নেয়ামত ইমাম
প্রথম খণ্ড
………..
১.
টাঙ্গাইল থেকে বাবা ফোন করেন। “পাটোয়ারী সাহেব গুরুতর অসুস্থ। সময় করে তাকে একবার দেখে আয়।” “যাবো,” আমি বলি। “যাবো বললেই হবে না,” তিনি বিরক্তি সহকারে বলেন, “এবার যেতেই হবে। তা না হলে তার পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনের কাছে মুখ দেখাতে পারবো না।” তার গলার স্বরে কর্কশতা তীব্রতর হচ্ছে আঁচ করতে পেরে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করি, বলি, “অনেকবার যাবো বলে যাইনি। সেজন্য দুঃখিত। কিন্তু এবার অবশ্যই যাবো। কোনো নড়চড় হবে না। আজ বিকেলে কিংবা কাল বিকেলে। কথা দিচ্ছি।”
বাবা আমার ওপর কোনো বিষয়ে আস্থা রাখতে পারেন না। এমনটি চলছে প্রায় দশ বছর। ঢাকায় হাজার হাজার এমএ পাশ লোক। ইন্টার পাশ করে এখানে আমি কী চাকরি পাবো? অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পেয়েছি সামান্য বেতন ও কমিশন-নির্ভর যন্ত্রাংশ বিক্রয় প্রতিনিধির কাজ, যা তার পছন্দ নয়। আমার বিশ্বাস নিজে ঢাকায় আসতে পারলে আমাকে তিনি পাটোয়ারী সাহেবকে দেখতে যেতে বলতেন না। কাজটি তিনি নিজেই করতেন। কিন্তু পাটোয়ারীর মতো তিনিও অসুস্থ, তারও যায় যায় দশা।
দক্ষিণ পাইকপাড়া থেকে আরামবাগ খুব বেশি দূরের পথ নয়। যেতে লাগবে আধ ঘন্টা। বাসে করে গেলে যা খরচ হবে তা কোনোভাবে ম্যানেজ করা যাবে। কিন্তু বিত্তবান পরিবারের একজন লোকের বাড়িতে তো আর খালি হাতে যাওয়া যায় না। বাবা যদিও এই ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি, আমি বুঝি তিনি আশা করেন আমি হাতে করে পাটোয়ারীর জন্য কিছু ফলমুল নিয়ে যাই। এখানেই যত বিপত্তি।
আমি একসময় থাকতাম কলাবাগানের ফার্স্ট লেইনে, শরীফা অটো ওয়ার্ক্সের পাশে। সেখানে একটি বহুতল বিশিষ্ট ভবনে ল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকার বাড়িভাড়া রাতারাতি বেড়ে যায়। তাই তাড়াতাড়ি করে হাড়িপাতিল ও লবনের বোতলটি সঙ্গে নিয়ে চলে যাই শ্যামলীর গাজীবাড়িতে। কক্ষটা একটু ছোট। টেবিল-চেয়ার বসালে দরজাটা ভালো করে খোলা যায় না। কিন্তু তাতে কি। ভাড়া নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন তো করতে হবে না। তবে বেশি দিন এই শান্তিও টেকে না। এলাকার একমাত্র যোগযোগের রাস্তাটি রিং রোড পর্যন্ত বর্ধিত হলে এদিকে অনেক অফিস-আদালত চলে আসে এবং এই ছোট্ট কক্ষটিও একসময় আমার সাধ্যের বাইরে চলে যায়। তখন খুঁজে খুঁজে সাবলেটে চলে যাই। বাসা কল্যাণপুর বাস স্টপ থেকে ভেতরে, নতুন বাজারের পরে, দক্ষিণ পাইকপাড়ায়।
কিন্তু বাবাকে তো আর এত কিছু খুলে বলা যায় না। এ মাসের বেতন হাতে পেতে আরো দুই সপ্তাহ বাকি। মনে মনে ঠিক করি রফিকুল্লার কাছ থেকে কিছু টাকা হাওলাত করে এবার পাটোয়ারীকে দেখতে যাবোই।
রফিকুল্লা থাকে কমলাপুরে। সে আমার সঙ্গে একই কোম্পানিতে কাজ করে। কোম্পানির নাম লোহিতক অটো পার্টস। অফিস কাকরাইল মোড়ে। তার সদ্যপ্রয়াত বাবা ছোটবেলায় ঢাকায় এসে খাতাপত্রের দোকান দিয়ে পরিবারের জন্য তিন-কক্ষ বিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে তাকে প্রতি মাসে আমার মতো ভাড়া গুনতে হয় না। তবুও তার কাছে হাত পাততে আর ইচ্ছা করে না। এমন কোনো মাস নেই যখন কমপক্ষে দু’তিনবার তার কাছে হাত পাতা হয় না। কিন্তু এই মুহূর্তে অন্য কোনো