ডাঃ মোঃ রমজান সরকার (সাজ্জাদ সাঈফ)
ইরানকে ইজরায়েল পারমাণবিক শক্তিধর হিসাবে হুমকি মনে করে না, শিয়া মতাবলম্বী শত্রু হিসাবেও নয় বরং জায়নবাদের তথাকথিত ত্রাণকর্তা/মসিহা দাজ্জালের আগমন বিলম্বিত করতে ফিলিস্তিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসাবে সক্রিয় স্পষ্ট আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শক্তিধর মুসলিম শত্রুরাষ্ট্র হিসাবেই গণ্য করে এবং নেতানিয়াহু জায়নবাদের ধারাবাহিকতায় ইরানকে ইহুদি ধর্মীয় সম্প্রসারণবাদের জন্য মূল শত্রু হিসাবে নিয়েই ইতিহাসের নজিরবিহীন হামলা অব্যাহত রেখে ইরানের শীর্ষনেতাদেরকে টার্গেট কিলিং জারি রেখেছে। আরেকদিকে নিজেদের হাতে পরিবর্তিত বাইবেলের আরোপিত গসপেলের দোহাই দিয়ে আমেরিকাবাসীকে ইরানের বিরুদ্ধে খ্রীস্টধর্মকে বিজয়ী করবার ধোঁকামূলক ফতোয়ায় জিম্মি করেছে এই গোপনীয় যুক্তিতে যে কেন ইরান শয়তান তথা নফসের অনুগামী অবৈধ ভোগ বিলাসে ইসলামকে কলংকিত করা অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের সহযাত্রী না হয়ে কট্টরভাবে ইসলামি শাসন স্থায়ী রেখে পশ্চিমাদের নাকের ডগায় চীন রাশিয়ার সাথে শয়তানের মদদগ্রস্ত এন্টি ইসলামিস্ট ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডারধারী আমেরিকাবিরোধী অবস্থান সংহত রাখতেছে!
নেতানিয়াহুর জায়নিজমের পথে আরেকটা বড় বাধা পাকিস্তানের পারমানবিক শক্তি, হিন্দু মৌলবাদী বিজেপিশাসিত ভারতের অখণ্ড ভারত প্রকল্পের তো মূল চ্যালেঞ্জই পাকিস্তান। যেহেতু দুই মাসতুতো চোর ভাইয়ের কমন শত্রু পাকিস্তান সেক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে প্ল্যান বি নিয়ে আলোচনার জন্যই মোদী ইজরায়েল সফর করে ভারতবাসীর গণ আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইজরায়েলকে ফাদারল্যান্ডের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে আর কে না জানে বাপকা বেটা সিপাহি কা ঘোড়া!
ইরান যুদ্ধের আরো মাস দুয়েক আগে আফগান মন্ত্রীকে ভারতে রাজকীয় সম্মান দিয়েছিল মোদী সরকার। কারণ তার কিছুদিন আগেই সীমান্তযুদ্ধে পাকিস্তানের কাছে বেদম কেলানি খাইছিল হিন্দু জঙ্গী মোদীর অধীন সেনাবাহিনী আর এর শোধ না তুলে কি গুজরাটের কসাই মোদীর উপায় আছে তো উসকানি শিখিয়ে লেলিয়ে দিল আফগানিস্তান পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলার ফাঁদ। তাছাড়া আফগানিস্তানের কাছে পরাজয়ের ক্ষত তো এখনো শুকায় নাই আমেরিকার অতএব ত্রিমুখী প্রযোজনায় ফাঁদে পড়ল পাকিস্তান।
এছাড়াও ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে বার্মা এক্টের অধীনে আরাকান আর্মিকে দিয়ে মিয়ানমার কব্জা করতে আমেরিকার একমাত্র সহযোগী ভারত মিয়ানমারের ওপর হতে ভৌগোলিক কারণেই চীনের প্রভাব শূন্যে নামানোর পক্ষে, আর এই ফ্রন্টে সেন্ট মার্টিনে ঘাঁটি ও তথাকথিত মানবিক করিডোরের পায়তারা আছে আমেরিকার।
এভাবে চলতে থাকলে পাকিস্তান ধ্বংস হবে, তুরস্ক ভঙ্গুর হবে আর বাংলাদেশ ভারতের ফাদারল্যান্ডের এদেশীয় মীরজাফর সহযোগিদের সহায়তায় ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ক্ষমতার ডামাডোলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বোঝার দূরদৃষ্টিহীন রাষ্ট্রক্ষমতা এনজয় করা মাঝারি মেধার লোকগুলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আসন্ন বিপদ টেরই পাইতে দিতেছে না, এদের ক্ষমতার সুবিধাভোগী জ্ঞানপাপে জিয়া পরিবার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে আল্লাহ না করুন আর এই সুযোগে বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীও ক্ষমতার পালাবদলে আমেরিকার বন্ধু হিসাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে জড়িয়ে পড়বে ভ্রাতৃঘাতী গৃহযুদ্ধে আর সেই গৃহযুদ্ধ থামাতে বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি করবে আমেরিকা ইজরায়েল যারপর নাই বাংলাদেশ হয়ে উঠবে ইসলামবিরোধী শক্তির মোহনা।
