আমান আবদুহু
কথা বলার কিংবা লেখার অপরাধে ধরপাকড় ও নির্যাতন করতে ক্ষমতা পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ বেশ কয়েক বছর সময় নিয়েছিলো এবং ধীরে-ধীরে শুরু করেছিলো। তারপর এক সময় পুরোদমে চালিয়েছিলো। চব্বিশের শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে এবার ক্ষমতা পাওয়ার পর একই কাজ করতে বিএনপি কোন দেরি করে নাই। সাথে সাথেই শুরু করে দিয়েছে।
সুতরাং মাখঝানে ড. ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সময়টাকে সরিয়ে রাখলে, যেন কোন বিরামই ঘটে নাই। আক্ষরিক অর্থে অন্তবর্তীকালীন। তারপর স্রেফ ডাইনি হাসিনার জায়গায় এসেছে বোবা তারেক। কাউয়া কাদেরের জায়গায় শিলং সালাহউদ্দিন। হাছাও মাহমুদের জায়গায় মির্জা ফাকরোল।
নোংরা আবর্জনা অগণিত পোকামাকড় দলীয় সমর্থকগুলো পর্যন্ত হুবহু একই রকম আছে।
সুতরাং কিশোর মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, বিএনপি কি আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী হতে পারবে?
এক কথায় উত্তর হলো — না পারবে না। কারণ, বিএনপির সেই কুওয়াৎ নাই। বরং বিএনপি হলো প্যাথেটিক।
ফ্যাসিবাদ কি? ফ্যাসিও ইটালিয়ান শব্দ, তারও আগে শেকড়ে ল্যাটিল। অর্থ হলো বান্ডল বা যুথবদ্ধতা। ফ্যাসিবাদ তখনই সম্ভবপর হয় তখন বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে কোন আদর্শ বা চিন্তার নামে অন্যায়ের উপর একত্র করা সম্ভব হয়। বাংলাদেশে সেই “আদর্শের” কিছু বিষয় ছিলো। যেমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা মুক্তিযুদ্ধ ব্যাবসা। সাথে কলকাতার গোলামীপনার ঐতিহ্য-অভ্যাস। সুতরাং আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলো।
আদর্শ থাকার অর্থই খারাপ না, মানব সমাজে আদর্শের জরুরত আছে। কিন্তু অনেক সময় আদর্শের মাঝে খারাপ নিহিত থাকে। ফ্যাসিবাদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো আদর্শ ছেড়ে দিয়ে গুন্ডামী এবং জবরদখলের চর্চা, কারণ আদর্শটাতে সমস্যা থাকে। গোড়ার সমস্যা পুরো গাছে ছড়িয়ে যায় একসময়। সুতরাং বলা যায় আলটিমেট পরিণতি হচ্ছে দুর্বৃত্তপনা।
তখন ন্যাশনাল সোশালিস্টরা হয়ে যায় শুটযস্টাফেল। আওয়ামী লীগ যেমন মাফিয়া হয়ে গিয়েছিলো। বিএনপিও হলো একই কাজ করা দল। টেম্পুস্ট্যান্ডের গুন্ডাপান্ডার দল। কিন্তু মাইনাস ফ্যাসিবাদ। এই মাফিয়াপনার কারণেই যথার্থভাবে বলা যায় সেই চিরসত্য বচন — নৌকা আর ধানের শীষ ……।
বিএনপির সেই রকম কোন আদর্শ বা কিছু নাই যার মাধ্যমে তারা মানুষকে দলবদ্ধ করতে পারবে। এখানে বাংলাদেশের মানুষ হলো বাস ভর্তি সাধারণ যাত্রী। তারা পার্টিসিপেন্টস না। অন্যদিকে বিএনপি হলো ওয়েবিল হাতে দৌড়াদৌড়ি করা টেম্পুস্ট্যান্ডের গুন্ডা চান্দাবাজ প্রমুখ।
সুতরাং বিএনপি ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবে না। চাইলেও পারবে না। ল্যাঙ্গা জহির স্বাভাবিকভাবেই সারাজীবন স্বপ্ন দেখে সে একদিন ম্যারাডোনা হবে। সারা মাঠ জুড়ে বিপুল বিক্রমে দৌড়াবে এবং ভক্তদের গগণবিদারী চিৎকারে মুখরিত হবে। কিন্তু চাইলেই কি আর সব হয়? বড়জোড় গুন্ডাপান্ডা মাফিয়া দুর্বৃত্ত হতে পারবে। আদতে তারা সেসবই হয়েছে এবং করতেছে।
তবে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহে অন্যদিকে একটা মিল আছে। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী দল হয়ে উঠাতে বিরোধী দল বিএনপির অবদান ছিলো। আশংকা হয়, বিএনপির মাফিয়া গুন্ডাপান্ডা দুর্বৃত্ত দল হয়ে উঠার প্রক্রিয়ায় বর্তমান বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপিরও অবদান থাকবে। বাংলাদেশে এই জিনিসটা সবসময় হয়। একটা খারাপ চিন্তা, চর্চা অথবা কাজ যাই হোক না কেন, একবার চালু হয়ে গেলে মোটামুটিভাবে স্থায়ী হয়ে যায়।
২.
দখলদার এবং ইমপোস্টারের দল সবসময়ে তাদের নিজেদের ইমেজ সম্পর্কে অতিসচেতন থাকে। নাৎসিরা যেমন ছিলো। লম্বা সোনালী চুল নীল চোখের এবং ঝকঝকে কালো ইউনিফর্মের শুটযস্টাফেল। ইজরায়েল যেমন দেখাতে চায় গ্যাল গ্যাডট কিংবা টোমার কাপোনদেরকে। বাস্তবে অমানবিক খুনীর দল কিন্তু সারা পৃথিবীকে দেখাতে চায় তারা নায়ক নায়িকাদের দেশ।
সুতরাং যখন কদাচিৎ আসল চেহারা বের হয়ে যায়, তখন তারা প্রচন্ড বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগও এইরকম ছিলো। বাস্তবে কালা মাগুর, কিন্তু নায়ক নায়িকাদেরকে জড়ো করেছিলো। ইমেজ/ভাবমূর্তি নিয়ে অতি সংবেদনশীল ও প্রচন্ড সচেতন।
সুতরাং সম্প্রতি যখন ইতালিয়ান সাপ্তাহিক ম্যাগাজিক এসপ্রেসো তাদের কাভারে হেবরনের একজন সেটেলার ইজরায়েলির চেহারা প্রকাশ করে, সাথে শিরোনাম দেয় এবিউজ বা নিগ্রহ, তখন মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার, দখলদার, অবৈধ এবং গণহত্যাকারী এই দেশটার পুরোটা ফেটে পড়েছে তীব্র প্রতিবাদে। তারা কোনভাবেই চায়না পৃথিবী তাদেরকে এইভাবে দেখুক এবং চিনুক।
ছবিটা দেখতে দেখতে ভাবতেছিলাম বাংলাদেশে বর্তমানে কারা আছে এদের সমশ্রেণীর। নিগ্রহ করা যাদের কর্ম। যারা সেটেলার মানসিকতা। দখলদার। যেমন ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান দখলদার সেটেলার সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। দেখাতে চায় নায়িকা গ্যাল গেডটের তালতো ভাই এবং ভাড়োতে সামরিক দায়িত্ব পালন করা হেনচাম শিলং সালাহউদ্দিনকে কিন্তু বের হয়ে আসে সেটেলার রেজাউল্লুক রনি।
এ কেমন বিচার? কেন এমন হয়?