উপায় থাকে না বিধায় অফিসের এক কোণে বসে দুপুরে কলা-পাউরুটি খাওয়ার পর আস্তে করে তাকে জিজ্ঞেস করি, “সামান্য কয়েকটা টাকা হলে ভালো হয়। আছে নাকি?” কত টাকা দরকার বা কি কারণে দরকার এসব জিজ্ঞেস না করে সে আমার দিকে একটি পাঁচশ টাকার নোট বাড়িয়ে দেয়। নোটটি পকেটে রেখে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে তাকে বলি, “অনেক উপকার হলো। বাবার পরিচিত একজন অসুস্থ মানুষকে দেখতে আরামবাগে যাচ্ছি। এজন্যই টাকাটা দরকার। সামনের মাসে দিয়ে দেবো।” ভাবি সে বলবে টাকা হাওলাত করে কাউকে দেখতে যাবার দরকার কি, এমন বিলাসিতা আমার মানায় না, মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরাই শুধু এমন কাজ করতে পারে, আমার একটু বেড়ে উঠতে চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু তা না করে সে আমার দিকে আরেকটি পাঁচশ টাকার নোট বাড়িয়ে দেয়, তারপর বলে, “ফকিরাপুলের রওশন তাজা খাবারে ফলমুল পাওয়া যায়। দামও ভালো।”
দুপুরের পর রফিকুল্লা চলে যায় মালিবাগে, আমি শাখারিবাজারে। শাখারিবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলেও কিছু বিক্রি করতে পারি না। এ মাসে যত মালের অর্ডার পেয়েছি তা হিসাবের অর্ধেকেরও কম। ইতোমধ্যে ম্যানেজার রজব আলী সাহেব তাড়া দিয়েছেন। কমিশন কাজে প্রচুর প্রতিযোগিতা। তিনি কয়েকজন উঠতি বয়সের বিক্রয় প্রতিনিধির উদাহরণ দিয়ে বলেন আমি যাতে তাদের অনুসরণ করি। “আচ্ছা” বলে বারবার তার সঙ্গে আলাপ শেষ করলেও পরদিনই তিনি আবার ওই একই কথা বলেন। “মালগুলোর ছবি তোল। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট কর। যোগাযোগের জন্য টলিফোন নম্বর দাও। ঘুমাবার সুযোগ পাবা না। কল আসতেই থাকবে। আগের মতো দোকানে দোকানে গিয়ে এখন আর ব্যবসা হয় নাকি?” “আপনি হয়তো লক্ষ করেননি,” আমি বলি, “সোশাল মিডিয়ায় ভালো করার জন্য আমার বয়স একটু বেশিই।” কথাটা শেষ না করতেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন। “সাতাত্তর বছরের বুড়ো পাংশার নোয়াব আলী ‘সাধের লাউ’ গেয়ে ভাইরাল হয়ে গেছে, বড়সি দিয়ে পানাপুকুরে কই মাছ ধরা দেখিয়ে লাখপতি হয়ে গেছে আটান্ন বছরের মায়মুনা বিবি। যারা পারে তারা যে কোনো বয়সে পারে।” প্রতিদিন তার সঙ্গে তর্ক না করে চুপ করে থাকি। মনে হয় এমনটি চলতে থাকলে এই কোম্পানির সঙ্গে আর বেশি দিন কাজ করা সম্ভব হবে না।
শাখারিবাজার থেকে বেরোতে বেরোতে সাড়ে পাঁচটা বেজে যায়। আরো কিছুক্ষণ কাজ করতে হতো, কিন্তু শরীরে কুলায় না। ইদানিং বাজারে যেন আগুন লেগেছে। আমার মতো অনেককেই হিসাব করে চলতে হচ্ছে। শক্তি ফিরে পাবার জন্য বিকেল বেলা দুটি পুরি বা সিঙ্গারা যে কিনে খাবো, তার উপায় নেই। তাতে মাসের শেষে গিয়ে হাতে চালের টাকা বা গাড়িভাড়া থাকবে না। কিন্তু আজকের হিসাব আলাদা। পাটোয়ারীর বাড়িতে হাজির হতে গিয়ে যদি চেহারা একেবারে পানসে দেখায়, তা কেমন হয়। ইচ্ছা হয় পাইকপাড়ায় গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে একটু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে কয়েকটি মুড়ির মোয়া খেয়ে তারপর ছুটি আরামবাগের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তাতে অপ্রয়োজনে দ্বিগুণ বাস ভাড়া দিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেই দেশবন্ধু থেকে দুইটা সিঙ্গারা কিনে ওসমানী উদ্যানে বসে খাবো, তারপর ফল কিনতে যাবো ফকিরাপুলে।
