাকশাল গঠনের ভাষণে এর ইন্ডিকেশন পাইবেন।)
/মে ৩১, ২০২১
…
শেখ মুজিবুর রহমান যে পাবলিক’রে কাছের মানুশ বইলা তুই-তোকারি করতেন — এইটা যে সেলিব্রেশনের একটা ঘটনা না; বা নেতা হইলে যে এইরকম ক্লোজনেস দেখাইতে হয়, সেইটা সবসময় “মহব্বত”র ঘটনা না, একরকম সুপিরিয়র পজিশন ক্লেইম করার তরিকাও অনেক সময়। [রাজা হইলে পরে অন্যদেরকে চুদির ভাই বইলা আদর করতে হয়।]
/জুন ২৩, ২০২১







