প্রচ্ছদসাম্প্রতিকগুপ্ত বনাম উধাও

লিখেছেন : তাজ ইসলাম

গুপ্ত বনাম উধাও


তাজ ইসলাম

৫ আগস্টের পর রাজনীতির মাঠ থেকে লীগ পলাতক ও বিতাড়িত।
ট্যাগের রাজনীতিতে দক্ষ ছিল আওয়ামীলীগ। মিঃ টেন পার্সেন্ট,খাম্বা, হাওয়া ভবন এসব
লীগীয় ট্যাগ। কথায় কথায় রাজাকার বলা ছিল লীগের স্বভাবজাত শব্দচয়ন। অবশ্য এই রাজাকার শব্দই খেয়েছে লীগকে। বিএনপি জামায়াতকে এক শব্দে আগুন সন্ত্রাসী অভিহিত করা ছিল পরিত্যক্ত বাম নেতা ইনুর শব্দ কৌশল।
বিপ্লব বলেন, গণঅভ্যুত্থান বলেন এরপর রাজনীতিতে এখন লীগ পুরোদস্তুর ব্যাকফুটে। মাঠে আছে বিএনপি জামায়াত।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, তবে কাঁদা ছুড়াছুড়ি না থাকাই ছিল জন কাম্য। বাংলাদেশে লাইমলাইটে থাকতে হয় এই পদ্ধতিতে।
এতে করে মন্দের ভালো হচ্ছে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে উস্কে দিয়ে সারাদেশ দুই পক্ষে বিভক্ত। বিভক্তি রেখার দুই পাশে দৃশ্যমান দুই দল। আওয়ামীলীগ আলোচনার বাইরে। এইটা একটা দিক। মন্দ দিক হল সহনশীলতার রাজনীতি নাই হয়ে যাওয়া। বর্তমান প্রজন্ম সজাগ এবং সচেতন। তারা আওয়ামী আমলের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। আওয়ামী লীগ দমন পীড়নে কাবু করে রেখেছিল বিএনপি জামায়াতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটো দলকেই।
জামায়াতের নেতার মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে রাজপথে ছিল। মামলা হামলায় জর্জরিত ছিল। যুদ্ধে গেরিলা একটা বিশেষ কৌশল। এই কৌশল আওয়ামী আমলে অবলম্বন করেছিল বড় দুটো দলই।
খোদ বিএনপিতে কথা চালু আছে তাদের বড় বড় নেতারা শেষ সময়ে লীগের সাথে মিলেমিশে ছিল। বিএনপি এত বড় দল হয়েও শেষ ক বছর প্রায় নাই হয়ে গিয়েছিল। কর্মীরা যতটা জানবাজ ছিল বড় নেতারা ছিল ততটাই নিস্ক্রিয়। সর্বশেষ লক্ষ লক্ষ কর্মীকে পল্টনে ডেকে এনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগে হামলার নলের মুখে রেখে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল বড় নেতারা। বিএনপির নিস্ক্রিয়তা বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে বেগম জিয়ার বাসার সামনের বালুর ট্রাক। বেগম খালেদা জিয়ার এক বক্তব্যে বা একাধিক বক্তব্যে বিএনপি ছাত্রদলের নিস্ক্রিয়তার প্রমাণ আছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ একটা অবস্থানে ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু দল চলে গেল সাংঘর্ষিক অবস্থানে। শব্দবান প্রথম ছুড়লেন ‘ গুপ্ত ‘ বলে। এটা বিএনপির বহুকাল পরে সফল ন্যারেটিভ তৈরীর চমৎকার উদাহরণ। বিএনপি জামায়াত ন্যারেটিভ তৈরীতে বরাবরই ব্যর্থ। তাতে সফলতা দেখাতে পারে আওয়ামীলীগ। বিএনপির গুপ্ত বলার পর জামায়াত বলতে চেষ্টা করে লণ্ডনি বলে,উধাও দল বলে। শিলং বলে একজনকে কটাক্ষ করে। চাঁদাবাজ শব্দটা ব্যাপক চালু হয়েছে নির্বাচনের সময়ই। বিএনপিকে কোন কোন জামায়াত কর্মী নিখোঁজ দল বলেও কটাক্ষ করে। অথচ ১৬ বছর লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দুটি দলেরই জোরালো তৎপরতা ছিল। তার একে অপরকে ঢিল না ছুঁড়ে রাজনৈতিকভাবেই রাজনীতিকে করতে পারত মোকাবেলা করতে।
এখন একজন ঢিল দিয়ে অপেক্ষা করে পাটকেল খেতে। আমজনতা তাদের জোকারি মকারি দেখে বিনোদিত হয়।
এসব করতে করতে দু জনের বিস্তৃত দূরত্ব তৈরী হলে মাঝখানে তৈরী হবে শূন্যতা। এই শূন্যতায় লীগ আলু পোড়ার ধান্দা করতেই পারে। অতএব সাধু সাবধান।

আরও পড়তে পারেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
spot_imgspot_imgspot_img
- Advertisment -spot_imgspot_imgspot_img

জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমূহ

Mohammad Burhan on গুচ্ছ কবিতা
কামরুন নাহার on গুচ্ছ কবিতা
ফরিদ ভূঁইয়া on জুলাইয়ের কবিতা
Mehedi Hasan on তেলাপোকা