পাটোয়ারী থাকেন নটরডেম কলেজের অডিটোরিয়ামের পিছে। অনেক আগে বাবার সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলাম। বাবা তার জন্য টাঙ্গাইল থেকে দশ কেজি পাকা আম নিয়ে এসেছিলেন। ঢাকার রাস্তাঘাট তেমন চেনেন না বলে আমাকে তাকে সেখানে নিয়ে যেতে হয়েছিল। তবে তাকে বাড়ির গেইটটি দেখিয়ে আমি দাঁড়িয়েছিলাম বাইরে। “আশেপাশেই থাকবো,” তাকে বলি। “কথা শেষ হবার পর বাইরে আসলে আমাকে পাবেন।” বাবা জানতেন জোর করে লাভ নেই। নিরবে তিনি কলিং বেল টেপেন। সেদিন বেরোতে বেরোতে বাবার কমপক্ষে চার ঘন্টা সময় লাগে। এই চার ঘন্টা সময়ই আমি রাস্তার ওপর হাঁটাহাঁটি করে কাটাই।
পাটোয়ারীকে দেখতে রওয়ানা হলেও তার সঙ্গে দেখা করার আমার মোটেও ইচ্ছা নেই। কারো ধনসম্পদ দেখলে নিজেকে অনেক বেশি ছোট মনে হয়। মনে হয় অকর্মণ্য হয়ে জন্মেছি। এ থেকে বাঁচার উপায় নেই। সেজন্য ওসমানী থেকে একটু দেরি করে বেরোই। ফকিরাপুল খানিকটা দূরে হলেও আমার জন্য তা পায়ে চলা পথ। বড় রাস্তা ধরে আস্তে আস্তে হেঁটে রওশন তাজা খাবারের সামনে পৌঁছাতে সাতটা বেজে যায়। সময়টা শীতকালের কাছাকাছি হওয়ায় সাতটা মানে অনেক রাত। তবে দোকানে দেখি খুব ভিড়। আমার মনে হয় অনেক লোকই এই শহরে কমিশন-ভিত্তিক কাজ করে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের বাবার অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে যাবার জন্য ওসমানী উদ্যানে বসে রাত নামার জন্য অপেক্ষা করে, তারপর এখানে আসে ফল কেনার জন্য। পাশের টয়েনবি সার্কুলার রোড, ডিআইটি এভিনিউ, কমলাপুর রোড এলাকায় হয়তো রয়েছেন পাটোয়ারী সাহেবের মতো অনেক অসুস্থ মানুষ।
ভিড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে উজ্জ্বল আলোর নিচে আমি কয়েক প্রকারের আপেল, আনারস, আঙুর ও কমলালেবু সাজানো দেখতে পাই। আপেলের দাম জিজ্ঞেস করতেই দোকানী ছেলেটা আমাকে টেনে পেছনের দিকে নিয়ে যায় এবং পেঁপের সঙ্কীর্ণ ঝুড়িটির দিকে নির্দেশ করে। “আপনার জন্য ভালো হবে,” বেশ আগ্রহভরে সে বলে। “এই যে দেখেন, লাল টকটকে। একেবারে গাছে পাকা। কোনো দাগ নেই।” আমার পকেটে আপেল কেনার জন্য যথেষ্ট টাকা নেই – ব্যাপারটা সে বুঝতে পেরেছে বলে একটু লজ্জা হয়। কিন্তু মনে মনে তাকে সাধুবাদ জানাই। তার মতো মানুষ ঢাকা শহরে না থাকলে আমার মতো মানুষের জীবন এখানে আরো অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে যেতো।
চারশ-পঁয়ষট্টি টাকার বিনিময়ে আড়াই কেজি ওজনের দুটি মাঝারি আকারের পেঁপে কিনে সেখান থেকে বেরোই। আরামবাগে যেতে মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে। আমার ইচ্ছা পাটোয়ারী সাহেব ঘুমিয়ে পড়ার পরই আমি সেখানে যাই। তাতে বাবাকে বলতে পারবো তাকে দেখতে গিয়েছি, আবার তাকে না দেখেই আমি সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারবো। এটা মিথ্যা কিছু হবে না, কারণ কোনো কোনো ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমি শুধু সন্ধ্যার পরই দেখা করতে পারি এবং বাবা তা জানেন। সুতরাং আরো কয়েক মিনিট রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করবার থাকে না।