আজকে যারা নিজেদেরকে মহাবুদ্ধিজীবী ভেবে বিএনপির ভিতরকার ক্ষমতার সিন্ডিকেটকে নিজেদের কামাইকাজি/রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তির হীন স্বার্থে পুষতেছেন তারা সবাই ইতিহাসের খলনায়কে পরিণত হবেন অচিরেই আর তাদের কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার বলি হতে হবে জিয়া দম্পতির রেখে যাওয়া আমানত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পরিবার ও ১৮ কোটি জনগণকে।
এইসব পেইড আধা বুদ্ধিজীবীগণের বিএনপিকে উপযুক্ত পথ দেখানোর যথেষ্ট নৈতিক যোগ্যতা স্পষ্টতই প্রশ্নবিদ্ধ। এতে করে দলের ভিতরকার প্রকৃত যুগোপযোগী বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানের অভাবেই বিএনপি সরকার বিপদে পড়তে যাচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নাই।
আমাদের কাজ আমরা থামাব না প্রধানমন্ত্রীর হাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শিক বিএনপি টিকলে বাংলাদেশ টিকবে, অন্যথা হলে গ্রেটার ইজরায়েল/গ্রেটার ইন্ডিয়ায় বিলীন হয়ে যাবে বাংলাদেশ।
লিখে রাখতে পারেন, ১৯.০৩.২৬ ইং তারিখে অধম ডাঃ মোঃ রমজান সরকার(সাজ্জাদ সাঈফ) সতর্ক করছিল, মানা না মানা বিএনপিকে/প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা ভারতপন্থী সিন্ডিকেটের ব্যপার, ওভারসিওর যে প্রধানমন্ত্রী এইসব আওয়ামী কূটচাল বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবগত নন আর তৃণমূলও প্রধানমন্ত্রীর পরিপূর্ণ অজ্ঞাতসারে কেন্দ্রের আওয়ামীপনা বেশিদিন সহ্য করবে না।
বাংলাদেশকে উপর্যুক্ত গ্লোবাল কন্সপিরেসি হতে রক্ষা করার সক্ষমতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলের ভারতপন্থী সিন্ডিকেট ভেঙে এন্টি শাহবাগ ও জুলাই সংগঠক নিঃস্বার্থ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী এক্টিভিস্টদেরকে স্পেস দিয়ে বিরোধী দলের সাথে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থ আমলে নিয়ে জুলাই ঐক্য পুনরুজ্জীবিত করে জুলাই সনদ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জুলাইয়ে অকাতরে রক্ত দেয়া জাতির গণ আকাঙ্ক্ষার পথে অগ্রসর হলেই কেবল বাংলাদেশ আত্মমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদবিরোধি স্বনির্ভর রাষ্ট্রের মর্যাদা ফিরে পাবে অনায়াসে।
অতি সম্প্রতি মালয়েশিয়া আমেরিকার সাথে সব রকম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করেছে আমেরিকার এন্টি ইসলামিক কার্যকলাপকে ব্যহত করতে। বাংলাদেশকেও আওয়ামী লীগ কর্তৃক সাধিত জুলাই গণহত্যার বিচার, হাদী হত্যার বিচার দৃশ্যমান করে মাথা উঁচু করে ভারত, ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে এইখানে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের দালালির রাস্তা বন্ধ।
তাছাড়া ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাই ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা। সেই অর্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে জুলাই সনদ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে ত্যানা প্যাঁচানো খোদ প্রধানমন্ত্রীরই ৩১ দফা বাস্তবায়নের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবার শামিল।
এন্টি ইসলামিক মহাশক্তির অনাগত আগ্রাসন ঠেকাতে বিএনপি সরকারের সামনে ৩১ দফাই মূল হাতিয়ার। ইতিমধ্যে যা সব অপ্রীতিকর ঘটেছে সব ভুলে গিয়ে দল মত নির্বিশেষে জুলাই ঐক্যকে পুনরুজ্জীবিত করুন। প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা পুরণে ইতিহাসের অংশ হোন।
লেখক
কবি, গীতিকার, চিন্তক
জুলাই অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক সংগঠক
সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক
জিয়া সাইবার দল
মুখ্য আহবায়ক
জাতীয় ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মঞ্চ