রাত আটটার দিকে পাটোয়ারী সাহেবের বাড়ির কলিং বেল টিপি। গেইট খোলেন তার ছোট ভাই শরীফ উল্লা পাটোয়ারী। প্রত্যাশিতভাবে তিনি বলেন, “ভাই ঘুমিয়ে পড়েছেন।” তার হাতে পেঁপের ব্যাগটি তুলে দেই, বলি, “আমার নাম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বাবার নাম মোহাম্মদ বদিউজ্জামান। বাড়ি হাবু খালাসীর গলি, টাঙ্গাইল। বাবা পাটোয়ারী সাহেবের জন্য সামান্য কিছু উপহার পাঠিয়েছেন। কাজ শেষ করে আসতে আসতে দেরি হয়ে গেল।” উনি আমাকে ভেতরে যেতে বলেন না বলে আমি মনে মনে খুশি হয়ে উঠি। “আসাদুজ্জামান,” তিনি আওড়ান। “পিতা বদিউজ্জামান। বাড়ি টাঙ্গাইল। ঠিক আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠলে আমি তাকে তোমার আসার কথা বলবো। আরেকদিন সময় করে এসো।”
আরামবাগ থেকে বেরিয়ে গাজী দস্তগীর সড়ক পেরিয়ে আমি মতিঝিল রোডের দিকে এগিয়ে যাই। মেঘনা ইন্সুরেন্সের সামনে থেকে গাবতলীর বাস ধরতে পারলে নির্বিঘেœ কল্যাণপুর যাওয়া যাবে। তাতে রাত দশটার মধ্যে ঘুমাতে যেতে পারবো বলে মনে হয়। কাল সকালে যাত্রাবাড়িতে যেতে হবে। সেখানে একটা ব্যবসা খোলা হয়েছে, নাম ষড়ঋতু অটো বডি শপ। দরকার আমাদের কিছু মাল। প্রাথমিক সব আলাপ শেষ হয়ে গেছে। এখন দরকার চুক্তিপত্র। এই চুক্তি থেকে যে কমিশন পাওয়া যাবে তা দিয়ে সামনের মাসে রফিকুল্লার কাছ থেকে নেয়া টাকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়া যাবে।
বাফুফের মোড়ে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই দুজন লোক ছুরি নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। আলো-অন্ধকারে আমি তাদের চেহারায় হিং¯্রতা দেখি। আমার এমনটি আশঙ্কা করা উচিত ছিল। নির্দেশমতো পকেট হাতড়ে সবগুলো টাকা তাদের হাতে তুলে দিলে তারা আমার কোনো ক্ষতি করে না। এরকম অভিজ্ঞতা আমার আগেও কয়েকবার হয়েছে। একবার পল্লবীতে। একবার বাড্ডায়। সর্বশেষ শেওড়াপাড়ায়, গত বছরের কোরবানী ঈদের আগে। প্রতিবারই আমি নির্দেশমতো কাজ করেছি এবং অক্ষতভাবে ঘটনা থেকে বেরিয়ে গেছি – যদিও এমন একটি ব্যাপারে রক্ত ঝরা খুবই স্বাভাবিক। যাবার আগে ছিনতাইকারীরা অবশ্য আমার প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে। “এত রাতে এখানে একা একা ঘোরাঘুরি করবেন না,” তাদের একজন বলে। “বিপদ হতে পারে। গলা-কাটা শাহগীরের নাম শোনেননি? সে এদিকে কাজ করে।” গলা-কাটা শাহগীরের নাম আমি শুনিনি। তবে অনুমান করতে পারি সে একজন নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ, যাকে অন্যান্য নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষরাও ভয় পায়। “হা করে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?” ধমক দিয়ে বলে অন্যজন। “এর আগে কখনো ছিনতাইকারী দেখেননি নাকি? যান, চলে যান।”
তাদের চলে যাবার পর আমার শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে। আমি রাস্তার ওপর জড়সড় হয়ে বসে পড়ি। কী রকম একটা অবস্থা। এখন আমার পকেটে বাসের ভাড়া পর্যন্ত নেই। রিক্সা বা ট্যাক্সি ডেকে বাসায় গিয়ে যে ভাড়া পরিশোধ করবো, তার উপায়ও নেই। একমাত্র সমাধান থাকে দক্ষিণ পাইকপাড়ার পথে হাঁটা শুরু করা। অনুমান করি কমপক্ষে দুই ঘন্টার পথ হবে। পথে বিরতি সহ দরকার আরো এক ঘন্টা। তা অবশ্য যদি আবার কোনো ছিনতাইকারী বা গলা-কাটা শাহগীর পথ রোধ করে না দাঁড়ায়।







